আইবাস++ । পে ফিক্সেশন । ই-ফাইলিং

৯ম পে স্কেলের বকেয়া টাকা পেতে নতুন প্রস্তুতি, ৮ নভেম্বর থেকে বিল দাখিলের কার্যক্রম শুরু

নতুন জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী বকেয়া বেতন-ভাতা পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। প্রচারিত নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ৮ নভেম্বর ২০২৬ থেকে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসের বকেয়া বিল জমা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হতে পারে। এ ক্ষেত্রে পে-ফিকেশন অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে ম্যানুয়ালি বিল প্রস্তুত করে জমা দিতে হবে বলে জানানো হয়েছে।

নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের পর থেকেই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বকেয়া বেতন পরিশোধ নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন বেতন স্কেল অনুযায়ী প্রাপ্য অর্থের পার্থক্য কীভাবে হিসাব করা হবে এবং কখন সেই অর্থ হাতে পাওয়া যাবে, তা নিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে চলছে প্রস্তুতি।

৮ নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে বকেয়া বিল জমার সম্ভাব্য কার্যক্রম

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, আগামী ৮ নভেম্বর থেকে নতুন পে স্কেল অনুযায়ী জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত তিন মাসের বকেয়া বিল জমা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

এই তিন মাসের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পুরোনো ও নতুন বেতন কাঠামোর পার্থক্য হিসাব করে বকেয়া অর্থ নির্ধারণ করতে হবে। যাদের পে-ফিকেশন সম্পন্ন ও অনুমোদিত হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে অনুমোদিত বেতন নির্ধারণী বিবরণী অনুসারে বিল প্রস্তুত করা সহজ হবে।

তবে শুধু পে-ফিকেশন সম্পন্ন হলেই বকেয়া অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যাংক হিসাবে জমা হবে না। এর জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে বিল প্রস্তুত, যাচাই, দাখিল এবং অনুমোদনের প্রয়োজন হবে।

আইবাস++ নয়, দপ্তরের মাধ্যমে ম্যানুয়ালি জমা হবে বকেয়া বিল

বকেয়া বিল জমাদানের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রচারিত তথ্য অনুযায়ী আইবাস++ সফটওয়্যারে এ বিল জমা দেওয়ার জন্য আলাদা কোনো অপশন থাকছে না। বরং নিজ নিজ দপ্তরের মাধ্যমে ম্যানুয়ালি বিল প্রস্তুত করে জমা দিতে হবে।

অর্থাৎ, আইবাস++-এ নতুন বেতন নির্ধারণ বা পে-ফিকেশন সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া এবং বকেয়া বিল দাখিলের প্রক্রিয়া আলাদা হতে পারে।

এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হিসাব শাখা, প্রশাসনিক শাখা এবং ডিডিওর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

একই দপ্তরের সবার বিল একসঙ্গে জমা দেওয়ার প্রস্তুতি

প্রচারিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, একটি দপ্তরের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর বকেয়া বিল একসঙ্গে জমা দিতে হবে।

এর ফলে দপ্তরভিত্তিক সমন্বয়ের মাধ্যমে বকেয়া বিল প্রস্তুত ও দাখিলের কার্যক্রম পরিচালিত হতে পারে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পে-ফিকেশন, বেতন গ্রেড, মূল বেতন এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য যাচাই করে বিল প্রস্তুত করবেন।

এতে একই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কর্মচারীর বিলের মধ্যে হিসাবগত অসংগতি কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে কোনো দপ্তরের বিশেষ পরিস্থিতিতে আলাদা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার ওপর নির্ভর করবে।

বকেয়া হিসাব করতে গিয়ে যেসব ভুল করা যাবে না

বকেয়া বিল প্রস্তুতের সময় কয়েকটি বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। প্রচারিত তথ্য অনুযায়ী, বিশেষ প্রণোদনা, জুলাই মাসের ইনক্রিমেন্ট এবং বর্ধিত বাড়িভাড়ার অর্থ বাদ দিয়ে বকেয়া হিসাব প্রস্তুত করার কথা বলা হয়েছে।

এর অর্থ হলো, আগে পরিশোধিত বা আলাদাভাবে সমন্বয়যোগ্য কোনো অর্থ যেন পুনরায় বকেয়া হিসেবে অন্তর্ভুক্ত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

বিশেষ করে নিচের বিষয়গুলো যাচাই করা প্রয়োজন:

১. বিশেষ প্রণোদনা: আগে পাওয়া বিশেষ প্রণোদনার অর্থ নতুন করে বকেয়া হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না, যদি তা সংশ্লিষ্ট হিসাব নির্দেশনায় বাদ দেওয়ার কথা থাকে।

২. জুলাই মাসের ইনক্রিমেন্ট: নিয়মিত বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট এবং নতুন পে স্কেলের বেতন পার্থক্য আলাদাভাবে হিসাব করতে হবে। একই অর্থ যেন দুইবার গণনা না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

৩. বর্ধিত বাড়িভাড়া: বাড়িভাড়া বাবদ প্রাপ্য অর্থের হিসাব নতুন ও পুরোনো কাঠামো অনুযায়ী যাচাই করতে হবে। বর্ধিত বাড়িভাড়া কীভাবে সমন্বয় হবে, তা প্রযোজ্য সরকারি আদেশ অনুযায়ী নির্ধারণ করতে হবে।

৪. মূল বেতন: অনুমোদিত পে-ফিকেশন অনুযায়ী নির্ধারিত নতুন মূল বেতন ব্যবহার করে বকেয়া হিসাব করতে হবে।

৫. ব্যক্তিগত তথ্য: কর্মকর্তা-কর্মচারীর নাম, পদবি, গ্রেড, কর্মস্থল ও বেতনসংক্রান্ত তথ্য সঠিকভাবে উল্লেখ করতে হবে।

বিল জমা দেওয়ার পর নিজের কাছে কপি রাখার পরামর্শ

বকেয়া বিল জমা দেওয়ার পর প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিজের বিলের একটি কপি সংরক্ষণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কারণ ভবিষ্যতে বকেয়া অর্থের পরিমাণ নিয়ে কোনো প্রশ্ন উঠলে কিংবা বিলের তথ্য সংশোধনের প্রয়োজন হলে সংরক্ষিত কপি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজে আসতে পারে।

বিশেষ করে বিলের মোট পরিমাণ, কোন কোন মাসের বকেয়া অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং কী কী খাত সমন্বয় করা হয়েছে, তা নিজের কাছে লিখিতভাবে সংরক্ষণ করা ভালো।

দ্রুত বিল জমা দিলে বকেয়া পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে?

প্রচারিত তথ্যে বলা হয়েছে, যত দ্রুত বিল জমা দেওয়া হবে, তত দ্রুত বকেয়া অর্থ পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

বিষয়টি বাস্তবিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিল প্রস্তুত ও দাখিলে দেরি হলে পরবর্তী যাচাই এবং অনুমোদনের কার্যক্রমও পিছিয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে, নির্ভুল হিসাব ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সময়মতো বিল জমা দেওয়া হলে নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া সহজ হতে পারে।

তবে দ্রুত বিল জমা দিলেই দ্রুত অর্থ পাওয়া নিশ্চিত নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই, বিল অনুমোদন, অর্থ ছাড় এবং ব্যাংক হিসাবে অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বকেয়া অর্থ পাবেন।

পে-ফিকেশন সম্পন্ন না হলে কী করবেন?

যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারীর পে-ফিকেশন এখনো সম্পন্ন হয়নি অথবা পে-ফিকেশনে কোনো ধরনের ভুল দেখাচ্ছে, তাদের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে সমাধান করা প্রয়োজন।

এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ডিডিও, দপ্তরের হিসাব শাখা এবং প্রয়োজনে হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।

পে-ফিকেশনে পদবি, গ্রেড, কর্মস্থল, মূল বেতন কিংবা চাকরিসংক্রান্ত তথ্য ভুল থাকলে তা সংশোধন না করে বকেয়া বিল জমা দেওয়া উচিত নয়। কারণ ভুল তথ্যের ভিত্তিতে বিল প্রস্তুত করলে পরবর্তী সময়ে বিল ফেরত আসা বা অর্থ ছাড়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য করণীয়

বকেয়া বিল জমাদানের সম্ভাব্য সময় সামনে রেখে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কয়েকটি প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।

  • অনুমোদিত পে-ফিকেশন বিবরণী সংগ্রহ করুন।
  • জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের বকেয়া হিসাব যাচাই করুন।
  • আগে পাওয়া বিশেষ সুবিধা ও অন্যান্য অর্থের সমন্বয় নিশ্চিত করুন।
  • সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হিসাব শাখার সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন।
  • বিল জমার আগে সব তথ্য পুনরায় যাচাই করুন।
  • বিল জমা দেওয়ার পর একটি কপি নিজের কাছে সংরক্ষণ করুন।

কবে ব্যাংক হিসাবে জমা হবে তিন মাসের বকেয়া?

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, ৮ নভেম্বর থেকে বিল জমা দেওয়া শুরু হলে বকেয়া টাকা কবে পাওয়া যাবে?

এ বিষয়ে প্রচারিত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো অর্থ পরিশোধের তারিখ উল্লেখ করা হয়নি। ৮ নভেম্বরকে বিল জমাদানের সম্ভাব্য শুরুর তারিখ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিল দাখিলের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই ও অনুমোদন শেষে অর্থ ছাড়ের কার্যক্রম সম্পন্ন হতে হবে।

তাই বিল জমা দেওয়ার তারিখ এবং ব্যাংক হিসাবে বকেয়া অর্থ জমা হওয়ার তারিখ এক বিষয় নয়। অর্থাৎ, ৮ নভেম্বর থেকে বিল জমা শুরু হলেও সেদিনই সবার ব্যাংক হিসাবে টাকা জমা হবে—এমনটি ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।

শেষ কথা

৯ম জাতীয় পে স্কেল অনুযায়ী জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত তিন মাসের বকেয়া বেতন-ভাতা পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। প্রচারিত তথ্য অনুযায়ী, ৮ নভেম্বর থেকে বকেয়া বিল জমাদানের কার্যক্রম শুরু হলে এটি নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হবে।

এখন সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর দায়িত্ব হচ্ছে পে-ফিকেশন যাচাই, সঠিক বকেয়া হিসাব প্রস্তুত এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ বিল দাখিলের ব্যবস্থা করা। অন্যদিকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও ব্যক্তিগত বেতনসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করে ভুলমুক্ত বিল জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *