সরকারি নিম্নগ্রেডের কর্মচারীগণ যেভাবে দিনাতিপাত করছে।

সরকারি কর্মচারীগণ যদিও গ্রেড ভিত্তিক হিসাবে পরিচিত হওয়ার কথা জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ জারি হওয়ার পরে কিন্তু বিভিন্ন আদেশে এখনও ১ম, ২য়, ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণী হিসাবে উল্লেখ করা হচ্ছে। অন্য দিকে বেতন স্কেলের দিকে তাকালে দুটি শ্রেণীতে বিভাজন ও বৈষম্য আকারে রাখা হয়েছে: ১১-২০ গ্রেড কর্মচারী ও ১-১০ গ্রেড কর্মকর্তা হিসাবে সকল ক্ষেত্রেই বিভাজন ও বৈষম্য পরিস্কার ভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ১১-২০ গ্রেডে প্রতি গ্রেডের গড়ে ২-৩% হারে ব্যবধান এবং ১-১০ গ্রেডে গড়ে ২০ শতাংশ ব্যবধান রাখা হয়েছে ফলে ব্যাপক ভাবে আর্থিক বৈষম্যের শিকার হয়েছে ১১-২০ গ্রেডের কর্মচারীগণ।

যে কোন আদেশ জারির মাধ্যমে এই বৈষম্য ব্যাপক আকার ধারণ করে যখন মূল বেতন অনুসারে কোন সুযোগ বা সুবিধা প্রদান করা হয়। গ্রেড অনুসারে কোন আর্থিক সুবিধা দেওয়া হলে ১১-২০ গ্রেডের কর্মচারীদের সতীনের ছেলের মত অবস্থায় রাখা হয়।

সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে সবচেয়ে কম বেতনে চাকরি করেন ১১-২০ গ্রেডের কর্মচারীগণ। বর্তমান বাজারে মাসিক বেতনের টাকা দিয়ে তাদের টিকে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। মাস শেষে ১১-২০ গ্রেডের কর্মচারীগণ যে বেতন পান তা দিয়ে বাসা ভাড়া, পরিবারের ৬ জন সদস্যের মাসের বাজার সদাই, ছেলে মেয়েদের পড়াশুনায় ব্যয় করে আর কিছু অবশিষ্ট থাকে না।

পরিবার না পারে তাদের চিকিৎসা করতে, না পারে সামাজিকতা রক্ষা করে আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে দাওয়াত খেতে যেতে, শপিং করা তো অনেক দূরের কথা। কোন মাসে পরিবারের কেউ অসুস্থ্য হলে ধার দেনা করে পরের মাসে বাজার টান পড়ে যায়। ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ, চিকিৎসা, সংসার খরচ ও সামাজিক ব্যয় মেটাতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। কেউ কেউ তো মৌলিক চাহিদা পূরণে অক্ষম হয়ে পড়ছে। কোন কোন কর্মচারী সারা জীবন ভাড়া বাসায় থাকার পর চাকুরী শেষে একটি মাথাগুজার ঠাইও ব্যবস্থা করতে পারে না।

আজকের বাজারে ১৫-২০ বাজার টাকায় বাঁচারমত বাঁচা যায় না, মরার মত বেঁচে থাকতে হচ্ছে তাদের। ১১-২০ তম গ্রেডের সরকারি চাকুরিজীবীদের সম্মিলিত অধিকার আদায়ের ফরম দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে থাকলেও কোন সুরাহাই হচ্ছে না। তাদের দাবি দাওয়া বাস্তবায়নে কোন প্রকার অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। সরকারের কাছে বার বার দাবীসমূহ তুলে ধরা হলেও কোন প্রকার সাড়া মিলছে না। এমতাবস্থায় দিশেহারা কর্মচারীগণ কোন কুল কিনা খুজে পাচ্ছে না। জননেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে এ ব্যাপারে কোন উদ্যোগ গ্রহণ বা হস্তক্ষেপ না করলে অসহায় এসব কর্মচারীদের ভাগ্য সহায় হবে না।

জাতীয় বেতন স্কেলের ১১-২০ গ্রেডের সরকারি চাকুরীজীবীদের বেতন বৈষম্য নিরসনসহ বিভিন্ন ধরনের দাবি নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস ধারণ করে “১১-২০ গ্রেডের সরকারি চাকুরীজীবীদের সম্মিলিত অধিকার আদায় ফোরাম” সকল সরকারি চাকুরীজীবীদের বেতন ভাতাদির মধ্যে একটি যৌক্তিক ভারসাম্য স্থাপনের চেষ্টা অব্যাহত রাখবে, সেই সাথে যুগোপযোগী করার মাধ্যমে সরকারি চাকুরিতে একটা শৃংখলা তৈরির লক্ষ্যে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগের মাধ্যমে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে জোরালো ভূমিকা রাখবে।

নিম্নবেতন ভোগী কর্মচারীদের দাবীসমূহ

১। নবম পে-স্কেল ঘোষনার মাধ্যমে বিদ্যমান বেতন নিরসন করে গ্রেড অনুযায়ী বেতন স্কেলের পার্থক্য সমহারে নির্ধারণ ও গ্রেড সংখ্যা কমাতে হবে। (যৌক্তিক হারে বেতন নির্ধারণ করতে হবে)

২। এক ও অভিন্ন নিয়োগ বিধি বাস্তবায়ন করতে হবে।

৩। সকল পদে পদোন্নতি বা ০৫(পাঁচ) বছর পর পর উচ্চতর গ্রেড প্রদান করতে হবে(ব্লক পোষ্ট নিয়মিতকরণ করতে হবে)।

৪। টাইমস্কেল সিলেকশন গ্রেড পুণঃবহাল সহ জেষ্ঠতা বজায় রাখতে হবে।

৫। সচিবালয়ে ন্যায় পদবী ও গ্রেড পরিবর্তন করতে হবে।

৬. সকল ভাতা বাজার চাহিদা অনুযায়ী সমন্বয় করতে হবে।

৭। নিম্ন বেতন ভোগীদের জন্য রেশন ও ১০০% পেনশন চালু সহ পেনশন গ্রাচুইটি হার ১টাকা = ৫০০ টাকা করতে হবে। ৱ

৮। কাজের ধরণ অনুযায়ী পদ, নাম ও গ্রেড একিভূত করতে হবে।

 

সূত্র: ১১-২০ গ্রেডের সরকারি চাকুরীজীবীদের সম্মিলিত অধিকার আদায় ফোরাম

 

দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের, আশায় আছেন, বর্তমান সরকার এই বৈষম্যের একটি সুরাহা করবেন। জনদরদী নেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাই পারে এ বৈষম্যের কোন গতি করতে।

সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে যারা প্রশাসন শাখা বা হিসাব শাখায় কাজ করেন তারাই কেবল চাকরি সম্পর্কিত বিধি বিধানগুলো সম্পর্কে ভাল ধারণা রাখেন। অবশিষ্ট ৮০% কর্মকর্তা/ কর্মচারীই সরকারি চাকরির বিধানাবলী, বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস, হালনাগাদ পেনশন রুলস, ভ্রমণ বিধি ও প্রাপ্যতা , উৎসব ভাতার প্রাপ্যতা, সরকারি কর্মচারীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সুবিধা বা চিকিৎসা শেষে ব্যয় উত্তোলন, বিভিন্ন ভাতাদির প্রাপ্যতা, বিভিন্ন ধরনের অগ্রিম সুবিধা গ্রহণ, নিয়োগ ও বদলি নীতিমালা, বিভিন্ন ধরনের ছুটি কিভাবে নিতে হয়, বাসা বরাদ্দ বা বাড়ি ভাড়া প্রাপ্যতা, শিক্ষা সহায়ক ভাতা বা রেশন সুবিধা ইত্যাদি সর্ম্পকে ভাল ধারনা রাখেন না। এই ওয়েবসাইটটিতে উপরোক্ত বিষয়গুলো সহজ ভাবে তুলে ধরা হয়েছে। সরল ও প্রাঞ্জল ভাষায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে। সাধারণ কর্মচারী যাতে সহজেই ব্যাপার গুলো বুঝতে পারে এবং যদি কোন বিধি বুঝতে সমস্যা হয় তা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন করতে পারেন সে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কেউ যদি কোন বিধি বা নীতিমালা বুঝতে অসমর্থ হয় তবে আমাদের ফেসবুক পেইজ, গ্রুপ এবং ইমেইল ঠিকানায় যোগাযোগ করতে পারেন।

প্রতিটি পোস্টের রেফারন্স পোস্টের শেষে “ডাউনলোড” নামের যে লিংক দেওয়া আছে সেখান থেকে সংগ্রহ করে নিতে পারেন। ডাউনলোড ফাইল Google Drive or Box.com এ স্টোর করা আছে। কারও যদি ফাইলটি ডাউনলোড করতে সমস্যা হয় তবে আপনি আপনার নিজের gmail Account এ Login করে নিন। লগইন করার পর ঠিকই ফাইলটি ডাউনলোড হবে। তবুও যদি আপনি রেফারেন্স ফাইল ডাউনলোডে সমস্যায় পড়ে তবে আপনি এডমিনকে alaminmia.tangail@gmail.com এ ফাইলের নাম দিয়ে নক করুন। এডমিন আপনার ইমেইলের উত্তর দিবে।

কিছু কর্মকর্তা/ কর্মচারীদের কাছে সরকারি চাকরির বিধি বিধানের কিছু বইও হয়তো সংগ্রহে আছে কিন্তু তা মূলত সংগ্রহেই মাত্র বের করে পড়ার সময় বা সুযোগ নেই। কারও সময় বা সুযোগ থাকলেও বের করে পড়া পর্যন্ত হয় না। আবার দেখা যায় যে, অসংখ্য বইয়ের মধ্যে একটি সামারি বই চাকরির বিধানাবলীই শুধুমাত্র সংগ্রহ রয়েছে। সরকারি চাকরি সংক্রান্ত অসংখ্যা বই রয়েছে যেগুলো আবার প্রতি বছরই আপডেট হয়ে থাকে আপনি যদি শুধুমাত্র এই ওয়েবসাইটের সাথে যুক্ত থাকেন তবে আপনি সকল আপডেট তথ্যই পেয়ে যাবেন। ব্লগটি ভিজিট করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

admin

এই ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে বিস্তারিত জানতে বা কোন তথ্য যুক্ত করতে বা সংশোধন করতে চাইলে অথবা কোন আদেশ, গেজেট পেতে এই admin@bdservicerules.info ঠিকানায় মেইল করতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.