আয়কর । ভ্যাট । আবগারি শুল্ক

আয়কর নির্দেশিকা ২০২৬-২৭: ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করমুক্ত, অনলাইনে রিটার্ন বাধ্যতামূলক—জেনে নিন নতুন নিয়মের খুঁটিনাটি

২০২৬-২৭ করবর্ষের আয়কর ব্যবস্থায় করদাতাদের জন্য আয় নির্ধারণ, করহার, কর রেয়াত, উৎসে কর, সারচার্জ এবং রিটার্ন দাখিলের নিয়ম আরও স্পষ্ট করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR)। সংস্থাটি ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ‘আয়কর নির্দেশিকা, ২০২৬-২০২৭’ প্রকাশ করেছে। 

নির্দেশিকায় সাধারণ ব্যক্তির জন্য ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত মোট আয় করমুক্ত রাখার কাঠামো দেখানো হয়েছে। এরপর ধাপে ধাপে ১০, ১৫, ২০, ২৫ ও সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ হারে আয়কর নির্ধারণের নিয়ম দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট শ্রেণির করদাতাদের জন্য বেশি করমুক্ত আয়সীমা, বিনিয়োগের বিপরীতে কর রেয়াত, উৎসে কর্তিত কর সমন্বয় এবং অনলাইন রিটার্ন দাখিলের বিস্তারিত পদ্ধতি তুলে ধরা হয়েছে। 

৪ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করমুক্ত

নির্দেশিকায় ২০২৬-২৭ করবর্ষের সাধারণ স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতার ক্ষেত্রে প্রথম ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের ওপর শূন্য হারে কর নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর পরের ধাপগুলো হলো—

আয়ের ধাপকরহার
প্রথম ৪ লাখ টাকা০%
পরবর্তী ৩ লাখ টাকা১০%
পরবর্তী ৪ লাখ টাকা১৫%
পরবর্তী ৫ লাখ টাকা২০%
পরবর্তী ২০ লাখ টাকা২৫%
অবশিষ্ট আয়৩০%

অর্থাৎ কারও করযোগ্য মোট আয় ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত হলে ওই অংশের ওপর আয়কর হবে না। ৪ লাখ টাকার বেশি হলে শুধু অতিরিক্ত অংশের ওপর ধাপে ধাপে কর হিসাব করা হবে। নির্দেশিকার উদাহরণে ২৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা করযোগ্য আয়ের ক্ষেত্রে প্রতিটি ধাপে আলাদা হারে কর হিসাব করে মোট আয়কর নির্ধারণ দেখানো হয়েছে। 

বিশেষ শ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত সীমা বেশি

সব করদাতার জন্য একই করমুক্ত সীমা প্রযোজ্য নয়। নির্দেশিকায় নারী, প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ও নির্দিষ্ট বিশেষ শ্রেণির জন্য পৃথক সীমার কথা বলা হয়েছে।

প্রতিবন্ধী করদাতার পিতা-মাতা বা আইনানুগ অভিভাবকের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট শর্তে প্রত্যেক প্রতিবন্ধী সন্তান বা পোষ্যের জন্য করমুক্ত আয়সীমা অতিরিক্ত ৫০ হাজার টাকা বাড়ানোর বিধান রয়েছে। 

আয় কম হলেও রিটার্ন লাগতে পারে

আয় করমুক্ত সীমার নিচে থাকলেই যে রিটার্ন দিতে হবে না—এমন নয়। আয়কর নির্দেশিকায় বেশ কিছু পরিস্থিতিতে করযোগ্য আয় না থাকলেও রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।

যেমন—

  • নির্দিষ্ট পর্যায়ে পূর্ববর্তী বছরগুলোর কর নির্ধারণ হয়ে থাকলে;
  • কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার পরিচালক বা নির্দিষ্ট কর্মচারী হলে;
  • ফার্মের অংশীদার হলে;
  • নির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনা বা নির্বাহী পদে চাকরি করলে;
  • গণকর্মচারী হলে;
  • নির্দিষ্ট ব্যবসা বা পেশার সঙ্গে যুক্ত থাকলে;
  • নির্দিষ্ট পরিমাণ ঋণ গ্রহণ করলে;
  • নির্দিষ্ট পরিমাণ সঞ্চয়পত্র বা মেয়াদি আমানত করলে;
  • আমদানি-রপ্তানি বা নির্দিষ্ট লাইসেন্সের ক্ষেত্রে;
  • সম্পত্তি হস্তান্তর বা নির্দিষ্ট সরকারি-বেসরকারি সেবার ক্ষেত্রে।

ফলে শুধু নিজের আয় করমুক্ত সীমার মধ্যে আছে কি না—এটি দেখে রিটার্নের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করা যাবে না। 

অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক

২০২৬-২৭ করবর্ষে স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতাদের জন্য অনলাইন রিটার্ন ব্যবস্থাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক।

NBR-এর ই-রিটার্ন প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধনের জন্য TIN, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং নিজের নামে বায়োমেট্রিকভাবে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর প্রয়োজন। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, etaxnbr.gov.bd-এ গিয়ে “I am not registered yet” অপশন নির্বাচন করে TIN ও মোবাইল নম্বর দিয়ে যাচাই করার পর OTP-এর মাধ্যমে নিবন্ধন সম্পন্ন করা যায়। 

তবে ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব প্রবীণ, শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি এবং মৃত করদাতার আইনগত প্রতিনিধিসহ নির্দিষ্ট কিছু করদাতা অনলাইন বাধ্যবাধকতার ব্যতিক্রমের আওতায় রয়েছেন। ই-রিটার্ন ব্যবস্থায় যৌক্তিক প্রযুক্তিগত সমস্যা থাকলেও নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় পেপার রিটার্নের অনুমোদন পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। 

বেতন পেলেই পুরোটা করযোগ্য নয়

চাকরিজীবীদের জন্য নির্দেশিকায় আলাদা করে বেতন থেকে করযোগ্য আয় নির্ধারণের পদ্ধতি দেখানো হয়েছে।

চাকরি থেকে মোট প্রাপ্তির মধ্যে থাকতে পারে—

  • মূল বেতন;
  • বাড়িভাড়া ভাতা;
  • চিকিৎসা ভাতা;
  • যাতায়াত ভাতা;
  • উৎসব বোনাস;
  • আপ্যায়ন ভাতা;
  • মোটরগাড়ির সুবিধা;
  • অন্যান্য সুবিধা ও প্রাপ্তি।

সরকারি বেতন আদেশভুক্ত কর্মচারীদের রিটার্নে মূল বেতন, বকেয়া বেতন, বিশেষ বেতন, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত, উৎসব ভাতা, ছুটি ভাতা, সম্মানী, ওভারটাইম, দৈনিক ভাতা, ভবিষ্যৎ তহবিলের সুদ, লাম্পগ্র্যান্ট ও গ্র্যাচুইটির মতো বিষয় আলাদাভাবে দেখানোর কাঠামো রাখা হয়েছে। 

নির্দেশিকার একটি উদাহরণে চাকরি থেকে মোট প্রাপ্তির এক-তৃতীয়াংশ অথবা ৫ লাখ টাকা—যেটি কম, তা করমুক্ত অংশ হিসেবে বাদ দিয়ে চাকরি থেকে করযোগ্য আয় নির্ধারণ করা হয়েছে। 

শুধু বেতন নয়, অন্যান্য আয়ও যোগ হবে

একজন ব্যক্তির মোট করযোগ্য আয় নির্ধারণে শুধু চাকরির বেতন বিবেচনা করলেই হবে না। নির্দেশিকায় আয়ের বিভিন্ন উৎস আলাদাভাবে দেখানো হয়েছে।

প্রধান খাতগুলো হলো—

১. চাকরি হতে আয়
২. ভাড়া হতে আয়
৩. কৃষি হতে আয়
৪. ব্যবসা বা পেশা হতে আয়
৫. মূলধনি আয়
৬. আর্থিক সম্পদ হতে আয়
৭. অন্যান্য উৎস হতে আয়। 

অর্থাৎ একজন চাকরিজীবীর বেতন ছাড়াও বাড়িভাড়া, ব্যাংক সুদ, সঞ্চয়পত্রের মুনাফা, লভ্যাংশ, ব্যবসা বা সম্পদ বিক্রির লাভ থাকলে সেগুলোও প্রযোজ্য নিয়মে রিটার্নে বিবেচনা করতে হবে।

ব্যাংক সুদ ও সঞ্চয়পত্রের মুনাফাও গুরুত্বপূর্ণ

আর্থিক সম্পদ থেকে আয়ের মধ্যে ব্যাংক সুদ, সঞ্চয়পত্রের মুনাফা, লভ্যাংশ ও নির্দিষ্ট সিকিউরিটিজ থেকে আয় অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

নির্দেশিকার উদাহরণে ব্যাংক সুদ ও সঞ্চয়পত্রের মুনাফা আলাদাভাবে দেখিয়ে আর্থিক সম্পদ থেকে মোট আয় নির্ধারণ করা হয়েছে। 

বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলো, উৎসে কর্তিত করের হিসাব রিটার্নে সঠিকভাবে দেখানো। নির্দেশিকার উদাহরণে বেতন, ব্যাংক সুদ, সঞ্চয়পত্র এবং জমি বিক্রয় থেকে উৎসে কর্তিত কর পরবর্তী সময়ে মোট করদায় থেকে সমন্বয়ের পদ্ধতি দেখানো হয়েছে। 

বাড়িভাড়া থেকে আয় নির্ধারণেও রয়েছে আলাদা হিসাব

বাড়ি বা সম্পত্তি ভাড়া দিয়ে আয় করলে পুরো ভাড়া সরাসরি করযোগ্য আয় হিসেবে বিবেচিত হবে না। আইন অনুযায়ী অনুমোদিত নির্দিষ্ট ব্যয় বাদ দিয়ে করযোগ্য ভাড়া আয় নির্ধারণ করতে হবে।

নির্দেশিকার উদাহরণে মেরামত ব্যয়, পৌর কর, ভূমি রাজস্ব এবং গৃহনির্মাণ ঋণের সুদসহ নির্দিষ্ট খরচ বিবেচনা করে ভাড়া থেকে করযোগ্য আয় নির্ধারণ দেখানো হয়েছে। 

ব্যবসার আয় হিসাবেও খরচ বাদ দেওয়ার সুযোগ

ব্যবসা বা পেশার ক্ষেত্রে মোট প্রাপ্তি থেকে আইনানুগ ও অনুমোদিত ব্যয় বাদ দিয়ে করযোগ্য আয় নির্ধারণ করতে হয়।

নির্দেশিকার একটি উদাহরণে ২৪ লাখ টাকা মোট ব্যবসায়িক বিল প্রাপ্তি থেকে ১০ লাখ ৪০ হাজার টাকা পরিচালন ব্যয় বাদ দিয়ে ১৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যবসা থেকে করযোগ্য আয় দেখানো হয়েছে। 

সম্পদ বিক্রি করেও করের হিসাব হতে পারে

জমি, ফ্ল্যাট, স্বর্ণালংকার বা অন্যান্য মূলধনি সম্পদ বিক্রি করে লাভ হলে নির্দিষ্ট নিয়মে সেই লাভ মূলধনি আয় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

নির্দেশিকায় স্বর্ণালংকার বিক্রি এবং ডেভেলপারের কাছ থেকে পাওয়া ফ্ল্যাটের ক্ষেত্রে মূলধনি আয় নির্ধারণের উদাহরণ রয়েছে। একটি উদাহরণে ফ্ল্যাট থেকে ১ কোটি ১০ লাখ টাকা মূলধনি আয় দেখিয়ে তার ওপর নির্ধারিত কর হিসাবের পদ্ধতি ব্যাখ্যা করা হয়েছে। 

বিনিয়োগ করলে কর রেয়াত পাওয়া যায়

করদাতার আইনানুগ অনুমোদিত বিনিয়োগ থাকলে কর রেয়াতের সুযোগ রয়েছে। তবে বিনিয়োগের পরিমাণ যত বেশি হবে, কর রেয়াতও তত বেশি হবে—এমন সরল নিয়ম নয়।

নির্দেশিকার উদাহরণে কর রেয়াত নির্ধারণে তিনটি সীমা বিবেচনা করা হয়েছে—

  • মোট আয়ের ৩%;
  • রেয়াতযোগ্য বিনিয়োগের ১০%;
  • সর্বোচ্চ অনুমোদিত রেয়াতের সীমা ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

এই তিনটির মধ্যে যেটি কম, সেই পরিমাণকে কর রেয়াত হিসেবে গ্রহণের উদাহরণ দেওয়া হয়েছে। 

জীবনবিমার প্রিমিয়াম ও সঞ্চয়পত্রের মতো নির্দিষ্ট বিনিয়োগের উদাহরণও নির্দেশিকায় রয়েছে। 

উৎসে কাটা কর ফেরত বা সমন্বয়ের সুযোগ

বছরের বিভিন্ন সময়ে বেতন, ব্যাংক সুদ, সঞ্চয়পত্র, জমি বিক্রি বা অন্যান্য লেনদেন থেকে যে কর উৎসে কেটে রাখা হয়, তা রিটার্নে যথাযথভাবে দেখালে চূড়ান্ত করের সঙ্গে সমন্বয় করা যায়।

নির্দেশিকার উদাহরণে মোট আয়কর থেকে উৎসে কর্তিত কর ও অগ্রিম কর বাদ দিয়ে অবশিষ্ট প্রদেয় কর নির্ধারণ দেখানো হয়েছে। 

এ কারণে করদাতাদের জন্য ব্যাংক স্টেটমেন্ট, উৎসে কর কর্তনের সনদ, বেতন সনদ, সঞ্চয়পত্রের কাগজপত্র এবং অন্যান্য কর-সংক্রান্ত প্রমাণ সংরক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ।

অগ্রিম করও রিটার্নে সমন্বয়যোগ্য

যাদের অগ্রিম কর দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তাদের নির্দিষ্ট কিস্তিতে কর পরিশোধ করতে হয়। নির্দেশিকার একটি উদাহরণে ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা অগ্রিম করকে চার কিস্তিতে ভাগ করে প্রতিটি কিস্তিতে ৩৮ হাজার ৭৫০ টাকা করে পরিশোধের হিসাব দেখানো হয়েছে। পরবর্তী রিটার্নে এই অগ্রিম কর প্রদেয় করের সঙ্গে সমন্বয় করা যায়। 

সময়মতো রিটার্ন দিলে আর্থিক সুবিধা

নির্দেশিকায় সময়ভেদে রিটার্ন দাখিলের প্রভাবও ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে নির্ধারিত করের ওপর ৫ শতাংশ হারে প্রণোদনার বিধান রয়েছে, তবে সর্বোচ্চ সীমা ২৫ হাজার টাকা।

১ অক্টোবর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত রিটার্ন দিলে ওই প্রণোদনা বা বিলম্বজনিত অতিরিক্ত করের বিধান প্রযোজ্য নয়।

এরপর ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত দাখিল করলে অতিরিক্ত কর এবং ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত দাখিল করলে আরও বেশি অতিরিক্ত কর প্রযোজ্য হতে পারে। 

সম্পদ ও জীবনযাপন ব্যয়ের তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ

বিস্তারিত রিটার্নে শুধু আয়-ব্যয়ের তথ্য নয়, করদাতার সম্পদ ও দায়ের তথ্যও দিতে হয়।

এর মধ্যে থাকতে পারে—

  • ব্যাংক আমানত;
  • নগদ অর্থ;
  • সঞ্চয়পত্র;
  • শেয়ার;
  • জমি;
  • ফ্ল্যাট;
  • গাড়ি;
  • স্বর্ণালংকার;
  • অন্যান্য সম্পদ;
  • ব্যাংক ঋণ ও অন্যান্য দায়।

এ ছাড়া নির্দিষ্ট ফরমে জীবনযাপন ব্যয়ের হিসাবও দেখাতে হয়। 

করদাতার জন্য মূল বার্তা

২০২৬-২৭ করবর্ষের নির্দেশিকাটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আয়কর হিসাব এখন শুধু “বছরে কত বেতন পেয়েছেন”—এই প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নয়। একজন করদাতার বেতন, বাড়িভাড়া, ব্যবসা, ব্যাংক সুদ, সঞ্চয়পত্র, লভ্যাংশ, মূলধনি লাভ এবং অন্যান্য আয় একসঙ্গে বিবেচনায় এনে প্রকৃত করযোগ্য আয় নির্ধারণ করতে হবে।

এরপর প্রযোজ্য করহার অনুযায়ী গ্রস কর হিসাব, বিনিয়োগজনিত রেয়াত, উৎসে কর্তিত কর এবং অগ্রিম কর সমন্বয় করে চূড়ান্ত করদায় নির্ধারণ করতে হবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলোর একটি হলো ডিজিটাল রিটার্ন ব্যবস্থার ওপর জোর। NBR-এর প্রকাশিত নির্দেশিকা ও ই-রিটার্ন সংক্রান্ত উপকরণে অনলাইন রিটার্ন, নিবন্ধন, ব্যবহারবিধি এবং FAQ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। 

এক কথায়

২০২৬-২৭ করবর্ষে করদাতার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি বিষয় হলো—

৪ লাখ টাকা পর্যন্ত সাধারণ করমুক্ত সীমা → ধাপে ধাপে ১০%-৩০% করহার → অনুমোদিত বিনিয়োগে কর রেয়াত → উৎসে কাটা ও অগ্রিম কর সমন্বয় → নির্দিষ্ট ব্যতিক্রম ছাড়া অনলাইনে রিটার্ন।

তবে ব্যক্তির প্রকৃত করদায় নির্ধারণের সময় শুধু করমুক্ত সীমা ও করহার দেখলেই হবে না; আয়ের ধরন, উৎসে কর, বিনিয়োগ, সম্পদ, সারচার্জ, রিটার্ন দাখিলের সময় এবং সংশ্লিষ্ট আইনি শর্ত—সবগুলো একসঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। নির্দেশিকায় দেওয়া উদাহরণগুলোও মূলত এই পূর্ণাঙ্গ হিসাব-পদ্ধতিই দেখিয়েছে।

সোর্স ফাইল ডাউনলোড

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *