ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ব্যবহারের নতুন নির্দেশনা: ভোটার ও প্রার্থীরা নিতে পারলেও নিষিদ্ধ গোপন কক্ষে কার্যকর থাকবে?
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংশোধিত বিধি-নিষেধ জারি করেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সাধারণ ভোটার এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা কেন্দ্রে মোবাইল ফোন সঙ্গে রাখতে পারলেও গোপন কক্ষে এর ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই নির্দেশনা জানানো হয়।
যাঁরা মোবাইল ফোন সঙ্গে রাখতে পারবেন:
নির্বাচন কমিশনের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সুনির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি ও কর্মকর্তা ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন বহন ও ব্যবহার করতে পারবেন। তাঁরা হলেন:
ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসার।
ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ ইনচার্জ।
‘নির্বাচন সুরক্ষা ২০২৬’ অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারকারী ০২ (দুই) জন আনসার সদস্য।
পেশাগত দায়িত্ব পালনরত দেশি ও বিদেশি সাংবাদিক এবং অনুমোদিত পর্যবেক্ষকগণ (সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক নীতিমালা অনুসরণ সাপেক্ষে)।
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তাঁদের নির্বাচনী এজেন্ট।
সাধারণ ভোটারগণ।
যাঁদের জন্য মোবাইল ফোন রাখা নিষিদ্ধ:
প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, কেন্দ্রের ভেতরে কর্মরত নিম্নোক্ত ব্যক্তিবর্গ মোবাইল ফোন সঙ্গে রাখতে পারবেন না:
সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার।
পোলিং অফিসার।
পোলিং এজেন্ট।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অপরাপর সদস্য (পুলিশ ইনচার্জ ও নির্দিষ্ট ২ জন আনসার সদস্য ব্যতীত)।
গোপন কক্ষের গোপনীয়তা রক্ষায় কঠোরতা
নির্বাচন কমিশন থেকে বিশেষভাবে জানানো হয়েছে যে, ভোটার বা সংশ্লিষ্ট অন্য কেউ গোপন কক্ষে (যেখানে ব্যালটে সিল মারা হয়) কোনোভাবেই মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। ভোটের গোপনীয়তা বজায় রাখার স্বার্থে এই নির্দেশনা অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কেন এই সংশোধনী?
উল্লেখ্য যে, গত ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে জারি করা আগের নির্দেশনার কিছু অস্পষ্টতা দূর করতে এই সংশোধিত আদেশ জারি করা হয়েছে। মূলত স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে নির্বাচনের তথ্য দ্রুত আদান-প্রদান নিশ্চিত করতেই নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের অ্যাপ ও মোবাইল ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন এই সিদ্ধান্ত যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য বিভাগীয় কমিশনার, রিটার্নিং অফিসার এবং জেলা প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছে।

ভোট দেওয়ার ছবি তোলা যাবে?
এককথায় উত্তর হলো— না, ভোট দেওয়ার ছবি তোলা যাবে না।
নির্বাচন কমিশনের সংশোধিত নির্দেশনা এবং প্রচলিত নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, ভোট দেওয়ার ছবি তোলা বা ভিডিও করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং এটি একটি দণ্ডনীয় অপরাধ।
বিষয়টি আরও পরিষ্কারভাবে বুঝতে নিচের পয়েন্টগুলো লক্ষ্য করুন:
গোপন কক্ষের পবিত্রতা: আপনি যখন গোপন কক্ষে (Secret Booth) ভোট দিতে প্রবেশ করবেন, তখন সেই মুহূর্তের ছবি তোলা বা ব্যালট পেপারের ছবি তোলা যাবে না। ভোটের গোপনীয়তা রক্ষা করা প্রতিটি নাগরিকের আইনি দায়িত্ব।
মোবাইল ফোন ব্যবহারের সীমাবদ্ধতা: যদিও নতুন নির্দেশনায় ভোটারদের কেন্দ্রে মোবাইল ফোন নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তবে প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট বলা আছে যে গোপন কক্ষে মোবাইল ব্যবহার করা যাবে না।
আইনি ব্যবস্থা: যদি কেউ ভোট দেওয়ার ছবি তোলে বা ব্যালট পেপারের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে, তবে প্রিজাইডিং অফিসার চাইলে তার ব্যালট বাতিল করতে পারেন এবং আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারে।
ব্যতিক্রম: শুধুমাত্র অনুমোদিত সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকরা কেন্দ্রের ভেতরে সাধারণ পরিবেশের ছবি তুলতে পারেন, তবে তারাও কোনোভাবেই কোনো ভোটার ভোট দিচ্ছেন এমন অবস্থার বা গোপন কক্ষের ভেতরের ছবি তুলতে পারবেন না।
সংক্ষেপে, আপনি কেন্দ্রে ফোন নিতে পারবেন ঠিকই, কিন্তু সেটি পকেটে বা ব্যাগে রাখতে হবে। ভোট দেওয়ার জায়গায় ফোন বের করা মানেই বিপদে পড়া।



