“প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীর ২৪ ঘণ্টাই কর্মঘণ্টা” এ সংক্রান্ত আদেশ/ আইন/ বিধি/ পরিপত্র।

সরকারি কর্মচারি বা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারি ২৪ ঘন্টাই সরকারি কাজে নিয়োজিত। সরকারি কাজে যে কোন সময়ই তাদের সদা প্রস্তুত থাকতে হবে। সরকার জনস্বার্থে আপনাকে যে কোন সময় কর্মে সচল রাখতে পারেন। তবে অনেকেই বলবেন তাহলে ৯-৫ টাকা ডিউটি উল্লিখিত থাকে কেন? হ্যাঁ আপনি ঠিকই বলেছেন, আপনার কর্মঘন্টা ৮ ঘন্টা কারণ একজন মানুষ একাধারে ৮ ঘন্টার অধিক কর্মে মনোযোগ রাখতে পারবে না। তার ঘুম, গোসল, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সময়ের প্রয়োজন রয়েছে। একটি কমন বাক্য এখানে বলাই যায় যে, জীবনের জন্যই কর্ম, কর্মের জন্য জীবন নয়। 

আমরা যে সত্যিই বাংলাদেশে সরকারের সংবিধান ও বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস এর বিধিগুলো মেনেই চাকরিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছি সে বিষয়টি আজ আমি পরিস্কার করা চেষ্টা করবো। জনস্বার্থে যে আমাদের যে কোন সময় সরকারি কর্মে যোগ দিতে হয় এবং ২৪ ঘন্টাই আমরা সরকারি কর্মে নিয়োজিত সেটিই ক্লিয়ার করার প্রয়াস চালাবো।

বাংলাদেশের সংবিধান

প্রথমেই, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান- 1972 সনের নং আইন এর ২১ এর ২ নং অনুচ্ছেদে সকল সময়ই বা ২৪ ঘন্টাই আপনি কর্মে নিয়োজিত তা স্পষ্টাক্ষরে লিখা রয়েছে। আপনার জ্ঞাতার্থে অনুচ্ছেদটি হুবহু তুলে ধরা হল। লিংক যুক্ত করা আছে ভিজিট করে আসতে পারেন।

বাংলাদেশ সংবিধান

বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস

একজন সরকারি কর্মচারী তা সে শিফট বা রোস্টার ডিউটিতে কাজ করুন বা ৯-১৭ টা পর্যন্ত কাজ করুন না কেন তিনি ২৪ ঘন্টাই কর্মে নিয়োজিত বলে ধরে নেওয়া হবে। বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস পার্ট-১, বিধি -১৫ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে সরকারি কর্মচারী সমুদয় সময় সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকিবে এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত ভাতাদি ব্যতীতই তাহাকে যে কোন প্রক্রিয়ায় নিয়োজিত করিতে পারিবে।

বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস

সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ 

সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা ১৯৭৯ এবং সরকারি চাকরি আইন ২০১৮ মোতাবেক একজন সরকারি কর্মচারী তাঁর চাকুরির পাশাপাশি সাইড বিজনেস বা পার্ট টাইম চাকুরি করতে সরকারের অনুমতি নিতে হবে। অন্যথায় তা আচরণ বিধিমালা লঙ্গন হবে এবং সরকার তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবে। তাই এখানেও প্রমানিত যে আপনাকে ২৪ ঘন্টাই প্রস্তুত থাকতে হবে যে, জনস্বার্থে সরকার আপনাকে যে কোন সময় খাটাইতে পারেন। নন গেজেটেড কর্মচারী পারিবারিক ব্যবসায়ে পরিবারকে সাহায্য করতে পারবেন।

অধিকার ভাতা / টিফিন ভাতা

কর্মে ভিন্নতা সাপেক্ষে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর গুলোতে দৈনিক ৮ ঘন্টার অধিক কর্মের জন্য অধিকাল ভাতার ব্যবস্থা করেছে। বেশ কিছু সরকারি প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত সময় বা রেগুলার সময়ের অতিরিক্ত কাজের জন্য অধিকাল ভাতা প্রাপ্য হউন। কিছু প্রতিষ্ঠানে অধিকাল ভাতা বরাদ্দ না থাকার কারণে টিফিন ভাতা নিচ্ছেন।

অনুমতি বিহীন কর্মস্থল ত্যাগ শাস্তিযোগ্য অপরাধ

২৪ ঘন্টা যদি নিয়োজিত না হতেন তবে কর্মস্থল ত্যাগে নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তার নিকট হতে অনুমতি নিতে হতো না। প্তরিক বা জনস্বার্থে যে কোন মুহুর্তে নৈমিত্তিক ছুটিতে থাকাকালীন আপনাকে কর্তৃপক্ষ ডাকতে পারে। ঐ মুহুর্থে আপনাকে খুজে পাওয়া না গেলে সরকারী স্বার্থ বা জনস্বার্থ বিঘ্নিত হবে। এ সময় যে কোন প্রকার ক্ষতি আপনি পূরণ করতে বাধ্য। অনুমোদন বিহীন কর্মস্থল ত্যাগ আপীল ও শৃঙ্খলা বিধিমালা পরিপস্থী।

2 thoughts on ““প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীর ২৪ ঘণ্টাই কর্মঘণ্টা” এ সংক্রান্ত আদেশ/ আইন/ বিধি/ পরিপত্র।

  • 26/10/2021 at 11:26 am
    Permalink

    এটা কি শ্রম আইনের লঙ্ঘন নয়?

  • 26/10/2021 at 5:52 pm
    Permalink

    না। জনস্বার্থে এটি কার্যকর। তবে ৮ ঘন্টা নির্ধারিত ডিউটি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

close