ব্যাংক রেট , ব্যাংক সঞ্চয় হার কমে যাওয়ায় মানুষ বিনিয়োগের উৎস খুজে বেড়াচ্ছে। ব্যাংক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন ভাতা বেশি হওয়ার কারণে তারা কোন ভাবেই সঞ্চয় হার বাড়াতে পারছে না। যদি সরকার ব্যাংকগুলো সিঙ্গেল ডিজিট অর্থাৎ ৯ শতাংশ হারে ঋণ প্রদানের হার নির্ধারণ করে দিয়েছে কিন্তু সঞ্চয়ে সুদ বা মুনাফার সর্বনিম্ন হার নির্ধারণ করে না দেয়ায় জনগন তথা সধারণ সঞ্চয়কারী পড়ে গেছে বিপাকে। ব্যাংকগুলো চাইলে সঞ্চয় হার উর্ধ্বমূখী করতে পারবে না কারণ তাদের বার্ষিক ব্যয় কোনভাবে আর সংকুচিত করা সম্ভব নয়। ব্যাংকে টাকা রাখলে বাড়ছেই না বরং কমে যাচ্ছে। তাই আপনি চাইলে সরকারি কোষাগার বা জাতীয় সঞ্চয় পরিদপ্তরে আপনার কষ্টে উপার্জিত অর্থ বিনিয়োগ করতে পারেন তাতে করে আপনি ১০-১২% পর্যন্ত মুনাফা পাবেন। নিচে এ সংক্রান্ত

১। বাংলাদেশে এ পর্যন্ত প্রবর্তিত সঞ্চয়পত্রের প্রকল্প সংখ্যা কয়টি ও কি কি ? উঃ ১০টি ; যথাঃ-

(ক) Bangladesh Savings Certificates;;

(খ) প্রতিরক্ষা সঞ্চয়পত্র ;

(গ) পাঁচ বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র ;

(ঘ) বোনাস সঞ্চয়পত্র ;

(ঙ) তিন বছর মেয়াদী সঞ্চয়পত্র ;

(চ) ছয় মাস অন্তর মুনাফা ভিত্তিক সঞ্চয়পত্র ;

(ছ) পরিবার সঞ্চয়পত্র ;

(জ) তিন মাস অন্তর মুনাফা ভিত্তিক সঞ্চয়পত্র ;

(ঝ) জামানত সঞ্চয়পত্র ও

(ঞ) পেনশনার সঞ্চয়পত্র ।

২। বর্তমানে কয়টি সঞ্চয় প্রকল্প চালু রয়েছে ও কি কি ? উঃ ৪টি। যথা:-

(ক) পাঁচ বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র ;

(খ) পরিবার সঞ্চয়পত্র ;

(গ) তিন মাস অন্তর মুনাফা ভিত্তিক সঞ্চয়পত্র ও

(ঘ) পেনশনার সঞ্চয়পত্র ।

৩। পরিবার সঞ্চয়পত্র কত বছর মেয়াদী ? উঃ ৫(পাঁচ) বছর ।

৪। তিন মাস অন্তর মুনাফা ভিত্তিক সঞ্চয়পত্র কত বছর মেয়াদী ? উঃ ৩(তিন) বছর।

৫। পেনশনার সঞ্চয়পত্র কত বছর মেয়াদী ? উঃ ৫(পাঁচ) বছর।

৬। কোথায় সঞ্চয়পত্র কিনতে পাওয়া যায় ? উঃ বাংলাদেশ ব্যাংকের সকল অফিস, সকল বাণিজ্যিক ব্যাংক, জাতীয় সঞ্চয় পরিদপ্তরের অধীনস্থ সারা দেশে ৭১টি সঞ্চয় ব্যুরো অফিস এবং ডাকঘর(Post Office)সমূহে।

৭। সকল প্রকার সঞ্চয়পত্র সবাই(পুরুষ/মহিলা) কিনতে পারেন কি-না ? উঃ না।

৮। কোন্ প্রকার সঞ্চয়পত্র সকলে কিনতে পারেন ? উঃ পাঁচ বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র ও তিন মাস অন্তর মুনাফা ভিত্তিক সঞ্চয়পত্র(শুধুমাত্র জাতীয় পরিচয়পত্রধারী)।

৯। সকল প্রকার সঞ্চয়পত্র কি পুনঃবিনিয়োগ যোগ্য ? উঃ না, শুধুমাত্র পাঁচ বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র পরবর্তী ১(এক) মেয়াদের জন্য স্বয়ংক্রিয় পুনঃবিনিয়োগযোগ্য।

১০। পরিবার সঞ্চয়পত্র কোন শ্রেণীর জনসাধারণ কিনতে পারেন ? উঃ ১৮(আঠার) বা তদুর্ধ্ব বয়সের যে কোন বাংলাদেশী মহিলা, যে কোন বাংলাদেশী প্রাপ্ত বয়স্ক শারীরিক প্রতিবন্ধী (পুরুষ ও মহিলা) এবং ৬৫(পঁয়ষট্টি) ও তদুর্ধ্ব বয়সের যে কোন বাংলাদেশী পুরুষ শুধুমাত্র একক নামে এই সঞ্চয়পত্র কিনতে পারেন। পরিবার সঞ্চয়পত্র ক্রয়ের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর ও এর কপি সরবরাহ করতে হবে।

১১। পেনশনার সঞ্চয়পত্র কাদের জন্য প্রযোজ্য ?

উঃ অবসরপ্রাপ্ত সরকারী, আধা-সরকারী, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা/কর্মচারীগণ, সুপ্রীম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত মাননীয় বিচারপতিগণ, সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য এবং উল্লিখিত ক্যাটাগরিতে মৃত চাকুরীজীবীর পারিবারিক পেনশন সুবিধাভোগী স্বামী/স্ত্রী/সন্তানগণ। পেনশনার সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর ও এর কপি সরবরাহ করতে হবে।

১২। তিন মাস অন্তর মুনাফা ভিত্তিক ও পাঁচ বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র কাদের জন্য প্রযোজ্য ? উঃ ১৮ বা তদুর্ধ্ব বয়সের সকল শ্রেণী/পেশার বাংলাদেশী নাগরিক(জাতীয় পরিচয়পত্রধারী) একক বা যুগ্ম নামে এ সঞ্চয়পত্র কিনতে পারেন।

১৩। সঞ্চয়পত্রে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ করা যায় কি-না ? উঃ আয়কর বিধিমালা, ১৯৮৪(অংশ-২)-এর বিধি ৪৯-এর উপ-বিধি(২) এবং ৬ষ্ঠ তফসিল এর অনুচ্ছেদ ৩৪ মোতাবেক যথাক্রমে স্বীকৃত ভবিষ্যত তহবিল এবং সংশ্লিষ্ট উপ-কর কমিশনার কর্তৃক প্রত্যয়নকৃত Agro Based প্রতিষ্ঠান (মৎস্য খামার, হাঁস-মুরগীর খামার, পেলিটেড পোলট্রি ফিডস্ উৎপাদন, বীজ উৎপাদন, স্থানীয় উৎপাদিত বীজ বিপণন, গবাদি পশুর খামার, দুগ্ধ এবং দুগ্ধজাত দ্রব্যের খামার, ব্যাঙ উৎপাদন খামার, উদ্যান খামার প্রকল্প, রেশম গুটিপোকা পালনের খামার, ছত্রাক উৎপাদন এবং ফল ও লতাপাতার চাষ)-এর আয়ের ১০% অর্থ দিয়ে শুধুমাত্র পাঁচ বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র-এ বিনিয়োগযোগ্য । প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগে সংশ্লিষ্ট ফান্ডের E-TIN নম্বর ও তার কপি প্রদান বাধ্যতামূলক এবং বিনিয়োগের উর্দ্ধসীমা নেই ।

১৪। কিভাবে সঞ্চয়পত্র কেনা যায়/কিনতে হয় ? উঃ নগদ টাকা(১.০০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত) এবং চেকের মাধ্যমে ক্রেতার নিজ হিসাবের চেক এবং প্রদানকৃত চেকের হিসাব নম্বরেই সঞ্চয়পত্রের মুনাফা ও আসল Electronic Fund Transfer(EFT)- এর মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জমা করা হবে।

