৯ম পে স্কেল ইস্যু ২০২৬ । নতুন পে স্কেলের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্মারকলিপি প্রদান?
দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে দ্রুত নতুন জাতীয় পে স্কেল ঘোষণা ও গেজেট প্রকাশের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে ‘বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি’ (কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি)।
সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে সমিতির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক আবদুল মালেক এবং সদস্য সচিব আশিকুল ইসলামের নেতৃত্বে আট সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে এই স্মারকলিপি জমা দেন।
স্মারকলিপিতে তুলে ধরা মূল সংকটসমূহ
স্মারকলিপিতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বর্তমান দুরবস্থার চিত্র তুলে ধরে বলা হয়েছে:
দীর্ঘ সময়ের ব্যবধান: সর্বশেষ ২০১৫ সালে জাতীয় পে স্কেল ঘোষণা করা হয়েছিল। এরপর প্রায় এক দশক (১১ বছর) পার হয়ে গেলেও নতুন কোনো বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হয়নি।
আর্থিক চাপ: গত কয়েক বছরে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম, বাসাভাড়া, চিকিৎসা এবং সন্তানদের শিক্ষা ব্যয় কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে স্থির বেতনে সংসার চালাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন সরকারি চাকুরিজীবীরা।
বেতন বৈষম্য: বিভিন্ন গ্রেডের মধ্যে বিদ্যমান বেতন বৈষম্য দূর করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
প্রধান দাবিগুলো কী কী?
প্রতিনিধি দলটি প্রধানমন্ত্রীর নিকট মূলত তিনটি প্রধান দাবি উত্থাপন করেছেন:
বর্তমান বাজারদরের সাথে সামঞ্জস্য রেখে অবিলম্বে নতুন জাতীয় পে স্কেল ঘোষণা ও গেজেট প্রকাশ।
বিভিন্ন গ্রেডের মধ্যে বিদ্যমান বেতন বৈষম্য নিরসন করে একটি বৈষম্যহীন কাঠামো তৈরি।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য কল্যাণমূলক আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধি করা।
নেতৃবৃন্দের আশাবাদ
স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পর সমিতির নেতৃবৃন্দ সংবাদমাধ্যমকে জানান, তারা অত্যন্ত আশাবাদী যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই মানবিক ও যৌক্তিক দাবিগুলো সহানুভূতির সাথে বিবেচনা করবেন।
আহ্বায়ক আবদুল মালেক বলেন, “এক দশক আগের বেতন কাঠামো দিয়ে বর্তমান সময়ে জীবন ধারণ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আমরা আশা করি, প্রধানমন্ত্রীর সদয় হস্তক্ষেপে দ্রুতই নতুন পে স্কেলের সুসংবাদ পাওয়া যাবে।”
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের পে স্কেল অনুযায়ী সরকারি চাকুরিজীবীরা বর্তমানে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। তবে প্রতি বছর ৫% হারে ইনক্রিমেন্ট পেলেও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে তা জীবনযাত্রার মান ধরে রাখতে পর্যাপ্ত নয় বলে দীর্ঘ দিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছে বিভিন্ন সংগঠন।
স্মারকলিপি কেন দেওয়া হয়?
সহজ কথায়, স্মারকলিপি (Memorandum) হলো কোনো বিশেষ দাবি, সমস্যা বা প্রস্তাব লিখিতভাবে যথাযথ কর্তৃপক্ষের (যেমন: প্রধানমন্ত্রী, জেলা প্রশাসক বা বিভাগীয় প্রধান) নিকট পেশ করা। এটি মূলত একটি আনুষ্ঠানিক আবেদন যা কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের পক্ষ থেকে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য ব্যবহার করা হয়।
স্মারকলিপি কেন দেওয়া হয়, তার প্রধান কারণগুলো নিচে দেওয়া হলো:
দাবি উত্থাপন: কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী (যেমন: সরকারি কর্মচারী বা শ্রমিক) যখন তাদের সুযোগ-সুবিধা বা অধিকার আদায় করতে চায়, তখন তারা স্মারকলিপির মাধ্যমে তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়।
দৃষ্টি আকর্ষণ: দেশের বা কোনো অঞ্চলের বিশেষ কোনো সমস্যার (যেমন: দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি বা রাস্তা সংস্কার) কথা নীতিনির্ধারকদের সরাসরি অবহিত করা।
প্রতিবাদ লিপি হিসেবে: কোনো সরকারি সিদ্ধান্ত বা আইনের প্রতি অসন্তোষ থাকলে সেটি বাতিলের অনুরোধ জানিয়ে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
লিখিত দলিল: এটি একটি ঐতিহাসিক ও দাপ্তরিক প্রমাণ হিসেবে কাজ করে যে, অমুক তারিখ বা সময়ে একটি নির্দিষ্ট দাবি কর্তৃপক্ষের কাছে পেশ করা হয়েছিল।
আলোচনার পথ প্রশস্ত করা: স্মারকলিপি প্রদানের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনার একটি আনুষ্ঠানিক সুযোগ তৈরি হয়, যা অনেক সময় সমস্যা সমাধানে সহায়তা করে।
স্মারকলিপি প্রদানের সাধারণ ধাপ
সাধারণত একটি সংগঠন বা দল একত্রিত হয়ে এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করে:
খসড়া তৈরি: দাবিসমূহ পয়েন্ট আকারে পরিষ্কারভাবে লেখা হয়।
গণস্বাক্ষর (ঐচ্ছিক): দাবির গুরুত্ব বোঝাতে অনেক সময় হাজারো মানুষের স্বাক্ষর নেওয়া হয়।
শোভাযাত্রা: অনেক ক্ষেত্রে একটি মিছিল বা র্যালির মাধ্যমে গিয়ে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়।
স্মারক প্রদান: সরাসরি কর্তৃপক্ষের হাতে বা তাদের প্রতিনিধি (যেমন: পিএস বা সচিব) এর কাছে এটি হস্তান্তর করা হয়।



