নবম জাতীয় পে-স্কেলে কোন গ্রেডে কত বেতন বাড়ছে? প্রস্তাবিত কাঠামোর বিস্তারিত বিশ্লেষণ
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রস্তাবিত নবম জাতীয় পে-স্কেলের খসড়া কাঠামো নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। জাতীয় পে-কমিশন-২০২৫ এর সুপারিশ এবং সচিব কমিটির পর্যালোচনার ভিত্তিতে একটি প্রাথমিক রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নতুন পে-স্কেল একবারে বাস্তবায়ন না করে তিন ধাপে কার্যকর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।
প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী অষ্টম পে-স্কেলের তুলনায় নবম পে-স্কেলে অধিকাংশ গ্রেডে বেতন প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছে। তবে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরা তুলনামূলকভাবে বেশি হারে সুবিধা পাচ্ছেন। বিশেষ করে ১৭তম থেকে ২০তম গ্রেডে বেতন বৃদ্ধির হার ১৩৭ শতাংশ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে বলে জানা গেছে।
গ্রেডভিত্তিক প্রস্তাবিত মূল বেতন বৃদ্ধি
প্রস্তাবিত তথ্য অনুযায়ী ১ম গ্রেডের বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকায় উন্নীত হতে পারে। এতে বৃদ্ধি হবে ৮২ হাজার টাকা বা প্রায় ১০৫ শতাংশ। ২য় গ্রেডে বেতন ৬৬ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৩২ হাজার টাকা এবং ৩য় গ্রেডে ৫৫ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ১ লাখ ১৩ হাজার টাকায় উন্নীত হওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
একইভাবে ৪র্থ গ্রেডে ৫০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ টাকা, ৫ম গ্রেডে ৪৩ হাজার টাকা থেকে ৮৬ হাজার টাকা এবং ৬ষ্ঠ গ্রেডে ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা থেকে প্রায় ৭১ হাজার টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
মধ্যম পর্যায়ের চাকরিজীবীদের মধ্যে ৭ম গ্রেডে বেতন ২৯ হাজার টাকা থেকে ৫৮ হাজার টাকা, ৮ম গ্রেডে ২৩ হাজার টাকা থেকে ৪৭ হাজার ২০০ টাকা এবং ৯ম গ্রেডে ২২ হাজার টাকা থেকে ৪৫ হাজার ১০০ টাকায় উন্নীত হতে পারে।
নিম্ন গ্রেডে সবচেয়ে বেশি সুবিধা
প্রস্তাবিত কাঠামোতে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য সবচেয়ে বেশি বেতন বৃদ্ধি রাখা হয়েছে। ১৪তম গ্রেডে ১০ হাজার ২০০ টাকা থেকে ২৩ হাজার ৫০০ টাকা, ১৭তম গ্রেডে ৯ হাজার টাকা থেকে ২১ হাজার ৪০০ টাকা এবং ২০তম গ্রেডে ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকায় উন্নীত করার সুপারিশ রয়েছে।
ফলে ২০তম গ্রেডে বেতন বৃদ্ধি হবে ১১ হাজার ৭৫০ টাকা বা প্রায় ১৪২.৪ শতাংশ। অন্যদিকে ১৭তম গ্রেডে বৃদ্ধি হবে প্রায় ১৩৭.৭ শতাংশ। এতে নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলায় তুলনামূলক বেশি সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের ব্যবধান কমছে
অষ্টম পে-স্কেলে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত ছিল প্রায় ১:৯.৪৫। প্রস্তাবিত নবম পে-স্কেলে তা কমিয়ে প্রায় ১:৮ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে উচ্চ ও নিম্ন গ্রেডের মধ্যে বেতন বৈষম্য কিছুটা কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা
অর্থ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে বিপুল অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় এটি তিন ধাপে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম অর্থবছরে বর্ধিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ, দ্বিতীয় অর্থবছরে অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ এবং তৃতীয় ধাপে বিভিন্ন ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা সম্পূর্ণরূপে সমন্বয় করা হতে পারে।
ভাতা ও অন্যান্য সুবিধায় বড় পরিবর্তন
প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী টিফিন ভাতা ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা করার সুপারিশ রয়েছে। বৈশাখী ভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে।
এছাড়া সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রথমবারের মতো সরকারি অর্থায়নে স্বাস্থ্যবীমা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিবন্ধী সন্তান থাকা সরকারি কর্মচারীদের জন্য অতিরিক্ত মাসিক ভাতা এবং পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য হারে পেনশন বৃদ্ধির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এখনও চূড়ান্ত নয়
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নবম জাতীয় পে-স্কেলের এই কাঠামো এখনও প্রস্তাব ও নীতিগত আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। সরকারিভাবে গেজেট বা প্রজ্ঞাপন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত কোনো বেতন কাঠামোকেই চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য করা যাবে না। এ বিষয়ে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য সরকারি প্রজ্ঞাপনের অপেক্ষা করতে হবে।
উল্লেখ্য, উপরের তথ্যসমূহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রস্তাবিত নবম জাতীয় পে-স্কেল সংক্রান্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। সরকারিভাবে গেজেট প্রকাশের পর চূড়ান্ত কাঠামোতে পরিবর্তন আসতে পারে।


