সর্বসাধারণকে ইবাদত / উপাসনা নিজ নিজ ঘরে পালনের নির্দেশ।

ভয়নক করোনা ভাইরাস সংক্রামণ রোধকল্পে মসজিদের ক্ষেত্রে খতীব, ইমাম, মুাজ্জিন ও খাদেমগণ ব্যতীত অন্য সকল মুসুল্লীকে সরকারের পক্ষ থেকে নিজ নিজ বাসস্থানে নামায আদায় এবং জুমআর জামায়াতে অংশগ্রহণের পরিবর্তে ঘরে যোহরের নামায আদায়ের নির্দেশ দেয়া যাচ্ছে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়

সমন্বয় অধিশাখা

www.mora.gov.bd

স্মারক নং-১৬.০০.০০০০.০০১.২১.০০৩.২০২০.১৪৮; তারিখ: ০৬ এপ্রিল ২০২০

জরুরি বিজ্ঞপ্তি

বিষয়: প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস বিস্তার রোধে সর্বসাধারণকে ইবাদত / উপাসনা নিজ নিজ ঘরে পালনের নির্দেশ।

বিশ্বব্যাপি প্রাণঘাটি করোনা ভাইরাস বয়াবহ মহামারী আকার ধারণ করেছে। বাংলাদেশে যথাযথভাবে সুরক্ষা নিশ্চিত করা না হলে ব্যাপর সংক্রামণ এবং বিপুল প্রাণ হানির আশঙ্কা করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

০২। করোনা ভাইরাস মানুষের হাচিঁ কাশি নি:শ্বাস ও সংস্পর্শের মাধ্যমে মুহুত্যের মধ্যে সংক্রমিত হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সংক্রমিত ব্যক্তির দেহে রোগের উপসর্গ দেখা দেয়ায় আগেই তার মাধ্যমে অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ঘটতে পারে। অনেকের মধ্যে ভাইরাসটি সুপ্ত অবস্থায় বিদ্যমান থাকে যার লক্ষণ দৃশ্যমান হয় না। পূর্ব থেকে সতর্কতা অবলম্বন না করলে এর বিস্তার রোধ অসম্ভব হয়ে পড়বে। এরকম হতে থাকলে অন্যান্য দেশের মতো আমাদের দেশেও ব্যাপক সংক্রমণ ও প্রাণ হানির আশঙ্কা রয়েছে। বিশ্বে এ পর্যন্ত এ রোগের কোন প্রতিষেধক বা চিকিৎসা আবিস্কৃত হয় নি। যে কারণে সরকার সব ধরনের জন সমাগম নিষিদ্ধ করেছে এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার লক্ষ্যে দেশের সব নাগরিককে ঘরে থাকার কঠোর নির্দেশ প্রদান করেছে।

০৩। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মসজিদ, মন্দির, গীর্জা ও প্যাগোডাসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে জনসমাগমের মাধ্যমে এ রোগের বিস্তার ঘটছে। আমাদের পাশ্ববর্তী দেশগুলোতেও এ ধরনের বিস্তার ও প্রাণহানির ঘটনার উদাহরণ বিদ্যমান। ইতোমধ্যে মুসলিম স্কলারদের অভিমতের ভিত্তিতে পবিত্র মক্কা মুকাররমা ও মদিনা মুনাওয়ারাসহ বিশ্বে প্রায় সব দেশের মসজিদে মুসল্লিদের আগমণ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ এ রোগের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রিত না হওয়া বাংলাদেশে মসজিদ, মন্দির, গীর্জা ও প্যাগোডাসহ ধর্মী প্রতিষ্ঠানে সর্বসাধারণের আগমণ বন্ধ রাখার জোর পরামর্শ দিয়েছেন। 

০৪। বিগত ২৯ মার্চ ২০২০ তারিখে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আহবানে এ বিষয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমগণ মিলিত হয়ে মসজিদে মুসল্লীদের উপস্থিতি সীমিত রাখার ব্যাপারে সর্বসম্মতভাবে আহবান জানিয়েছিলেন। তৎপরবর্তীতে পরিস্থিতি দ্রুত ভয়ংকর অবনতির দিকে যাচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সকলের সঙ্গে পরামর্শক্রমে নিম্নোক্ত নির্দেশনা প্রদান করা হলো।

১. ভয়নক করোনা ভাইরাস সংক্রামণ রোধকল্পে মসজিদের ক্ষেত্রে খতীব, ইমাম, মুাজ্জিন ও খাদেমগণ ব্যতীত অন্য সকল মুসুল্লীকে সরকারের পক্ষ থেকে নিজ নিজ বাসস্থানে নামায আদায় এবং জুমআর জামায়াতে অংশগ্রহণের পরিবর্তে ঘরে যোহরের নামায আদায়ের নির্দেশ দেয়া যাচ্ছে।

২. মসজিদে জামায়ত চালু রাখার প্রয়োজনে সম্মানিত খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম মিলে পাঁচ ওয়াক্তের নামাযে অনধিক ৫ জন এবং জুমআর জামাতে অনধিক ১০ জন শরিক হতে পারবেন। জনস্বার্থে বাহিরের মুসল্লী মসজিদের ভিতরে জামায়াতে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।

৩. একই সাথে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অন্যান্য ধর্মের অনুসারীদেরকেও উপাসনালয়ে সমবেত না হয়ে নিজ নিজ বাসস্থানে উপাসনা করার জন্য নির্দেশ দেয়া যাচ্ছে।

৪. এ সময়ে সারাদেশে কোথাও ওয়াজ মাহফিল, তাফসির মাহফিল, তাবলীগি বা মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা যাবে না। সবাই ব্যক্তিগতভাবে তিলাওয়াত, যিকির ও দুআর মাধ্যমে মহান আল্লাহর রহমত ও বিপদ মুক্তির প্রার্থনা করবেন।

৫. অন্যান্য ধর্মের অনুসারীগণও এ সময়ে কোন ধর্মীয় বা সামাজিক আচার অনুষ্ঠানের জন্য সমবেত হতে পারবেন না।

০৫। সকল ধর্মের মূলনীতির আলোকে এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে এই নির্দেশনা জারি করা হলো। উল্লিখিত নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসমূহের পরিচালনা কমিটিকে অনুরোধ করা হলো। কোন প্রতিষ্ঠানে উক্ত সরকারি নির্দেশ লংঘিত হলে প্রশাসন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য হবে।

০৬। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে জনস্বার্থে এ নির্দেশ জারি করা হলো।

মো: সাখাওয়াৎ হোসেন

উপসচিব

ফো: ৯৫৪৫৭৩৮

প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস বিস্তার রোধে সর্বসাধারণকে ইবাদত / উপাসনা নিজ নিজ ঘরে পালনের নির্দেশ: ডাউনলোড

admin

এই ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে বিস্তারিত জানতে বা কোন তথ্য যুক্ত করতে বা সংশোধন করতে চাইলে অথবা কোন আদেশ, গেজেট পেতে এই admin@bdservicerules.info ঠিকানায় মেইল করতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.