বাংলাদেশে ভূমি বা জমির অবস্থান বা ক্যাটাগরি অনুসারে খাজনা নির্ধারিত হয়ে থাকে- ২৫ বিঘা পর্যন্ত কৃষি জমির ক্ষেত্রে কোন খাজনা পরিশোধ করতে হয় না– ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা)

কত  একর কৃষি জমির জন্য খাজনা দিতে হবে না?  – ব্যক্তি ও পরিবারভিত্তিক কৃষি জমির মোট পরিমাণ ৮.২৫ একর ( ২৫বিঘা) পর্যন্ত হইলে কোন ভূমি উন্নয়ন কর দিতে হইবে না। উক্ত মওকুফের আওতায় ইক্ষু আবাদ, লবণ চাষের জমি এবং কৃষকের পুকুর ( বাণিজ্যিক মৎস্য চাষ ব্যতীত) অন্তর্ভুক্ত হইবে; তবে নিম্নের (খ) দফায় বর্ণিত ভূমি অন্তর্ভুক্ত হইবে না । ব্যক্তি ও পরিরভিত্তিক কৃষি জমির মোট পরিমাণ ৮.২৫ একরের ( ২৫ বিঘার) অধিক হইলে বা কোন সংস্থা কর্তৃক যে কোন পরিমাণ কৃষি জমি অধিকৃত হইলে, যেকোনো মালিক কর্তৃক চা, কফি, রাবার, ফুল বা ফলের বাগান এবং বাণিজ্যিকভাবে মৎস্য চাষ, চিংড়ি চাষ, হাঁস মুরগির ও গবাদি পশুর খামার ইত্যাদি বিশেষকাজে ভূমি ব্যবহার করিলে উক্ত প্রকার ভূমির পরিমাণ যাহাই হউক না কেন সম্পূর্ণ জমির ভূমি উন্নয়ন করের হার বার্ষিক প্রতি শতাংশ ২/-(দুই) টাকা আদায় করিতে হইবে।

দাখিলার জন্য কত আদায় করতে পারবে? (ক) দফায় বর্ণিত ভূমি উন্নয়ন কর মওকুফের আওতাধীন কৃষি জমির সংশ্লিষ্ট প্রতিটি হোল্ডিং এর ভূমি উন্নয়ন কর মওকুফ বাবদ দাখিলা প্রদানের জন্য আবশ্যিকভাবে বার্ষিক ১০.০০ টাকা আদায় করিতে হইবে। কৃষি জমি গ্রামীণ বা পৌর যে এলাকাতেই হউক উপরে বর্ণিত হার ও শর্ত প্রযোজ্য হইবে।

খাজনা কত আসছে কোথায় দেখবো? অনলাইনের মাধ্যমে জমির খাজনা চেক করার জন্য প্রথমে ldtax.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন। এরপরে “পেমেন্ট করুন” অপশনের উপর ক্লিক করে। তারপরে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা এবং মৌজা নির্বাচন করে হোল্ডিং নাম্বার প্রদান করে “অনুসন্ধান” বাটনে ক্লিক করুন। বর্তমানে আপনারা খুব সহজেই অনলাইনের মাধ্যমে জমির খাজনার তথ্য চেক করতে পারবেন।

ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ পদ্ধতি । ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করা যায় অনলাইনই । ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ রশিদ ফরম অনলাইনে ডাউনলোড করতে পারবেন

জমির খাজনা না দিলে কি হয়? তিন বছর খাজনা না দিলে জমি হবে খাস। কোনো কারণে টানা তিন বছর কেউ খাজনা না দিলে তার জমি বাজেয়াপ্ত ও খাস করা হবে। এ ছাড়া জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে কারও জমি অবৈধভাবে দখল করলে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।

Caption: Khazna Rules and Rate 2015

অকৃষি জমির ভূমি উন্নয়ন কর । অকৃষি জমির ভূমি উন্নয়ন করের হার নির্ধারণের জন্য সারা দেশকে অগ্রসরতার মানদণ্ডে  ০৬টি ধাপে চিহ্নিত করা হয়েছে

  1. ধাপ-কঃ ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও সিলেট সিটিকর্পোরেশন ভুক্ত এলাকা।
  2. ধাপ-খঃ রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, রংপুর ও কুমিল্লা সিটিকর্পোরেশন ভুক্ত এলাকা। ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ উপজেলা, সাভার, ধামরাই, চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড, হাটহাজারি ও কক্সবাজার জেলা সদরের পৌর এলাকা। নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবো পৌর এলাকা এবং সোনারগাঁও উপজেলার কাঁচপুর ও মেঘনাঘাট এলাকা। ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ি, জামিরদিয়া, ধানসুর, ভানডাব, কাঁঠালি ও মেহেরবাড়ি মৌজা। নোয়াখালী জেলার চৌমুহনি পৌর এলাকা। রাজউকের আওতাধীন পূর্বাচল আবাসিক এলাকা।
  3. ধাপ-গঃ ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, নোয়াখালি, পাবনা, বগুড়া, দিনাজপুর, কুষ্টিয়া, যশোর ও পটুয়াখালী জেলাসদরের পৌরএলাকা। গাজীপুর জেলার শ্রীপুর, কালিয়াকৈর, কালিগঞ্জ, খুলনা জেলার ফুলতলা উপজেলার আটরা গিলাতলা ইউনিয়ন ও দামোদর ইউনিয়নের মশিখালি মৌজা। নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন পৌর এলাকা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ, কুমিল্লা জেলার লাকসাম ও চাঁদপুর জেলার হাজিগঞ্জ উপজেলা। ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা পৌরএলাকা এবং টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর পৌরএলাকা। নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর পৌরসভা। কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরববাজার পৌরএলাকা।
  4. ধাপ-ঘঃ অন্যান্য জেলা সদর পৌরএলাকা। অন্যান্য সকল প্রথম শ্রেণির পৌরএলাকা। নোয়াখালি জেলার সোনাইমুরি ও চাটখিল পৌরএলাকা এবং লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ পৌরএলাকা ও রায়পুর পৌরএলাকা। নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়ন। বগুড়া জেলার শান্তাহার পৌরএলাকা ও শেরপুর পৌরএলাকা। জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি পৌরএলাকা এবং পাবনা জেলার ঈশ্বরদী পৌরএলাকা। খুলনা জেলার দিঘলিয়া উপজেলার যোগীপুর ইউনিয়ন ও আড়ংঘাটা ইউনিয়ন, বটিয়াঘাটা উপজেলার জলমা ইউনিয়ন, ডুমুরিয়া উপজেলার গুটুদিয়া ইউনিয়ন এবং যশোর জেলার অভয়নগর পৌরসভা। দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর পৌরসভা। নোয়াখালী জেলার বশুরহাট পৌরএলাকা।
  5. ধাপ- ঙঃ অন্যান্য সকল পৌরএলাকা।
  6. ধাপ- চঃ পৌরএলাকা ঘোষিত হয় নাই এমন এলাকা।

আবাসিক জমি বলতে কি বুঝায়?

আবাসিক ও অন্যান্য – শ্রেণিতে রাস্তা এবং সরকারি-বেসরকারি সংস্থার (১ নং খাস খতিয়ান ব্যতীত) আবাসিক ও দাপ্তরিক ভবনাদি বিবেচনা করিতে হইবে। (২) চ ধাপে তথা পৌরএলাকা ঘোষিত হয় নাই এমন এলাকায় আবাসিক জমি বলিতে পাকা ভিটির গৃহ বা তৎসংলগ্ন আঙিনা বুঝাইবে। এই আদেশ ১ জুলাই ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দ হইতে কার্যকর বলিয়া গণ্য হইবে । খাস জমি ব্যতীত সকল সরকারি-বেসরকারি সংস্থার, পরিবারের বা ব্যক্তির মালিকানাধীন জমির ক্ষেত্রে এই প্রজ্ঞাপনে বর্ণিত ভূমি উন্নয়ন কর প্রযোজ্য হইবে।

ভূমি উন্নয়ন কর ২০২৩ । অনলাইনে খাজনা পরিশোধে যে সকল প্রমাণক প্রয়োজন পড়বে

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ৮ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে বিস্তারিত জানতে admin@bdservicerules.info ঠিকানায় মেইল করতে পারেন।

admin has 3000 posts and counting. See all posts by admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *