সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে।

দেশে করোনা ভাইরাসের বিস্তৃতি এবং তা মোকাবেলায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অদ্য দুপুরে “দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব এবং অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে আলোচনা করেন এবং পূর্বে তিনি সেনাবাহিনী প্রধানের সাথেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। এছাড়াও তিনি প্রতিনিয়ত সংশ্লিষ্ট সবার সাথে করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত বিষয়ে সভা ও আলোচনা করেছেন। সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে তিনি নিম্নোক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করেছেন। তাহলো…………….

১. আগামী ২৬ মার্চের সরকারি ছুটি এবং ২৭-২৮ মার্চের সাপ্তাহিক ছুটির সাথে ২৯ মার্চ হতে ০২ এপ্রিল ২০২০ পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করছে এবং ০৩ ও ০৪ এপ্রিল ২০২০ সাপ্তাহিক ছুটির দিন এই বন্ধের সাথে সংযুক্ত থাকবে। কাঁচাবাজার, খাবার এবং ঔষধের দোকান, হাসপাতাল এবং জরুরী সেবার জন্য এই ব্যবস্থা প্রযোজ্য হবে না।

করোনা ভাইরাসের বিস্তৃতি রোধকল্পে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সে সঙ্গে জনসাধারণকে এই মর্মে অনুরোধ করা যাচ্ছে যে, তারা যেন এ সময় জরুরি প্রয়োজন ব্যতীত (খাদ্য দ্রব্য, ঔষধ ক্রয়, চিকিৎসা, মৃতদেহের সৎকার ইত্যাদি) কোন ভাবেই বাড়ীর বাইরে না আসেন।

২. এই সময়ে বিভিন্ন অফিস আদালতের প্রয়োজনীয় কার্যাবলী অন-লাইনে সম্পাদন করতে হবে। সরকারি অফিসসমূহের মধ্যে যারা প্রয়োজন মনে করবে তারা অফিস খোলা রাখবে।

৩.  গণপরিবহন চলাচল সীমিত থাকবে। জনসাধারণকে যথাসম্ভব গণপরিবহন পরিহারে পরামর্শ দেয়া যাচ্ছে। যারা জরুরি প্রয়োজনে গণপরিবহণ ব্যবহার করবেন তাদেরকে অবশ্যই করোনা ভাইরাস সংক্রমিত হওয়অ থেকে মুক্ত থাকার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। গাড়ী চালক এবং সহকারী গণকে অবশ্য। মাস্ক ও গ্লাভস পড়াসহ পর্যাপ্ত সতর্ককতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৪. জনগণের প্রয়োজন বিবেচনায় ছুটিকালীন বাংলাদেশ ব্যাংক সীমিক আকারে ব্যাংকি ব্যবস্থা চালু রাখার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবে।

৫. আগামী ২৪ মার্চ ২০২০ থেকে বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে সামাজিক দূরত্ব ও সর্তকর্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুবিধার্থে সেনাবাহিনী প্রশাসনকে সহায়তায় নিয়োজিত হবে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটদের সমন্বয়ে তারা জেলা ও বিভাগীয় করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থা সন্দেহজনক ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থা পর্যালোচনা করবে। সেনা বাহিনী বিশেষ করে বিদেশ ফেরত ব্যক্তিদের কেউ নির্ধারিত কোয়ারেন্টাইনের বাধ্যতামূলক সময় পালনে ত্রুটি / অবহেলা করছে কিনা তা পর্যালোচনা করবে।

জেলা ম্যাজিস্ট্রেটগণ এজন্য স্থানীয় আর্মি কমান্ডারের কাছে সেনাবাহিনী কর্তৃক অবস্থা পর্যালোচনার জন্য আইনানুসারে অনুরোধ জানাবে।

৬. করোনা ভাইরাসের কারণে  নিম্ন আয়ের কোন ব্যীক্ত শহরে জীবন যাপনে অক্ষম হলে সরকার তাকে “ঘরে ফেরা কর্মসূচীর অধীনে নিজ গ্রাম/ ঘরে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের ঘোষণা করছে। জেলা প্রশাসকগণ এজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।

৭. সরকার ভাষাণচরে এ লক্ষ্যে মানুষের জন্য পর্যাপ্ত আবাসন ও জীবিকা নির্বাহের ব্যবস্থা করেছে। সে সঙ্গে আগ্রহী ব্যাক্তিবর্গকে সরকার এই সুযোগ গ্রহণে আহবান জানাচ্ছে। ভাষাণচরের সুযোগ-সুবিধা গ্রহণকরে নিজেদের স্বনির্ভর করে তোলার জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক ব্যক্তিবর্গকে যেখানে প্রেরণের জন্য সব জেলা প্রশাসকদেরও নির্দেশনা দেয়া হলো।

৮. করোনা ভাইরাস জনিত কার্যক্রম বাস্তবায়নের কারণে দরিদ্র জনগোষ্ঠির আয়-অন্নসংস্থানে অসুবিধা নিরসনে জেলা প্রশাসকদের খাদ্য ও আর্থিক সাহায্য দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

৯. মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে ৫০০ ডাক্তারের তালিকা করার জন্য বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন (বিএমএ)-কে নির্দেশ দিয়েছেন যেন তারা করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

১০. সবরকম সামাজিক /রাজনৈতিক/ ধর্মীয় জনসমাগমে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। অসুস্থ/জ্বর/সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মসজিদে না যেতে বারংবার নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। তা ভঙ্গ করে একজন মিরপুরে মসজিদে যাওয়ার জন্য ব্যক্তিও আক্রান্ত হয়েছে। এ বিষয়ে ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিদের ইসলামি ফাউন্ডেশন এবং ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের অনুশাসন কঠোরভাবে মেনে চলতে বিশেষ অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

সরকার ২৬ মার্চ থেকে ০৪ এপ্রিল ২০২০ মোট ১০ দিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে: ডাউনলোড

admin

এই ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে বিস্তারিত জানতে বা কোন তথ্য যুক্ত করতে বা সংশোধন করতে চাইলে অথবা কোন আদেশ, গেজেট পেতে এই admin@bdservicerules.info ঠিকানায় মেইল করতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.