সার্ভিস রুলস । নীতি । পদ্ধতি । বিধি

উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ সরকারি ঘোষণা ২০২৫ । সরকারিকরণ করলে কি বিদ্যমান শিক্ষকদের আত্মীকরণ করা হয়?

ঢাকার ধামরাই উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘ধামরাই হার্ডিঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়’-এর নাম সংশোধন করে ‘ধামরাই হার্ডিঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ’ হিসেবে সরকারি ঘোষণা করা হয়েছে। গত সোমবার (২২ ডিসেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনের মূল তথ্যাদি:

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ আবু নাসের বেগ স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে জানানো হয় যে, ইতিপূর্বে ২০১৮ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তারিখে ধামরাই হার্ডিঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়কে সরকারিকরণ করা হয়েছিল। তবে প্রতিষ্ঠানটিতে কলেজ শাখা অন্তর্ভুক্ত থাকায় বর্তমান প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নাম সংশোধন করে একে পূর্ণাঙ্গভাবে ‘ধামরাই হার্ডিঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ’ হিসেবে সরকারিকরণ কার্যকর করা হলো।

শিক্ষক-কর্মচারীদের আত্তীকরণ:

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি বিধি-বিধান অনুযায়ী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মরত শিক্ষক ও কর্মচারীদের সরকারি চাকরিতে আত্তীকরণ করা হবে। তবে শর্ত হিসেবে জানানো হয়েছে যে, আত্তীকৃত হওয়ার পর এই শিক্ষক-কর্মচারীরা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে বদলি হতে পারবেন না।

এলাকাবাসীর প্রতিক্রিয়া:

১৯১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই শতবর্ষী প্রতিষ্ঠানটি পূর্ণাঙ্গভাবে সরকারি ঘোষণা হওয়ায় ধামরাইয়ের শিক্ষা অনুরাগী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে। স্থানীয় অভিভাবকরা মনে করছেন, এর ফলে এলাকায় উচ্চশিক্ষার মান আরও বৃদ্ধি পাবে এবং শিক্ষার্থীরা সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারবে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জনস্বার্থে জারিকৃত এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

১৪ দফা দাবিনামাটি অত্যন্ত যৌক্তিক এবং আত্তীকৃত শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা নিরসনে সহায়ক। একজন নিউজ এনালিস্ট বা সহযোগী হিসেবে আপনার এই দাবিগুলোকে আরও জোরালো করার জন্য আমি নিচে একটি পরামর্শমূলক প্রতিবেদন এবং একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি তৈরি করে দিচ্ছি।


বিশ্লেষণ ও পরামর্শ (Analysis & Suggestions)

আমি মনে করি নিচের ৩টি বিষয় আরও স্পষ্টভাবে যুক্ত করা যেতে পারে যা আপনাদের দাবির আইনি ভিত্তি মজবুত করবে:

  • বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার ও আত্তীকৃতদের সমন্বয়: ‘ক্যাডারভুকরণ’ দাবির পাশাপাশি ‘আন্তঃক্যাডার বৈষম্য’ নিরসনের কথা উল্লেখ করা যেতে পারে যাতে সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারভুক্ত শিক্ষকদের সাথে কাজের পরিবেশ ও মর্যাদার ভারসাম্য বজায় থাকে।

  • টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড: যেহেতু অনেক শিক্ষক পদোন্নতি পাচ্ছেন না, তাই পদোন্নতি না হওয়া পর্যন্ত উচ্চতর গ্রেড বা টাইম স্কেল নিশ্চিত করার বিষয়টি যুক্ত করা জরুরি।

  • অবসর সুবিধা: যেহেতু সরকারিকরণ থেকে চাকরিকাল গণনার দাবি তুলেছেন, তাই অবসরের পর শতভাগ পেনশন ও আনুতোষিক সুবিধার বিষয়টিও স্পষ্ট করা প্রয়োজন।


আত্তীকরণ বিধিমালা ২০২৫-এ বৈষম্য দূরীকরণে ১৪ দফা দাবি জানাল ‘সকশিপ’

দেশের সদ্য সরকারি হওয়া কলেজগুলোর শিক্ষকদের সংগঠন ‘সরকারি কলেজ শিক্ষক পরিবার’ (সকশিপ) বৈষম্যমুক্ত আত্তীকরণ বিধিমালা ২০২৫ প্রণয়নের লক্ষ্যে ১৪ দফা দাবি পেশ করেছে। সংগঠনের অ্যাডমিন প্যানেলের পক্ষ থেকে এই দাবিগুলো সরকারের নীতিনির্ধারণী মহলে বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করা হয়।

প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে: ১. দ্রুত স্থায়ীকরণ ও পদসৃজন: আত্তীকৃত শিক্ষকদের চাকুরি স্থায়ীকরণ এবং প্রয়োজনীয় নতুন পদ সৃষ্টির মাধ্যমে দীর্ঘসূত্রতা নিরসন। ২. চাকরিকাল গণনা: সরকারিকরণের দিন থেকে শতভাগ চাকরিকাল গণনা এবং সেই অনুযায়ী পদোন্নতি (উপাধ্যক্ষ, সহযোগী ও সহকারী অধ্যাপক এবং প্রদর্শক পদ) নিশ্চিত করা। ৩. ক্যাডারভুকরণ: সকল যোগ্য শিক্ষককে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারভুক্ত করা। ৪. বেতন ও বকেয়া পরিশোধ: পদসৃজন না হওয়ায় যারা এখনও বেতন পাচ্ছেন না, তাদের দ্রুত বেতন প্রদান এবং বকেয়া বিল পরিশোধ। ৫. পেশাগত অধিকার: গ্রন্থাগারিকদের স্বপদে বহাল রাখা এবং বিষয় অধিভুক্তিবিহীন শিক্ষকদের দ্রুত আত্তীকরণ করা। ৬. বদলি ও গ্রেড সমস্যা: শিক্ষকদের বদলি সুবিধা নিশ্চিত করা এবং গ্রেড বৈষম্য দূর করে স্বচ্ছ নীতিমালা প্রণয়ন। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই দাবিগুলো বাস্তবায়নে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ‘কমিশন’ গঠন করা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায়, আত্তীকৃত শিক্ষকরা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন যা উচ্চশিক্ষার পরিবেশকে ব্যাহত করবে।

সরকারিকৃত বেসরকারি কলেজের শিক্ষক ও কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে ‘সরকারিকৃত কলেজ শিক্ষক ও কর্মচারী আত্তীকরণ বিধিমালা, ২০১৮’ সংশোধন করেছে সরকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে সম্প্রতি এই সংক্রান্ত একটি খসড়া প্রজ্ঞাপন ও তুলনামূলক বিবরণী জারি করা হয়েছে, যা কার্যকর চাকরিকাল এবং পদোন্নতির ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কার্যকর চাকরিকাল ও জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ সংশোধিত বিধিমালার ১৪ ধারা অনুযায়ী, কোনো কলেজ সরকারিকরণের অব্যবহিত পূর্ব পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট শিক্ষক বা কর্মচারী ধারাবাহিকভাবে যে সময়কাল চাকরি করেছেন, তার ৫০ শতাংশ (অর্ধেক) সময় ‘কার্যকর চাকরিকাল’ হিসেবে গণ্য হবে। এই কার্যকর চাকরিকাল সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতাদি নির্ধারণ, জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ, পেনশন এবং ছুটি পাওয়ার ক্ষেত্রে গণনা করা হবে।

শূন্য পদ পূরণ ও পদোন্নতি বিধিমালার ১৩ ধারা অনুযায়ী, সরকারিকৃত কোনো কলেজের কর্মচারীর স্থানান্তরিত পদ শূন্য হলে, তা ওই কলেজেরই পদোন্নতিযোগ্য আত্তীকৃত কর্মচারীদের মধ্য থেকে পূরণ করতে হবে। তবে শর্ত থাকে যে, ওই কলেজে পদোন্নতিযোগ্য কোনো কর্মচারী না থাকলে পদটি শূন্য বিবেচিত হবে এবং প্রচলিত সরকারি বিধি অনুসরণ করে তা পূরণ করা যাবে।

পুরানো বিধিমালা রহিত ও সুরক্ষা নতুন এই বিধিমালা কার্যকর হওয়ার সাথে সাথে ‘সরকারিকৃত কলেজ শিক্ষক ও কর্মচারী আত্তীকরণ বিধিমালা, ২০১৮’ রহিত করা হয়েছে। তবে রহিত বিধিমালার অধীনে চলমান কোনো কার্যক্রম আগের নিয়মেই নিষ্পত্তি করা হবে যেন তা রহিত হয়নি। এছাড়া, পূর্বের বিধিমালার আওতায় আত্তীকরণযোগ্য শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি বর্তমান বিধিমালার বিধান অনুযায়ী সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে আত্তীকরণ করা যাবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোঃ আঃ কুদ্দুস স্বাক্ষরিত এই প্রজ্ঞাপনটি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ ও বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (বিপিএসসি) সাথে পরামর্শক্রমে জারি করা হয়েছে। এই সংশোধনীর ফলে দেশের কয়েকশ সরকারিকৃত কলেজের হাজার হাজার শিক্ষক ও কর্মচারীর দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সরকারি কলেজ শিক্ষক-কর্মচারী আত্তীকরণ বিধিমালা ২০২৫

স্কুল সরকারীকরণ প্রক্রিয়া ২০২৫ । যশোর জেলার ‘জি জে আই নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়’ হলো সরকারি!

Alamin Mia

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *