মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের মধ্যে নিম্নশ্রেণীর কর্মচারীদের পদোন্নতিতে বিস্তর ফারাক!

অধিদপ্তর তথা মাঠ পর্যায়ের কর্মচারী ও সচিবালয়ের কর্মচারীদের পদোন্নতি ও আর্থিক সুবিধায় বিরাট বৈষম্য বিরাজমান। এ বৈমষ্যটি যদি আপনি চাকরিকাল বিবেচনায় দৃষ্টিপাত করেন তবে আপনি ভেবেই কূল পাবেন না যে, এটা কিভাবে সম্ভব? আসুন দেখে নিই একজন অফিস সহকারীর পদোন্নতি ও আর্থিক সুবিধায় কি বিস্তর ফারাক রয়েছে।

মন্ত্রণালয় বা সচিবালয়ের একজন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক বা সমমান।

প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে পদোন্নতি পেতে অন্যূন ০৫ (পাঁচ) বৎসরের চাকুরীর অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। মাত্র পাঁচ বছর সন্তোষজনক চাকুরী শেষ করার পর ১৬ গ্রেড হতে ১০ নম্বর গ্রেড অর্থাৎ তৃতীয় শ্রেণীর একজন কর্মচারী হতে দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তা ১০ গ্রেড পদোন্নতি পায়। পদোন্নতিযোগ্য মোট পদের ৬৫% পদে অফিস সহকারী (১৬ গ্রেড) হতে প্রশাসনিক কর্মকর্তা (১০ম গ্রেড) এ পদোন্নতি দেয়া হয়। এ পদোন্নতির ফলে ১১৩২০ টাকা মূল বেতন থেকে ৬টি গ্রেড এগিয়ে গিয়ে ১৬০০০ টাকা মূল বেতনে পৌছে যায়। প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে সফলভাবে ৭ বছর ফিডার পদে পূর্ণ করতে পারলেই সে সহকারী সচিব নন-ক্যাডার পদে পদোন্নতি লাভ করেন। সহকারী সচিব পদে ৯ম গ্রেডে পদোন্নতির ফলে মাত্র ৫+৭ = ১২ বছরে তিনি ২২০০০ টাকা মূল বেতনে চলে পেতে পারেন। সহকারী সচিব থেকে সিনিয়র সহকারী সচিব এবং সিনিয়র সচিব হতে উপ-সচিব পদে পদোন্নতির মাধ্যমে তাদের চাকরি অবসান হয়।

অধিদপ্তর বা দপ্তরের একজন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক বা সমমান।

প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে পদোন্নতি পেতে অন্যূন ১৩ (তের) বৎসরের চাকুরীর অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। ফিডার পদে তের বছর পূর্ণ হতে শুধু অফিস সহকারী হতে হিসাবরক্ষক বা ক্যাশিয়ার পদে আসতে ৫ বছর, হিসাবরক্ষক বা কোষাধ্যক্ষ থেকে ৩ বছর প্রধান সহকারী হতে এবং প্রধান সহকারী থেকে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হতে ৫ বছরের ফিডার পদে অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। প্রতি ক্ষেত্রে তিন চতুাংশ হার গুনে গুনে লম্বা পুল পারি দিতে কারও কারও ২০ বছরও লেগে যায় আবার কেউ কেউ প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদ পর্যন্ত পৌছাতেই পারে না। তৃতীয় শ্রেণীর একজন কর্মচারী হতে দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তা ১০ গ্রেড পদোন্নতি পেতেই তার চাকরি জীবন শেষ। পদোন্নতিযোগ্য মোট পদের শতাংশ, ফিডার পদের মেয়াদকাল, বিভিন্ন টার্মস গুনতে গুতেই তার চাকরিকাল শেষের দ্বারাপান্তে। ১০তম গ্রেডের বেতনে পৌছানো একজন অফিস সহকারীর স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যায়। ১২ বছর শেষে একজন কর্মচারী হিসাবরক্ষক বা উচ্চমান সহকারী বা কোষাধ্যক্ষ পদে থাকাকালীন তার মূল বেতন দাড়াবে মাত্র ১৮৪০০ টাকা মাত্র। হিসাবরক্ষক বা উচ্চমান সহকারী হতে প্রধান সহকারী, প্রধান সহকারী হতে প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে পদোন্নতি পেয়ে খুব কম কর্মচারীই অবসরে চলে যেতে পারেন।

উপরোক্ত আলোচনা হতে চাকরি জীবনের মাত্র ১২ বছরে ৩,৬০০ টাকা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয় মাঠ পর্যায়ের একজন অফিস সহকারী, এভাবে চাকরি অবসান পর্যন্ত বৈষম্যের শিকার হয়েই তার চাকরি কালের সমাপ্তি হয়। মাঠ পর্যায়ের কর্মচারীগণ সচিবালয়ের কর্মচারীদের তুলনায় না পান আর্থিক সুবিধা, না পান পদ মযার্দা। আমাদের প্রাণপ্রিয়, জননেত্রী, বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র হস্তাক্ষেপই কেবল পারেন সমপদের জন্য মাঠপর্যায়ের জন্যও বাংলাদেশ সচিবালয় (ক্যাডার বহির্ভূত গেজেটেড কর্মকর্তা এবং নন-গেজেটেড কর্মচারী) নিয়োগ বিধিমালা, ২০১৪ কার্যকর করতে। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে আছি।

বাংলাদেশ সচিবালয় (ক্যাডার বহির্ভূত গেজেটেড কর্মকর্তা এবং নন-গেজেটেড কর্মচারী) নিয়োগ বিধিমালা, ২০১৪

মাঠ পর্যায়ের কর্মচারীদের একটি সাধারণ নিয়োগ বিধিমালা যেটি ১৯৮৫সালের পর আর হালনাগাদ করা হয়নি।

admin

আমার ব্লগের কোন কন্টেন্ট সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে বা জানাতে ইমেইল করতে পারেন admin@bdservicerules.info ঠিকানায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.