নবম পে-স্কেল ও বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবিতে আজ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মহাসমাবেশ
বৈষম্যমুক্ত নবম পে-স্কেল ঘোষণা এবং সরকারি কর্মচারীদের বিদ্যমান বেতন ও পদমর্যাদাগত বৈষম্য নিরসনের দাবিতে আজ রাজধনীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ‘বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে সারাদেশ থেকে লাখো কর্মচারীর সমাগম ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মহাসমাবেশটি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সফল করতে আয়োজক সংগঠনের পক্ষ থেকে যাতায়াত ও শৃঙ্খলার বিষয়ে বিশেষ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। প্রচার কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি।
সমাবেশে আসার রুট ও গাড়ি রাখার স্থান:
মহাসমাবেশে আগত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য এলাকাভিত্তিক আলাদা যাতায়াত ও গাড়ি পার্কিংয়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে:
উত্তরবঙ্গ (গাবতলী হয়ে): এই পথ দিয়ে আসা যানবাহনগুলো নিউমার্কেট, নীলক্ষেত ও আজিমপুর এলাকায় পার্কিং করতে হবে। সেখান থেকে মিছিল নিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে উপস্থিত হবেন সহযোদ্ধারা।
উত্তরবঙ্গ (মহাখালী হয়ে): এই রুটে আগত গাড়িগুলো শাহবাগ হয়ে রমনা পার্কের আশেপাশে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চল (যাত্রাবাড়ী হয়ে): এই দিক থেকে আসা গাড়িগুলো আব্দুল গণি রোড ও দোয়েল চত্বরের আশেপাশে পার্কিং করতে বলা হয়েছে।
শান্তি রক্ষায় কঠোর নির্দেশনা:
সংগঠনের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের প্রতি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে:
কর্মসূচি চলাকালীন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে কোনো প্রকার তর্ক বা উত্তেজনায় জড়ানো যাবে না।
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রতিপক্ষ না ভেবে তাদের সহায়তা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা উসকানি কঠোরভাবে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।
সতর্কবার্তা: অতিউৎসাহী হয়ে কেউ যদি অনৈতিক বা আইনবহির্ভূত কাজে জড়িত হয়, তবে তার দায়ভার সংগঠন গ্রহণ করবে না।
প্রেক্ষাপট ও আন্দোলনের মূল লক্ষ্য:
আন্দোলনরত সরকারি কর্মচারীদের প্রধান দাবি হলো অবিলম্বে নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন এবং অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে মহার্ঘ ভাতা প্রদান। তারা বলছেন, বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে বর্তমান বেতন কাঠামো দিয়ে পরিবার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এছাড়া সচিবালয় ও সচিবালয়ের বাইরের কর্মচারীদের মধ্যকার পদবী ও বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবিও এবারের মহাসমাবেশের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা।
বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানিয়ে আসছি। শান্তি, শৃঙ্খলা ও ঐক্যের মাধ্যমেই আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকার আদায় করতে চাই।”
আজকের এই মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও আশেপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।




