সরকারি গোপন আইন, ১৯২৩

১৯৯০ সালে প্রচলিত আইন একত্রিত ও সংশোধিত করে ইন্ডিয়ান অফিসিয়াল সিক্রেটস এ্যাক্ট জারি করা হয়। ১৯০৪ সালে তা সংশাধিত করা হয়। ১৯১১ সালে অফিসিয়াল সিক্রেটস এ্যাক্ট জারি করা হয়। ১৯২০ সালে তা সংশোধিত করা হয। ১৯২৩ সালে সংশোধিত করে অফিসিয়াল সিক্রেটস এ্যাক্ট ১৯২৩ সালে জারি করা হয়।

২। (ক) সরকারি জায়গা বলতে সরকারের যে কোন বিভাগ কর্তৃক দখলকৃত জায়গাকে বুঝাবে যা ঐ বিভাগের ন্যস্ত করা হোক বা না হোক ২ (১) ধারা।

(খ) যোগাযোগ বলতে কোন স্কেচ, প্ল্যান, মডেল, ডকুমেন্ট, আর্টিকেল, নোট তথ্য বা সারাংশ এবং ঐসবের কোন আংশিক বা সম্পূর্ণ বর্ণনা বা ফলাফল দ্বারা যোগাযোগ বা গ্রহণ। -২ (২) ধারা।

(গ) যুদ্ধের গোলাবারুদ বলতে কোন জাহাজ, সাব মেরিন, ট্যাংক বা অনুরূপ ইঞ্জিন, অন্ত্র, গোলাবারুদ, বিমান, টরপেডো, মাইন বা তার অংশ বিশেষ বা অন্য কোন বস্তু বা কলা-কৌশল যা যুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছে বা হবে।-২(৫) ধারা।

(ঘ) নিষিদ্ধ এলাকা বলিতে সরকার কর্তৃক গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঘোষিত কোন নিষিদ্ধ এলাকা-২ (৮) সি ধারা। শক্রর জন্য দরকারী হতে পারে এমন গোপনীয় প্লান, মডেল, পাস ওয়ার্ড ইত্যাদি যে সমস্ত রাস্তা বা যোগাযোগের মাধ্যম দিয়ে পাঠান হয় ২(৮) ডি ধারা। সামরিক বাহিনী কর্তৃক দখলকৃত, ব্যবহৃত, গোলাবারুদ রাখা বা প্রস্তুতের জায়গা বা মাইন ফিল্ড বুঝাবে ২(৮) এ,বি। এক কথায় নিষিদ্ধ এলাকা বলতে বুঝাবে, যে কোন অস্ত্রাগার নৌস্থল,

অথবা বিমান বাহিনীর স্থাপনা বা স্টেশন বা অফিস অথবা যে কোন ফ্যাক্টরী, ডকইয়ার্ড, অথবা যুদ্ধোপকরণ তৈরির বা সংরক্ষণের স্থানসমূহ। রেওয়ে, স্থল বা জলপথ অথবা গ্যাস, পানি বা বিদ্যুৎ স্থাপন বা অন্য যে কোন স্থান যা শত্রুপক্ষের ব্যবহারে আসতে পারে মনেকরত সরকার গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ বলে ঘোষণা করে।

ধারা-৩। গুপ্তচর বৃত্তির জন্য শাস্তি:

সরকারি গোপন বিধি’১৯২৩ এ গুপ্তচর বৃত্তির জন্য নিম্নোক্তরূপ শাস্তির বিধান রয়েছে:

(i) যদি কোন ব্যক্তি রাষ্ট্রের নিরাপত্তা অথবা স্বার্থের পরিপন্থী কোন উদ্দেশ্যে;

(ক) কোন নিষিদ্ধ এলাকার নিকটে গমন করে, পরিদর্শন করে, অতিক্রম করে সান্নিধ্যে আসে অথবা ভিতরে প্রবেশ করে, অথবা

(খ) কোন স্কেচ, প্লান, মডেল অথবা নোট তৈরি করে, যা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে শত্রুপক্ষের উপকারে আসবে বলে মনে হয়, ধারা করা যায় অথবা নিশ্চিত হওয়া যায়, অথবা

(গ) যদি কোন ব্যক্তি শত্রুপক্ষের ব্যবহারে আসতে পারে, আসবে বলে ধারণা করা যায় অথবা নিশ্চিত হওয়া যায়, এমণ কোন অফিসিয়াল গোপন কোড অথবা পাসওয়ার্ড অথবা নোট অথবা অন্য কোন দলিলপত্রাদি অথবা তথ্য আহরণ করে, সংগ্রহ করে, রেকর্ড করে, প্রকাশ করে অথবা অন্য কোন ব্যক্তির নিকট পাচার করে।

তাহলে সে এই ধারার অপরাধে অপরাধী হবে।

(ii) চৌদ্দ বৎসর পর্যন্ত কারাদন্ডের বিধান সম্বলিত এই ধারায় অভিযোগ আনয়নের জন্য অভিযুক্ত যে কোন একটি বিশেষ কার্য রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও স্বার্থের পরিপন্থীমূলক উদ্দেশ্যে করেছে, তার প্রমাণ প্রয়োজন নাই এবং উক্ত বিশেষ কার্যটি তার বিরুদ্ধে প্রমানিত না হওয়া সত্ত্বেও, এই ধারায় তাকে শাস্তি প্রদান করা যাবে, যদি মামলার অবস্থা অথবা তার আচরণ অথবা তার জ্ঞান কার্যাবলী প্রমাণ করে যে, তা উদ্দেশ্য ছিল রাস্ট্রের নিরাপত্তা ব্যাহত অথবা নিষিদ্ধ এলাকা সম্পর্কিত কোন বিষয়ের কোন স্কেচ, প্লান, মডেল, আর্টিকেল, নোট, দলিল বা তথ্য অথবা কোন গোপনীয় কোড বা পাসওয়ার্ড তৈরি, আহরণ, সংগ্রহ, রেকর্ড ও প্রকাশ করে বা আইনগত অধিকার প্রাপ্ত না হয়ে পাচার করে।

যদি মামলার অবস্থা, তার উদ্দেশ্য ছিল রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও স্বার্থের পরিপন্থ, তাহলে ধরে নিতে হবে যে, উক্ত স্কেচ, প্লান, মডেল, আর্টিকেল, নোট দলিলপত্র অথবা তথ্য তৈরি, আহরণ, সংগ্রহ, রেকর্ড, প্রকাশ ও পাচার করা হয়েছে-রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও স্বার্থের পরিপন্থীমূলক উদ্দেশ্য।

(iii) (ক) এ ধারার অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি: প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবে অপরাধটি বিদেশী শক্তির স্বার্থে বা প্রয়োজনে করা হয়েছে বলে ধারণা করা গেলে বা প্রমাণিত হলে অথবা অপরাধটি প্রতিরক্ষা সম্পর্কিয় বা গোপন অফিসিয়াল কোড সম্পর্কিত হলে, মৃত্যু দন্ড বা চৌদ্দ বছর পর্যন্ত কারাদন্ডে দন্ডিত হবে, এবং

(খ) অন্যান্য ক্ষেত্রে তিন বৎসর পর্যন্ত কারাদন্ডে দন্ডিত হবে।

ধারা-৩ক। ঘোষিত এবং নিষিদ্ধ এলাকার ছবি, স্কেচ ইত্যাদি সম্বন্ধে নিষেধাজ্ঞা:

১। সরকার বা সরকার কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির লিখিত অনুমতি ব্যতিরেকে, কোন ব্যক্তি নিষিদ্ধ এলাকার বা সরকার কোন এলাকাকে নিরাপত্তার স্বার্থে নিষিদ্ধ হলে ঘোষণা করলে, উক্ত এলাকার কোন ছবি, স্কেচ, প্লান, মডেল, নোট বা অন্য কোন প্রকার সনাক্তকরণের উপযোগী কোন কিছু তৈরি বা অঙ্কন করতে পারবে না।

২। সরকার সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা উপধারা-(১) এর অধীন প্রদত্ত অনুমতিবলে কৃত ছবি, স্কেচ, প্লান, মডেল, নোট বা শনাক্তকরণের উপযোগী অন্য কোন প্রকাশের রূপায়ণ কর্তৃপক্ষের নিকট দাখিলপূর্বক অনুমোদনের পূর্বে প্রকাশ না করার বা উহার বিনষ্টের বিধান করিতে পারিবেন।

৩। এই ধারার বিধান লঙ্ঘণের কারণে তিন বৎসর পর্যন্ত কারাদন্ডে বা জরিমানা দন্ডে বা উভয় দন্ডে দন্ডিত করা যাবে।

ধারা-৪। বিদেশী এজেন্টের সহিত যোগযোগ স্থাপন:

১। এ বিধির ৩ ধারার অপরাধের ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবে রাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থের পরিপন্থীমূলক উদ্দেশ্যে দেশের অভ্যন্তরে বা বাহিরে কোন বিদেশী এজেন্টের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করা হয়েছে বা যোগাযোগ স্থাপনের প্রচেষ্টা করা হয়েছে, তা ঘটনার সহিত সংশ্লিষ্ট বলে বিবেচিত হবে।

২। এ ধারায় যে ব্যক্তি সম্বন্ধে সন্দেহ করার মতো যুক্তিসঙ্গত কারণ রয়েছে যে, উক্ত ব্যক্তি দেশের ভিতরে বা বাহিরে অবস্থান করে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দেশের নিরাপত্তা ও স্বার্থের পরিপন্থী কাজের জন্য বিদেশী শক্তি কর্তৃক নিয়োজিত হয়েছে, তাহলে তাকে বিদেশী এজেন্ট হিসাবে গণ্য করা হবে এবং দেশের ভিতরে বা বাহিরে যে স্থানে সে বসবাস করে বা যে স্থান তথ্য আদান-প্রদানের জন্য নির্দিষ্টকৃত, উক্ত স্থানকে বিদেশী এজেন্টের ঠিকানা হিসাবে গণ্য করা হবে।

যদি কোন ব্যক্তি বিদেশী এন্টের সহিত দেখা করে বা বিদেশী এজেন্টের ঠিকানায় গমন করে বা কোন ব্যক্তির নিকট বিদেশী এজেন্টের ঠিকানায় গমন করে তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি বিদেশী এজেন্টের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করেছে বলে গণ্য করা হবে।

ধারা-৫। তথ্যের বেআইনী হস্তান্তর:

(১) কোন নিষিদ্ধ এলাকা ও সরকার ঘোষিত কোন এলাকা সম্পর্কীয় কোন গোপনীয় অফিসিয়াল কোড বা পাসওয়ার্ড বা কোন স্কেচ, প্লান, মডেল, আর্টিকেল, নোট, দলিলপত্রাদি অথবা তথ্যাদি কোন ব্যক্তি আইনসঙ্গত দখলে বা নিয়ন্ত্রণে থাকলে-

(ক) সে যদি তা ইচ্ছাকৃতভাবে, আইনগত অধিকার প্রাপ্ত ব্যক্তি বা আদালতের নিকট অথবা রাষ্ট্রের স্বার্থে অন্য কোন ব্যক্তির নিকট ব্যতীত, অন্য কোন ব্যক্তর নিকট হস্তান্তর করে অথবা

(খ) তার নিয়ন্ত্রণাধীন তথ্যাদি অন্য কোন বিদেশী রাষ্ট্রের শক্তির স্বার্থে বা দেশের নিরাপত্তার পরিপন্থীমূলক ভাবে ব্যবহার করে অথবা

(গ) আইনগত অধিকারের মেয়াদ শেষেও যদি তা নিজের অধিকারে রাখে বা

(ঘ) যথাযত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ফেরত প্রদানের বা হস্তান্তরের নির্দেশ পালন না করে অথবা তা সংরক্ষণে যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন না করে বা নিজেই ইহার নিরাপত্তা পরিপন্থী কার্য করে,

(ঙ) তাহা হলে সে এধারার অপরাধে অপরাধী হবে।

(২) যদি কোন ব্যক্তি ক্ষমতাপ্রাপ্ত না হয়ে এ আইনের পরিপন্থী জেনেও ইচ্ছাকৃতভাবে ১নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত তথ্যাদি গ্রহণ করে, সে এই ধারার অপরাধে অপরাধী হবে।

(৩) এই ধারার অধীনে অপরাধী ব্যক্তি নিম্নরূপভাবে দন্ডনীয় হইবে-

(ক) উপধারা (১) (এ) এর অধীন পরিপন্থী কার্যাধির বা কোন প্রতিরক্ষা নির্মানকাজ, অন্ত্রাগার, নৌ, স্থল বা বিমান বাহিনীর স্থাপনা বা স্টেশন বা খনি, মাইনক্ষেত্র, কারখানা, ডকইয়ার্ড, ক্যাম্প বা বিমান বা গোপনীয় অফিসিয়াল কোড সংক্রান্ত অপরাধ সংঘটিত হইলে তাহা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বিদেশী শক্তির স্বার্থে বা সুবিধার্থে ব্যবহৃত হইবে বলিয়া অনুমেয় হইলে বা ধারণ করা গেলে মৃত্যু দন্ডে অথবা চৌদ্দ বৎসর পর্যন্ত কারাদন্ডে দন্ডিত হইবে; এবং

(খ) অন্যান্য অপরাধের ক্ষেত্রে দুই বৎসর পর্যন্ত কারাদন্ডে অথবা জরিমানা দন্ডে অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবে।

ধারা-৬। মিথ্যা পরিচয় দান বা অনুমোদিত উপায়ে ইউনিফর্ম পরিধান:-

(ক) যদি কোন ব্যক্তি কোন নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশের জন্য বা প্রবেশে সহযোগিতা করার জন্য অথবা রাষ্ট্রের পরিাপত্তার পরিপন্থী যে কোন উদ্দেশ্যে আইনসঙ্গত অধিকার প্রাপ্ত না হলে, সেনা বাহিনীর, নৌবাহিনীর, বিমান বাহিনীর, পুলিশের বা অন্য কোন সরকারি পোশাক বা নিজেকে উপরূপ ব্যক্তি হিসাবে মিথ্যা পরিচয় দানের জন্য তৎসাদৃশ্য পোশাক পরিধান বা ব্যবহার করে অথবা মৌখিকভাবে বা লিখিতভাবে কোন ম্যিা স্বীকারোক্তি বা আবেদন করে বা কোন দলিলপত্রে নিজে স্বাক্ষর করে বা তাহার পক্ষে স্বাক্ষরিত হয় অথবা কোন পসাপোর্ট বা সেনাবাহিনীর, নৌবাহিনীর, বিমান বাহিনীর, পুলিশের বা সরকারি প্রবেশপত্র, পারমিট, সার্টিফিকেট, লাইসেন্স বা অন্য কোন অনুরুপ দলিলপত্র জাল, পরিবর্তন করে অথবা জ্ঞাতসারে ব্যবহার করে

বা তাহার দখলে রাখে অথবা জ্ঞাতসারে মিথ্যা বিবৃতি প্রদানপূর্বক নিজেকে সরকারি কর্মচারী হিসাবে বা ভবিষ্যতে সরকারি কর্মচারী হিসাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হইবে বলিয়া মিথ্যা পরিচয় প্রদান করে-সরকারি গোপন দলিল, গোপন অফিসিয়াল কোড বা পাসওয়ার্ড সংগ্রহের উদ্দেশ্যে অথবা আইগত অধিকার প্রাপ্ত না হয়ে কোন সরকারি বা কূটনৈতিক বা সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনীর, ডাই, সীল, স্ট্যাম্প বা তৎসাদৃশ্য কোন ডাই, সীল বা স্ট্যাম্প জ্ঞাতসারে ব্যবহার করে বা দখলে রাখে, তাহলে উক্ত ব্যক্তি এই ধারার অপরাধে অপরাধী হবে।

(খ) যদি কোন ব্যক্তি রাষ্ট্রের পরিপন্থী কোন উদ্দেশ্যে সম্পূর্ণ কি অসম্পূর্ণ বা ব্যবহারের জন্য জারিকৃত কোন সরকারি দলিল অধিকার প্রাপ্ত না হয়েও অীধকারে রাখে বা অধিকারে রাখা তার কর্তব্যর পরিপন্থী বা ইচ্ছাকৃতভাবে ফেরত প্রদান বা অধিকার ত্যাগের নির্দেশ সত্ত্বেও উক্ত নির্দেশ পাল না করে, অথবা শুধুমাত্র তার নিজের জন্য জারিকৃত কোন সরকারি দলিল অন্যের দখলে প্রদান বা অন্যের জন্য জারিকৃত দলিল নিজে ব্যবহার করে বা যথাযথ ব্যক্তিকে উক্ত দলিল, গোপন অফিসিয়াল কোড বা পাসওয়ার্ড প্রদান না করে, অথবা উক্তরূপ কোন ডাই, সীল বা স্ট্যাম্প প্রস্তুত, বিক্রয় বা বিক্রয়ের জন্য মজুদ রাখে, তাহলে সে এই ধারার অপরাধে অপরাধী হইবে।

(গ) এই ধারার অপরাধে অপরাধী ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত কারাদন্ডে বা জরিমানা দন্ডে বা উভয়দন্ডে দণ্ডিত হবে।

(ঘ) নৌবাহিনী, সেনাবাহিনী বা বিমান বাহিনী বা কোন গোপন অফিসিয়াল কোড সম্পর্কীয় অপরাধ হলে ৩ ধারার ২ উপ ধারা মতে ইহা যে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা পরিপন্থী তা প্রদান করা যাবে এবং এই ক্ষেত্রে চৌদ্দ বৎসর পর্যন্ত কারাদন্ড প্রদান করা যাবে।

ধারা-৭। প্রহরারত পুলিশ বা সেনাবাহিনীর সদস্যদের কাজে হস্তক্ষেপ:

কোন ব্যক্তি নিষিদ্ধ এলাকা প্রহরারত, অবলোকনরত বা তদ্রুপ কাজে নিয়োজিত কোন পুলিশ অফিসার বা সেনাবাহিনীর সদস্যদের কাজে বাঁধা প্রদান, জ্ঞাতসারে ভুল পথে চালিত করা বা অন্য কোন উপায়ে তাঁহার কাজে হস্তক্ষেপ করা যাইবে না। এই ধারার বিধান লঙ্ঘন করিলে লঙ্ঘন করিলে দুই বৎসর পর্যন্ত কারাদন্ডে বা জরিমানা দন্ডে বা উভয় প্রকার দন্ডে দন্ডিত হইবে।

ধারা-৮। অপরাধের তথ্য প্রদান:

পুলিশ সুপার বা আই,জি কর্তৃক এই বিষয়ে ক্ষমতাপ্রাপ্ত পুলিশ ইন্সপেক্টর এর পদ মর্যাদার নিম্নে নন, এমন পুলিশ কর্মকর্তার বা পৌর এলাকায় পুলিশ কমিশনার বা প্রহরারত সেনাবাহিনীর, যে কোন সদস্যের চাহিদা মোতাবেক এই আইনের ৩ ধারার বা ৯ ধারার অপরাধ বাসন্দেহকৃত অপরাধ সম্পর্কীয় তথ্য প্রদান প্রতিটি ব্যক্তির কর্তব্য হিসেবে গণ্য হবে। তথ্য প্রদানে ব্যর্থ হলে উক্ত ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত কারাদন্ডে বা জরিমানা দন্ডে বা উভয়দন্ডে দন্ডিত হবে।

ধারা-৯। অপরাধের প্রচেষ্টা ও প্ররোচনা:

এই আইনে বর্ণিত অপরাধের প্রচেষ্টা এবং প্ররোচনার জন্য সংশ্লিষ্ট অপরাধটি সংঘটনের জন্য যেরূপ দন্ডের বিধান রয়েছে, উক্তরূপ দন্ডেই দন্ডিত হবে।

ধারা-১০। গুপ্তচরকে আশ্রয়দানের শাস্তি:

(ক) যদি কোন ব্যক্তি জ্ঞাতসারে অথবা ধারনা করার মতো যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকা সত্ত্বেও ৩ ধারার অপরাধ বা ৯ ধারার অপরাধ করে তাকে আশ্রয় প্রদান করে অথবা নিজস্ব বা দখলীভুক্ত কোন স্থানে উক্ত ব্যক্তিকে মিলিত হওয়ার বা সভা করার অনুমতি প্রদান করে, তাহলে এ ধারার অপরাধে অপরাধী হবে।

(খ) এই ধারায় উল্লেখিত ক্ষেত্রে উপরোক্ত ব্যক্তির আশ্রয় প্রদানের ক্ষেত্রে তাহার নিজস্ব বা দখলীভুক্ত স্থানে মিলিত হওয়ার বা সভা করার অনুমতি প্রদানের ক্ষেত্রে, পুলিশ সুপার বা আই,জি কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর পদ মর্যাদার নিম্নে নন, এমন পুলিশ কর্মকর্তার বা পৌর এলাকার পুলিশ কমিশনারের চাহিদা মোতাবেক উক্ত ব্যক্তিবর্গ সম্পর্কে যে কোন তথ্য প্রদানে ব্যর্থ হলে, এই ধারার অপরাধে অপরাধী হবে।

(গ) এই ধারার অপরাধে অপরাধী ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত কারাদন্ডে অথবা জরিমানা দন্ডে অথবা উভয়দন্ডে দন্ডিত হবে।

ধারা-১১। তল্লাশি পরায়ানা:

(ক) প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট হলফী জবানবন্দী গ্রহণপূর্বক প্রাপ্ত তথ্যে যদি সন্তুষ্ট হন যে, এই আইনের আওতাভূক্ত কোন অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে বা হতে যাচ্ছে তাহা হইলে তিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার পদ মর্যাদার নিম্নে নন, এমন পুলিশ কর্মকর্তাকে উক্ত স্থানে জোরপূর্বক প্রবেশের এবং উক্ত স্থানে উপস্থিত ব্যক্তিদের তল্লাশির এবং প্রদান হিসাবে ব্যবহৃত হওয়ার যোগ্য স্কেচ, প্লান, মডেল, আর্টিকেল, নোট, দলিলপত্র অথবা এই প্রকৃতির অন্য কোন প্রমাণ জব্দ করার নির্দেশ দিতে পারেন।

(খ) পুলিশ সুপারের নিম্ন নন, এমন কোন পুলিশ কর্মকর্তা অত্যন্ত জরুরি মুহুর্তে এবং রাষ্ট্রীয় স্বার্থে উপরোল্লিখিত পুলিশ কর্মকর্তাকে তল্লাশির লিখিত আদেশ দিতে পারেন।

(গ) তবে উপরোক্ত ২ উপ ধারায় আদেশ দেয়া হলে, যথাশীঘ্র সম্ভব তাহার প্রতিবেদন জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট দাখিল করতে হইবে।

ধারা-১২। গ্রেফতারের ক্ষমতা:

(ক) বাতিল।

(খ) চৌদ্দ বৎসর পর্যন্ত কারাদন্ডে দন্ডনীয় অপরাধ ব্যতীত অন্যান্য অপরাধ আপীলযোগ্য ও জামিনযোগ্য অপরাধ হিসাবে গণ্য হবে, এবং

(গ) নিষিদ্ধ এলাকা সম্পর্কীয় ৩ ধারা, ৯ ধারার, ৯ ধারার সাথে পঠিত ৩ ধারার বা ৫ ধারার ১ উপধারার ক অথবা খ অনুচ্ছেদের, ৬ধারা ১ উপধারার ক অনুচ্ছেদের অপরাধে অীভযুক্ত ব্যক্তি যার সম্বন্ধে যুক্তিসঙ্গত অভিযোগ আনয়ন করা হয়েছে অথবা যুক্তি সঙ্গত তথ্য পাওয়া গিয়াছে অথবা যুক্তিসঙ্গত সন্দেহ রয়েছে, এরূপ ব্যক্তিকে বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর যে কোন সদস্য বিনা পরোয়ানায় প্রেপ্তার করতে পারবেন। তবে গ্রেফতারের সাথে গ্রেফতারের সাথে সাথে প্রেফতারকৃত ব্যীক্তকে ক্ষমতাসম্পন্ন ম্যাজিস্ট্রেট বা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট প্রেরণ করিতে হইবে।

ধারা-১৩। অপরাধের বিচার:

(ক) জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা সরকার কর্তৃক এই ব্যাপারে বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের নিম্ন পর্যায়ের কোন আদালত এই আইনে বর্ণিত কোন অপরাধের বিচার করতে পারিবেন না।

(খ) ম্যাজিস্ট্রেট আদালত বিচারকার্যক্রম চালাকালীন সময়ে অভিুক্তি যদি অভিযোগ প্রণয়নের পূর্বে দায়রা জজ আদালতে মামলাটির বিচারের অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন, তাহলে মামলাটি বিচারের জন্য উক্ত আদালতে প্রেরণ করিতে হইবে।

(গ) সরকার বা সরকার কর্তৃক এই ব্যাপারে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কর্তৃক অবিযোগ আনয়ন ব্যতিরেকে কোন আদালত অপরাধ আমলে নিবেন না।

তবে উপরোক্ত নিয়মে অভিযোগ আনয়ন না করা সত্বেও অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার অথবা গ্রেফতারের জন্য পরোয়ানা জারি ও কার্যকর করা যাইবে এবং গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে হেফাজতে রাখা যাইবে বা জামিনে রাখা যাইবে। কিন্তু উপরোক্ত নিয়মে অভিযোগ প্রণয়ন না করা পর্যন্ত পরবর্তী কোন কার্যক্রম গ্রহণ করা যাইবে না।

(৪) অপরাধ সংঘটিত হওয়ার স্থানের এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত বা অভিযুক্তকে বাংলাদেশের যে স্থানেই পাওয়া যাইবে, উক্ত স্থানের এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত বিচার করিতে পারিবেন।

(৫) আদালতের নিজস্ব ক্ষমতা ব্যতীত বাদী পক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে কার্যক্রমে বা সাক্ষ্যের প্রকাশ রাষ্ট্রের নিরাপত্তার পরিপন্থী হইলে আদালত গোপনে বিচাকার্য পরিচালনা করিতে পারিবেন। তবে রায় প্রকাশ্যে ঘোষণা করিতে হইবে। ধারা-১৫

সরকারি গোপন আইন, ১৯২৩: ডাউনলোড

admin

আমার ব্লগের কোন কন্টেন্ট সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে বা জানাতে ইমেইল করতে পারেন admin@bdservicerules.info ঠিকানায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.