মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নতুন নির্দেশনা ২০২৬ । সরকারি কর্মকর্তাদের সকাল ৯টা থেকে ৯:৪০ পর্যন্ত অফিসে অবস্থান বাধ্যতামূলক?
সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কাজের গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। এখন থেকে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আবশ্যিকভাবে নিজ নিজ অফিস কক্ষে অবস্থান করতে হবে।
গত ২ মার্চ ২০২৬ (১৭ ফাল্গুন ১৪৩২) তারিখে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রে এই নির্দেশনা প্রদান করা হয়। মাঠ প্রশাসনের সমন্বয় ও তদারকি জোরদার করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
পরিপত্রের মূল কারণ
পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়, কিছু ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে যে অফিস সময়ের শুরুতে অনেক কর্মকর্তা দাপ্তরিক বা ব্যক্তিগত কর্মসূচিতে (যেমন: সেমিনার, ওয়ার্কশপ, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে অতিথি বক্তা হিসেবে অংশগ্রহণ, ব্যাংক বা হাসপাতালে গমন ইত্যাদি) ব্যস্ত থাকেন। এর ফলে সাধারণ জনগণ এবং অন্যান্য দপ্তরের সঙ্গে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ব্যাহত হয়, যা নাগরিক সেবা প্রদান এবং সরকারের ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এই সমস্যা দূর করতেই নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নির্দেশনার বিস্তারিত
১. বাধ্যতামূলক অবস্থান: সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে প্রতিদিন সকাল ৯:০০টা থেকে ৯:৪০ মিনিট পর্যন্ত নিজ কক্ষে উপস্থিত থাকতে হবে।
২. রুটিন প্রণয়ন: দাপ্তরিক কর্মসূচি বা মিটিং এমনভাবে সাজাতে হবে যাতে এই ৪০ মিনিট সময় কোনো বিঘ্ন না ঘটে।
৩. পূর্ব অনুমতি: কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ব্যতীত কোনো কর্মকর্তা কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবেন না। এমনকি দাপ্তরিক কাজ থাকলেও কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে অফিস সময়ে নিজ দপ্তর ছাড়ার সুযোগ নেই।
বিধিমালা ও বাধ্যবাধকতা
পরিপত্রে জানানো হয় যে, ‘সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা, ২০১৯’ এবং ‘সচিবালয় নির্দেশমালা, ২০১৪’ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে দপ্তরে উপস্থিতি ও প্রস্থান নিশ্চিত করা সকল কর্মচারীর জন্য বাধ্যতামূলক। এই পরিপত্রটি অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যাদের জন্য এই নিয়ম শিথিল থাকবে
তবে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে এই বাধ্যবাধকতা প্রযোজ্য হবে না:
শিক্ষা বা প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নন-প্রশাসনিক শিক্ষক ও অনুষদ সদস্যবৃন্দ।
হাসপাতাল, জেলখানা, সংবাদ বা নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে যারা রোস্টার ডিউটিতে নিয়োজিত।
জরুরি গ্রাহক সেবা প্রদানে সরাসরি সম্পৃক্ত কর্মচারী।
মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত দায়িত্ব পালনকারী আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
ভিভিআইপি প্রটোকল, আকস্মিক দুর্ঘটনা মোকাবিলা বা কূটনৈতিক মিশনের জরুরি সভার ক্ষেত্রে।
প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায় থেকে জানানো হয়েছে, নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন এবং প্রশাসনিক গতিশীলতা বজায় রাখতে এই তদারকি অত্যন্ত জরুরি। নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
এই পরিপত্রের অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, সকল সচিব, বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হয়েছে।




