সরকারি কর্মচারীদের অতিরিক্ত ও চলতি দায়িত্বের কার্যভারভাতা নিয়ে নতুন নীতিমালা জারি
সরকারি দপ্তরে শূন্য পদের বিপরীতে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কার্যভারভাতা (Charge Allowance) প্রদান প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও সুসংহত করতে নতুন নীতিমালা জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ তারিখে অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রবিধি অনুবিভাগ থেকে জারি করা এক পরিপত্রের মাধ্যমে এই নতুন শর্তাবলী নির্ধারণ করা হয়েছে।
নীতিমালার প্রেক্ষাপট
মন্ত্রণালয় জানায়, সরকারি অফিসগুলোতে বিভিন্ন পদ শূন্য থাকায় জনস্বার্থে অনেক সময় একজন কর্মচারীকে তার নিজস্ব পদের পাশাপাশি অন্য পদের অতিরিক্ত দায়িত্ব বা চলতি দায়িত্ব প্রদান করা হয়। ১৯৮২ সালের পুরাতন একটি স্মারক বাতিল করে আধুনিক বেতন কাঠামোর সাথে সামঞ্জস্য রেখে এই নতুন নির্দেশনা কার্যকর করা হয়েছে।
কার্যভারভাতা প্রাপ্তির প্রধান শর্তাবলী
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, কার্যভারভাতা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে:
মেয়াদ ও সম্মতি: অতিরিক্ত দায়িত্বের স্থায়িত্ব যদি ৬ (ছয়) মাসের বেশি হয়, তবে ছয় মাস অতিক্রম করার আগেই অর্থ বিভাগের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক সম্মতি গ্রহণ করতে হবে।
চলতি দায়িত্বের সুযোগ: চলতি দায়িত্ব পালনকারী কর্মচারী তার দায়িত্ব পালনের পুরো সময়ের জন্য কার্যভারভাতা প্রাপ্য হবেন। তবে এ ক্ষেত্রে পদটি অবশ্যই উচ্চতর পদ হতে হবে।
যোগ্যতা: সংশ্লিষ্ট পদের জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতার চেয়ে কম যোগ্যতাসম্পন্ন কোনো কর্মচারীকে অতিরিক্ত বা চলতি দায়িত্ব প্রদান করা যাবে না।
পদের ধরন: একজন কর্মচারী তার বর্তমান পদের সমপদে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করলে ভাতা পাবেন। তবে নিজের পদের চেয়ে নিম্ন পদে বা একই সাথে একাধিক পদে দায়িত্ব পালন করলে কোনো কার্যভারভাতা পাওয়া যাবে না।
ন্যূনতম সময়সীমা: অতিরিক্ত বা চলতি দায়িত্ব পালনের মেয়াদ যদি ৩ (তিন) সপ্তাহের কম হয়, তবে সংশ্লিষ্ট কর্মচারী কোনো কার্যভারভাতা পাবেন না।
নতুন সৃষ্ট পদ: নতুন সৃষ্ট কোনো পদে সরাসরি পদায়ন না করে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হলে সেক্ষেত্রেও ভাতা প্রযোজ্য হবে না।
ভাতা নির্ধারণের ভিত্তি
পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, অতিরিক্ত বা চলতি দায়িত্ব পালনকারী কর্মচারী ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০১৫’ এর অনুচ্ছেদ ২২ অনুযায়ী কার্যভারভাতা প্রাপ্য হবেন। এই আদেশ জারির ফলে অর্থ বিভাগ কর্তৃক ইতিপূর্বে জারিকৃত এ সংক্রান্ত অন্যান্য সকল অফিস স্মারক বা পরিপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে।
বাস্তবায়ন ও অনুলিপি
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মনির উদ্দিন স্বাক্ষরিত এই পরিপত্রটি ইতিমধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকসহ সকল বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকদের কার্যালয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে।


চলতি দায়িত্বে কি নিম্নপদে দেওয়া যায়?
না, চলতি দায়িত্বে নিম্নপদে দেওয়া যায় না।
পরিপত্রের ‘ঙ’ অনুচ্ছেদে এই বিষয়ে অত্যন্ত স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে:
“কোন কর্মচারীকে নিজ পদের চেয়ে নিম্নপদে অথবা একই সাথে একাধিক পদে চলতি দায়িত্ব প্রদান করা যাবে না;”
এছাড়া ‘গ’ ও ‘ঘ’ অনুচ্ছেদ বিশ্লেষণ করলে আরও দুটি বিষয় পরিষ্কার হয়: ১. উচ্চতর পদ: নিজ পদের চেয়ে উচ্চতর পদে চলতি দায়িত্ব প্রদান করা হলে তিনি কার্যভারভাতা পাবেন। ২. নিম্নপদ: নিজের পদের চেয়ে নিম্ন পদে বা ৩য় কোনো পদের দায়িত্ব দেওয়া হলে তিনি কোনো কার্যভারভাতা প্রাপ্য হবেন না।
অর্থাৎ, নীতিগতভাবে নিম্নপদে চলতি দায়িত্ব প্রদান করা নিষিদ্ধ এবং এ ধরণের দায়িত্বের জন্য কোনো অতিরিক্ত ভাতারও সুযোগ নেই।



