পেনশন । লাম্পগ্র্যান্ট I পিআরএল

পেনশন প্রাপ্তিতে ঘুষ ও হয়রানি: ‘অটোপেনশন’ এখন সময়ের দাবি

সরকারি চাকরি শেষে একজন কর্মচারীর শেষ সম্বল হলো পেনশন এবং প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা। কিন্তু বর্তমানে এই টাকা তুলে নিতে গিয়ে চরম ভোগান্তি, নজিরবিহীন দুর্নীতি এবং ঘুষের কারবারের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের মতে, বর্তমানে এজি (Accountant General) অফিসগুলো দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে, যা অনেক ক্ষেত্রে ভূমি অফিসকেও হার মানাচ্ছে। এই পরিস্থিতির উত্তরণে ‘অটোপেনশন’ ব্যবস্থা চালু করা এখন সময়ের গণদাবিতে পরিণত হয়েছে।

হয়রানির চিত্র: টাকা দিলে ফাইল নড়ে, না দিলে ভুল ধরে

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, পেনশন ও গ্র্যাচুইটির ফাইল ছাড় করাতে গিয়ে পদে পদে বাধার সম্মুখীন হন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নথিপত্রে কোনো ত্রুটি না থাকলেও ইচ্ছাকৃতভাবে ছোটখাটো ভুল খুঁজে বের করা হয়। অথচ নির্দিষ্ট অঙ্কের ঘুষ প্রদান করলে সেই একই ফাইল মাত্র এক দিনেই ছাড় পেয়ে যায়। এই অঘোষিত ‘ঘুষ প্রথা’ এখন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে।

পাল্টাপাল্টি অভিযোগ: সংস্কার নাকি মানসিকতার পরিবর্তন?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে এই নিয়ে উঠেছে বিতর্কের ঝড়। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, আজ যারা পেনশনের টাকার জন্য হয়রানির শিকার হচ্ছেন, তারা যখন চাকরিতে ছিলেন তখন কেন এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াননি? অনেকের মতে, সিস্টেমের ভেতরে থেকে কেউ কেউ দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিয়েছেন বলেই আজ তা মহীরুহ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তবে সাধারণ মানুষের ভাষ্য ভিন্ন। তারা বলছেন, “আমাদের সমাজের সিস্টেমটাই এমন। নিজের কাজ মিটে গেলে কেউ আর সংস্কারের কথা ভাবেন না।” এছাড়া দুর্নীতি দমন বা নজরদারির দায়িত্বে যারা থাকেন, তাদের স্বচ্ছতা নিয়েও জনমনে গভীর সংশয় রয়েছে।

অটোপেনশন: মুক্তি মিলবে কি?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষের বিবেক ও নৈতিকতার পরিবর্তন ছাড়া শুধু আইন দিয়ে দুর্নীতি নির্মূল সম্ভব নয়। তবে প্রযুক্তির ব্যবহার বা ‘অটোপেনশন’ ব্যবস্থা চালু হলে মানুষের সাথে মানুষের সরাসরি যোগাযোগ কমে যাবে। এতে করে:

  • ফাইল আটকে রাখার সুযোগ থাকবে না।

  • সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হবে।

  • মধ্যস্বত্বভোগী বা অসাধু কর্মকর্তাদের দৌরাত্ম্য কমবে।

উপসংহার

চাকরি শেষে শেষ ভরসার পেনশনের ক্ষেত্রে ঘুষ প্রদানের প্রথা বিলোপ করা এখন রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি অতি দ্রুত এই প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল বা অটোমেশনের আওতায় নিয়ে আসে, তবেই হাজার হাজার অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী শেষ জীবনে একটু শান্তিতে সম্মানের সাথে বাঁচতে পারবেন।

author avatar
admin
আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *