এসিআর । সার্ভিস বুক । স্মারকলিপি

এসিআর ফরম ১০ ১২ গ্রেড : সরকারি কর্মকর্তাদের এসিআর জমা ও মূল্যায়নে নতুন কড়াকড়ি

সরকারি দপ্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ১০ম থেকে ১২তম গ্রেডের কর্মচারীদের বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদন (এসিআর) দাখিল ও মূল্যায়নে নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। পরিবর্তিত এই নিয়ম অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসিআর জমা না দেওয়া বা অনুস্বাক্ষর/প্রতিস্বাক্ষরে অবহেলা করাকে এখন থেকে ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য করা হবে, যার ফলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।

সময়সীমা নির্ধারণ নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি পঞ্জিকাবর্ষের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সূচী অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে:

  • জানুয়ারি মাস: অনুবেদনাধীন কর্মচারী (যাঁর মূল্যায়ন হবে) কর্তৃক তাঁর অংশ পূরণ করে অনুবেদনকারীর নিকট দাখিল করতে হবে।

  • ফেব্রুয়ারি মাস: অনুবেদনকারীকে (সরাসরি তত্ত্বাবধানকারী) অনুবেদনে স্বাক্ষর শেষ করে প্রতিস্বাক্ষরকারীর দপ্তরে প্রেরণ করতে হবে।

  • মার্চ মাস: প্রতিস্বাক্ষরকারী কর্তৃক চূড়ান্ত স্বাক্ষর শেষে ডোসিয়ার সংরক্ষণকারী কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠাতে হবে।

নির্দেশনার মূল পয়েন্টসমূহ বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এসিআর প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হয়েছে: ১. ন্যূনতম কর্মকাল: আংশিক বা বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদনের জন্য কোনো নির্দিষ্ট অনুবেদনকারীর অধীনে কর্মকাল ন্যূনতম ৩ (তিন) মাস হওয়া বাধ্যতামূলক। ২. বিরূপ মন্তব্য: যদি কোনো কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিরূপ মন্তব্য প্রদান করতে হয়, তবে তার আগে অবশ্যই তাকে লিখিতভাবে সতর্ক করে সংশোধনের সুযোগ দিতে হবে। বিরূপ মন্তব্যের সাথে সতর্কীকরণ নোটিশের কপি এবং দালিলিক প্রমাণ সংযুক্ত করা আবশ্যক। ৩. বদলি জনিত বিধান: বদলির কারণে কর্মস্থল পরিবর্তন হলে, ৩ মাস পূর্ণ হওয়ার সাপেক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে বা বছর শেষে আংশিক অনুবেদন দাখিল করতে হবে। ৪. গোপনীয়তা রক্ষা: অনুস্বাক্ষরিত এসিআর ফরম অবশ্যই সিলগালাযুক্ত খামে ‘গোপনীয়’ লিখে অগ্রায়নপত্রসহ পাঠাতে হবে। কোনোভাবেই কর্মচারী নিজে তাঁর এসিআর বহন করে ডোসিয়ার সংরক্ষণকারী দপ্তরে জমা দিতে পারবেন না।

সরকারের এই নতুন উদ্যোগের ফলে বার্ষিক কর্মমূল্যায়ন প্রক্রিয়া আরও সুশৃঙ্খল হবে এবং কর্মচারীদের পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কোনো প্রয়োজনে ব্যাখ্যার জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এসিআর ফরম ১০ ১২ গ্রেড

২য় শ্রেণীর কর্মকর্তাদের এসিআর কিভাবে পূরণ করতে হবে?

এটি মূলত ১০ম থেকে ১২তম গ্রেডের (যা সাধারণত ২য় শ্রেণীর মর্যাদাভুক্ত) সরকারি কর্মচারীদের বার্ষিক বা আংশিক গোপনীয় অনুবেদন (এসিআর) ফরম। এই ফরমটি পূরণের পদ্ধতি নিচে বিস্তারিতভাবে দেওয়া হলো:

১. ফরম সংগ্রহ ও প্রাথমিক শর্তাবলি:

  • জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট থেকে এসিআর ফরমটি ডাউনলোড করে A4 সাইজের কাগজের উভয় পৃষ্ঠায় প্রিন্ট করতে হবে।

  • ফরমটি অবশ্যই স্বহস্তে পূরণ করতে হবে এবং এতে কোনো প্রকার কাটাকাটি, ঘষামাজা বা ফ্লুইড ব্যবহার করা যাবে না। ভুল হলে একটানে কেটে স্বাক্ষরসহ পুনরায় লিখতে হবে।

২. অনুবেদনাধীন কর্মচারী কর্তৃক পূরণ (১ম অংশ):

  • একজন কর্মচারীকে প্রতি বছর জানুয়ারি মাসের মধ্যে তার জন্য প্রযোজ্য অংশের (১ম অংশ) তথ্য পূরণ করে অনুবেদনকারীর নিকট দাখিল করতে হবে।

  • এই অংশে নিজের নাম (বাংলা ও ইংরেজি), পদবি, গ্রেড, কর্মস্থল, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, জন্ম তারিখ, যোগদানের তারিখ, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং অনুবেদনকারী ও প্রতিস্বাক্ষরকারীর নাম ও পদবি উল্লেখ করতে হবে।

  • যদি কোনো নির্দিষ্ট অনুবেদনকারীর অধীনে কর্মকাল একটানা ০৩ (তিন) মাস বা তার বেশি হয়, তবেই সেই সময়ের জন্য আংশিক বা বার্ষিক অনুবেদন দাখিল বাধ্যতামূলক।

৩. অনুবেদনকারী কর্তৃক মূল্যায়ন (২য় অংশ):

  • অনুবেদনকারী (যিনি সরাসরি তত্ত্বাবধান করেন) ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে মূল্যায়ন সম্পন্ন করে প্রতিস্বাক্ষরকারীর নিকট পাঠাবেন।

  • এই অংশে ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য (সততা, শৃঙ্খলা, সহযোগিতা) এবং কর্মসম্পাদন (পেশাগত জ্ঞান, কম্পিউটার দক্ষতা, ই-নথি ব্যবহার, নোটিং-ড্রাফটিং) এর ভিত্তিতে নম্বর প্রদান করা হয়।

  • মোট প্রাপ্ত নম্বর ৬৯ বা তার নিচে হলে তা ‘বিরূপ’ হিসেবে গণ্য হবে এবং সেক্ষেত্রে যথাযথ প্রমাণক সংযুক্ত করতে হবে।

৪. প্রতিস্বাক্ষরকারী কর্তৃক মূল্যায়ন (৩য় অংশ):

  • প্রতিস্বাক্ষরকারী (অনুবেদনকারীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা) মার্চ মাসের মধ্যে তার মন্তব্য ও স্বাক্ষর সম্পন্ন করে ডোসিয়ার সংরক্ষণকারী দপ্তরে পাঠাবেন।

  • তিনি অনুবেদনকারীর মূল্যায়নের সাথে একমত কি না তা উল্লেখ করবেন এবং প্রয়োজনবোধে নম্বর হ্রাস-বৃদ্ধি করতে পারেন।

৫. গুরুত্বপূর্ণ কিছু নিয়ম:

  • গোপনীয়তা: পূরণকৃত ফরম এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে পাঠানোর সময় অবশ্যই সিলগালাযুক্ত খামে ‘গোপনীয়’ লিখে পাঠাতে হবে। কোনো অবস্থাতেই এটি ভাঁজ করা যাবে না বা কর্মচারীর মাধ্যমে বহন করা যাবে না।

  • অসদাচরণ: নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসিআর দাখিল বা মূল্যায়ন না করা ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য হবে এবং এর জন্য বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

  • বিরূপ মন্তব্য: কোনো বিরূপ মন্তব্য করার আগে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীকে অবশ্যই লিখিতভাবে সতর্ক করে সংশোধনের সুযোগ দিতে হবে।

যেকোনো ধরণের অস্পষ্টতা বা ব্যাখ্যার প্রয়োজন হলে সরাসরি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *