শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে পে-স্কেল-২০২০ যেমন হওয়া উচিৎ

বাংলাদেশে পে-স্কেলের যে বৈষম্য ও জগাখিচুরী অবস্থা তাতে পে স্কেলটি কোন একটি বেইজ এর উপর দাড় করানো প্রয়োজন। এদিক থেকে বিবেচনা করে আমি একটি কাঠামো দাড় করিয়েছি শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে পে-স্কেল যেমন হওয়া উচিৎ। নিচে মতামত নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

পে-স্কেল গ্রেড সংখ্যা হ্রাস

বিভিন্ন দেশের পে স্কেল পর্যালোচনা করে পে স্কেলের সংখ্যা কিছুটা হ্রাস করা অতিব জরুরী। অপর দিক থেকে দেশ স্বাধীনের পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু পে স্কেলে গ্রেড সংখ্যা করেছিলেন ১০টি গ্রেড, সেদিক থেকে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীন দেশে গ্রেড সংখ্যা ১২ এর বেশি হওয়া বৈষম্য নিরাময়ের অন্তরায় হয়ে যাবে। পে স্কেল-২০১৫ গুলো ১ ২ ৩ ৪ ৫ ৬ ৭ [০৮,০৯] [১০,১১,১২] [১৩,১৪,১৫,১৬] [১৭,১৮] [১৯,২০[ । সংক্ষেপ করা হয়েছে ১ ২ ৩ ৪ ৫ ৬ ৭ *৮ **৯ ১০ ১১ ১২ টি।

প্রতিটি স্কেলের ধাপে ১২% রাখা বাঞ্চনীয়

পে স্কেল ২০১৫ তে ১ থেকে ২০ তম গ্রেডে বড় ফাঁকি হচ্ছে ১১-২০ তম গ্রেডে গড়ে ৪% ব্যবধান অপরদিকে ১-১০ গ্রেড পর্যন্ত গড়ে ২০% ব্যবধান রাখা হয়েছে। আমি সকল গ্রেডে ১২% ব্যবধান রেখে বৈষম্য দূরের চেষ্টা করেছি। সেদিক থেকে বিবেচনা করলে ৮০০০০ ৭১৪০০ ৬৩৮০০ ৫৬৯০০ ৫০৮০০ ৪৫৩০০ ৪০৫০০ ৩৬২০০ ৩২৩০০ ২৮৮০০ ২৫৭০০ ২৩০০০ স্কেলে মোট ১২টি স্কেল।

পদগুলো শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং স্কেলের ধরণ অনুসারে

এক্ষেত্রে সকল পদগুলোকে শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে গ্রেডের আওতায় আনা যেতে পারে। পদবিগুলো এমণভাবে বিন্যাস করা হবে যে, উচ্চতর পদে আসীন হতে পারে। সচিব পর্যায়ের পদগুলোতে যাতে পৌছাতে পারে। যেমন-সিনিয়র সচিব/সমমান সচিব/সমমান অতিরিক্ত সচিব/সমমান যুগ্ন সচিব/সমমান উপ-সচিব/সমমান সিনিয়র সহকারী সচিব/সমমান সিনিয়র সহকারী সচিব/সমমান স্নাতকোত্তর/অনার্স/সমমান স্নাতক/ডিপ্লোমা/সমমান এইচএসসি/সমমান এসএসসি/সমমান জেএসসি/সমমান। এক্ষেত্রে বিদ্যমান যে পদের শিক্ষাগত যোগ্যতা যা চাওয়া হয়েছে সেই ভিত্তিতে গ্রেড নির্ধারিত হবে।

বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট যেমন হওয়া দরকার

বর্তমান বা যে কোন সময়ের দ্রব্যমূল্য বিবেচনা করলে বা বেসরকারি বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির খোজ খবর নিলে দেখা যায় যে, সর্বনিম্ন ১০% বেতন বৃদ্ধি হয়ে থাকে। সে দিক থেকে বেতন বৃদ্ধি ১০% এর নিচে হওয়া সমীচিন হবে না। বেসরকারী কোম্পানি গুলোতেও ১০% এর কম বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি হয় না।

বাড়ি ভাড়ার হার যা নির্ধারিত হওয়া অপরিহার্য

মূল বেতন যাদের ৪৫ হাজারের বেশি তাদের ৩৫% বাড়ি ভাড়া, যাদের মূল বেতন সর্বনিম্ন ২৩ হাজার তাদের ৬০% অর্থাৎ ১২ হাজার এর কাছাকাছি হওয়া দরকার অন্যথায় ভাড়া বাসায় থাকা সম্ভব হবে না। আজকাল ৮-১২ হাজার টাকার নিচে ঢাকা শহর ও জেলা শহরগুলোতে বাসা পাওয়া সম্ভব হয়না।

শিক্ষা ভাতা বৃদ্ধি আবশ্যক

একটি সন্তানের জন্য ১০০০ টাকা দুটি সন্তানের জন্য ২০০০ টাকা শিক্ষা ভাতা নির্ধারণ করা জরুরী হয়ে পড়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর পড়াশুনার মানের উপর ভরসা রাখা যায় না। প্রাইভেট টিউটর ও কোচিং ছাড়া ক’জন বাবা মা ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া করাচ্ছেন? সুতরাং ১০০০ টাকা একজন ছাত্র বা ছাত্রীর জন্য বেশি নয় আমার মতে।

চিকিৎসা ভাতা ৬ জন সদস্যের জন্য ন্যূতম

সরকার পরিবারের ৬ জন সদস্যদের কথা বিবেচনা করেই বেতন ভাতা নির্ধারণ করছে। একটি সাধারণ চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের কাছে গেলেই ৬০০-১০০০ টাকা ভিজিট রাখেন। অন্য দিকে ঔষুধ প্রমোশন অফিসারগুলো ডাক্তারদের যেভাবে চাপাচাপি করে তাতে ডাক্তাররা তাদের লোভ সংবরণ না করতে পেরে ১০০০-২০০০ টাকার ঔষুধ ধরিয়ে দেন প্রতিটি রোগিকে। পরিবারের ছয়জন সদস্য থাকলে মাসে অন্তত গড়ে ২০০০ টাকা ডাক্তার ও ঔষুদের পিছনেই ব্যয় হয়ে যায়। বয়োবৃদ্ধ বাবা মা ও কিটনাশকযুক্ত শাকসবজি অন্যান্য ভেজাল খাবার খেয়ে ডাক্তারের স্বরণাপন্ন ও ঔষুধ সেবন ছাড়া গতি নেই। অপর দিকে ৪০ বছর উর্ধ্ব বয়সের চাকরিজীবীদের অসুখ বিসুখ লেগেই থাকে সে দিক বিবেচনা করে তাদের চিকিৎসা ভাতা মাসিক ৩০০০ টাকা হওয়া জরুরী।

দুপুরের খাবার টিফিন ভাতা যেমন হওয়া উচিৎ

ব্যাংক সহ অনেক প্রতিষ্ঠানেই দুপুরের খাবার বাবদ দৈনিক ২০০ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এদিক থেকে বিবেচনা করা উচিৎ যে, সরকারি কর্মচারীদের দৈনিক ১৫০ টাকা হারে ৩৩০০ টাকা বা ন্যূনতম ৩০০০ টাকা লাঞ্চ বা টিফিন ভাতা কার্যকর করা জরুরী। সাধারণত বদলি হওয়া কর্মচারীকে পরিবার ছাড়া দূরে অবস্থান করলে দৈনিক ১৫০ টাকার নিচে দুপুরের লাঞ্চ করা দূরুহ ব্যাপার হয়ে যায়।

ধোলাই ভাতা কয়েকগুন বাড়ানো উচিৎ

কর্মচারীদের একা ক্ষেত্রে বেশির ভাগই ব্যাচেলর বসবাস করতে হয়। পরিবার পরিজন নিয়ে থাকার সক্ষমতা কম কর্মচারীদেরই রয়েছে। তাদের আয়ের সাথে ব্যয়ের সামঞ্জস্য করা সম্ভব হয় না বলে তাদের ব্যাচেলর জীবন যাপন করতে হয়, এক্ষেত্রে ধোলাই ভাতা ১০০০ টাকা করা এখন সময়ের দাবী।

নববর্ষ ভাতা ও বিজয় দিবস ভাতা

বাংলা নববর্ষ ভাতা দেয়া হয় মূল বেতনের ২০% যা সর্বনিম্ন কর্মচারীদের জন্য মাত্র ১৭০০ টাকা মাত্র। এই নগন্য ভাতা দিয়ে কিভাবে ৬ জন সদস্যের জন্য উৎসব উদযাপনের কথা বলা হয় সেটি আমার বোধগম্য নয়। তাই উৎসব ভাতা মূল বেতনের ৩০% এবং সর্বোচ্চ ১০০০০ টাকা বেধে দেওয়ার প্রস্তাব জানাচ্ছি।

উৎসব ভাতা বা ঈদ বোনাস ভাতা বৃদ্ধি

বর্তমানে মূল বেতনের সমপরিমাণ উৎসব ভাতার কথা বলা হচ্ছে এখানে ৮৫০০ টাকা উৎসব ভাতায় কিভাবে ৬ জন পরিবারের উৎসব পালন হয় আমার জানা নেই। উৎসব ভাতার ক্ষেত্রে ন্যূনতম বিশ হাজার এবং সর্বোচ্চ বেতন ধারীরে ক্ষেত্রে মূল বেতনের সমপরিমাণ ভাতা প্রদানের দাবী জানাচ্ছি। কোরবানি ঈদের সময়ে উৎসব ভাতা ৮৫০০ টাকা দেওয়া হলে ভাগে গরু কেনায়ই ভর্তুকি দিতে হয়, সেখানে পোষাক পরিচ্ছেদ এবং উৎসব সামগ্রী কিভাবে কিনবে বোধগম্য হয়। সেদিক থেকে বিবেচনা করলে সর্বনিম্ন উৎসব ভাতা ২০০০০ টাকা করা জরুরী।

বিসিএস ক্যাডারদের জন্যও অতিরিক্ত ইনক্রিমেন্ট প্রদানের সুবিধা রাখার অনুরোধ

বিসিএস একটি স্পেশাল ধাপ সেদিক থেকে বিবেচনা করলে এদের জন্য যোগদানের সময় একটি অতিরিক্ত ইনক্রিমেন্ট রাখার ব্যবস্থা থাকলে ভাল হয়। যদি কারিগরী দক্ষতার ক্ষেত্রে একটি ইনক্রিমেন্টের ব্যবস্থা এখনও বিদ্যমান রয়েছে। সকল বিসিএস ক্যাডারদের জন্য যোগদান কালে ১টি অতিরিক্ত ইনক্রিমেন্ট রাখার দাবি জানাচ্ছি।

ব্লক পোস্টগুলোর জন্য ৭, ১৫, ২০ বছরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি ইনক্রিমেন্ট ব্যবস্থা

শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুসারে যে সকল পোস্টসমূহ ব্লক বা পদোন্নতি দেওয়া যায় না সে সকল পোস্ট গুলোর জন্য তিনটি ইনক্রিমেন্টর রাখার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। উচ্চতর গ্রেড ফিক্সেশনে নিম্নধাপে বেতন নির্ধারণ করা হয় বিধায় বেতনতো বাড়েই না বরং কমে যায়। সেদিক থেকে বিবেচনা করলে একটি ইনক্রিমেন্টের ব্যবস্থা হলে ভাল হয়।

পেনশন ও গ্র্যাচুইটিং হার পুন:নির্ধারণ

গত ২০১৫ সাথে এক টাকা পরিবর্তে ২৩০ টাকা করা হয়েছে। পাঁচ বছরে টাকার মান কমে গেছে সেদিক থেকে বিবেচনা করলে এটি ৪০০ টাকা হওয়া উচিৎ। পেনশনের টাকা দিকে একজন নিম্ন আয়ভূক্ত সরকারী কর্মচারী একটি বাড়ি করার ক্ষমতা রাখে না। যদিও সরকারি ৫% হারে গৃহ নির্মাণ ঋণ চালু করেছে। ১ বছর পূর্বে নীতিমালা জারি করলেও গৃহ নির্মাণ ঋণ এখনও কর্মচারীদের ধরা ছোয়ার বাহিরে রয়ে গেছে এ ঋণ। এটি অতিসত্ত্বর কর্মচারী বান্ধব হওয়া উচিৎ।

দূর্নীতি করা হলে পেনশন /গ্র্যাচুইটি ব্যতীত চাকরিচ্যত আইন

দূর্নীতির হার যে হারে বাড়ছে সে হারে নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে না। এদিক থেকে বিবেচনা করলে দূর্নীতিকে আরও কোঠোর আইনের আওতায় আনা উচিৎ। দূর্নীতি হাতে নাতে ধরা গেলে সাথে সাথেই চাকুরিচ্যুত করার ব্যবস্থা নেয়া হোক। তবে নির্দোষ প্রমাণের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে।

শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে পে-স্কেল যেমন হওয়া উচিৎ সংক্রান্ত এক নজড়ে টেবিল দেখে নিতে পারেন: ডাউনলোড

Avatar

admin

আমার ব্লগের কোন কন্টেন্ট সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে বা জানাতে ইমেইল করতে পারেন admin@bdservicerules.info ঠিকানায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.