সর্বশেষ প্রকাশিত পোস্টসমূহ

নবম পে-স্কেল ও ৭ দফা দাবিতে উত্তাল রাজপথ: ৬ ফেব্রুয়ারি ‘ভুখা মিছিল’ ও যমুনা ঘেরাওয়ের ডাক

দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ও নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে আবারও আন্দোলনে নেমেছেন সরকারি কর্মচারীরা। ‘বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সারা দেশে সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা দুই ঘণ্টার কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ মিছিল পালন করেছেন।

আন্দোলনের মূল প্রেক্ষাপট

দীর্ঘদিন ধরে নবম পে-স্কেল ঘোষণার দাবি জানিয়ে আসলেও সরকারের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না পাওয়ায় প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। বিশেষ করে সম্প্রতি জ্বালানি উপদেষ্টার একটি মন্তব্য—”অন্তর্বর্তী সরকার এই মুহূর্তে পে-স্কেল বাস্তবায়ন করবে না”—কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলেছে। কর্মচারীদের অভিযোগ, পে-কমিশন রিপোর্ট জমা দিলেও সরকার গেজেট প্রকাশে গড়িমসি করছে।

বর্তমান কর্মসূচি ও আলটিমেটাম

ঐক্য পরিষদের ঘোষণা অনুযায়ী, দাবি আদায়ে গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই দুই ঘণ্টার (সকাল ৯টা থেকে ১১টা) অবস্থান ও কর্মবিরতি কর্মসূচি চলবে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে দাবি মানা না হলে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) সকাল ১০টায় রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’ অভিমুখে ‘ভুখা মিছিল’ ও ঘেরাও কর্মসূচি পালন করবেন তারা।

কর্মচারীদের প্রধান ৭ দফা দাবি:

আন্দোলনরত কর্মচারীরা বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরেছেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

  1. নবম পে-স্কেল ঘোষণা: ১২টি গ্রেডের ভিত্তিতে সর্বনিম্ন ৩৫,০০০ টাকা ও সর্বোচ্চ ১,৪০,০০০ টাকা বেতন নির্ধারণ করে দ্রুত গেজেট প্রকাশ।

  2. মহার্ঘ ভাতা: পে-স্কেল বাস্তবায়নের আগ পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন ৫০% মহার্ঘ ভাতা প্রদান।

  3. বৈষম্য দূরীকরণ: সচিবালয়ের মতো বহির্ভূত দপ্তর ও অধিদপ্তরের কর্মচারীদের পদনাম ও গ্রেড পরিবর্তন করে অভিন্ন নিয়োগবিধি প্রণয়ন।

  4. সুবিধা পুনর্বহাল: ২০১৫ সালের পে-স্কেলে বাতিল করা টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনরায় চালু করা।

  5. রেশন পদ্ধতি: বর্তমান বাজারদরের সাথে সংগতি রেখে সামরিক বাহিনীর মতো সাধারণ কর্মচারীদের জন্যও রেশন পদ্ধতি চালু করা।

  6. পেনশন ও গ্রাচুইটি: গ্রাচুইটির হার ১০০ শতাংশ করা এবং স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পেনশনের ব্যবস্থা করা।

জনভোগান্তি ও স্থবিরতা

আজকের কর্মসূচির কারণে সকালের ব্যস্ত সময়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরগুলোতে দাপ্তরিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। ভূমি অফিস, পাসপোর্ট অফিস ও নির্বাচন অফিসের মতো সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে আসা সাধারণ নাগরিকরা চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। তবে আন্দোলনকারীদের দাবি, পেটের ক্ষুধার তাগিদে তারা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা ঘরে ফিরবেন না।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে কাজে ফেরার আহ্বান জানানো হলেও কর্মচারীরা তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছেন। আগামী ৬ ফেব্রুয়ারির ‘ভুখা মিছিল’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ঢাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও দাপ্তরিক কাজে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *