সরকারি কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বৃদ্ধিতে নতুন মাইলফলক: আসছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ‘GPMS’ নির্দেশিকা
সরকারি কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ, জবাবদিহি বৃদ্ধি এবং লক্ষ্যভিত্তিক ফলাফল অর্জনের লক্ষ্যে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য ‘সরকারি কর্মসম্পাদন পরিবীক্ষণ পদ্ধতি (Government Performance Monitoring System-GPMS)’ নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ । নতুন এই নির্দেশিকা অনুযায়ী, আগামী অর্থবছর থেকে সরকারের মন্ত্রণালয় ও বিভাগের পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ের উপজেলা অফিস পর্যন্ত এই পদ্ধতির আওতাভুক্ত হচ্ছে ।
১. ৩ বছর মেয়াদি চলমান (Rolling) পরিকল্পনা
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতিটি সরকারি অফিসকে ভিশন ও মিশনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে একটি ৩ (তিন) বছর মেয়াদি চলমান পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে । ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের পরিকল্পনায় ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিফলন থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে । এই পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা রক্ষায় প্রতি বছর অর্থবছরের শুরুতে আরও একটি নতুন বছরের পরিকল্পনা যুক্ত করতে হবে ।
২. কর্মসম্পাদন পরিকল্পনার চারটি প্রধান ক্ষেত্র
২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের কর্মসম্পাদন পরিকল্পনা (সেকশন ২) মোট ৮০ নম্বরের ভিত্তিতে মূল্যায়িত হবে । এটি মূলত চারটি প্রধান ক্ষেত্রে বিভক্ত:
সেবা প্রদান (Service Delivery): ডিজিটাল সেবা ও জনদুর্ভোগ হ্রাস ।
নীতি ও সংস্কার কার্যক্রম: নতুন আইন প্রণয়ন ও ই-গভর্নেন্স শক্তিশালীকরণ ।
প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও দক্ষতা: কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও সম্পদের সদ্ব্যবহার ।
উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট ও অন্যান্য কার্যক্রম: বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (ADP) বাস্তবায়ন ।
৩. কৌশলগত প্রতিবেদন (Section 3)
মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোকে বছরে একবার একটি কৌশলগত প্রতিবেদন (Strategic Report) দাখিল করতে হবে । ২০০০ থেকে ২২০০ শব্দের এই প্রতিবেদনে গৃহীত পদক্ষেপের গুণগত প্রভাব, আর্থসামাজিক উন্নয়ন এবং এসডিজি (SDG) অর্জনের অগ্রগতি বিশ্লেষণ করতে হবে ।
৪. উপজেলা পর্যায়ে সরলীকৃত কাঠামো
মাঠ পর্যায়ের উপজেলা অফিসগুলোর জন্য এবার একটি সরলীকৃত কাঠামো প্রবর্তন করা হয়েছে । তাদের মূল্যায়ন হবে সম্পূর্ণ ১০০ নম্বরের ভিত্তিতে, যেখানে কর্মসম্পাদন পরিকল্পনার বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে ।
৫. বাস্তবায়ন ও মূল্যায়নের ক্যালেন্ডার
নির্দেশিকা অনুযায়ী, মন্ত্রণালয় ও বিভাগসমূহকে ১৯ এপ্রিল ২০২৬-এর মধ্যে তাদের ৩ বছর মেয়াদি খসড়া পরিকল্পনা দাখিল করতে হবে । মাঠ পর্যায়ের বিভাগীয় ও জেলা অফিসগুলোর জন্য এই সময়সীমা ২১ মে ২০২৬ এবং উপজেলা পর্যায়ের জন্য ২ জুন ২০২৬ নির্ধারণ করা হয়েছে । চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হবে ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৭-এর মধ্যে ।
৬. তদারকি ও সহায়তা
GPMS বাস্তবায়নের জন্য প্রতিটি অফিসে একটি নির্দিষ্ট টিম থাকবে । এছাড়া অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের নিয়ে সর্বোচ্চ ৩ সদস্যের একটি পরামর্শক পুল গঠনের সুযোগ রাখা হয়েছে, যারা পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে কারিগরি সহযোগিতা প্রদান করবেন ।
উপসংহার: প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শুরু হওয়া এই GPMS কাঠামো আগামী অর্থবছরে আরও বিস্তৃত হচ্ছে । যথাযথ প্রমাণক (Evidence) ভিত্তিক এই মূল্যায়ন ব্যবস্থা সরকারি অফিসগুলোর দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নাগরিক সেবা প্রাপ্তিকে আরও সহজতর করবে বলে আশা করা হচ্ছে ।



