ভ্রমণ ভাতা I অধিকাল ভাতা

দিনাজপুর থেকে কাপ্তাই সরকারি সফর : iBAS++-এ ৬৩৩ কিলোমিটার দূরত্ব, ভেঙে ভেঙে ভ্রমণভাতা বিল করা যাবে কি?

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিসিয়াল সফরের ক্ষেত্রে ভ্রমণভাতা (Travel Allowance-TA) বিল কীভাবে প্রস্তুত হবে—এ নিয়ে প্রায়ই নানা প্রশ্ন দেখা যায়। সম্প্রতি দিনাজপুর থেকে রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে একজন ক্যাটাগরি-২ মানের কর্মকর্তা অফিসিয়াল সফরে গেলে ভ্রমণভাতা কীভাবে নির্ধারণ হবে, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, iBAS++ সিস্টেমে দিনাজপুর থেকে কাপ্তাই পর্যন্ত মোট দূরত্ব ৬৩৩ কিলোমিটার প্রদর্শিত হয়। তবে এই রুটে সরাসরি বাসসেবা না থাকায় অধিকাংশ যাত্রীকে প্রথমে ঢাকা অথবা চট্টগ্রাম হয়ে কাপ্তাই যেতে হয়। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—বাস্তবে একাধিক ধাপে যাত্রা করলে ভ্রমণভাতা বিলও কি ধাপে ধাপে করা যাবে, নাকি iBAS++-এ প্রদর্শিত মোট দূরত্ব অনুযায়ী একটিই বিল হবে?

iBAS++-এর দূরত্বই মূল ভিত্তি

অভিজ্ঞ হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তাদের মতে, সরকারি ভ্রমণভাতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে সাধারণত iBAS++-এ অনুমোদিত উৎস ও গন্তব্যের মোট দূরত্ব গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়। যদি সফরের গন্তব্য দিনাজপুর থেকে কাপ্তাই হয় এবং সিস্টেমে ৬৩৩ কিলোমিটার দেখায়, তাহলে কেবল যাত্রাপথে বাস পরিবর্তন বা ট্রানজিটের কারণে আলাদা আলাদা সফর হিসেবে বিল করার সুযোগ থাকে না।

অর্থাৎ, ঢাকা হয়ে কিংবা চট্টগ্রাম হয়ে যাত্রা করলেও সেটি একই অফিসিয়াল সফরের অংশ হিসেবে গণ্য হবে। ফলে ভ্রমণভাতা বিলে সাধারণত উৎস থেকে গন্তব্য পর্যন্ত মোট দূরত্বই বিবেচনায় নেওয়া হয়।

ভ্রমণভাতা হিসাবের একটি উদাহরণ

বর্তমান প্রচলিত হার অনুযায়ী (যদি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়) হিসাবটি হতে পারে—

  • প্রথম ১৯৯ কিলোমিটার × ১৫ টাকা = ২,৯৮৫ টাকা
  • অবশিষ্ট ৪৩৪ কিলোমিটার × ১২ টাকা = ৫,২০৮ টাকা

অর্থাৎ একমুখী সফরের জন্য মোট ভ্রমণভাতা দাঁড়ায়—

২,৯৮৫ + ৫,২০৮ = ৮,১৯৩ টাকা

যদি কর্মকর্তা একই রুটে ফিরে আসেন, তাহলে যাতায়াত উভয় দিক মিলিয়ে সম্ভাব্য ভ্রমণভাতা হবে—

৮,১৯৩ × ২ = ১৬,৩৮৬ টাকা।

তবে এই হিসাব সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ক্যাটাগরি, প্রচলিত সরকারি ভ্রমণভাতা বিধিমালা এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ আদেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।

সরাসরি বাস না থাকলেও বিল কি ভাগ করা যাবে?

সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সূত্রগুলোর মতে, কেবল পরিবহন সুবিধার অভাবে একাধিক ধাপে যাত্রা করলেই আলাদা আলাদা ভ্রমণভাতা বিল করার বিধান নেই। যদি একই অফিস আদেশে একটি নির্দিষ্ট গন্তব্যে সফরের অনুমোদন থাকে, তাহলে সেটি একটিই অফিসিয়াল সফর হিসেবে বিবেচিত হয়।

তবে বাস্তবে যাত্রীকে ঢাকা বা চট্টগ্রামে বাস পরিবর্তন করতে হলেও তা সফরের স্বাভাবিক অংশ হিসেবে ধরা হয়। তাই ভ্রমণপথ ভেঙে যাওয়ার কারণে ভ্রমণভাতা নতুন করে গণনার সুযোগ সাধারণত সৃষ্টি হয় না।

বিকল্প যাত্রাপথের বিষয়

যদিও অনেকেই ঢাকা হয়ে কাপ্তাই যান, বাস্তবে দিনাজপুর থেকে চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট পর্যন্ত দূরপাল্লার বাস (যেমন শ্যামলী বা তৌয়েজ এন্টারপ্রাইজের কিছু সার্ভিস) ব্যবহার করে পরে বহদ্দারহাট থেকে কাপ্তাই যাওয়াও সম্ভব। অর্থাৎ বাস্তব যাত্রাপথ বিভিন্ন হতে পারে, কিন্তু ভ্রমণভাতা নির্ধারণে সাধারণত অনুমোদিত উৎস ও গন্তব্যের দূরত্বই বিবেচিত হয়।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

অভিজ্ঞ হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তারা বলছেন, ভ্রমণভাতা বিল দাখিলের আগে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হিসাব শাখা, প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা (CAO) অথবা বিভাগীয় আর্থিক কর্তৃপক্ষের মতামত নেওয়া উত্তম। কারণ কোনো প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব প্রশাসনিক নির্দেশনা বা অর্থ মন্ত্রণালয়ের নতুন পরিপত্র থাকলে সেটিই চূড়ান্তভাবে প্রযোজ্য হবে।

উপসংহার

দিনাজপুর থেকে কাপ্তাই পর্যন্ত iBAS++-এ প্রদর্শিত ৬৩৩ কিলোমিটার দূরত্বের ভিত্তিতে ভ্রমণভাতা নির্ধারণই প্রচলিত নিয়মের সঙ্গে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টদের মত। তবে যাত্রাপথে ঢাকা বা চট্টগ্রামে বাস পরিবর্তন করতে হলেও সেটিকে পৃথক সফর হিসেবে গণ্য করে আলাদা ভ্রমণভাতা দাবি করা যাবে কি না, তা নির্ভর করবে প্রযোজ্য সরকারি বিধিমালা, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আর্থিক নির্দেশনা এবং বিল পাসকারী কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *