এসিআর । সার্ভিস বুক । স্মারকলিপি

এসিআর ফরম ১৭ ২০ গ্রেড: সরকারি কর্মচারীদের ১৭-২০তম গ্রেডের এসিআর দাখিলে নতুন নির্দেশনা

সরকারি চাকরিতে স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে ১৭তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদন (এসিআর) দাখিলের ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। ২০২৩ সালের সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী, এই গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য নির্দিষ্ট ফরম (বাংলাদেশ ফরম নং ২৯০-৬) স্বহস্তে পূরণ করে সময়মতো জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

সময়সীমা ও প্রক্রিয়া: নির্দেশনা অনুযায়ী, অনুবেদনাধীন কর্মচারীকে প্রতি বছর জানুয়ারি মাসের মধ্যে তাঁর অংশের তথ্য পূরণ করে অনুবেদনকারীর নিকট দাখিল করতে হবে। অনুবেদনকারী কর্মকর্তা ফেব্রুয়ারির মধ্যে অনুস্বাক্ষর শেষ করে প্রতিস্বাক্ষরকারীর কাছে পাঠাবেন এবং মার্চ মাসের মধ্যে প্রতিস্বাক্ষরকারী তাঁর কাজ শেষ করে ডোসিয়ের সংরক্ষণকারী দপ্তরে পাঠাতে বাধ্য থাকবেন।

গুরুত্বপূর্ণ নিয়মাবলী: * অসদাচরণ হিসেবে গণ্য: যথাযথ সময়ে বা নিয়মে এসিআর দাখিল, অনুস্বাক্ষর বা প্রতিস্বাক্ষর না করাকে ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য করা হবে এবং এর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে।

  • আংশিক অনুবেদন: যদি কোনো কর্মচারী নতুন কর্মস্থলে বদলি হন এবং সেখানে কমপক্ষে ৩ মাস কর্মরত থাকেন, তবে তাঁর জন্য আংশিক গোপনীয় অনুবেদন দাখিল করা বাধ্যতামূলক।

  • কাটাকাটি নিষিদ্ধ: এসিআর ফরমে কোনো ধরনের ওভার-রাইটিং, ঘষামাজা বা ফ্লুইড ব্যবহার করা যাবে না। ভুল হলে একটানে কেটে স্বাক্ষরসহ পুনরায় লিখতে হবে।

  • বিরূপ মন্তব্য: কোনো কর্মচারীকে বিরূপ মন্তব্য প্রদানের আগে অবশ্যই তাঁকে লিখিতভাবে সতর্ক করতে হবে এবং সংশোধনের সুযোগ দিতে হবে। বিরূপ মন্তব্যের ক্ষেত্রে দালিলিক প্রমাণ সংযুক্ত করা বাধ্যতামূলক।

  • গোপনীয়তা রক্ষা: এসিআর ফরম এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে প্রেরণের সময় অবশ্যই সিলগালাযুক্ত খামে ‘গোপনীয়’ লিখে পাঠাতে হবে। কোনোভাবেই এটি ভাঁজ করা যাবে না।

মূল্যায়নের মানদণ্ড: কর্মচারীদের ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য (সততা, শৃঙ্খলা, আনুগত্য) এবং কর্মসম্পাদন (কাজের মান, আদেশ পালনে তৎপরতা, কম্পিউটারে আগ্রহ) ইত্যাদির ওপর ভিত্তি করে নম্বর প্রদান করা হয়। মোট নম্বর ৯১-১০০ হলে ‘অত্যুত্তম’, ৮০-৯০ হলে ‘উত্তম’, ৭০-৭৯ হলে ‘চলতি মান’ এবং ৬৯ বা তার কম হলে তা ‘বিরূপ’ হিসেবে গণ্য হবে।

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই নতুন ফরম ও কঠোর নিয়মাবলী সরকারি কর্মচারীদের কর্মস্পৃহা বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক কাজে অধিকতর গতিশীলতা আনবে।

এসিআর ফরম ১৭ ২০ গ্রেড

৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের এসিআর কেন লাগে?

আপনার সরবরাহকৃত তথ্য বিশ্লেষণ করে চতুর্থ শ্রেণীর (১৭তম-২০তম গ্রেড) কর্মচারীদের বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদন (এসিআর) প্রয়োজনীয়তার কারণগুলো নিচে দেওয়া হলো:

  • কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন: কর্মচারীর ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য যেমন—সততা, সুনাম, শৃঙ্খলাবোধ এবং আনুগত্য যাচাই করার জন্য এসিআর প্রয়োজন।

  • পেশাগত মানদণ্ড যাচাই: কর্মচারীর কাজের মান ও পরিমাণ, আদেশ পালনে তৎপরতা এবং সরকারি সম্পদ রক্ষায় তাঁর সচেতনতা ও প্রচেষ্টার মূল্যায়ন করতে এটি ব্যবহৃত হয়।

  • দক্ষতা বৃদ্ধি ও তদারকি: কর্মচারীর কম্পিউটার কাজের প্রতি আগ্রহ এবং পেশাগত কাজে আন্তরিকতা পর্যবেক্ষণ করে তাঁদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা করা সম্ভব হয়।

  • বিভাগীয় ব্যবস্থা ও শৃঙ্খলা: নির্ধারিত সময়ে এসিআর দাখিল না করা বা যথাযথ নিয়ম না মানা ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য হয় এবং এর ভিত্তিতে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়। এটি প্রশাসনিক সোপানে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

  • ভবিষ্যৎ নির্দেশনা: কর্মচারীর কর্মকাণ্ড যদি সন্তোষজনক না হয় (বিরূপ মন্তব্য), তবে তাঁকে লিখিতভাবে সতর্ক করে সংশোধনের সুযোগ দেওয়ার জন্য এসিআর একটি দালিলিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

  • রেকর্ড সংরক্ষণ: প্রতি পঞ্জিকাবর্ষের কর্মকাল এবং পদোন্নতি বা অন্যান্য প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের জন্য ডোসিয়ার সংরক্ষণকারী দপ্তরে কর্মচারীর সামগ্রিক কর্মজীবনের রেকর্ড হিসেবে এটি সংরক্ষিত থাকে।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *