আইবাস++ । পে ফিক্সেশন । ই-ফাইলিং

বেতন নির্ধারণ ২০২৬: ১০ম গ্রেডে ২১,৪৭০ টাকা থেকে মূল বেতন হবে ৪০,৯০০ টাকা

জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ বা পে-ফিক্সেশনের একটি নমুনা হিসাব সামনে এসেছে। এতে দেখা যায়, ২০১৫ সালের জাতীয় বেতনস্কেল অনুযায়ী ১০ম গ্রেডে ২১ হাজার ৪৭০ টাকা মূল বেতন পাওয়া একজন কর্মচারীর নতুন বেতনস্কেলে ধাপে ধাপে মূল বেতন বেড়ে ২০২৭ সালের জুলাইয়ে ৪০ হাজার ৯০০ টাকায় দাঁড়াবে। বার্ষিক ইনক্রিমেন্টসহ এই অঙ্ক ৪২ হাজার ৯০০ টাকা হতে পারে।

তবে বেতন বৃদ্ধির মধ্যবর্তী ধাপের একটি অঙ্ক নিয়ে হিসাবের অসামঞ্জস্য রয়েছে। ফলে চূড়ান্ত বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকারি প্রজ্ঞাপন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনাই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।

পুরোনো ও নতুন বেতনস্কেল

২০১৫ সালের জাতীয় বেতনস্কেলে ১০ম গ্রেডের বেতনক্রম ছিল ১৬,০০০ থেকে ৩৮,৬৪০ টাকা। প্রস্তাবিত/প্রকাশিত ২০২৬ সালের নতুন কাঠামোয় এই গ্রেডের বেতনক্রম ৩২,০০০ থেকে ৭৭,৩০০ টাকা ধরা হয়েছে।

অর্থাৎ নতুন কাঠামোয় ১০ম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন আগের ১৬ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৩২ হাজার টাকা হয়েছে।

২১,৪৭০ টাকা থেকে বেতন নির্ধারণের হিসাব

নমুনা হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩০ জুন একজন কর্মচারীর মূল বেতন ছিল ২১,৪৭০ টাকা।

পুরোনো বেতনস্কেলের ১০ম গ্রেডের প্রারম্ভিক বেতন ১৬ হাজার টাকা বাদ দিলে অতিরিক্ত অংশ থাকে—

২১,৪৭০ − ১৬,০০০ = ৫,৪৭০ টাকা।

এরপর নতুন বেতনস্কেলের প্রারম্ভিক বেতন ৩২ হাজার টাকার সঙ্গে এই পার্থক্য যোগ করা হলে পাওয়া যায়—

৩২,০০০ + ৫,৪৭০ = ৩৭,৪৭০ টাকা।

নতুন বেতনস্কেলের নির্ধারিত ধাপ অনুযায়ী এর সমান বা পরবর্তী ধাপ ৩৮,৯০০ টাকা। এরপর সংশ্লিষ্ট ইনক্রিমেন্ট যুক্ত করে ২০২৬ সালের ১ জুলাইয়ের বেতন ৪০,৯০০ টাকা নির্ধারণের হিসাব দেখানো হয়েছে।

এই হিসাবে ২১ হাজার ৪৭০ টাকা থেকে ৪০ হাজার ৯০০ টাকা হলে মোট মূল বেতন বৃদ্ধি দাঁড়ায়—

৪০,৯০০ − ২১,৪৭০ = ১৯,৪৩০ টাকা।

অর্থাৎ মোট বৃদ্ধির পরিমাণ ১৯ হাজার ৪৩০ টাকা।

তিন ধাপে বাস্তবায়নের হিসাব

নমুনা হিসাব অনুযায়ী, পুরো বেতন বৃদ্ধি একসঙ্গে কার্যকর না হয়ে তিন ধাপে কার্যকর হবে।

প্রথম ধাপ: ১ জুলাই ২০২৬

মোট ১৯ হাজার ৪৩০ টাকার বৃদ্ধির ৫০ শতাংশ প্রথম ধাপে কার্যকর করার হিসাব দেখানো হয়েছে।

১৯,৪৩০ টাকার ৫০ শতাংশ = ৯,৭১৫ টাকা।

তাহলে ২১ হাজার ৪৭০ টাকার সঙ্গে প্রথম ধাপের বৃদ্ধি যোগ করলে পাওয়া যায়—

২১,৪৭০ + ৯,৭১৫ = ৩১,১৮৫ টাকা।

ইনক্রিমেন্টসহ এই অঙ্ক আরও বাড়তে পারে।

দ্বিতীয় ধাপ: ১ জানুয়ারি ২০২৭

দ্বিতীয় ধাপে মোট বৃদ্ধির আরও ২৫ শতাংশ কার্যকর হওয়ার কথা বলা হয়েছে।

১৯,৪৩০ টাকার ২৫ শতাংশ = ৪,৮৫৭.৫০ টাকা।

তবে এই ধাপে আগের ধাপের বেতনের সঙ্গে অঙ্কটি কীভাবে যুক্ত হবে এবং ইনক্রিমেন্ট কীভাবে সমন্বয় হবে—তা সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশনার ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করতে হবে।

তৃতীয় ধাপ: ১ জুলাই ২০২৭

শেষ ২৫ শতাংশ বৃদ্ধিও কার্যকর হলে মোট বেতন বৃদ্ধি পূর্ণ হবে। তখন মূল বেতন ৪০,৯০০ টাকা এবং বার্ষিক ইনক্রিমেন্টসহ ৪২,৯০০ টাকা হওয়ার হিসাব দেখানো হয়েছে।

মধ্যবর্তী বেতন নিয়ে কেন সতর্কতা প্রয়োজন

এখানেই বেতন নির্ধারণের নমুনা হিসাবটিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অসামঞ্জস্য দেখা যাচ্ছে।

কিছু প্রকাশিত হিসাবে ১ জানুয়ারি ২০২৭-এর বেতন ৩৬,৫৪২.৫০ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু প্রদর্শিত ধাপের অঙ্ক অনুযায়ী ৩১,১৮৫ টাকার সঙ্গে ৪,৮৫৭.৫০ টাকা যোগ করলে পাওয়া যায়—

৩১,১৮৫ + ৪,৮৫৭.৫০ = ৩৬,০৪২.৫০ টাকা।

আবার, যদি ৩২,১৮৫ টাকার সঙ্গে ৪,৮৫৭.৫০ টাকা যোগ করা হয়, তাহলে পাওয়া যায়—

৩২,১৮৫ + ৪,৮৫৭.৫০ = ৩৭,০৪২.৫০ টাকা।

ফলে মধ্যবর্তী ধাপে কোন অঙ্কটি প্রযোজ্য হবে, তা শুধু নমুনা ছবি বা অনানুষ্ঠানিক হিসাবের ভিত্তিতে নিশ্চিত করা ঠিক হবে না।

বিশেষ করে মূল বেতন, ইনক্রিমেন্ট এবং ধাপে ধাপে বেতন বৃদ্ধির হিসাব একই সূত্রে করা হয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা প্রয়োজন।

শেষ পর্যন্ত বেতন কত হবে?

প্রকাশিত নমুনা হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩০ জুন ২১ হাজার ৪৭০ টাকা মূল বেতন পাওয়া একজন কর্মচারীর ক্ষেত্রে—

  • পুরোনো মূল বেতন: ২১,৪৭০ টাকা
  • নতুন কাঠামোয় নির্ধারিত মূল বেতন: ৪০,৯০০ টাকা
  • মোট মূল বেতন বৃদ্ধি: ১৯,৪৩০ টাকা
  • ইনক্রিমেন্টসহ সম্ভাব্য মূল বেতন: ৪২,৯০০ টাকা

অর্থাৎ পুরো প্রক্রিয়া শেষ হলে ১০ম গ্রেডের ওই কর্মচারীর মূল বেতন ২১ হাজার ৪৭০ টাকা থেকে বেড়ে ৪০ হাজার ৯০০ টাকা হওয়ার হিসাব দেখানো হয়েছে।

তবে পে-ফিক্সেশনের ক্ষেত্রে ব্যক্তির বর্তমান মূল বেতন, প্রাপ্য ইনক্রিমেন্ট, গ্রেড, চাকরির মেয়াদ এবং সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী হিসাব পরিবর্তিত হতে পারে। তাই সবার ক্ষেত্রে একই অঙ্ক প্রযোজ্য হবে—এমনটি ধরে নেওয়া যাবে না।

সরকারি নির্দেশনাই হবে চূড়ান্ত

নতুন বেতনস্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নমুনা হিসাব কর্মীদের ধারণা দিতে সহায়ক হলেও চূড়ান্ত বেতন নির্ধারণ হবে সরকারি প্রজ্ঞাপন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা এবং iBAS++-এ নির্ধারিত পে-ফিক্সেশন পদ্ধতি অনুযায়ী।

তাই ১ জানুয়ারি ২০২৭-এর মধ্যবর্তী বেতন নিয়ে যে অঙ্কের অসামঞ্জস্য দেখা যাচ্ছে, সেটি সরকারি নির্দেশনা প্রকাশের পর সংশোধন বা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বিশেষ করে ৩৬,৫৪২.৫০ টাকা, ৩৬,০৪২.৫০ টাকা ও ৩৭,০৪২.৫০ টাকার মধ্যে কোনটি সঠিক, তা সরকারি সূত্র ছাড়া নিশ্চিতভাবে প্রকাশ না করাই নিরাপদ।

সব ধাপ যথাযথভাবে কার্যকর হলে নমুনা হিসাব অনুযায়ী ১০ম গ্রেডে ২১ হাজার ৪৭০ টাকা মূল বেতন পাওয়া কর্মচারীর নতুন মূল বেতন ৪০ হাজার ৯০০ টাকা এবং ইনক্রিমেন্টসহ ৪২ হাজার ৯০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছানোর হিসাব পাওয়া যাচ্ছে।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *