সর্বশেষ প্রকাশিত পোস্টসমূহ

৪৪তম বিসিএসে নিয়োগ পেলেন ১৪৯০ জন: যোগদানের সময়সীমা ও শর্তাবলী ঘোষিত

৪৪তম বিসিএস পরীক্ষা-২০২১ এর মাধ্যমে বিভিন্ন ক্যাডারে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ১৪৯০ (এক হাজার চারশত নবাই) জন প্রার্থীকে নিয়োগ প্রদান করেছে সরকার ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এই নিয়োগের আদেশ জারি করা হয়

নিয়োগ ও বেতন স্কেল: নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী ২২,০০০-৫৩,০৬০/- টাকা বেতনক্রমে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের বিভিন্ন ক্যাডারের প্রবেশ পদে যোগদান করবেন । প্রজ্ঞাপনে ক্যাডার ভিত্তিক নিয়োগের একটি চিত্র পাওয়া যায়:

  • বিসিএস (প্রশাসন): সহকারী কমিশনার পদে ২৪৪ জন

  • বিসিএস (পুলিশ): সহকারী পুলিশ সুপার পদে ৪৮ জন

  • বিসিএস (আনসার): সহকারী পরিচালক/সহকারী জেলা কমান্ড্যান্ট পদে ১৩ জন

  • বিসিএস (স্বাস্থ্য): সহকারী সার্জন পদে ৯৮ জন

  • বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা): বিভিন্ন বিষয়ে প্রভাষক পদে বড় একটি অংশ নিয়োগ পেয়েছেন, যার মধ্যে বাংলায় ২৪ জন এবং ইংরেজিতে ২৫ জন উল্লেখযোগ্য

যোগদানের সময়সীমা: নিয়োগপ্রাপ্ত প্রার্থীদের আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (২৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ) তারিখ পূর্বাহ্ণে সংশ্লিষ্ট ক্যাডার নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয় বা বিভাগ কর্তৃক নির্ধারিত কার্যালয়ে যোগদানের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে নির্ধারিত তারিখে যোগদান না করলে নিয়োগটি বাতিল বলে গণ্য হবে

নিয়োগের উল্লেখযোগ্য শর্তাবলী: ১. শিক্ষানবিসকাল: প্রত্যেক কর্মকর্তাকে ২ বছর শিক্ষানবিস হিসেবে কাজ করতে হবে, যা প্রয়োজনে আরও ২ বছর বাড়ানো হতে পারে এই সময়ে উপযুক্ত বিবেচিত না হলে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই তাকে চাকরি থেকে অপসারণ করা যাবে । ২. প্রশিক্ষণ ও বন্ড: নিয়োগপ্রাপ্তদের বুনিয়াদি ও পেশাগত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে প্রশিক্ষণ শুরু করার আগে ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে একটি বন্ড সম্পাদন করতে হবে যদি কেউ শিক্ষানবিসকালে বা এর পরবর্তী ৩ বছরের মধ্যে ইস্তফা দেন, তবে প্রশিক্ষণের যাবতীয় খরচ ও বেতন-ভাতা সরকারকে ফেরত দিতে হবে । ৩. সম্পত্তির ঘোষণা: যোগদানের সময় প্রার্থী ও তার পরিবারের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির বিবরণ সম্বলিত ঘোষণাপত্র জমা দিতে হবে এবং প্রতি ৫ বছর অন্তর এই হিসাব হালনাগাদ করতে হবে । ৪. যৌতুক বিরোধী অঙ্গীকার: যোগদানের সময় প্রার্থীকে ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে অঙ্গীকার করতে হবে যে তিনি নিজে বা তার পরিবারের কেউ যৌতুক গ্রহণ বা প্রদান করবেন না । ৫. নাগরিকত্ব ও বিবাহ: কোনো বিদেশী নাগরিককে বিবাহ করলে বা করার জন্য অঙ্গীকারাবদ্ধ থাকলে এই নিয়োগ বাতিল হয়ে যাবে । ৬. মুক্তিযোদ্ধা কোটা যাচাই: মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগপ্রাপ্তদের সনদ ভুয়া প্রমাণিত হলে নিয়োগ বাতিলের পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হবে

প্রজ্ঞাপনে আরও জানানো হয়েছে যে, প্রার্থীদের জ্যেষ্ঠতা বিসিএস পরীক্ষা-২০২১ এর ফলাফলের ভিত্তিতে সরকারি বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত হবে যোগদানের জন্য প্রার্থীরা কোনো প্রকার ভ্রমণ বা দৈনিক ভাতা পাবেন না

৪৪তম বিসিএস পরীক্ষা- ২০২১ এর প্রজ্ঞাপন

বিসিএস কেন মেধাবীদের প্রত্যাশা?

বিসিএস (বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস) কেন মেধাবীদের প্রধান আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু, তার পেছনে বেশ কিছু যৌক্তিক ও আর্থ-সামাজিক কারণ রয়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে মেধাবীদের বিসিএস-মুখী হওয়ার প্রধান কারণগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:

১. চাকরির নিরাপত্তা (Job Security): সরকারি চাকরির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর স্থায়িত্ব। বেসরকারি খাতের মতো এখানে হুট করে চাকরি চলে যাওয়ার ভয় থাকে না। এই নিশ্চিন্ত জীবন ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা মেধাবীদের বিসিএসের প্রতি আগ্রহী করে তোলে।

২. সামাজিক মর্যাদা ও সম্মান: বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিসিএস ক্যাডার হওয়াকে অত্যন্ত সম্মানজনক মনে করা হয়। বিশেষ করে প্রশাসন, পুলিশ বা পররাষ্ট্র ক্যাডারে কর্মরতদের সামাজিক প্রভাব ও গুরুত্ব অনেক বেশি। মেধাবীরা তাদের মেধার স্বীকৃতি হিসেবে এই সামাজিক মর্যাদাকে বেছে নিতে চান।

৩. দেশের নীতিনির্ধারণে সরাসরি ভূমিকা: বিসিএস ক্যাডার হিসেবে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ থাকে। বিশেষ করে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কাজ করে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখার যে সুযোগ এখানে পাওয়া যায়, তা অন্য কোনো পেশায় সচরাচর পাওয়া কঠিন।

৪. জনসেবা করার সুযোগ: একজন ক্যাডার কর্মকর্তা তার পদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সমস্যা সরাসরি সমাধান করতে পারেন। প্রান্তিক মানুষের সেবা করা এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার এই আকাঙ্ক্ষা অনেক মেধাবীকে অনুপ্রাণিত করে।

৫. বেতন ও আকর্ষণীয় সুযোগ-সুবিধা: ২০১৫ সালের বেতন স্কেলের পর সরকারি চাকরির বেতন কাঠামো অনেক বেশি সম্মানজনক হয়েছে। এছাড়া আবাসন সুবিধা, যাতায়াত ভাতা, চিকিৎসার সুবিধা এবং অবসরের পর পেনশন ও গ্র্যাচুইটির মতো আর্থিক সুবিধাগুলো মেধার সঠিক মূল্যায়ন হিসেবে কাজ করে।

৬. উচ্চশিক্ষা ও বিদেশে প্রশিক্ষণের সুযোগ: সরকার ক্যাডার কর্মকর্তাদের জন্য দেশে ও বিদেশে উচ্চতর শিক্ষা (মাস্টার্স, পিএইচডি) এবং বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যাপক সুযোগ প্রদান করে। মেধাবীরা যারা নিজেদের দক্ষতা বাড়াতে চান, তাদের জন্য এটি একটি বড় প্ল্যাটফর্ম।

৭. ক্যারিয়ারের বৈচিত্র্য ও পদোন্নতি: বিসিএসে যোগদানের মাধ্যমে একজন কর্মকর্তা তার কর্মজীবনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে কাজ করার সুযোগ পান। নির্দিষ্ট সময় অন্তর পদোন্নতির মাধ্যমে সর্বোচ্চ সচিব পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছানোর সুযোগ থাকে, যা একটি উজ্জ্বল ক্যারিয়ারের নিশ্চয়তা দেয়।

সারসংক্ষেপে, ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের উন্নতি এবং দেশ ও মানুষের জন্য কিছু করার সংমিশ্রণই বিসিএস-কে মেধাবীদের কাছে এক অনন্য স্বপ্নের পেশায় পরিণত করেছে।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *