অক্টোবর ২০২৬ মাসে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত: ডিজেল ১৩৫, অকটেন ১৬৫ টাকা
অক্টোবর ২০২৬ মাসের জন্য দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের খুচরা মূল্য অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ফলে সেপ্টেম্বর মাসে সর্বশেষ নির্ধারিত দামেই অক্টোবরজুড়ে ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিন বিক্রি হবে। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অপারেশন-১ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নোটিশ তালিকাতেও ‘অক্টোবর-২০২৬ মাসের তেলের মূল্য নির্ধারণ’ শিরোনামে নোটিশটি প্রকাশিত হয়েছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেলের সর্বশেষ নির্ধারিত মূল্যই কার্যকর থাকবে। অর্থাৎ অক্টোবর মাসে নতুন করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো বা কমানো হচ্ছে না।
অক্টোবর মাসে কোন তেলের দাম কত?
অক্টোবর ২০২৬-এর জন্য নির্ধারিত ভোক্তা পর্যায়ের মূল্য হলো—
| জ্বালানি তেল | প্রতি লিটারের দাম |
|---|---|
| ডিজেল | ১৩৫ টাকা |
| অকটেন | ১৬৫ টাকা |
| পেট্রোল | ১৬০ টাকা |
| কেরোসিন | ১৫৫ টাকা |
অর্থাৎ, ১ অক্টোবর থেকে একজন ভোক্তাকে এক লিটার ডিজেল কিনতে ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং কেরোসিন ১৫৫ টাকা দিতে হবে।
সেপ্টেম্বরের দামই বহাল থাকছে
সরকার সর্বশেষ গত ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ জ্বালানি তেলের দাম পুনর্নির্ধারণ করে। ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নতুন মূল্য ২১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়। তখন চার ধরনের জ্বালানি তেলের দামই লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছিল।
এর আগে সেপ্টেম্বরের শুরুতে দাম ছিল—ডিজেল ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা এবং কেরোসিন ১৩৫ টাকা। ২০ সেপ্টেম্বরের সমন্বয়ের পর তা বেড়ে দাঁড়ায় যথাক্রমে ১৩৫, ১৬৫, ১৬০ ও ১৫৫ টাকা। অক্টোবরেও সেই দামই বহাল রাখা হয়েছে।
এক নজরে সেপ্টেম্বরের আগে ও বর্তমান দাম
| তেল | সেপ্টেম্বরের শুরুতে | ২১ সেপ্টেম্বর থেকে | অক্টোবরে |
|---|---|---|---|
| ডিজেল | ১১৫ টাকা | ১৩৫ টাকা | ১৩৫ টাকা |
| অকটেন | ১৪৫ টাকা | ১৬৫ টাকা | ১৬৫ টাকা |
| পেট্রোল | ১৪০ টাকা | ১৬০ টাকা | ১৬০ টাকা |
| কেরোসিন | ১৩৫ টাকা | ১৫৫ টাকা | ১৫৫ টাকা |
এ হিসাবে সেপ্টেম্বরের ২০ তারিখের মূল্য সমন্বয়ের পর অক্টোবর মাসে আর কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।
কেন অক্টোবরের দাম অপরিবর্তিত রাখা হলো?
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের ৩০ সেপ্টেম্বরের নির্দেশনায় মূলত সেপ্টেম্বরের সর্বশেষ নির্ধারিত মূল্যহার অক্টোবর মাসের জন্য বহাল রাখার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ নতুন কোনো মূল্যহার ঘোষণা না করে বিদ্যমান মূল্যই অব্যাহত রাখা হয়েছে।
এর পেছনে জ্বালানি বাজারের সামগ্রিক পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ। সেপ্টেম্বরের মূল্য সমন্বয়ের সময় সরকার আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, পরিবহন ও বিমা ব্যয় এবং আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়গুলো বিবেচনা করেছিল। একই সময়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন বা বিপিসির ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছিল।
বিপিসির ওপর আর্থিক চাপ কতটা?
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে বিপিসির প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। একই সময়ে জ্বালানি আমদানির ব্যয় মেটাতে বিপিসিকে সরকার ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে বলে ৩০ সেপ্টেম্বর জানানো হয়েছে।
বিপিসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জ্বালানি পরিবহনের ফ্রেইট চার্জও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আগে প্রতি ব্যারেলে পরিবহন ব্যয় যেখানে প্রায় ৩–৪ মার্কিন ডলার ছিল, তা বেড়ে ১৫–১৭ ডলারে পৌঁছায়। ফলে জ্বালানি আমদানিতে বিপিসির ব্যয় আরও বেড়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবও রয়েছে
বাংলাদেশের জ্বালানি তেলের বড় অংশ আমদানিনির্ভর। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম, পরিবহন ব্যয়, বিমা ব্যয় ও সরবরাহ পরিস্থিতির পরিবর্তন দেশের বাজারের ওপর সরাসরি বা পরোক্ষভাবে প্রভাব ফেলে।
সেপ্টেম্বরে মূল্যবৃদ্ধির সময় সরকার জানিয়েছিল, আন্তর্জাতিক বাজারের উচ্চমূল্য এবং আমদানি-সংক্রান্ত বাড়তি ব্যয়ের কারণে দেশের অভ্যন্তরীণ মূল্য সমন্বয়ের প্রয়োজন দেখা দিয়েছিল। পাশাপাশি দেশের বাজারে তুলনামূলক কম দামের কারণে সীমান্তপথে জ্বালানি পাচারের ঝুঁকিও বাড়ছিল বলে সরকারি ব্যাখ্যায় উল্লেখ করা হয়।
ডিজেলের ক্ষেত্রে ভর্তুকির চাপ
ডিজেল বাংলাদেশের পরিবহন, কৃষি, সেচ ও বিভিন্ন উৎপাদন কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি। তাই আন্তর্জাতিক বাজারের পুরো মূল্য সরাসরি দেশের ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দিলে পরিবহন ও কৃষি খাতে বড় ধরনের ব্যয়ের প্রভাব পড়তে পারে।
সরকারের সেপ্টেম্বরের মূল্য সমন্বয়-সংক্রান্ত ব্যাখ্যায় বলা হয়েছিল, আন্তর্জাতিক বাজারের বর্তমান দরের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্য করলে ডিজেলের দাম আরও বেশি হতে পারত। কিন্তু সাধারণ ভোক্তা, গণপরিবহন ও সেচনির্ভর কৃষকদের সক্ষমতা বিবেচনায় সরকার তুলনামূলক কম দামে ডিজেল সরবরাহ করছে।
অক্টোবরের অপরিবর্তিত দাম পরিবহন খাতে কী বোঝায়?
অক্টোবর মাসে নতুন করে জ্বালানি তেলের দাম না বাড়ায় পরিবহন খাতে সেপ্টেম্বরের মূল্যবৃদ্ধির পর আরেক দফা জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধির চাপ আপাতত তৈরি হচ্ছে না।
তবে এর অর্থ এই নয় যে পরিবহন ভাড়া বা পণ্য পরিবহন ব্যয় স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপরিবর্তিত থাকবে। জ্বালানি ছাড়াও যানবাহনের রক্ষণাবেক্ষণ, যন্ত্রাংশ, শ্রমিক ব্যয়, টোলসহ অন্যান্য খরচ পরিবহন ব্যয়ের ওপর প্রভাব ফেলে। আবার জ্বালানি তেলের দাম পরিবর্তনের প্রভাব পরিবহন ভাড়ায় কতটা পড়বে, সেটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত ও বাজার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে।
কৃষকদের জন্য ডিজেলের দাম গুরুত্বপূর্ণ
সেচ কাজে ডিজেলের ব্যবহার থাকায় ডিজেলের মূল্য কৃষি উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গেও সম্পর্কিত। অক্টোবর মাসে ডিজেলের দাম ১৩৫ টাকা লিটার অপরিবর্তিত থাকায় সেপ্টেম্বরের মূল্যবৃদ্ধির পর কৃষকদের জন্য নতুন করে অতিরিক্ত ডিজেল ব্যয়ের চাপ সৃষ্টি হচ্ছে না।
তবে সেপ্টেম্বরের আগে ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা থেকে ১৩৫ টাকায় বাড়ায় বর্তমান মূল্য আগের তুলনায় এখনও ২০ টাকা বেশি প্রতি লিটার। ফলে অক্টোবরের দাম অপরিবর্তিত থাকার অর্থ হলো মূল্যবৃদ্ধি থেমেছে, কিন্তু আগের কম দামে ফিরে যায়নি।
স্বয়ংক্রিয় মূল্য সমন্বয় নিয়ে কী হচ্ছে?
বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণের ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির কারণে মূল্য সমন্বয়ের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সেপ্টেম্বরে বড় ধরনের মূল্য সমন্বয়ের পর অক্টোবরে দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে অক্টোবরের জন্য নতুন কোনো মূল্যহার নয়, বরং সেপ্টেম্বরের সর্বশেষ নির্ধারিত মূল্যই বহাল থাকছে।
ভোক্তাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
অক্টোবর ২০২৬ মাসে পাম্প বা অনুমোদিত বিক্রয়কেন্দ্র থেকে জ্বালানি কেনার সময় নির্ধারিত মূল্য হবে—
ডিজেল: ১৩৫ টাকা/লিটার
অকটেন: ১৬৫ টাকা/লিটার
পেট্রোল: ১৬০ টাকা/লিটার
কেরোসিন: ১৫৫ টাকা/লিটার
এই মূল্য ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে কার্যকর এবং নতুন নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত বহাল থাকবে।
সারসংক্ষেপ
সব মিলিয়ে অক্টোবর ২০২৬ মাসে জ্বালানি তেলের বাজারে নতুন কোনো মূল্যবৃদ্ধি বা মূল্যহ্রাস হচ্ছে না। সেপ্টেম্বরের ২০ তারিখে যে মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছিল, অক্টোবরেও সেটিই কার্যকর থাকছে। ফলে ডিজেল ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং কেরোসিন ১৫৫ টাকা লিটার দরে বিক্রি হবে।
সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে অক্টোবরের শুরুতে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে না। তবে আন্তর্জাতিক বাজার, আমদানি ব্যয়, পরিবহন ব্যয় এবং বিপিসির আর্থিক পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে ভবিষ্যতে মূল্য সমন্বয়ের বিষয়টি আবারও সামনে আসতে পারে। সেপ্টেম্বরের মূল্য সমন্বয়ের ক্ষেত্রেও সরকার আন্তর্জাতিক বাজার ও বিপিসির আর্থিক চাপকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছিল।
সুতরাং ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে কার্যকর চূড়ান্ত খুচরা মূল্য: ডিজেল ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং কেরোসিন ১৫৫ টাকা প্রতি লিটার।



