ভ্যাট নির্ণয়ের সূত্র ভ্যাট কিভাবে বের করে?

সরকারি দপ্তরগুলোতে বিভিন্ন সময় ভ্যাট নির্ণয়ের প্রয়োজন পড়ে। ভ্যাট সহ মূল্য বের করণ অথবা মোট মূল্যের ভ্যাট নির্ধারণ করতে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো বিবেচনায় আনতে হয়। বাংলাদেশের সাংবিধানিক আইন অনুযায়ী সাধারণত ভোগ্য পণ্য ও সেবার ক্রয় মূল্যের উপর ১৫% ভ্যাট সরকারের কোষাগারে জমা দিতে হয়।

মানে ১৫% ভ্যাট ধরতে হয়। তবে বিশেষ কিছু পণ্য বা সেবা আছে যার উপর আরও অনেক বেশি ভ্যাট দিতে হয় যেমন: সিগারেট, মদ, দামী গাড়ি, ফাইভ স্টার হোটেল ইত্যাদির ক্ষেত্রে ১৫% থেকে কয়েক’শ পার্সেন্ট কিংবা তারও বেশি যে কোন পরিমাণ ভ্যাট ধার্য হতে পারে। আবার কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে ভ্যাট নির্দিষ্ট পরিমাণ দিতে হয়। যেমন যে কোন এইচ ডি ক্যামেরার উপর বাংলাদেশে ১৫০০০ টাকা ভ্যাট দিতে হয়।

হিসাববিজ্ঞানের ক্ষেত্রে তাই বলা না থাকলে সাধারণত পণ্য বা সেবার মূল্যের ১৫% ভ্যাট ধরা হয়। ২. ভ্যাটের জাবেদা ও ভ্যাট চলতি হিসাব [নগদে ১০০০০ টাকার পণ্য ক্রয় এবং ১৫% ভ্যাট প্রদান করা হল। এটার জাবেদা এবং টাকার পরিমাণ কত এবং কিভাবে লিখব? শুধু মাত্র পণ্য ক্রয় ও বিক্রয়ের উপর ভ্যাট এর জন্য আলাদা জাবেদা দিতে হয়। সম্পদ ক্রয় করলে ভ্যাট এর জন্য কোন জাবেদা দিতে হয় না। সাধারণত ভ্যাট ১৫% হয়ে থাকে।

তাই % এর হার বলা না থাকলেও ভ্যাট ১৫% ধরতে হয়। পণ্য ক্রয় বা বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ভ্যাট দুইভাবে আসতে পারে একটি হচ্ছে ১৫% ভ্যাট সহ আরেকটি হল ১৫% ভ্যাট ধার্য। একটু ব্যাখ্যা করি, ভ্যাট সহ মানে ক্রয় বা বিক্রয় মূল্যের মধ্যে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত আছে। উদাহরণ হিসাবে বলা যায় যে যদি ভ্যাটসহ বলে তাহলে ঐ পণ্যের মূল্যকে ১৫ দিয়ে গুন ১১৫ দিয়ে ভাগ করলে ভ্যাটের টাকাটা বের হয়ে আসবে। আর যদি ভ্যাট সহ না বলে তাহলে সরাসরি % দিয়ে ভ্যাটের টাকাটা বের করতে হবে।

আরেকটা কথা ভ্যাট কে ভ্যাট চলতি হিসাব নামে আধুনিক পদ্ধতিতে হিসাব ভুক্ত করা হয়। আর ভ্যাট হিসাব চলতি হিসাব ডে. দিকে না ক্রে. দিকে বসবে তার সহজ পদ্ধতি হলোঃ পণ্য যেদিকে ভ্যাট সেদিকে… মানে যখন ক্রয়ের ক্ষেত্রে ভ্যাট দিবেন তখন ক্রয় ডে. হলে ভ্যাটও ডে. আবার ক্রয় ক্রে. হলে ভ্যাটও ক্রে. হবে। অন্যদিকে যখন বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ভ্যাট দিবেন তখন বিক্রয় ডে. হলে ভ্যাটও ডে. আবার বিক্রয় ক্রে. হলে ভ্যাটও ক্রে. হবে। (লক্ষণীয় এক্ষেত্রে ক্রয়কে ডে. করার আগে মোট মূল্য থেকে ভ্যাটের টাকা বাদ দিয়ে বাকিটা ক্রয় হিসাবে ডে. করতে হবে।

এবার ভ্যাট ধার্য

ক্রয় বা বিক্রয় মূল্যের সাথে ভ্যাট যোগ বা অন্তর্ভুক্ত করা নেই। লেনদেনটি এরকম হতে পারে: নগদে ২০০০০ টাকার পণ্য ক্রয়। এবং ১৫% ভ্যাট প্রদান করা হল। অথবা, নগদে ২০০০০ টাকার পণ্য ক্রয়। এবং এর ১৫% ভ্যাট ধার্য করতে হবে। এখানে ২০,০০০ টাকার মধ্যে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত নাই আলাদা করে ভ্যাট এর টাকা পরিশোধ করা হবে।

ক) এক্ষেত্রে ভ্যাট আলাদা হলে ভ্যাট নির্ণয়ের সূত্রটি হল নিম্নরূপ: তখন ভ্যাট নির্ণয় করা হয় এভাবে: ভ্যাট = (ক্রয়/বিক্রয় মূল্য × ১৫) ÷ ১০০ সুতরাং ২০,০০০ টাকার ভ্যাট হবে = (২০,০০০ × ১৫) ÷ ১০০ = ৩০০০ টাকা।

খ) এক্ষেত্রে ভ্যাট যুক্ত হলে ভ্যাট নির্ণয়ের সূত্রটি হল নিম্নরূপ: তখন ভ্যাট নির্ণয় করা হয় এভাবে: ভ্যাট = (ক্রয়/বিক্রয় মূল্য × ১৫) ÷ ১১৫ সুতরাং ২০,০০০ টাকায় ভ্যাট হবে = (২০,০০০ × ১৫) ÷ ১১৫ = ২৬০৮.৭৯ টাকা।

admin

এই ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে বিস্তারিত জানতে বা কোন তথ্য যুক্ত করতে বা সংশোধন করতে চাইলে অথবা কোন আদেশ, গেজেট পেতে এই admin@bdservicerules.info ঠিকানায় মেইল করতে পারেন।

2 thoughts on “ভ্যাট নির্ণয়ের সূত্র ভ্যাট কিভাবে বের করে?

  • 07/09/2021 at 10:45 am
    Permalink

    কোন বিক্রেতা 20000 টাকার পন্য সরবরাহ করলো এবং উপরোক্ত সূত্রের মাধ্যমে ভ্যাট নির্ণয় করা হলো , আমার প্রশ্ন হলো উক্ত বিল হতে কিভাবে এআইটি কর্তন করবো , জানালে উপকৃত হতাম ।

  • 07/09/2021 at 9:42 pm
    Permalink

    সরাসরি ২০০০০ টাকার উপর ২০০০০*১৫% = ৩০০০ টাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.