১৫। সঞ্চয়পত্র কিনতে ফরম পূরণ করতে হয় কিনা ? উঃ হ্যাঁ, বিভিন্ন প্রকার সঞ্চয়পত্রের জন্য নির্দিষ্ট μয় ফরম ও একটি সাধারণ অন-লাইন ফরম(ব্যক্তি/কোম্পানি) পূরণ করতে হয়। পেনশনার সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত হিসেবে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক পুরণকৃত প্রাপ্ত আনুতোষিক ও ভবিষ্য তহবিলের সনদপত্র এবং PPO(Pension Payment Order)/EPPO(Electronic Pension Payment Order)-এর ফটোকপি প্রদান করতে হয় ।

১৬। সঞ্চয়পত্র ক্রয় ফরমের সাথে কি কি কাগজপত্র প্রদান করতে হয় ? উঃ ক) ক্রেতা ও নমিনী প্রত্যেকের ০২(দুই) কপি পাসপোর্ট আকারের সত্যায়িত ছবি (ক্রেতার ছবি ১ম শ্রেনীর কর্মকর্তা কর্তৃক ও নমিনীর ছবি ক্রেতা কর্তৃক সত্যায়িত)।

খ) ক্রেতা ও নমিনীর জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি(নমিনী নাবালক হলে তার জন্মনিবন্ধন এবং প্রত্যয়নকারীর জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি)

গ) ক্রেতা(গণ)-এর E-TIN সার্টিফিকেটের কপি

ঘ) গ্রাহকের নিজ ব্যাংক হিসাবের MICR চেকের কপি; যে হিসাবে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা ও আসল EFT-এর মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জমা করা হবে।

১৭। কোন প্রকার সঞ্চয়পত্রে কত টাকা বিনিয়োগ করা যায় ? উঃ বিভিন্ন প্রকার সঞ্চয়পত্রের ক্রয়সীমা নিম্নরূপঃ-

ক্রমিক নং  সঞ্চয় প্রকল্পের নাম এক নামে যুগ্ম নামে
তিন মাস অন্তর মুনাফা ভিত্তিক সঞ্চয়পত্র ৩০ লক্ষ ৬০ লক্ষ
পাঁচ বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র ৩০ লক্ষ ৬০ লক্ষ
পরিবার সঞ্চয়পত্র ৪৫ লক্ষ
পেনশনার সঞ্চয়পত্র ৫০ লক্ষ


১৮। নাবালক সঞ্চয়পত্র ক্রয় করতে পারে কি-না ? উঃ “জাতীয় সঞ্চয়স্কিম অনলাইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম” এ আপাততঃ নাবালক বা নাবালকের পক্ষে প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তি সঞ্চয়পত্র কেনার সুযোগ নেই।

১৯। সঞ্চয়পত্রে কি নমিনী করা যায় ? উঃ হ্যাঁ, এক বা একাধিক নমিনী মনোনয়ন করা যায়। তবে নমিনী মনোনয়ন বাধ্যতামূলক নয়।

২০। সঞ্চয়পত্রে নমিনী করার প্রয়োজনীয়তা কি? উঃ ভবিষ্যতে নগদায়ন ঝামেলা এড়াতে সঞ্চয়পত্র নীতিমালা মোতাবেক সঞ্চয়পত্র ক্রয়কালে ক্রয় ফরমে এক বা একাধিক ব্যক্তিকে শতকরা হারে নমিনী মনোনয়ন করা বাঞ্ছনীয়।

২১। নাবালক/নাবালিকাকে নমিনী করা যায় কি ? উঃ হ্যাঁ, করা যায়।

২২। নমিনী না করে সঞ্চয়পত্রের ক্রেতা/ মালিক মারা গেলে,কে এগুলো ভাঙ্গাতে/নগদায়ন করতে পারবে ? উঃ ক্রেতা বা মালিকের মৃত্যুর তিন মাসের মধ্যে কোর্ট হতে Succession Certificate গ্রহণ করতে হবে। এ বিষয়ে সরকার অনুমোদিত বা প্রদত্ত আইনানুগ ক্ষমতা প্রাপ্ত ব্যক্তি/উত্তরাধিকারী( Successor) এগুলো ভাঙ্গাতে পারবে।

২৩। সঞ্চয়পত্রের মূল মালিক মারা গেলে কে ভাঙ্গাতে পারবে ? উঃ নমিনী। নমিনী উল্লেখ না থাকলে আইনানুগ ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি/ ব্যক্তিবর্গ।

২৪। বিনিয়োগকারী ও নমিনী উভয়ে মারা গেলে কে ভাঙ্গাতে পারবে ? উঃ Succession Certificate- এর বিপরীতে আইনানুগ উত্তরাধিকারী ভাঙ্গাতে পারবে।

২৫। কোন সঞ্চয়পত্রে কি কি সুবিধা পাওয়া যায় ? উঃ পরিবার সঞ্চয়পত্রের মুনাফা মাসিক ভিত্তিতে, তিন মাস অন্তর মুনাফা ভিত্তিক সঞ্চয়পত্র ও পেনশনার সঞ্চয়পত্রের মুনাফা ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে উত্তোলন করা যায়।

২৬। সঞ্চয়পত্রে মুনাফা কিস্তি সাধারণত কত ধরনের ? উঃ ১,০০,০০০/=(এক লক্ষ) টাকার উপর উৎসে কর কর্তনের পর অর্থাৎ নীট প্রাপ্য মাসিক ও ত্রৈমাসিক কিস্তি মুনাফার পরিমাণ (সরকারী নির্দেশে উৎসে কর প্রদানের হার পরিবর্তিত হলে কিস্তির পরিমাণ পরিবর্তন হতে পারে) নিম্নরূপ

ক্রমিক নং  সঞ্চয় প্রকল্পের নাম প্রাপ্তির সময়কাল মুনাফা কিস্তির পরিমাণ
পরিবার সঞ্চয়পত্র মাসিক/প্রতি মাসে ৮৬৪/-
তিন মাস অন্তর মুনাফা ভিত্তিক সঞ্চয়পত্র তিন মাস অন্তর ২,৪৮৪/-
পেনশনার সঞ্চয়পত্র তিন মাস অন্তর তিন মাস অন্তর ২,৬৪৬/-


২৭। বর্তমানে প্রচলিত সঞ্চয়পত্র সমূহের মুনাফার হার কি রূপ ? উঃ প্রচলিত সঞ্চয়পত্র সমূহের বর্তমানে (২৩/০৫/২০১৫ ইং থেকে) মুনাফার হার নিম্নরূপ: (সরকারী আদেশে যে কোন সময় পরিবর্তিত হতে পারে)

সময়সীমা পাঁচ বছর মেয়াদীবাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র পেনশনারসঞ্চয়পত্র বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র  তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র 
১ম বৎসরান্তে  ৯.৩৫% ৯.৭০% ৯.৫০% ১০.০০%
২য় বৎসরান্তে  ৯.৮০% ১০.১৫% ১০.০০% ১০.৫০%
৩য় বৎসরান্তে  ১০.২৫% ১০.৬৫% ১০.৫০% ১১.০৪%
৪র্থ বৎসরান্তে  ১০.৭৫% ১১.২০% ১১.০০%
৫ম বৎসরান্তে  ১১.২৮% ১১.৭৬% ১১.৫২%

২৮। সঞ্চয়পত্র কোথায় ভাঙ্গানো/নগদায়ন করা যায় ? উঃ বর্তমানে ক্রয়কৃত সঞ্চয়পত্রের মুনাফা ও আসল মেয়াদপূর্তিতে গ্রাহকের ব্যাংক হিসাবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে EFT-এর মাধ্যমে জমা করা হচ্ছে। মেয়াদপূর্তির পূর্বে সঞ্চয়পত্র নগদায়নের প্রয়োজন হলে যে অফিস থেকে সঞ্চয়পত্র ক্রয় করা হয়, সেখান ক্রেতাকে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে আবেদন করতে হবে। আবেদনের সাথে ক্রেতার ০১(এক) কপি পাসপোর্ট ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি ও সিস্টেম হতে সরবরাহকৃত সঞ্চয়পত্রের মূল কপি সরবরাহ করতে হয়।

২৯। সঞ্চয়পত্রের মুনাফা ও আসল নগদে উত্তোলন করা যায় কি ? উঃ না। ১/৭/২০১৯ তারিখ হতে সঞ্চয়পত্রের মেয়াদপূর্তিতে মুনাফা ও আসল গ্রাহকের নিজ ব্যাংক হিসাবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে EFT –এর মাধ্যমে জমা করা হচ্ছে।

৩০। সঞ্চয়পত্র কখন ভাঙ্গালে মুনাফা পাওয়া যায় না ? উঃ সকল প্রকার সঞ্চয়পত্রে ১ বছর পূর্তির পূর্বে নগদায়ন/ভাঙ্গালে কোন মুনাফা পাওয়া যায় না।

৩১। মেয়াদপূর্তির পূর্বে সঞ্চয়পত্র ভাঙ্গালে কিভাবে তা সমন্বয় করা হবে ? উঃ ১.০০ লক্ষ টাকার সঞ্চয়পত্র ক্রয় করে মেয়াদ পূর্তির পূর্বে নগদায়ন/ভাঙ্গালে নিম্নরূপ হিসাবায়ন পদ্ধতিতে সমন্বয় করা হবেঃ-

(ক) পরিবার সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রেঃ

সময়সীমা মাসিক মুনাফা উঠিয়ে বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরত গ্রহণ করলে প্রাপ্য টাকা
১ম বৎসর চলাকালীন ১,০০,০০০.০০-গৃহীত মুনাফা
২য় বৎসর চলাকালীন ১,০৯,৫০০.০০-গৃহীত মুনাফা 
৩য় বৎসর চলাকালীন ১,২০,০০০.০০-গৃহীত মুনাফা
৪র্থ বৎসর চলাকালীন ১,৩১,৫০০.০০-গৃহীত মুনাফা
৫ম বৎসর চলাকালীন ১,৪৪,০০০.০০-গৃহীত মুনাফা

(খ) তিন মাস অন্তর মুনাফা ভিত্তিক সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রেঃ

সময়সীমা মাসিক মুনাফা উঠিয়ে বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরত গ্রহণ করলে প্রাপ্য টাকা
১ম বৎসর চলাকালীন ১,০০,০০০.০০-গৃহীত মুনাফা
২য় বৎসর চলাকালীন ১,১০,০০০.০০-গৃহীত মুনাফা
৩য় বৎসর চলাকালীন ১,২১,০০০.০০-গৃহীত মুনাফা

(গ) পেনশনার সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রেঃ

সময়সীমা মাসিক মুনাফা উঠিয়ে বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরত গ্রহণ করলে প্রাপ্য টাকা
১ম বৎসর চলাকালীন ১,০০,০০০.০০-গৃহীত মুনাফা
২য় বৎসর চলাকালীন ১,০৯,৭০০.০০-গৃহীত মুনাফা
৩য় বৎসর চলাকালীন ১,২০,৩০০.০০-গৃহীত মুনাফা 
৪র্থ বৎসর চলাকালীন ১,৩১,৯৫০.০০-গৃহীত মুনাফা
৫ম বৎসর চলাকালীন ১,৪৪,৮০০.০০-গৃহীত মুনাফা 

৩২। সঞ্চয়পত্রের মুনাফার উপর উৎসে আয়কর কর্তন করা হয় কি-না ? উঃ ক্রয়কৃত সকল সঞ্চয়পত্রের মুনাফা প্রদান কালে নির্ধারিত হারে (মুনাফা থেকে) উৎসে আয়কর কর্তন করা হয়।(সময়ে সময়ে জারীকৃত সরকারী নির্দেশনানুযায়ী।) তবে পেনশনার সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে বিনিয়োগের পরিমান ৫(পাঁচ) লক্ষ টাকা অতিক্রম না করলে প্রাপ্য মুনাফা হতে উৎসে আয়কর কর্তন প্রযোজ্য হবে না এবং ৫.০০ লক্ষ টাকার অতিরিক্ত সঞ্চয়পত্র ক্রয় করা হলে সম্পূর্ণ ক্রয়ের বিপরীতে প্রাপ্য মুনাফা হতে নির্ধারিত হারে উৎসে আয়কর কর্তন করা হবে।

৩৩। সঞ্চয়পত্র স্থানান্তর (Transfer) করা যায় কিনা ? উঃ হ্যাঁ, ৩ ফেব্রুয়ারী/২০১৯ তারিখের পূর্বে ক্রয়কৃত সঞ্চয়পত্র ইস্যু অফিসের শাখাসমূহে রেজিস্ট্রেশন স্থানান্তর করা যায়।

৩৪। সঞ্চয়পত্র হারালে, চুরি হলে, পুড়ে গেলে, নষ্ট হলে কি হবে ? উঃ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পনেড়বর পর “ডুপ্লিকেট” সঞ্চয়পত্র পাওয়া যাবে।

৩৫। সঞ্চয়পত্র লিয়েন করে বা জামানত রেখে ব্যাংক ঋণ নেয়া যায় কিনা ? উঃ না, সঞ্চয়পত্র লিয়েন করে বা জামানত রেখে ব্যাংক ঋণ নেয়া যায় না।

৩৬। ক্রেতা(গণ)-এর ব্যাংক হিসাব নম্বর ও E-TIN নম্বর ব্যতীত সঞ্চয়পত্র μয় করা যাবে কি-না ? উঃ না।

৩৭। ০১/০৭/২০১৯ তারিখের পূর্বে ক্রয়কৃত সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কি হারে উৎসে আয়কর কর্তন করা হবে ? উঃ যখনই ক্রয় করা হোক না ক্রয়কৃত সকল প্রকার সঞ্চয়পত্রের মুনাফা প্রদান কালে বিদ্যমান সরকারী নির্দেশনানুযায়ী প্রযোজ্য হারে মুনাফা হতে উৎসে আয়কর কর্তন করা হবে।

৩৮। ওয়েব সাইট থেকে সঞ্চয়পত্রের ক্রয় ফরম Down-load করে তা সঞ্চয়পত্র ক্রয়ে ব্যবহার করা যাবে কি-না ? উঃ হ্যাঁ, ব্যবহার করা যাবে ।

৩৯। ক্রয়সীমার অতিরিক্ত বিনিয়োগ করা হলে করণীয় কি ? উঃ Sanchayapatra Rules,1977(Amended upto 30 June,2002) অনুযায়ী কোনো বিনিয়োগকারী ক্রয়সীমার অতিরিক্ত বিনিয়োগের উপর কোনো মুনাফা পাবার অধিকারী হবেন না ; তাৎক্ষণিকভাবে ক্রেতা সীমাতিরিক্ত সঞ্চয়পত্র নগদায়নপূর্বক মূল অর্থ ফেরত নিতে বাধ্য থাকিবেন।

৪০। বিনিয়োগকারীর মনোনীত ব্যক্তি মুনাফা ভিত্তিক সঞ্চয়পত্রের মুনাফা উত্তোলন করতে পারবেন কি-না ? উঃ হ্যাঁ, পারবেন। বিনিয়োগকারী কর্তৃক Authorisation Letter( মনোনীত ব্যক্তির স্বাক্ষর সত্যায়নপূর্বক) প্রদানপূর্বক মনোনীত ব্যক্তি মুনাফা ভিত্তিক সঞ্চয়পত্রের মুনাফা উত্তোলন করতে পারবেন। তবে সঞ্চয়পত্রের আসল অর্থ কোনো Authorisation Letter-এর মাধ্যমে প্রদানযোগ্য নয়।

৪১। সঞ্চয়পত্রের মুনাফা ও আসল কিভাবে প্রদান করা হচ্ছে ? উঃ সঞ্চয়পত্র বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান তথা বাংলাদেশ ব্যাংকের সকল অফিস, তফসিলী ব্যাংকের সকল শাখা, জাতীয় সঞ্চয় ব্যুরো ও ডাকঘর হতে μয়কৃত সকল প্রকার সঞ্চয়পত্রের আসল(মেয়াদপূর্তিতে)ও মুনাফা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্রেতা/ ক্রেতাগণ-এর ব্যাংক হিসাবে জমা করা হচ্ছে। মেয়াদপূর্তির পূর্বে ভাঙালেও আসল ও প্রাপ্য মুনাফা ক্রেতা/ক্রেতাগণ-এর ব্যাংক হিসাবে জমা করা হবে। ০১/০৭/২০১৯ তারিখ হতে প্রাপ্য কোনো প্রকার অর্থ (মুনাফা ও আসল) নগদে প্রদান করা হচ্ছে না।

বিভিনড়ব প্রকার সঞ্চয়পত্রের ক্রয়সীমা নিম্নরূপঃ-

ক্রমিক নং  সঞ্চয় প্রকল্পের নাম এক নামে যুগ্ম নামে
১. তিন মাস অন্তর মুনাফা ভিত্তিকসঞ্চয়পত্র  ৩০ লক্ষ ৬০ লক্ষ 
২. পাঁচ বছর মেয়াদী বাংলাদেশসঞ্চয়পত্র  ৩০ লক্ষ ৬০ লক্ষ 
৩. পরিবার সঞ্চয়পত্র ৪৫ লক্ষ 
৪. পেনশনার সঞ্চয়পত্র ৫০ লক্ষ 

১) প্রচলিত সঞ্চয়পত্র সমূহের বর্তমানে (২৩/০৫/২০১৫ ইং থেকে) সুদ/মুনাফার হার নিম্নরূপঃ

সময়সীমা পাঁচ বছরমেয়াদী  পেনশনারসঞ্চয়পত্র  পরিবারসঞ্চয়পত্র  তিন মাস অন্তরমুনাফা ভিত্তিকসঞ্চয়পত্র 
১ম বৎসরান্তে  ৯.৩৫% ৯.৭০% ৯.৫০% ১০.০০%
২য় বৎসরান্তে  ৯.৮০% ১০.১৫% ১০.০০% ১০.৫০%
৩য় বৎসরান্তে  ১০.২৫% ১০.৬৫% ১০.৫০% ১১.০৪%
৪র্থ বৎসরান্তে  ১১.৭৫% ১১.২০% ১১.০০%
৫ম বৎসরান্তে ১১.২৮% ১১.৭৬% ১১.৫২% – 

২) ১,০০,০০০/=(এক লক্ষ) টাকার উপর উৎসে কর কর্তনের পর অর্থাৎ নীট প্রাপ্য মাসিক ও ত্রৈমাসিক কিস্তি সুদ/মুনাফার পরিমাণ নিম্নরূপঃ-

ক্রমিক নং সঞ্চয়পত্রের নাম প্রাপ্তির সময়কাল মুনাফা কিস্তিরপরিমাণ
পরিবার সঞ্চয়পত্র মাসিক/প্রতি মাসে ৮৬৪/-
তিন মাস অন্তর মুনাফা ভিত্তিকসঞ্চয়পত্র তিন মাস অন্তর  ২,৪৮৪/-
পেনশনার সঞ্চয়পত্র তিন মাস অন্তর ২,৬৪৬/-

সঞ্চয়পত্র ক্রয় করতে অথবা ফরম সংগ্রহ করে রাখতে পারেন: ডাউনলোড

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ৮ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে বিস্তারিত জানতে admin@bdservicerules.info ঠিকানায় মেইল করতে পারেন।

admin has 3024 posts and counting. See all posts by admin

22 thoughts on “সঞ্চয়পত্র নিয়ে ৪১টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর।

  • Pingback:

  • Pingback:

  • ব্যাংক এশিয়ার ব্ল্যাঙ্ক চেক দিয়ে সঞ্চয় পএ কিনলে পোষ্ট অফিসের মাধ্যমে আসল টাকা কোথায় থাকবে আর মুনাফা কোথায় থাকবে???

  • মূল টাকা জাতীয় সঞ্চয় ব্যুরোতে জমা থাকবে। মুনাফা ব্যাংকে আসবে।

  • ৩১ নাম্বার প্রশ্নের উত্তরটা বুঝতে পারলাম না। ১ বছর না হলে ত মুনাফা দিবে নাহ। ১ বছর সম্পুর্ন না হলে কিভাবে মূল থেকে মাসিক মুনাফা বাদ দিবে? আর মাসিক মুনাফা ত পরিবার সঞ্চয়পত্র ছাড়া অন্য কোনো সঞ্চয়পত্রে পাওয়া যায় নাহ। তাহলে আমি যদি ১ম বছর হবার আগে কোনো কারণে সঞ্চয়পত্র উঠিয়ে/ভাঙ্গিয়ে নিতে চাই তাহলে আমার মূল থেকে টাকা কেটে নিবে? মানে যত টাকার সঞ্চয়পত্র কিনছি অই টাকা থেকে?

  • সোজা কথা বছর পূর্ণ হওয়ার পূর্বে টাকা তুললে সংশ্লিষ্ট বছর যে পরিমাণ অর্থ আপনাকে মুনাফা হিসাবে দেয়া হয়েছে তা কেটে রাখা হবে।

  • পারিবারিক সঞ্চয়পত্রের মেয়াদ শেষ হবার পর কি আবার বিনিয়োগ করতে পারব এই একই সঞ্চয়পত্রে? আর একসাথে কয়টা সঞ্চয়পত্র কিনতে পারব?

  • পারবেন। যৌথনামে ৫০ লাখ টাকার পর্যন্ত।

  • Bank r maddhome kinte hobe?

  • পোস্ট অফিসেও কেনা যায়। তবে আমি ব্যাংকের মাধ্যমেই কেনার পরামর্শ দিব।

  • etin খুলার পর আমি সঞ্চয় পত্র কিনলাম এখন কি আমাকে প্রত্যক বছর কর দিতে হবে ।etin বিষয় টা আমাকে বিস্তারিত বলবেন ।

  • ইটিন খুলা মানেই কর দিতে হবে এমন নয়। রিটার্ণ দাখিল করতে হবে। আপনার বার্ষিক আয় যদি ৩ লক্ষ টাকা ক্রস না করে তবে আপনি শুধুমাত্র কাগজপত্র বা হিসাব দাখিল করবেন এটিই রিটার্ণ দাখিল। ৩ লক্ষ টাকা ক্রস করলে আয়কর দাখিল করতে হবে। TIN থাকলেই রিটার্ণ দাখিল বাধ্যতামূলক কিনা জেনে নেয়া যাক।

  • Vai Ami 2019 e 5 years duration Bangladesh sonchoipotro kinsi, 1 lakh takai 5 bosor mane 2024 sal e koto taka dibe?

  • আমি সরকারী চাকুরী থেকে অবসর গ্রহনের পর ৫০ লক্ষ টাকার পেনশনার সঞ্চয়পত্র ক্রয় করেছি। সরকারী নিয়মানুসারে আমি আর কত টাকার অন্যান্য সঞ্চয়পত্র ক্রয় করতে পারবো জানাবেন। সরকারী প্রজ্ঞাপনটি এতদসংগে দিলে আরও ভাল হয়। ধন্যবাদ।

  • Sonchoipotror ki asol taka kome ba joto taka dia kina hoi ter dam kome ki na

  • না কমে না।

  • একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ কয়টি সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবেন? আমার বোনের নামে একটি সঞ্চয়পত্র আছে। তিনি সেটি না ভেঙ্গে আরও একটি সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবেন?

  • একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ কয়টি সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবেন? আমার বোনের নামে একটি সঞ্চয়পত্র আছে। তিনি সেটি না ভেঙ্গে আরও একটি সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবেন?

  • একক ৫০ লক্ষ যৌথ নামে ১ কোটি কেনা যাবে।

  • ইচ্ছামত টাইমস তবে একক নামে ৫০ লক্ষ ক্রস করিতে পারিবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *