সাধারণ মানুষ অঙ্কের হিসাব বোঝে না, চায় সস্তা পণ্য: সংসদে বাজেট আলোচনায় পে স্কেল?
দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ বাজেটের জটিল অঙ্কের হিসাব বোঝে না; তারা শুধু চায় বাজারে গিয়ে যেন সস্তায় পণ্য কিনতে পারে এবং বাজেট ঘোষণার পর দিনই যেন সবকিছুর দাম হুহু করে বেড়ে না যায়—জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনে চলমান সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারের প্রতি এ আহ্বান জানানো হয়েছে।
আজ সোমবার (২২ জুন) বিকেলে স্পিকারের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন পুনরায় শুরু হলে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ সদস্যরা এসব কথা বলেন।
বাজারমূল্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ পে-স্কেলের দাবি
অধিবেশনে নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এই বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-कर्मচারীদের জন্য নতুন জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষণার উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হয়। তবে আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তারা বলেন, এই পে-স্কেল যেন অবশ্যই বর্তমান বাজারদরের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ ও সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। দেশের মানুষ যেন অর্থনৈতিকভাবে ভালো থাকতে পারে এবং স্বাবলম্বী হতে পারে—সেদিকে কঠোর দৃষ্টি রেখে বেতন কাঠামো চূড়ান্ত করার জন্য অর্থমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
সকল মুক্তিযোদ্ধার ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাব
প্রস্তাবিত বাজেটে খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানী ভাতা ৫ হাজার টাকা বাড়ানোর যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, সেটির প্রশংসা করা হয়। তবে বাজেট আলোচনায় অর্থমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে প্রস্তাব রেখে বলা হয়, বৈষম্যহীনভাবে দেশের কল্যাণ নিশ্চিত করতে শুধু খেতাবপ্রাপ্তদের নয়, দেশের সকল বীর মুক্তিযোদ্ধার মাসিক সম্মানী ভাতাই আনুপাতিক হারে বাড়ানো দরকার।
ফ্যামিলি কার্ডের পরিধি দ্বিগুণ করার দাবি
দেশের প্রান্তিক ও মধ্যবিত্ত নারীদের অর্থনৈতিক সুরক্ষার বিষয়টিও আজ সংসদে গুরুত্বের সাথে উঠে আসে। বক্তারা বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের জন্য সারা বাংলাদেশের মহিলারা অত্যন্ত উন্মুখ হয়ে চেয়ে রয়েছে। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই অর্থবছর থেকেই ফ্যামিলি কার্ডের পরিধি বৃদ্ধি করে তা চলতি সংখ্যার তুলনায় অন্তত দ্বিগুণ করা যায় কিনা—তা খতিয়ে দেখতে অর্থমন্ত্রীর কাছে জোর দাবি জানানো হয়।
উল্লেখ্য, গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এরপর থেকে এর ওপর সাধারণ আলোচনা শুরু হয়, যা আগামী ৩০ জুন বাজেট পাস হওয়ার আগ পর্যন্ত চলমান থাকবে।


