নতুন স্বপ্ন ও প্রত্যাশার শপথ—তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা আজ
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ বিকেলে শপথ নিতে যাচ্ছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর আজ মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় এই ঐতিহাসিক শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে শপথ বাক্য পাঠ করাবেন।
শপথের তোড়জোড়: সকাল ১০টায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। এরপর সংসদীয় দলের বৈঠকে তারেক রহমানকে সংসদ নেতা নির্বাচিত করা হয়। বিকেল ৪টার অনুষ্ঠানে নতুন প্রধানমন্ত্রী ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়ানো হবে।
মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য আকার: সূত্র মারফত জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে ১২ জন পূর্ণ মন্ত্রী এবং ১৮ জন প্রতিমন্ত্রী নিয়ে এই মন্ত্রিসভার যাত্রা শুরু হতে পারে। টেকনোক্র্যাট কোটায়ও একাধিক অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে। এছাড়া বিএনপির মিত্র জোটের শীর্ষ নেতাদেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়ার জোরালো গুঞ্জন রয়েছে।
বিদেশি অতিথিদের উপস্থিতি: এই শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ইতোমধ্যেই মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুইজ্জু ঢাকায় পৌঁছেছেন। এছাড়া ভারত, পাকিস্তান, চীনসহ মোট ১৩টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকছেন। ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং পাকিস্তানের পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবাল বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
নিউজ ২: পরিবহন পুলের প্রস্তুতি ও মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য মুখ—প্রশাসনে ব্যাপক কর্মতৎপরতা
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয় এবং বঙ্গভবন থেকে শুরু করে সংসদ ভবন এলাকা এখন উৎসবমুখর। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, যারা মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন, তাদের যাতায়াতের জন্য পরিবহন পুল থেকে ইতোমধ্যেই ৪৫টি বিলাসবহুল গাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
কারা পাচ্ছেন ডাক? আজ দুপুর থেকেই নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে টেলিফোনে শপথের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। যদিও দলীয়ভাবে এখনও পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হয়নি, তবে রাজনৈতিক মহলে বেশ কিছু পরিচিত মুখ নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্যবৃন্দ এবং দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতারাই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় যেমন—স্বরাষ্ট্র, অর্থ, আইন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন।
নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রস্তুতি: শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে সংসদ ভবন এলাকায় চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আমন্ত্রিত ১২০০ দেশি-বিদেশি অতিথির আসন বিন্যাস ও অভ্যর্থনার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ী বৈঠকের পর আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর হচ্ছে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, নতুন মন্ত্রিসভা দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি এবং আইন-শৃঙ্খলা সংস্কারে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।




