ব্যাংক চেক ডিসঅনার একটি মারাত্মক অপরাধ এবং এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ- নিজের নামের চেক ডিসঅনার হলে কোন সমস্যা নয় কিন্তু অন্য নামে ইস্যু করা চেক ডিস অনার হলেই অপরাধ সংঘটিত হয়– চেক ডিজঅনার মামলার নতুন নিয়ম ২০২৪

কোন আইনে প্রত্যাখ্যাত মামলা করা যায়?– The Negotiable Instruments Act, 1881 (হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন) এর ১৩৮ ধারা অনুযায়ী চেক প্রত্যাখ্যাত হওয়ার মামলা করা যায়। শুধু ”অপর্যাপ্ত তহবিলের” জন্য চেক প্রত্যাখ্যাত হয় না। যেকোন কারণে চেক প্রত্যাখ্যাত হলেই আপনি মামলা দায়ের করতে পারবেন। যেমনঃ আপনি চেক দিয়েছেন বন্ধ একাউন্টের বা চেক দেয়ার পরে একাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছেন বা চেক দিয়েছেন স্থগিত (Dormant) একাউন্টের বা এমন একাউন্টের যেখানে Stop Payment Instruction দেয়া আছে, বা আপনার স্বাক্ষর একরকম, আপনি করেছেন আরেক রকম, বা চেকে টাকার পরিমাণ অংক ও কথায় দুইরকম লিখেছেন ইত্যাদি। আবার ধরা যাক, আপনি মজা করে আপনার বন্ধুকে একটি চেক দিয়েছেন, আসলে সে আপনার কাছে কোনো টাকাই পায়না। এই চেকও যদি প্রত্যাখ্যাত হয়, আইন অনুযায়ী আপনি চেকের টাকা দিতে বাধ্য। অর্থাৎ যিনি চেক দিচ্ছেন তার কাছে যাকে চেকটা দেয়া হচ্ছে সেই ব্যক্তি টাকা পান কিনা তা মূখ্য বিষয় নয়। আপনি একটি চেক দিয়েছেন এবং তা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে মানে হচ্ছে আইন অনুযায়ী আপনি একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ (Criminal Offence punishable under the law) করেছেন।

প্রত্যাখ্যাত চেকের মামলায় শাস্তি কত দিনের? ব্যাংক চেকের অংকের ৩ (তিন) গুণ পর্যন্ত জরিমানা অথবা ১ (এক) বছর পর্যন্ত জেল অথবা উভয় দন্ড। তবে মনে রাখবেন, চেকের অংকের যতগুণ পর্যন্ত জরিমানাই আরোপ হোক না কেন, বাদী কিন্তু চেকের সমপরিমাণ অর্থই পাবেন, বাকী অর্থ সরকারী কোষাগারে জমা হবে। নতুন আইনে অবশ্য কোর্ট হতে প্রথমবার ৬ মাসের সময় দিয়ে জামিন দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ে তা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলেই কেবল চেক ইস্যুকারীকের হাজতে গ্রহণ করা হয়। দোষী সাব্যস্থ হলে আপনি আপিল করতে পারবেন, কিন্তু ওই আদালতে আগে আপনাকে জরিমানার ৫০ ভাগ অর্থ জমা দিতে হবে।

চেকের মামলায় কি হাজিরা দিতে হয়? হ্যাঁ। আসামী আদালতে হাজির না হলে সহজেই গ্রেফতারী পরোয়ানা ইস্যু হয়।  মামলার জন্য নির্ধারিত প্রায় প্রতি তারিখেই আসামীকে আদালতে হাজির থাকতে হয়। মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হয় এবং একবার রায় হয়ে গেলে, জরিমানার অন্তত ৫০ ভাগ অর্থ জমা না দিয়ে কোনো আপিল করা যায় না। চেক পাওয়ার ছয় মাস পরে কি ডিসঅনার করানো যাবে? না।  চেকের তারিখ হতে ৬ মাস সময়ের মধ্যে চেকটি নগদায়নের জন্য উপস্থাপন করতে হবে।  চেকটি যেদিন প্রত্যাখ্যাত হবে, সেদিন থেকে ৩০ (ত্রিশ) দিন সময়ের মধ্যে চেকের অংকের অর্থ দাবী করে লিখিতভাবে চেক প্রদানকারীকে নোটিশ (নোটিশ প্রদানের নিয়ম নিচে বলে দেয়া আছে) দিতে হবে। চেক প্রদান কারী ব্যক্তি যেদিন ওই নোটিশটি পাবেন সেদিন থেকে (বা যদি নোটিশ ফেরত আসে তবে ফেরতের দিন থেকে) ৩০ (ত্রিশ) দিন সময়ের মধ্যে চেকের অংকের অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে; পরবর্তী ৩০ (ত্রিশ) দিন সময়ের মধ্যে অবশ্যই মামলা দায়ের করতে হবে। উল্লেখ্য যে, ৩০ (ত্রিশ) দিন গণনার ক্ষেত্রে ক্যালেন্ডার দিন গণনা করতে হবে, কার্যদিবস (Working days) নয়।

ব্যাংক চেক মামলা থেকে বাঁচার উপায় কি? চেক ডিজঅনার মামলার শুরুতে কি জামিন পাওয়া যায়?

নোটিশ প্রদানের নিয়ম কি? ব্যাংক চেক প্রদানকারীর নিকট নোটিশ হস্থান্তরের (Hand delivery) মাধ্যমে অথবা  নোটিশ প্রাপকের বাংলাদেশের সাধারণ বা সর্বশেষ বাসস্থান বা ব্যবসায়িক Address এ প্রাপ্তি স্বীকার রশিদসহ রেজিষ্টার্ড ডাকযোগে পত্র প্রেরণের মাধ্যমে অথবা ১ টি বহুল প্রচলিত বাংলা সংবাদপত্রে নোটিশ প্রকাশের মাধ্যমে।

চেক ডিসঅনার মামলা দেখুন

Caption: The Negotiable Instruments Act, 1881

ব্যাংক চেক ডিসঅনার হলেও জামিন । কি কি কারণে ব্যাংক চেক ডিজঅনার হতে পারে?

  1. যদি আপনি কাউকে চেক দিয়ে থাকেন এরং চেকের তারিখ অনুযায়ী যদি অপনার অ্যাকাউন্টে টাকা না থাকে এবং যাকে চেক দিয়েছেন সে যদি ব্যাংকে তারিখ অনুযায়ী ব্যাংক থেকে ফেরত আসে তাহলে চেক ডিজঅনার হয়ে যাবে।সে আপনার নামে মামলা করতে পারবে।
  2. বর্তমানে চেক ডিজঅনার এর মামলা একটা ভালো অপরাধ।
  3. এখন আবার নতুন নিময় আছে চেক ডিজঅনার এর মামলায় ৬মাস পর টাকা পরিমান বেশি হয়ে যাবে।
  4. প্রথম অবস্থায় চেক প্রদানকারী কোর্টে একটা ডেট দিয়ে থেকে জামিন পেয়ে যাবে কিন্তু তারপর যদি সেই ডেট অনুযায়ী টাকা প্রদান করতে না পারে তাহলে তাকে এরেস্ট করে কোর্ট থেকে সরাসরি জেলে পাঠানো হবে এরং ৫০% টাকা না দেয়া পর্যন্ত কোর্ট তার জামিন মঞ্জুর করবে না।
  5. চেকে উল্লিখিত অংকের টাকা একাউন্টে না থাকলে ব্যাংকের পক্ষে টাকা দেয়া সম্ভব হয় না এবং চেক প্রত্যাখ্যান করা হয়, যা চেক ডিজঅনার হওয়া নামে পরিচিত।
  6. ডিজঅনার হওয়া চেকের বাহক একাউন্টধারী নিজে হলে সেটা কোন অপরাধ নয়।
  7. কিন্তু যদি এমন হয় যে একাউন্টধারী অন্য কাউকে চেক লিখে দিলেন এবং সেটি ব্যাংকে প্রত্যাখ্যাত হল, তবে সেটি একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
  8. চেক লেখার সময় থেকে ছয় মাস পর্যন্ত চেকটির মেয়াদ থাকে।
  9. তবে মেয়াদ শেষে একাউন্টধারী তারিখ কেটে পুনরায় তারিখ লিখে সাক্ষর করে মেয়াদ বাড়াতে পারেন।

ব্যাংক চেক ডিজঅনার হলে কি করণীয়?

চেক ডিজঅনার হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে একাউন্টধারীকে চেক ডিজঅনার হওয়ার বিষয়টি জানিয়ে চেকে উল্লিখিত অংকের টাকা প্রদানের দাবি জানাতে হয়। আর ত্রিশ দিনের মধ্যে দাবি না জানালে সেটি আইনের দৃষ্টিতে গ্রাহ্য হয় না। নোটিশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে একাউন্টধারীকে টাকা পরিশোধ করতে হয়। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে মামলা করা যায়। সরাসরি প্রাপক বরাবর অথবা তার সর্বশেষ বসবাসের ঠিকানা কিংবা বাংলাদেশে তার ব্যবসায়িক ঠিকানা বরাবর প্রাপ্তি স্বীকারপত্রের ব্যবস্থাসহ রেজিস্টার্ড ডাকে নোটিশ পাঠাতে হয়। এছাড়া অন্তত একটি জাতীয় বাংলা দৈনিকে নোটিশটি বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করতে হয়। সরাসরি প্রাপক বরাবর অথবা তার সর্বশেষ বসবাসের ঠিকানা কিংবা বাংলাদেশে তার ব্যবসায়িক ঠিকানা বরাবর প্রাপ্তি স্বীকারপত্রের ব্যবস্থাসহ রেজিস্টার্ড ডাকে নোটিশ পাঠাতে হয়। এছাড়া অন্তত একটি জাতীয় বাংলা দৈনিকে নোটিশটি বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করতে হয়। এ ধরনের মামলা একজনের পক্ষে আরেকজন করতে পারেন না। যে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে চেক দেয়া হয়েছে কেবল তিনিই মামলা করতে পারেন। মামলা করার ক্ষেত্রে তারিখ খুব গুরুত্বপূর্ণ, চেক ডিজঅনার হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে নোটিশ পাঠাতে হয়। নোটিশ পাঠিয়ে ১৫ দিন অপেক্ষা করতে হয় এবং এরপর ৩০ দিনের মধ্যে মামলা করতে হয়।

চেক প্রদানকারী ব্যক্তি যদি কোনো কোম্পানী হয়?

The Negotiable Instruments Act, 1881 এর ১৪০ ধারা অনুযায়ী চেকের স্বাক্ষরকারীর বাইরেও ওই কোম্পানীর সকল পরিচালক এবং কোম্পানী পরিচালনার সাথে যুক্ত ম্যানেজার, সেক্রেটারী ইত্যাদি যাদের ইচ্ছাকৃত বা গাফিলতিজনিত কারণে চেক প্রত্যাখ্যাত হয়েছে, তাদের সবাইকে আসামী করা যাবে। নোটিশ প্রদান, শাস্তি, আপীল সবই এক থাকবে। তবে ব্যক্তি বা প্রোপাইয়েটরশীপ প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র চেকে স্বাক্ষরকারীর বিরূদ্ধে মামলা দায়ের করা যাবে। কোন ব্যক্তিগত জামিনদার বা বন্ধকদাতার বিরূদ্ধে মামলা দায়ের করা যাবেনা, যদিনা তারাও চেকের স্বাক্ষরকারী হন। আবার চেকের স্বাক্ষরকারী মারা গেলে উত্তরাধিকারীদের বিরূদ্ধে মামলা করা যাবেনা।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ৮ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে বিস্তারিত জানতে admin@bdservicerules.info ঠিকানায় মেইল করতে পারেন।

admin has 3003 posts and counting. See all posts by admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *