সর্বশেষ প্রকাশিত পোস্টসমূহ

নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা: ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ ও আগামীর সংস্কার ভাবনা

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে এবং একটি বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে প্রণীত এই সনদটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

সনদের পটভূমি ও লক্ষ্য

ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর আমূল সংস্কার এবং ভবিষ্যতে স্বৈরাচারী ব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি রোধ করাই এই সনদের মূল উদ্দেশ্য। জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনের উদ্যোগে এবং অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সক্রিয় প্রচেষ্টায় প্রায় ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোট এই সনদে স্বাক্ষর করেছে।

সনদের প্রধান সংস্কার প্রস্তাবনাসমূহ:

  • প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য: একজন ব্যক্তি দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। একইসঙ্গে সংসদ সদস্য থাকাকালীন কেউ দলীয় প্রধানের পদে থাকতে পারবেন না। রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি করে নির্বাহী বিভাগের ওপর ভারসাম্য বজায় রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

  • দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ: বাংলাদেশের জাতীয় সংসদকে উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষে বিভক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। উচ্চকক্ষে ১০০ জন সদস্য থাকবেন যারা আনুপাতিক হারে নির্বাচিত হবেন।

  • তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার স্থায়ী রূপ: অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে সংবিধানে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে সব দল একমত হয়েছে।

  • বিচার বিভাগ ও পুলিশ সংস্কার: বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে সম্পূর্ণ স্বাধীন রাখা এবং পুলিশ বাহিনীকে একটি সেবামুখী ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইনি ও সাংবিধানিক পরিবর্তনের রূপরেখা দেওয়া হয়েছে।

  • গণভোটের বিধান: গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে জনগণের সরাসরি মতামত নিতে ‘গণভোট’ ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে।

বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ও গণভোট

জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫-এর অধীনে এই সংস্কার প্রস্তাবগুলোর ওপর জনগণের সম্মতি যাচাইয়ের জন্য দ্রুতই একটি গণভোট আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এই গণভোটে জনগণের রায় পাওয়ার পর প্রস্তাবিত সংস্কারগুলো পরবর্তী নির্বাচিত সরকার দুই বছরের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে অঙ্গীকারবদ্ধ থাকবে।

বিশ্লেষকদের মতামত

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ কেবল একটি দলিল নয়, বরং এটি একটি ‘সামাজিক চুক্তি’। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে পুনর্গঠন এবং একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি শুরুর সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে এই সনদের সাফল্য নির্ভর করছে এর যথাযথ বাস্তবায়ন এবং সব রাজনৈতিক দলের আন্তরিকতার ওপর।

জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে নতুন আপডেট কি?

২০২৬ সালে জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) সেবা এবং স্মার্ট কার্ড বিতরণ সংক্রান্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আপডেট ও পরিবর্তন এসেছে। আপনার সুবিধার্থে সবশেষ তথ্যগুলো নিচে দেওয়া হলো:

১. স্মার্ট কার্ড বিতরণ পুনরায় শুরু

নির্বাচন কমিশনের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় নির্বাচনের কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার পর এখন স্মার্ট কার্ড বিতরণ কার্যক্রম পূর্ণোদ্যমে শুরু হয়েছে।

  • কারা পাবেন: যারা নতুন ভোটার হয়েছেন কিন্তু এখনো স্মার্ট কার্ড পাননি, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

  • কোথায় পাবেন: আপনার স্থায়ী ঠিকানার সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিস থেকে কার্ড সংগ্রহ করা যাচ্ছে। এছাড়া অনেক এলাকায় ক্যাম্প করে কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে।

২. সংশোধন ও নতুন নিবন্ধনের নিয়ম

জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন এবং নতুন নিবন্ধনের প্রক্রিয়ায় কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে:

  • অনলাইন আবেদন: এখন যেকোনো ধরণের সংশোধন (নাম, জন্ম তারিখ, ঠিকানা) বা নতুন ভোটার হওয়ার আবেদন অনলাইনে services.nidw.gov.bd পোর্টালে করা বাধ্যতামূলক।

  • প্রয়োজনীয় কাগজপত্র: নামের আমূল পরিবর্তন বা জন্ম তারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে এখন এসএসসি (SSC) সনদ এবং অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ থাকা আবশ্যক।

  • প্রবাসী এনআইডি: প্রবাসীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় এনআইডি সেবা কার্যক্রম আরো সহজ করা হয়েছে।

৩. এনআইডি সেবা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্থানান্তর

এনআইডি সেবা নির্বাচন কমিশন থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তবে বর্তমানে এই রূপান্তরকালীন সময়েও নির্বাচন কমিশনই (EC) মাঠ পর্যায়ে সব ধরণের সেবা ও কার্ড ইস্যু করছে।

৪. স্মার্ট কার্ড চেক করার পদ্ধতি

আপনার স্মার্ট কার্ডটি তৈরি হয়েছে কি না বা কোথায় পাবেন তা জানার জন্য সহজ পদ্ধতিগুলো হলো:

  • SMS পদ্ধতি: মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে লিখুন SC <space> NID <space> NID Number এবং পাঠিয়ে দিন ১০৫ নম্বরে।

  • অনলাইন পোর্টাল: এনআইডি পোর্টালে লগইন করে ‘কার্ড স্ট্যাটাস’ অপশনে গিয়েও বর্তমান অবস্থা চেক করতে পারবেন।


জরুরি কিছু টিপস:

  • পুনঃনিবন্ধন: এনআইডির মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত ৬ মাস আগে পুনঃনিবন্ধনের জন্য আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

  • সতর্কতা: এনআইডি সংক্রান্ত কোনো ব্যক্তিগত তথ্য বা পাসওয়ার্ড অপরিচিত কাউকে দেবেন না। সরকারি ফি কেবল নির্দিষ্ট ব্যাংকিং চ্যানেলে (বিকাশ, রকেট বা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক) পরিশোধ করবেন।

Alamin Mia

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *