বৈদেশিক চাকুরীতে নিয়োগ সম্পর্কিত নীতি ও পদ্ধতি।

যে কোন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রচারকৃত অথবা অন্যভাবে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে যে কোন বেসামরিক প্রার্থী যে কোন বৈদেশিক চাকুরীর জন্য সরাসরি সংশ্লিষ্ট সরকার/সংস্থা‘ দরখাস্ত করিতে পারিবেন; তবে দরখাস্তকারী বেসামরিক সরকারী কর্মকর্তা/কর্মচারী হইলে তিনি তাঁহার দরখাস্তের কপি স্বীয় প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়/বিভাগের অবগতির জন্য অবিলম্বে পেশ করিবেন।

তবে উল্লেখ থাকে, যে কোন সরকারী কর্মকর্তা/কর্মচারী বাংলাদেশে অবস্থিত কোন বৈদেশিক কূটনৈতিক মিশন অথবা ইহার অংগ সংগঠন এবং বিদেশী অথবা বিদেশী সাহায্যপুষ্ট এন,জি,ও-এর কোন পদের জন্য সরকারের অনুমোদন ব্যতিরেকে আবেদন করিতে পারিবেন না। বাংলাদেশ সরকারের মাধ্যমে দরখাস্ত প্রেরণের জন্য বিদেশী সরকার/সংস্থার নির্দেশ থাকিলে বেসরকারী প্রার্থীগণ সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এবং সরকারী প্রার্থীগণ নিজ নিজ প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দরখাস্ত করিবেন।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
সংস্থাপন মন্ত্রণালয়
বৈদেশিক নিয়োগ শাখা

সম/বৈঃনিঃ)/বৈদেশিক নিয়োগনীতি/১২/২০০৩-৬৮(২০০), তারিখ: ২৩ বৈশাখ ১৪১৪/৬ মে ২০০৭

রিজলিউশন

বিষয়: বৈদেশিক চাকুরীতে বাংলাদেশী নাগরিকদের নিয়োগ সম্পর্কিত নীতি ও পদ্ধতি।

বিভিন্ন ধরনের বৈদেশিক চাকুরীতে বাংলাদেশী নাগরিকদের নিয়োগ প্রাপ্তি সহজতর করার লক্ষ্যে এতদ্বিষয়ে সরকার নিম্নরূপ নীতি ও পদ্ধতি অনুসরণ করার সিদ্ধান- গ্রহণ করিয়াছে:-

(১) বিভিন্ন প্রকারের বৈদেশিক চাকুরীর প্রার্থীতা নিয়ন্ত্রণ নিম্নোক্ত মন্ত্রণালয়ের আওতায় হইবে:-

(ক) শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়/ প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়: যে কোন দেশ বা সংস্থা সহিত সম্পাদিত দ্বি-পাক্ষিক চুক্তির/ব্যবস্থার আওতায় প্রাপ্ত বৈদেশিক চাকুরীর ক্ষেত্রে;

(খ) সংস্থাপন মন্ত্রণালয়: উপরোক্ত (ক) ব্যতীত অন্যান্য সকল বৈদেশিক চাকুরীর ক্ষেত্রে।

(২) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বিভিন্ন দেশে অবসি’ত বাংলাদেশ মিশনসমূহ বিদেশী সরকারী ও বেসরকারী সংস্থা, জাতিসংঘ ও ইহার অংগ-সংগঠনসমূহ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংস্থার “চাকুরী খালি”র তথ্য সংগ্রহ করিয়া সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ে এবং কোন দেশ বা সংস্থার ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পাদিত দ্বি-পাক্ষিক চুক্তি/ব্যবস্থার আওতায় “চাকুরী খালি”র তথ্য সংগ্রহ করিয়া শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়/প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করিবে;

(৩) সংস্থাপন মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়/প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বৈদেশিক চাকুরীর তথ্য টেলিভিশন, রেডিও ও সংবাদপত্রের মাধ্যমে এবং অন্যান্য পন্থা দ্রুত ও কার্যকরভাবে প্রচারের ব্যবস্থা করিবে;

(৪) শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়/প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় তাহাদের নিয়ন্ত্রণাধীন বৈদেশিক চাকুরীসমূহের জন্য দরখাস্ত আহ্বান, মনোনয়ন, নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদির বর্তমান নীতি/পদ্ধতি সহজীকরণের ব্যবস্থা পৃথকভাবে গ্রহণ করিবে;

(৫) সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন জাতিসংঘ স্বেচ্ছাসেবকসহ বিদেশে এবং দেশে অবসি’ত সকল বৈদেশিক চাকুরীর ব্যাপারে নিম্নবর্ণিত নীতিমালা অনুসরণ করা হইবে:-

(ক) যে কোন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রচারকৃত অথবা অন্যভাবে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে যে কোন বেসামরিক প্রার্থী যে কোন বৈদেশিক চাকুরীর জন্য সরাসরি সংশ্লিষ্ট সরকার/সংস্থা‘ দরখাস্ত করিতে পারিবেন; তবে দরখাস্তকারী বেসামরিক সরকারী কর্মকর্তা/কর্মচারী হইলে তিনি তাঁহার দরখাস্তের কপি স্বীয় প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়/বিভাগের অবগতির জন্য অবিলম্বে পেশ করিবেন। তবে উল্লেখ থাকে, যে কোন সরকারী কর্মকর্তা/কর্মচারী বাংলাদেশে অবস্থিত কোন বৈদেশিক কূটনৈতিক মিশন অথবা ইহার অংগ সংগঠন এবং বিদেশী অথবা বিদেশী সাহায্যপুষ্ট এন,জি,ও-এর কোন পদের জন্য সরকারের অনুমোদন ব্যতিরেকে আবেদন করিতে পারিবেন না। বাংলাদেশ সরকারের মাধ্যমে দরখাস্ত প্রেরণের জন্য বিদেশী সরকার/সংস্থার নির্দেশ থাকিলে বেসরকারী প্রার্থীগণ সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এবং সরকারী প্রার্থীগণ নিজ নিজ প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দরখাস্ত করিবেন।

(খ) প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ে অগ্রায়নের জন্য প্রাপ্ত দরখাস্ত সমূহ বিবেচনা করিয়া উপযুক্ত দরখাস্ত-সমূহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের সচিবের অনুমোদনক্রমে অগ্রবর্তী করা হইবে।

(গ) দরখাস্ত কারীগণ তাঁহাদের দরখাস্তের কপি বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহা-পরিচালক (প্রশাসন) এবং সংশ্লিষ্ট দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে প্রেরণ করিয়া আবেদনকৃত চাকুরী প্রাপ্তিতে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের অনুরোধ করিতে পারিবেন।

(গ) (১) জাতিসংঘ, উহার অংগ সংগঠন বা অন্য কোন আন-র্জাতিক/আঞ্চলিক সংস্থায় যে সকল উচ্চ প্রশাসনিক পদের জন্য বাংলাদেশ সরকারের সমর্থনের প্রয়োজন হয় সেই সকল ক্ষেত্রে প্রার্থীগণকে সরকারী চাকুরীজীবী হইলে তাঁহাদের প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ে এবং বেসরকারী প্রার্থীগণ সরাসরি সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ে আবেদন করিবেন। সংস্থাপন মন্ত্রণালয় একাধিক প্রার্থীর একটি তালিকা প্রস’ত করিয়া প্রার্থীগণের মধ্য হইতে একজনকে মনোনয়নের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সমীপে উপস্থাপন করিবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক মনোনয়ন প্রদানের পর বাংলাদেশ সরকার (পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়/অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ) উক্ত প্রার্থীর নিয়োগের/নির্বাচনের জন্য প্রচেষ্টা চালাইবেন।

(ঘ) নিয়োগকারী সংস্থা কর্তৃক চাকুরীর জন্য চূড়ান্ত ভাবে নির্বাচিত হইলে:-

(১) বেসরকারী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রালয়ের অথবা অন্য কোন সরকারী ছাড়পত্রের প্রয়োজন প্রার্থীগণ প্রাপ্ত বৈদেশিক চাকুরীতে সরাসরি যোগদান করিবেন। তবে বিদেশী নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের পক্ষ হইতে কোন চাওয়া হইলে সংস্থাপন মন্ত্রণালয় তাহা প্রদান করিবে (সংযোজনী-‘ক’ মোতাবেক);

(২) সরকারী প্রার্থীগণ (অর্থাৎ মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর, অধিদপ্তর, পরিদপ্তর, স্ব-শাসিত/ স্বায়ত্তশাসিত/আধা-স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, সরকারী খাতের স্থানীয় প্রতিষ্ঠানসমূহ, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা সমূহ, কর্পোরেশন ইত্যাদির প্রার্থীগণ) বাংলাদেশের চাকুরীতে লিয়েন রাখার আগ্রহ পোষণ করিলে লিয়েনের জন্য নিজ নিজ প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ে দরখাস্ত করিবেন। প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় রুলস্‌ অব বিজনেস অনুসারে যে সকল কর্মকর্তার নিয়োগ বা বদলীর প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর নিকট প্রেরণ করিতে হয় সেই সকল কর্মকর্তার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর এবং অন্যান্যদের ক্ষেতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী/প্রতিন্ত্রীর অনুমোদনক্রমে লিয়েনসহ বৈদেশিক চাকুরীর অনুমতি (সংযোজনী-‘খ’ মোতাবেক) প্রদান করিবে। ইহাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোন অনাপত্তির প্রয়োজন হইবে না। যদি লিয়েন রাখার আগ্রহ না থাকে অথবা চাকুরী লিয়েন যোগ্য না হয়, তবে তাঁহারা চাকুরী হইতে পদত্যাগ করিবেন। ইহা ছাড়া আর কোন সরকারী ছাড়পত্র প্রয়োজন হইবে না। তবে বিদেশী নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের পক্ষ হইতে কোন ছাড়পত্র চাওয়া হইলে প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়/বিভাগ তাহা প্রদান করিবে (সংযোজনী-‘ক’ মোতাবেক)।

(ঙ) বৈদেশিক চাকুরী প্রাপ্তির প্রেক্ষিতে পেশকৃত পদত্যাগপত্র/অনুমতির জন্য আবেদনপত্র সাধারণতঃ প্রত্যাখ্যান করা হইবে না। যদি প্রত্যাখ্যান করিবার প্রয়োজন হয়, তবে উপযুক্ত যুক্তিসহ তাহা সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের জন্য প্রেরিত হইবে।

সংস্থাপন মন্ত্রণালয় রুলস্‌ অব বিজনেস অনুসারে যে সকল কর্মকর্তার নিয়োগ বা বদলীর প্রস-াব প্রধানমন্ত্রীর নিকট প্রেরণ করিতে হয় সেই সকল কর্মকর্তার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর এবং অন্যান্যদের ক্ষেত্রে সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রীর অনুমোদনক্রমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রদান করিবে।

(৬) লিয়েনসহ বৈদেশিক চাকুরী নিম্নোক্ত শর্ত সাপেক্ষে হইবে:-

(ক) লিয়েনের মেয়াদ সর্বোচ্চ ৫ (পাঁচ) বৎসর হইতে পারে। এই ৫ (পাঁচ) বৎসর শুধু চাকুরীর জ্যেষ্ঠতা, বেতন বৃদ্ধি ও অবসর গ্রহণের (পেনশনের) জন্য গণনাযোগ্য হইবে। অন্য কোন উদ্দেশ্যে এই সময়কাল গণনাযোগ্য হইবে না এবং লিয়েনাধীন কর্মকর্তা/কর্মচারী এই সময়কালে কোন বেতন/ভাতা/ছুটি পাইবেন না। বাংলাদেশের চাকুরী হইতে অব্যাহতি প্রাপ্তির তারিখ হইতে সেই চাকুরীতে পুনঃযোগদানের পূর্ব দিন পর্যন্ত সময় লিয়েনকাল হিসাবে গণ্য হইবে।

(খ) লিয়েনাধীন কর্মকর্তার অনুরোধে লিয়েনের মেয়াদ প্রয়োজন অনুযায়ী বৃদ্ধি করা হইবে; তবে শর্ত থাকে যে, মোট লিয়েনকাল যদি ৫ (পাঁচ) বৎসর অতিক্রম করে, তবে ৫ (পাঁচ) বৎসর অতিক্রমের তারিখ হইতে সরকার বিশেষ বিবেচনায় অন্যরূপ কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করিলে, বি, এস, আর, প্রথম খন্ডের ধারা ৩৪ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে আর বাংলাদেশের সরকারী চাকুরে হিসাবে গণ্য করা হইবে না এবং এই চাকুরীর সহিত স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাঁহার সকল সম্পর্ক ছিন্ন হইবে।

ব্যাখ্যা: প্রচলিত নিয়ম মোতাবেক বৈদেশিক চাকুরীতে নিয়োজিত একজন সরকারী কর্মকর্তা/ কর্মচারী এক দফায় ৫ (পাঁচ) বছর পর্যন্ত তাঁহার লিয়েন (যদি থাকে) সংরক্ষণ করিতে পারেন। এক দফায় অনধিক ৫ বছর বৈদেশিক চাকুরী করার পর কোন সরকারী কর্মকর্তা/কর্মচারী দেশে প্রত্যাবর্তন করিয়া কিছুকাল সরকারী চাকুরী করার পর পুনরায় বৈদেশিক চাকুরীতে নিয়োজিত হইলে স্বাভাবিক নিয়মে সরকারী চাকুরীতে তাঁহার লিয়েন আরও ৫ (পাঁচ) বছরের জন্য সংরক্ষিত থাকিতে পারে এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে এক নাগাড়ে ৫ (পাঁচ) বছরের অধিককাল বৈদেশিক চাকুরীতে নিয়োজিত না থাকিলে যত দফায়ই তিনি বৈদেশিক চাকুরীতে নিয়োজিত থাকুন না কেন সরকারী চাকুরীতে তাঁহার লিয়েন অক্ষুণ্ন থাকিবে। বিশেষ ক্ষেত্রে সরকার কোন সরকারী কর্মকর্তা/কর্মচারীকে এক নাগাড়ে ৫ (পাঁচ) বছরের অধিককালের জন্য বৈদেশিক চাকুরীতে নিয়োজিত থাকিবার অনুমতি দিতে পারে এবং সেই ক্ষেত্রে সরকারী চাকুরীতে তাঁহার লিয়েন অক্ষুণ্ন থাকিবে।

(গ) বৈদেশিক চাকুরীর মেয়াদ শেষে বাংলাদেশ সরকারের চাকুরীতে পুনরায় যোগদানের জন্য নিয়ম মোতাবেক প্রাপ্য সময়ের মধ্যে যোগদান করিতে হইবে। অনুমোদিত বৈদেশিক চাকুরীর মেয়াদ শেষ হওয়ার ৪ (চার) সপ্তাহের মধ্যে প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের সহিত যোগাযোগ করা না হইলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকার অবৈধ অনুপস্থিতির দায়ে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে;

(ঘ) নিয়োগকারী সংস্থার সহিত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার চাকুরীর শর্তের অথবা কোন দেনা-পাওনার ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের কোন দায়-দায়িত্ব থাকিবে না। তবে বাংলাদেশের নাগরিক হিসাবে প্রাপ্য আইনগত সাহায্য/সহযোগিতা প্রয়োজনবোধে প্রদান করা হইবে;

(ঙ) বৈদেশিক চাকুরী হইতে উদ্ভূত কোন শারীরিক অথবা মানসিক অক্ষমতা বৈদেশিক চাকুরীতে থাকা অবস্থা অথবা ইহার পর যে কোন পর্যায়ে দেখা দিলে বাংলাদেশ সরকার ইহার কোন দায়-দায়িত্ব গ্রহণ করিবে না এবং কোন অক্ষমতাজনিত ছুটিও মঞ্জুর করা হইবে না;

(চ) বৈদেশিক চাকুরী গ্রহণের অনুমতি প্রদানের পূর্বে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তাঁহার অনুকূলে বরাদ্দকৃত সরকারী গাড়ী, টেলিফোন, ফেরৎযোগ্য অন্যান্য সাজ-সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি, বই-পত্র ইত্যাদি জমা দিবেন এবং সরকারের অন্য কোন পাওনা থাকিলে তাহা প্রচলিত আইন অনুযায়ী জমা দেয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতিবেদনসহ প্রত্যায়ন পত্র উপস্থাপন করিবেন। বৈদেশিক চাকুরীতে যাওয়ার পূর্ব হইতে তিনি যদি সরকারের ভাড়াকৃত বাড়িতে অথবা সরকারী বাড়িতে থাকেন, তবে বৈদেশিক চাকুরী শুরু হওয়ার তারিখ হইতে সর্বোচ্চ ৬ (ছয়) মাসের মধ্যে তিনি উক্ত বাড়ি খালি করিয়া দিবেন এবং এই ৬ (ছয়) মাসের ভাড়া স্বাভাবিক হারে তিনি প্রদান করিবেন। যদি তিনি ৬ (ছয়) মাসের মধ্যে বাড়ি খালি না করেন তবে ভাড়াকৃত বাড়ির ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ দায়-দায়িত্ব তিনি নিজে বহন করিবেন এবং সরকারী বাড়ির ক্ষেত্রে সরকারী আবাসন পরিদপ্তর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে;

(ছ) বৈদেশিক চাকুরীতে থাকাবস্থায় অথবা অনুরূপ চাকুরী হইতে ফিরিয়া আসর পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা যে কোন সময় বাংলাদেশে চাকুরী হইতে পদত্যাগ করিতে পারিবেন কিংবা ২৫ (পঁচিশ) বছর চাকুরী পূর্তির পর স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করিতে পারিবেন।

(৭) বৈদেশিক চাকুরী গ্রহণের অনুমতি/ছাড়পত্র প্রদানের পূর্বে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি পরিশিষ্ট-‘গ’ মোতাবেক অংগীকারনামা সম্পাদন করিবেন।

(৮) বৈদেশিক চাকুরী গ্রহণের অনুমতিপ্রাপ্ত সকল সরকারী কর্মকর্তার রেজিস্টার সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় সংরক্ষণ করিবে।

২। এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হইবে এবং এতদ্বিষয়ে ইতিপূর্বে জারীকৃত সকল আদেশ বাতিল বলিয়া গণ্য হইবে।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে
মোঃ আব্দুস সালাম খান
সচিব।

 

বৈদেশিক চাকুরীতে বাংলাদেশী নাগরিকদের নিয়োগ সম্পর্কিত নীতি ও পদ্ধতি: ডাউনলোড

সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে যারা প্রশাসন শাখা বা হিসাব শাখায় কাজ করেন তারাই কেবল চাকরি সম্পর্কিত বিধি বিধানগুলো সম্পর্কে ভাল ধারণা রাখেন। অবশিষ্ট ৮০% কর্মকর্তা/ কর্মচারীই সরকারি চাকরির বিধানাবলীবাংলাদেশ সার্ভিস রুলস, হালনাগাদ পেনশন রুলসভ্রমণ বিধি ও প্রাপ্যতা , উৎসব ভাতার প্রাপ্যতা, সরকারি কর্মচারীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সুবিধা বা চিকিৎসা শেষে ব্যয় উত্তোলন, বিভিন্ন ভাতাদির প্রাপ্যতা, বিভিন্ন ধরনের অগ্রিম সুবিধা গ্রহণ, নিয়োগ ও বদলি নীতিমালা, বিভিন্ন ধরনের ছুটি কিভাবে নিতে হয়, বাসা বরাদ্দ বা বাড়ি ভাড়া প্রাপ্যতা, শিক্ষা সহায়ক ভাতা বা রেশন সুবিধা ইত্যাদি সর্ম্পকে ভাল ধারনা রাখেন না। এই ওয়েবসাইটটিতে উপরোক্ত বিষয়গুলো সহজ ভাবে তুলে ধরা হয়েছে। সরল ও প্রাঞ্জল ভাষায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে। সাধারণ কর্মচারী যাতে সহজেই ব্যাপার গুলো বুঝতে পারে এবং যদি কোন বিধি বুঝতে সমস্যা হয় তা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন করতে পারেন সে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কেউ যদি কোন বিধি বা নীতিমালা বুঝতে অসমর্থ হয় তবে আমাদের ফেসবুক পেইজগ্রুপ এবং ইমেইল ঠিকানায় যোগাযোগ করতে পারেন।

প্রতিটি পোস্টের রেফারন্স পোস্টের শেষে “ডাউনলোড” নামের যে লিংক দেওয়া আছে সেখান থেকে সংগ্রহ করে নিতে পারেন। ডাউনলোড ফাইল Google Drive or Box.com এ স্টোর করা আছে। কারও যদি ফাইলটি ডাউনলোড করতে সমস্যা হয় তবে আপনি আপনার নিজের gmail Account এ Login করে নিন। লগইন করার পর ঠিকই ফাইলটি ডাউনলোড হবে। তবুও যদি আপনি রেফারেন্স ফাইল ডাউনলোডে সমস্যায় পড়ে তবে আপনি এডমিনকে alaminmia.tangail@gmail.com এ ফাইলের নাম দিয়ে নক করুন। এডমিন আপনার ইমেইলের উত্তর দিবে।

কিছু কর্মকর্তা/ কর্মচারীদের কাছে সরকারি চাকরির বিধি বিধানের কিছু বইও হয়তো সংগ্রহে আছে কিন্তু তা মূলত সংগ্রহেই মাত্র বের করে পড়ার সময় বা সুযোগ নেই। কারও সময় বা সুযোগ থাকলেও বের করে পড়া পর্যন্ত হয় না। আবার দেখা যায় যে, অসংখ্য বইয়ের মধ্যে একটি সামারি বই চাকরির বিধানাবলীই শুধুমাত্র সংগ্রহ রয়েছে। সরকারি চাকরি সংক্রান্ত অসংখ্যা বই রয়েছে যেগুলো আবার প্রতি বছরই আপডেট হয়ে থাকে আপনি যদি শুধুমাত্র এই ওয়েবসাইটের সাথে যুক্ত থাকেন তবে আপনি সকল আপডেট তথ্যই পেয়ে যাবেন। ব্লগটি ভিজিট করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

admin

এই ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে বিস্তারিত জানতে বা কোন তথ্য যুক্ত করতে বা সংশোধন করতে চাইলে অথবা কোন আদেশ, গেজেট পেতে এই admin@bdservicerules.info ঠিকানায় মেইল করতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.