সার্ভিস রুলস । নীতি । পদ্ধতি । বিধি

সরকারি আর্থিক ব্যয় মঞ্জুরী ২০২৬ । সরকারি অফিসে নতুন Format এ ব্যয় মঞ্জুরীর নির্দেশনা কি?

সরকারি আর্থিক শৃঙ্খলা রক্ষা এবং বিল নিষ্পত্তিতে জটিলতা এড়াতে হিসাব মহানিয়ন্ত্রক (CGA) কার্যালয় থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। ডিডিও (DDO) বা ড্রয়িং অ্যান্ড ডিসবার্সিং অফিসারদের জন্য জারিকৃত এই নির্দেশনায় আর্থিক মঞ্জুরী আদেশের ক্ষেত্রে প্রচলিত বিধি-বিধান যথাযথভাবে পালনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

নিচে এই প্রসঙ্গের ওপর ভিত্তি করে বিস্তারিত সংবাদটি উপস্থাপন করা হলো:


সরকারি ব্যয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের নির্দেশ: ত্রুটিপূর্ণ আর্থিক মঞ্জুরীতে বিল আটকে যাওয়ার শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ১২ আগস্ট, ২০২০

সরকারি অর্থ ব্যয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং অডিট আপত্তি এড়াতে আর্থিক বা ব্যয় মঞ্জুরী আদেশ জারির ক্ষেত্রে কঠোর হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে হিসাব মহানিয়ন্ত্রক (CGA) কার্যালয়। সম্প্রতি বিভিন্ন সরকারি দপ্তর থেকে পাঠানো বিলে নানাবিধ বিধিগত ত্রুটি পরিলক্ষিত হওয়ায় ডিডিওদের (DDO) সচেতন করতে এই বিশেষ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

অতিরিক্ত হিসাব মহানিয়ন্ত্রক (হিসাব ও পদ্ধতি) মো: মামুন-উল-মান্নান স্বাক্ষরিত এক পত্রে জানানো হয়েছে যে, বিল দাখিলের সময় কতিপয় মৌলিক বিধি প্রতিপালন না করায় প্রশাসনিক কাজে স্থবিরতা সৃষ্টি হচ্ছে।

মঞ্জুরী আদেশে যেসব প্রধান ত্রুটি চিহ্নিত করা হয়েছে:

হিসাব মহানিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের পর্যবেক্ষণে পাঁচটি প্রধান অনিয়মের কথা উল্লেখ করা হয়েছে:

  • আর্থিক ক্ষমতার অপব্যবহার: অনেক ক্ষেত্রে সর্বশেষ কার্যকর ‘আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ’ আদেশের সঠিক বিধি উল্লেখ না করেই ব্যয় মঞ্জুরী দেওয়া হচ্ছে।

  • পুরানো বাজেট থেকে বরাদ্দ: নির্দিষ্টকরণ আইন অনুযায়ী চলতি অর্থবছরের বরাদ্দ ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা থাকলেও অনেক অফিস গত অর্থবছরের বাজেট থেকে মঞ্জুরী দিচ্ছে। নির্দেশনায় স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, জিএফআর (GFR) ৫৮ অনুযায়ী মেয়াদ শেষে নবায়ন না করলে পুরনো মঞ্জুরী স্বয়ংক্রিয়ভাবে তামাদি হয়ে যায়।

  • হিসাবরক্ষণ অফিসকে অবহিত না করা: জিএফআর ৫০ অনুযায়ী, কোনো বিভাগ নিজস্ব ক্ষমতায় ব্যয় মঞ্জুর করলে তা সরাসরি সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানাতে হয়। কিন্তু বর্তমানে শুধু অফিস আদেশের কপি সংযুক্ত করা হচ্ছে, যা বিধিসম্মত নয়।

  • কোড ও বিবরণে অমিল: খরচের বিবরণের সাথে সংশ্লিষ্ট ইকোনমিক কোডের মিল থাকছে না এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক কোড (Organization Code) উল্লেখ করা হচ্ছে না।

  • পরিমাণ উল্লেখ না থাকা: মঞ্জুরী আদেশে অনেক সময় মোট ব্যয়ের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ উল্লেখ করা হচ্ছে না, যা আর্থিক স্বচ্ছতার পরিপন্থী।

ডিডিওদের জন্য করণীয়

সিজিএ কার্যালয় থেকে সংশ্লিষ্ট সকল ডিডিও-কে বিধি মোতাবেক আর্থিক মঞ্জুরী জারি করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। এছাড়া বিভ্রান্তি এড়াতে নির্দেশনার সাথে একটি ‘আদর্শ আর্থিক মঞ্জুরী নমুনা’ সংযুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে এই নমুনা অনুসরণ করে আদেশ জারি না করলে বিল পেমেন্টে জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই নির্দেশনা বাস্তবায়িত হলে সরকারি অর্থ ব্যয়ে বিশৃঙ্খলা কমবে এবং হিসাবরক্ষণ প্রক্রিয়া আরও দ্রুততর হবে।

 

বিধি -বিধান মোতাবেক আর্থিক/ব্যয় মঞ্জুরী আদেশ জারী করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ডিডিওগণকে অবহিত করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো। এতদসঙ্গে একটি আদর্শ আর্থিক/ব্যয় মঞ্জুরী নমুনা সংযুক্ত করা হলো। 

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

হিসাব মহানিয়ন্ত্রক এর কার্যালয়

হিসাব ভবন

সেগুন বাগিচা, ঢাকা-১০০০

www.cga.gov.bd

নং-০৭.০৩.০০০০.০০৩.১৪.৪০৮.১৬.৭৭৫; তারিখ: ১২/০৮/২০২০

 বিষয়: আর্থিক/ব্যয় মঞ্জুরী প্রদানের নির্দেশনা প্রসঙ্গে।

সম্প্রতি বিভিন্ন কার্যালয় হতে অত্র হিসাবরক্ষণ অফিসে দাখিলকৃত বিলসমূহে কতিপয় বিধি বিধান প্রতিপালনের ক্ষেত্রে ব্যত্যয় পরিলক্ষিত হচ্ছে যা নিম্নরূপ:

১) আর্থিক ক্ষমতা অর্পন সংক্রান্ত সর্বশেষ প্রযোজ্য আদেশের সংশ্লিষ্ট বিধানের উল্লেখ না করেই মঞ্জুরী প্রদান।

২) প্রযোজ্য নির্দিষ্টকরণ আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট অর্থ বছরের আর্থিক মঞ্জুরী প্রদান না করা। উদাহরণস্বরুপ কোন কোন অফিস হতে ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে বিল দাবী করে মঞ্জুরীর ক্ষেত্রে ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের বাজেট হতে আর্থিক মঞ্জুরী দেয়া হয়েছে। জিএফএর ৫৮ এ উল্লেখিত “সুনির্দিষ্ট ভাবে নবায়ন করা না হলে কোন নতুন ব্যয়ের জন্য প্রদত্ত মঞ্জুরী বৎসব অতিক্রান্ত হওয়ার সাথে সাথে তামাদি হয়ে যাবে”।

৩) জিএফআর ৫০ অনুযায়ী সরকারের মন্ত্রণালয় বা বিভাগ হিসেবে কোন মন্ত্রণালয় বা বিভাগ কর্তৃক ইহার নিজস্ব আর্থিক ক্ষমতার মধ্যে জারীকৃত সকল আর্থিক মঞ্জুরী ও আদেশ সরাসরি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগ কর্তৃক সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিসারকে অবহিত করা হইবে”। কিন্তু বিল দাখিলের সময় এর সাথে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তাকে সম্বোধন না করে কেবলমাত্র অফিস আদেশ এর কপি সংযুক্ত করা হয় যা কোনভাবেই জিএফআর এর উপরোক্ত বিধির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

৪) খরচের জন্য উল্লিখিত কোডের সাথে খরচের বিবরণীর অমিল পরিলক্ষিত হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক কোড উল্লেখ করা হয় না।

৫। কোন কোন ক্ষেত্রে ব্যয় /আর্থিক মঞ্জুরীর পরিমাপ উল্লেখ করা হয় না।

এমতাবস্থায়, বিধি -বিধান মোতাবেক আর্থিক/ব্যয় মঞ্জুরী আদেশ জারী করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ডিডিওগণকে অবহিত করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো। এতদসঙ্গে একটি আদর্শ আর্থিক/ব্যয় মঞ্জুরী নমুনা সংযুক্ত করা হলো।

 (মো: মামুন-উল-মান্নান)

অতিরিক্ত হিসাব মহানিয়ন্ত্রক (হিসাব ও পদ্ধতি)

ফোন: ৯৩৬০৮৫৯

 সরকারি অফিসে নতুন Format এ ব্যয় মঞ্জুরীর নির্দেশনা: ডাউনলোড

আপনার অনুরোধ অনুযায়ী, হিসাব মহানিয়ন্ত্রক (CGA) কার্যালয়ের নির্দেশনা এবং জিএফআর (GFR) বিধিমালা অনুসরণ করে একটি আদর্শ আর্থিক/ব্যয় মঞ্জুরী আদেশের নমুনা নিচে প্রস্তুত করে দেওয়া হলো। এটি ডিডিওগণ (DDO) তাদের দাপ্তরিক কাজে ব্যবহার করতে পারবেন।


আদর্শ আর্থিক/ব্যয় মঞ্জুরী আদেশের নমুনা

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার [মন্ত্রণালয়/বিভাগ/অধিদপ্তরের নাম] [কার্যালয়ের নাম ও ঠিকানা]

স্মারক নং: ……………………………………. | তারিখ: ………………………..

বিষয়: আর্থিক/ব্যয় মঞ্জুরী প্রদান প্রসঙ্গে।

উপর্যুক্ত বিষয়ের আলোকে জানানো যাচ্ছে যে, [কার্যালয়ের নাম]-এর নিম্নে বর্ণিত কাজের/ক্রয়ের নিমিত্ত সরকারি বিধি মোতাবেক ব্যয় নির্বাহের জন্য প্রশাসনিক ও আর্থিক মঞ্জুরী জ্ঞাপন করা হলো:

১. মঞ্জুরীকৃত কাজের/ক্রয়ের বিবরণ: [যেমন: কম্পিউটার সামগ্রী ক্রয়/আসবাবপত্র মেরামত/অন্যান্য] ২. অনুমোদিত অর্থের পরিমাণ: [অংকে] টাকা (কথায়: ………………………………………………….. মাত্র)। ৩. অর্থ বছর: ২০২২-২০২৩ [চলতি অর্থ বছর উল্লেখ করুন] ৪. ব্যয়ের খাত ও কোড:

  • প্রাতিষ্ঠানিক কোড: [যেমন: ১২৩-৪৫৬৭-৮৯১০]

  • ইকোনমিক/ব্যয় কোড: [যেমন: ৩২৫৫১০৫ – কম্পিউটার সামগ্রী]

৫. শর্তাবলী:

  • (ক) “আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ” সংক্রান্ত সর্বশেষ প্রযোজ্য আদেশের [সংশ্লিষ্ট বিধির নাম ও নম্বর] অনুযায়ী এই মঞ্জুরী প্রদান করা হলো।

  • (খ) বিদ্যমান সরকারি ক্রয় বিধি (PPR-2008) এবং আর্থিক বিধি-বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।

  • (গ) জিএফআর (GFR) ৫৮ অনুযায়ী, এই মঞ্জুরীকৃত অর্থ সংশ্লিষ্ট অর্থ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার সাথে সাথে তামাদি হয়ে যাবে (যদি না সুনির্দিষ্টভাবে নবায়ন করা হয়)।

  • (ঘ) বিল দাখিলের সময় ভাউচার ও প্রয়োজনীয় প্রমাণাদি সংযুক্ত করতে হবে।

৬. এই মঞ্জুরী আদেশের অনুলিপি সরাসরি সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তাকে জিএফআর (GFR) ৫০ অনুযায়ী অবহিত করা হলো।

(স্বাক্ষর ও সীল) [মঞ্জুরী প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের নাম ও পদবী] ফোন: …………………..


অনুলিপি (সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য): ১। সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা (উপজেলা/জেলা/বিভাগীয় হিসাবরক্ষণ অফিস) – [এটি জিএফআর ৫০ অনুযায়ী বাধ্যতামূলক]। ২। ডিডিও (সংশ্লিষ্ট দপ্তর)। ৩। অফিস কপি/গার্ড ফাইল।


এই নমুনার বিশেষ বৈশিষ্ট্য:

  • আইনি রেফারেন্স: এতে জিএফআর ৫০ এবং ৫৮ বিধির উল্লেখ রয়েছে যা সিজিএ কার্যালয় বিশেষভাবে চেয়েছিল।

  • কোড বিন্যাস: প্রাতিষ্ঠানিক ও ইকোনমিক কোড আলাদাভাবে রাখার জায়গা রাখা হয়েছে।

  • সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিসকে সম্বোধন: অনুলিপিতে হিসাবরক্ষণ অফিসারকে সরাসরি যুক্ত করা হয়েছে যাতে বিল রিজেক্ট হওয়ার ভয় না থাকে।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *