পেনশন । লাম্পগ্র্যান্ট I পিআরএল

পেনশন প্রক্রিয়া সহজীকরণে সরকারের নতুন নির্দেশনা: ভোগান্তি কমাতে সরব ‘কল্যাণ কর্মকর্তা’

পেনশন সহজীকরণ আদেশ ২০২০ অনুসারে পেনশন সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় দেখভাল করবেন কল্যাণ কর্মকর্তা। প্রতিটি দপ্তরে কল্যাণ কর্মকর্তা নিয়োগের নির্দেশনা জারি করেছে সরকার যাতে পেনশন দ্রুত পরিশোধ করা যায় সে ব্যবস্থা নিবে কল্যাণ কর্মকর্তা।

২.০৪ অনুসারে অগ্রিম তালিকা প্রণয়ন ও দপ্তর প্রধান, কল্যাণ কর্মকর্তা ০১/১০/২০১৬ | হিসাবরক্ষণ অফিস, সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অফিসে প্রেরণ। (পিআরএল গমনের কমপক্ষে এক বৎসর পূর্বে)

২.০৫ অনুসারে ইএলপিসি (Expected Last Pay | হিসাবরক্ষণ অফিস। ১/১১/২০১৬ Certificate) জারি।  (পিআরএল গমনের ১১ মাস পূর্বে)

২.০৬ (ক) অনুসারে নির্ধারিত ফরমে অবসর-উত্তর। অবসরগ্রহণকারী ১/১২/২০১৬ ছুটি, ছুটি নগদায়ন (লাম্পগ্রান্ট), ভবিষ্য তহবিলের | সরকারি কর্মচারী | (ইএলপিসি প্রাপ্তির ০১ মাসের মধ্যে) স্থিতি ও পেনশন মঞ্জুরির আবেদন

২.০৬ (ক) অনুসারে সরকারের নিকট দেনা-পাওনা | প্রশাসনিক ৩০/৪/২০১৭ অগ্রিম হিসাব ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের না-দাবী | মন্ত্রণালয়/পেনশন | (পেনশনের আবেদন প্রাপ্তির ০৫ মাসের মধ্যে) প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ

২.০৬ (খ) অবসর-উত্তর ছুটি, ছুটি নগদায়ন ৩০/৭/২০১৭ (লাম্পগ্রান্ট) ও পেনশন মঞ্জুরিপত্র জারি (২.০৬ (ক) অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের ০৩ মাসের মধ্যে)

২.০৬ (গ) পেনশন পরিশােধ আদেশ (পিপিও) জারির |  অবিলম্বে জন্য কাগজপত্র হিসাবরক্ষণ অফিসে প্রেরণ।

২.০৭ (ক) অনুসারে ছুটি নগদায়ন (লাম্পগ্রান্ট) মঞ্জুরি | অবসরগ্রহণকারী অবিলম্বে আদেশ প্রাপ্তির পর বিল দাখিল সরকারি কর্মচারী বিল দাখিলের উপর নির্ভরশীল।

২.০৭ (ক) অনুসারে বিল প্রাপ্তির পর ছুটি নগদায়ন | অর্থাৎ লাম্পগ্রান্টের চেক প্রদান/EFT প্রেরণ।

২.০৭ (খ) অনুসারে পেনশন পরিশােধ আদেশ। (পিপিও) জারি হিসাবরক্ষণ বিল প্রাপ্তি সাপেক্ষে পিআরএল-এ গমনের অফিস। পরবর্তী ০৩ (তিন) কর্মদিবসের মধ্যে হিসাবরক্ষণ | পেনশন মঞ্জুরির কাগজপত্র প্রাপ্তির ১০ (দশ) কর্মদিবসের মধ্যে। পেনশন মঞ্জুরির কাগজপত্র
প্রাপ্তি সাপেক্ষে।

২.০৭ (খ) অনুসারে আনুতােষিক টাকার চেক || হিসাবরক্ষণ। পিআরএল শেষ হওয়ার পর দিন/চুড়ান্ত অবসর। প্রদান/EFT প্রেরণ অফিস গ্রহণের দিন সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর নিকট/ব্যাংক একাউন্টে প্রেরণ ২.০৭ (গ) অনুসারে চুড়ান্ত অবসরগ্রহণের পর | হিসাবরক্ষণ অফিস | প্রতি মাসের পেনশন পরবর্তী মাসের ০১ (এক) পেনশনারের মাসিক পেনশন EFT এর মাধ্যমে। অফিস তারিখে তাহার ব্যাংক একাউন্টে প্রেরণ।

কল্যাণ কর্মকর্তা নাম

স্বাক্ষর ও সীল

পেনশন প্রক্রিয়ার ধারাবাহিক কার্যক্রমের নমুনা: ডাউনলোড

সরকারি চাকরি শেষে পেনশন প্রাপ্তি যেন আর দুঃস্বপ্ন না হয়, সেজন্য ‘পেনশন সহজীকরণ আদেশ ২০২০’ বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। এখন থেকে প্রতিটি সরকারি দপ্তরে একজন নির্দিষ্ট কল্যাণ কর্মকর্তা নিয়োগের নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। পেনশনারদের ফাইল এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে ঘোরার চিরাচরিত প্রথা ভেঙে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ নিশ্চিত করাই হবে এই কর্মকর্তার প্রধান দায়িত্ব।

সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা: কার কাজ কখন?

পেনশন প্রক্রিয়াকে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক কাঠামোর মধ্যে আনতে সরকার একটি সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে। বিধিমালা অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলো হলো:

  • অগ্রিম তালিকা প্রণয়ন (পিআরএল-এর ১ বছর আগে): কর্মচারী পিআরএল (PRL) গমনের কমপক্ষে এক বছর আগেই সংশ্লিষ্ট দপ্তর প্রধান ও কল্যাণ কর্মকর্তা তার তালিকা প্রস্তুত করে হিসাবরক্ষণ অফিসসহ অন্যান্য দপ্তরে প্রেরণ করবেন।

  • ইএলপিসি (ELPC) জারি (পিআরএল-এর ১১ মাস আগে): অবসরে যাওয়ার ১১ মাস পূর্বেই ‘এক্সপেক্টেড লাস্ট পে সার্টিফিকেট’ বা ইএলপিসি জারি নিশ্চিত করতে হবে।

  • আবেদন দাখিল (ইএলপিসি প্রাপ্তির ১ মাসের মধ্যে): ইএলপিসি হাতে পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্মচারী নির্ধারিত ফরমে পেনশন, ল্যাম্পগ্রান্ট ও ভবিষ্যৎ তহবিলের স্থিতি পাওয়ার আবেদন করবেন।

  • না-দাবি প্রত্যয়নপত্র (আবেদনের ৫ মাসের মধ্যে): আবেদন প্রাপ্তির ৫ মাসের মধ্যে প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় বা পেনশন মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ সরকারের পাওনা সংক্রান্ত অগ্রিম হিসাব ও না-দাবি প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ করবে।

  • মঞ্জুরিপত্র ও পিপিও জারি: সব প্রক্রিয়া শেষ করে ৩ মাসের মধ্যে পেনশন মঞ্জুরিপত্র জারি করতে হবে এবং অবিলম্বে তা হিসাবরক্ষণ অফিসে পাঠাতে হবে।

পেমেন্ট বা অর্থ পরিশোধে দ্রুততা

নতুন এই আদেশ অনুযায়ী, হিসাবরক্ষণ অফিস পেনশনের কাগজপত্র পাওয়ার ১০ কর্মদিবসের মধ্যে পেনশন পরিশোধ আদেশ (PPO) জারি করবে। ল্যাম্পগ্রান্ট বা ছুটি নগদায়নের বিল দাখিলের ৩ কর্মদিবসের মধ্যে চেক প্রদান বা ইএফটি (EFT) নিশ্চিত করতে হবে।

সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক বিষয় হলো, একজন কর্মচারী অবসরে যাওয়ার পরদিন থেকেই তার আনুতোষিক বা গ্র্যাচুইটির টাকা ব্যাংক একাউন্টে পাওয়ার অধিকার রাখেন। এছাড়া প্রতি মাসের পেনশন পরবর্তী মাসের ১ তারিখের মধ্যেই ইএফটির মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যাংক একাউন্টে জমা হবে।


কল্যাণ কর্মকর্তার ভূমিকা: > এই পুরো প্রক্রিয়ায় সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করবেন কল্যাণ কর্মকর্তা। তিনি দেখবেন কোথাও কোনো ফাইল আটকে আছে কি না। মূলত পেনশনারের হয়ে দপ্তর ও হিসাবরক্ষণ অফিসের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করবেন তিনি।

একনজরে পেনশন প্রাপ্তির গুরুত্বপূর্ণ সময়সূচি

ধাপদায়িত্বপ্রাপ্তসময়সীমা
অগ্রিম তালিকা তৈরিদপ্তর প্রধান ও কল্যাণ কর্মকর্তাপিআরএল-এর ১২ মাস আগে
ইএলপিসি (ELPC) জারিহিসাবরক্ষণ অফিসপিআরএল-এর ১১ মাস আগে
না-দাবি প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষআবেদনের ৫ মাসের মধ্যে
পিপিও (PPO) জারিহিসাবরক্ষণ অফিসকাগজপত্র প্রাপ্তির ১০ দিনের মধ্যে
মাসিক পেনশন প্রদানহিসাবরক্ষণ অফিসপ্রতি মাসের ১ তারিখ

উপসংহার: পেনশন সহজীকরণ আদেশ ২০২০-এর এই কঠোর বাস্তবায়ন সরকারি কর্মচারীদের শেষ বয়সের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সরাসরি ব্যাংক একাউন্টে টাকা পৌঁছানোর এই ব্যবস্থা সুশাসনের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *