১ম ও ২য় শ্রেণীর চাকরিতে প্রতিবন্ধীদের নিয়োগের পরিপত্র।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
সংস্থাপন মন্ত্রণালয়
বিধি-১ শাখা


নং সম(বিধি-১)বিবিধ-৫/৯৮-২৮০(১৫০), তারিখঃ ১৭ নভেম্বর ২০০৩/৩ অগ্রহায়ণ ১৪১০


পরিপত্র


বিষয়ঃ ১ম ও ২য় শ্রেণীর সরকারি চাকুরিতে শারীরিক প্রতিবন্ধীদের নিয়োগ।


বিভিন্ন সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, কর্পোরেশন ও দপ্তর সমূহের নন- গেজেটেড পদসমূহে নিয়োগের ক্ষেত্রে বর্তমানে বিদ্যমান কোটানীতি অনুযায়ী এতিমখানা নিবাসী ও শারীরিক প্রতিবন্ধীদের জন্য ১০% কোটা সংরক্ষিত আছে। এ কোটা জেলাভিত্তিক কোটার অতিরিক্ত।


২। দেশে বিদ্যমান জনগোষ্ঠীর উল্লেখযোগ্য একটি অংশ অর্থাৎ প্রায় ১০% জনগোষ্ঠী প্রতিবন্ধী। এদের মধ্যে রয়েছে বোবা, শারীরিকভাবে বিকলাঙ্গ এবং দৃষ্টিহীন। জনসংখ্যার এ বিপুল অংশ অনেক ক্ষেত্রে আমাদের পরিবার ও সমাজে বোঝা স্বরূপ এবং সামাজিক ও পারিবারিক মান-মর্যাদার অন্তরায় হিসেবে বিবেচিত হয়। উদ্ভূত এ পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণের উপায় হল এ প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীকে কর্মক্ষম করে গড়ে তুলে তাঁদেরকে যথাযথ মর্যাদার আসনে আসীন করা। এতে করে নিজ পায়ে দাঁড়িয়ে তাঁরা যেমন আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠবে অনুরূপভাবে তাঁদের পরিবার ও সমাজও সৃষ্ট
অস্বস্থিকর অবস্থা হতে পরিত্রাণ পাবে।


৩। বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করে প্রতিবন্ধীগণ নিজেদেরকে শিক্ষিত এবং অনেক ক্ষেত্রে উচ্চ শিক্ষিত করে গড়ে তুলেছে। শিক্ষার ক্ষেত্রে অনেক সময় তাঁরা যথাযথ যোগ্যতা ও মেধার পরিচয় দিচ্ছে। যোগ্যতা ও মেধা বিচারে ক্ষেত্র বিশেষে তাঁরা এগিয়ে থাকলেও সমাজ তাঁদেরকে উপযুক্তভাবে মূল্যায়ন করছে না। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে যোগ্যতা অনুযায়ী চাকুরীতে তাঁদেরকে নিয়োগে কিছুটা অনীহা পরিলক্ষিত হয়। প্রতিনিয়তই দেখা যায় তাঁরা বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন। তাঁদের মেধা ও যোগ্যতা উপেক্ষিত হচ্ছে। ফলশ্রুতিতে তাঁদের মধ্যে সৃষ্ট হয় মানসিক বিপর্যস্ততা, হতাশা ও সমাজে নেমে আসে এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া।


৪। প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠী আমাদের সমাজেরই একটা অংশ। তাঁদের কেউ আমাদের সন-ান, কেউ ভাইবোন, আবার কেউ আমাদের আত্মীয়-স্বজন। সুতরাং আমাদের সকলের উচিৎ তাঁদের দিকে সহযোগিতা ও সহমর্মিতার হাত সমপ্রসারিত করা, যোগ্যতানুসারে তাঁদেরকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করা এবং স্বাবলম্বী করে তোলার কার্যক্রম গ্রহণ করা সরকারের একটি নৈতিক দায়িত্ব। এতদুদ্দেশ্যে প্রতিবন্ধীদের সরকারি চাকুরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে নেতিবাচক মানসিকতা দূরীকরণ একান-ভাবে কাম্য।


৫। বর্তমান কোটা পদ্ধতিতে প্রতিবন্ধীদের জন্য শুধুমাত্র ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণীর পদে নিয়োগের জন্য কোটা সংরক্ষিত আছে। ১ম ও ২য় শ্রেণীর সরকারি চাকুরিতে নিয়োগে তাঁদের জন্য সংরক্ষিত কোন কোটা নেই। এক্ষেত্রে যোগ্যতাই নিয়োগের একমাত্র মাপকাঠি। তাই প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করলে ১ম ও ২য় শ্রেণীর সরকারি চাকুরিতে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে যোগ্য প্রতিবন্ধীদেরকে নিয়োগের নিমিত্ত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও কার্যক্রম গ্রহণের জন্য সকলের সহযোগিতা একান্ত ভাবে কাম্য। কোন শ্রেণীর প্রতিবন্ধীদের জন্য কী ধরনের চাকুরি উপযোগী তা নির্ধারণপূর্বক কোন প্রতিষ্ঠানে তাদেরকে নিয়োগ করা যাবে সে জন্য প্রতিটি মন্ত্রণালয়, অধীনস’ দপ্তর/পরিদপ্তরকে এ জনগোষ্ঠীকে যথাযথ মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।


৬। বর্ণিত বিষয়সমূহ বিবেচনায় নিয়ে যোগ্য প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীকে ১ম ও ২য় শ্রেণীর সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ব্যবস্থা করা এবং এ বিষয়ে উৎসাহদান ও উদ্বুদ্ধকরণের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি।


সফর রাজ হোসেন
ভারপ্রাপ্ত সচিব
সংস্থাপন মন্ত্রণালয়।

Avatar

admin

আমি একজন সরকারি চাকরিজীবী। ভালবাসি চাকরি সংক্রান্ত বিধি বিধান জানতে ও অন্যকে জানাতে। আমার ব্লগের কোন কন্টেন্ট সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে বা জানাতে ইমেইল করতে পারেন alaminmia.tangail@gmail.com ঠিকানায়। ধন্যবাদ আপনাকে ওয়েবসাইটটি ভিজিট করার জন্য।