বিদেশে অবস্থানকালে মাতৃত্বকালীন ছুটি নেওয়া যাবে কি? অর্জিত ছুটির হিসাব ও সরকারি ছুটির দিন সমন্বয় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা
বাংলাদেশ সরকারি চাকরিতে ছুটি ভোগ, বহিঃবাংলাদেশ ছুটি এবং মাতৃত্বকালীন ছুটি নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বেশ কিছু প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘ সরকারি ছুটির সঙ্গে অর্জিত ছুটি যুক্ত করে বিদেশ ভ্রমণে গেলে মাঝখানের সরকারি ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটিগুলো অর্জিত ছুটির হিসাব থেকে বাদ যাবে, নাকি মোট ছুটির মেয়াদের সঙ্গে যুক্ত হবে—তা নিয়ে অনেকের মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা যায়।
অন্যদিকে, কোনো নারী সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী চিকিৎসা, পারিবারিক প্রয়োজন কিংবা অন্য কোনো কারণে বিদেশে অবস্থান করার সময় গর্ভবতী হলে তিনি সেখান থেকেই মাতৃত্বকালীন ছুটির আবেদন করতে পারবেন কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
সম্প্রতি এ বিষয়ে উঠে আসা কয়েকটি প্রশ্ন ও মতামতের ভিত্তিতে ছুটির হিসাব, অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং বিদেশে অবস্থানরত অবস্থায় মাতৃত্বকালীন ছুটির আবেদনসংক্রান্ত বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করা হলো।
১. দীর্ঘ সরকারি ছুটির সঙ্গে অর্জিত ছুটি যুক্ত করলে কত দিন কর্তন হবে?
এটি সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কারণ অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী ঈদ, পূজা কিংবা অন্যান্য দীর্ঘ সরকারি ছুটির সঙ্গে কয়েক দিনের অর্জিত ছুটি যুক্ত করে বিদেশে ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন।
এক্ষেত্রে প্রথমেই বুঝতে হবে, সরকারি ছুটির দিন এবং সাপ্তাহিক ছুটি ছুটির মাঝখানে পড়লে সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে অর্জিত ছুটির হিসাব থেকে বাদ যায় না।
সাধারণ ছুটি গণনার বিধান অনুযায়ী, অনুমোদিত ছুটির মেয়াদের মধ্যে পড়া সরকারি ছুটির দিনগুলোও ছুটির সময়ের অংশ হিসেবে গণ্য হতে পারে। বাংলাদেশ সার্ভিস রুলসের সাধারণ ছুটি-সংক্রান্ত বিধান এবং বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত সার্ভিস রুলসেও এ ধরনের বিধান রয়েছে।
উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি বোঝা যাক
ধরা যাক, অক্টোবর মাসের ২০ তারিখ থেকে দুর্গাপূজা উপলক্ষে টানা ৩ দিন সরকারি ছুটি এবং এর সঙ্গে ২ দিন সাপ্তাহিক ছুটি রয়েছে।
এখন কোনো সরকারি কর্মকর্তা ২০ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত বিদেশে অবস্থানের জন্য ছুটি নিলেন।
এক্ষেত্রে হিসাবের বিষয়টি হবে নিম্নরূপ:
| বিবরণ | দিন |
|---|---|
| মোট অনুমোদিত অনুপস্থিতির সময় | ১৫ দিন (প্রশ্নে উল্লেখিত হিসাবে) |
| পূজার সরকারি ছুটি | ৩ দিন |
| সাপ্তাহিক ছুটি | ২ দিন |
| ছুটির মধ্যবর্তী মোট সরকারি ও সাপ্তাহিক ছুটি | ৫ দিন |
| সম্ভাব্য অর্জিত ছুটি কর্তন | ১৫ দিন |
অর্থাৎ, ৫ দিন সরকারি ও সাপ্তাহিক ছুটি থাকলেও সেগুলো যদি অনুমোদিত ছুটির মেয়াদের মধ্যবর্তী দিন হয়, তাহলে শুধু ওই দিনগুলোর কারণে অর্জিত ছুটি থেকে বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই।
তাই প্রশ্নে উল্লিখিত পরিস্থিতিতে ১০ দিনের পরিবর্তে ১৫ দিনের অর্জিত ছুটি কর্তনের বিষয়টিই সাধারণ নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। ছুটির আগে বা পরে সরকারি ছুটি সংযুক্ত (Prefix/Suffix) করা এবং ছুটির মাঝখানে সরকারি ছুটি পড়া এক বিষয় নয়। ছুটির আগে বা পরে সংযুক্ত ছুটির ক্ষেত্রে বিধি অনুযায়ী ছুটি কার্যকর হওয়ার তারিখ নির্ধারিত হতে পারে।
২. বিদেশে অবস্থানের জন্য কি শুধু অর্জিত ছুটিই নেওয়া যায়?
বাংলাদেশের সরকারি চাকরিজীবীদের বিদেশ ভ্রমণ ও বহিঃবাংলাদেশ ছুটির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বিধিবিধান রয়েছে।
১৯৮৭ সালের ৮ সেপ্টেম্বর সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের জারি করা একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারীকে বিদেশে অর্জিত ছুটি ভোগ করতে হলে বিদেশে যাওয়ার আগেই যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ছুটি মঞ্জুর করিয়ে নিতে হবে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে—
ছুটি মঞ্জুর না করে বিদেশে গিয়ে পরবর্তীতে ছুটির আবেদন করা বিধিসম্মত নয়।
বিদেশে অবস্থানের সময়কাল আগেই নির্দিষ্ট করতে হবে।
অফিসে পুনরায় যোগদানের তারিখ উল্লেখ করতে হবে।
বিদেশে অবস্থানের জন্য নৈমিত্তিক ছুটি প্রদান করা যায় না।
অনুমোদিত ছুটির অতিরিক্ত সময় বিদেশে অবস্থান করলে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হতে পারে।
বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস+1
তবে এর অর্থ এই নয় যে, বিদেশে যাওয়ার জন্য সব পরিস্থিতিতে শুধু অর্জিত ছুটিই একমাত্র বিকল্প। প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী অন্যান্য ছুটিও উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে বিবেচিত হতে পারে। কোন ধরনের ছুটি দেওয়া যাবে, তা নির্ভর করবে ছুটির প্রকৃতি, সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর প্রাপ্যতা এবং প্রযোজ্য বিধির ওপর।
৩. বিদেশে অবস্থানকালে মাতৃত্বকালীন ছুটি নেওয়া যাবে কি?
এটি আলোচনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে যেসব নারী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী চিকিৎসা, সন্তান ধারণের চিকিৎসা কিংবা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে বিদেশে অবস্থান করছেন, তাঁদের জন্য বিষয়টি জানা জরুরি।
বাংলাদেশের সরকারি চাকরিতে মাতৃত্বকালীন ছুটি একটি স্বতন্ত্র ছুটির ব্যবস্থা। নির্ধারিত ছুটি বিধিমালা, ১৯৫৯-এর ৯ নম্বর বিধিতে মাতৃত্বজনিত ছুটিসহ বিশেষ কয়েক ধরনের ছুটির ক্ষেত্রে প্রচলিত বিধান বহাল রাখার কথা বলা হয়েছে।
এখানে কয়েকটি বিষয় আলাদা করে বুঝতে হবে।
প্রথমত: মাতৃত্বকালীন ছুটি অর্জিত ছুটি থেকে কর্তন করা হয় না। এটি অর্জিত ছুটির মতো একই ধরনের ছুটি নয়।
দ্বিতীয়ত: কোনো নারী সরকারি কর্মচারী আগে থেকেই বৈধভাবে বহিঃবাংলাদেশ ছুটিতে থাকলে এবং বিদেশে অবস্থানরত অবস্থায় মাতৃত্বকালীন ছুটির প্রয়োজন দেখা দিলে তিনি এ বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে পারেন।
তৃতীয়ত: বিদেশে অবস্থান করছেন বলে মাতৃত্বকালীন ছুটির আবেদন করার অধিকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়—এমন কোনো সাধারণ নিষেধাজ্ঞা উল্লিখিত বিধির ৯ নম্বর ধারায় পাওয়া যায় না। তবে বিদেশে অবস্থানরত অবস্থায় ছুটি মঞ্জুরের পদ্ধতি এবং পূর্বের ছুটির সঙ্গে নতুন ছুটি সমন্বয়ের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।
অর্থাৎ, বিদেশে অবস্থানকালে মাতৃত্বকালীন ছুটির আবেদন করা এবং সেই ছুটি অনুমোদিত হওয়া দুটি আলাদা বিষয়। আবেদন গ্রহণ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সনদ যাচাই এবং ছুটি মঞ্জুরের বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষের এখতিয়ারভুক্ত।
৪. ভারতে অবস্থানরত অবস্থায় মাতৃত্বকালীন ছুটির আবেদন করবেন কীভাবে?
কোনো নারী সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী যদি বর্তমানে ভারতে অবস্থান করেন এবং সেখানে চিকিৎসাধীন থাকেন, তাহলে তাঁর জন্য একটি বাস্তবসম্মত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা যেতে পারে।
এক্ষেত্রে বাংলাদেশ হাইকমিশন বা সংশ্লিষ্ট কনস্যুলার মিশনের সহায়তায় নিজ মন্ত্রণালয় বা বিভাগে আবেদন পাঠানোর বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।
প্রস্তাবিত আবেদন প্রক্রিয়া:
ধাপ ১: চিকিৎসকের সনদ সংগ্রহ
ভারতে যে হাসপাতাল বা চিকিৎসকের অধীনে চিকিৎসা চলছে, সেখান থেকে প্রয়োজনীয় মেডিকেল সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে হবে।
সনদে উল্লেখ থাকা প্রয়োজন—
গর্ভাবস্থার বিষয়টি।
গর্ভকাল কত সপ্তাহ চলছে।
সম্ভাব্য প্রসবের তারিখ।
চিকিৎসকের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ।
প্রয়োজন হলে গর্ভাবস্থার ঝুঁকি ও চিকিৎসার বিবরণ।
ধাপ ২: মাতৃত্বকালীন ছুটির আবেদন তৈরি
নিজের নাম, পদবি, কর্মস্থল, কর্মচারী আইডি, বর্তমান বিদেশে অবস্থানের ঠিকানা এবং মাতৃত্বকালীন ছুটির সম্ভাব্য শুরুর তারিখ উল্লেখ করে আবেদন প্রস্তুত করতে হবে।
ধাপ ৩: বাংলাদেশ হাইকমিশনের মাধ্যমে আবেদন প্রেরণ
ভারতে অবস্থানরত সরকারি কর্মচারী সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ মিশনের সহায়তায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিজ মন্ত্রণালয় বা বিভাগে পাঠানোর বিষয়ে যোগাযোগ করতে পারেন।
এটি একটি প্রস্তাবিত যোগাযোগের পথ; হাইকমিশন সব ক্ষেত্রে ছুটি মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ নয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত দাপ্তরিক পদ্ধতিই অনুসরণ করতে হবে।
ধাপ ৪: নিজ দপ্তরের মাধ্যমে প্রশাসনিক ব্যবস্থা
আবেদনটি সংশ্লিষ্ট দপ্তর, অধিদপ্তর বা মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন শাখায় উপস্থাপন করতে হবে। প্রয়োজনে ছুটি প্রাপ্যতার তথ্য, আগের মাতৃত্বকালীন ছুটির তথ্য এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে।
ধাপ ৫: অনুমোদন আদেশ সংগ্রহ
মাতৃত্বকালীন ছুটি অনুমোদিত হলে লিখিত সরকারি আদেশ বা অফিস আদেশ সংগ্রহ করতে হবে। আগের বহিঃবাংলাদেশ ছুটির মেয়াদ এবং নতুন মাতৃত্বকালীন ছুটির শুরুর তারিখ কীভাবে সমন্বয় হবে, তা আদেশে স্পষ্ট থাকা জরুরি।
৫. মাতৃত্বকালীন ছুটির আবেদনে যেসব কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে
| ক্রম | প্রয়োজনীয় কাগজপত্র |
|---|---|
| ১ | মাতৃত্বকালীন ছুটির আবেদনপত্র |
| ২ | বিদেশি হাসপাতাল বা চিকিৎসকের মেডিকেল সার্টিফিকেট |
| ৩ | গর্ভাবস্থার চিকিৎসাসংক্রান্ত রিপোর্ট |
| ৪ | সম্ভাব্য প্রসবের তারিখের প্রত্যয়ন |
| ৫ | পাসপোর্ট ও বিদেশে অবস্থানের প্রাসঙ্গিক তথ্য |
| ৬ | পূর্ববর্তী বহিঃবাংলাদেশ ছুটির অনুমোদনপত্র |
| ৭ | ছুটি প্রাপ্যতার সনদ, যদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চায় |
| ৮ | পূর্বে মাতৃত্বকালীন ছুটি ভোগের তথ্য, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে |
সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাগরিক সনদেও মাতৃত্বকালীন ছুটির আবেদনের সঙ্গে চিকিৎসকের সনদ এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী মাতৃত্বকালীন ছুটির তথ্য দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।
৬. হাই-রিস্ক প্রেগন্যান্সি ও আইভিএফ চিকিৎসার ক্ষেত্রে বিশেষ বিবেচনা
আইভিএফ (IVF) চিকিৎসার মাধ্যমে গর্ভধারণ এবং চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে থাকা গর্ভাবস্থার ক্ষেত্রে চিকিৎসাসংক্রান্ত নথিপত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কোনো নারী সরকারি কর্মচারী বিদেশে অবস্থানকালে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে তাঁর উচিত—
1. চিকিৎসকের কাছ থেকে বিস্তারিত মেডিকেল সার্টিফিকেট সংগ্রহ করা।
2. চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা ও গর্ভাবস্থার ঝুঁকির বিষয়টি সনদে উল্লেখ করানো।
3. সম্ভাব্য প্রসবের তারিখ উল্লেখ করে মাতৃত্বকালীন ছুটির আবেদন প্রস্তুত করা।
4. সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রশাসন শাখার সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করা।
5. প্রয়োজনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের মাধ্যমে আবেদন ও চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র পাঠানোর ব্যবস্থা করা।
এখানে একটি বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন, চিকিৎসাজনিত জরুরি অবস্থায় নিজের নিরাপত্তা ও চিকিৎসাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। একই সঙ্গে বিদেশে অবস্থানের অনুমোদন এবং ছুটির বৈধতা বজায় রাখার জন্য প্রশাসনিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখা জরুরি।
৭. সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
বহিঃবাংলাদেশ ছুটি এবং মাতৃত্বকালীন ছুটি নিয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নিলে পরবর্তীতে চাকরির রেকর্ড, বেতন-ভাতা, যোগদান এবং ছুটি হিসাব নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
তাই কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখা প্রয়োজন:
বিদেশে যাওয়ার আগে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হবে।
অনুমোদিত ছুটির মেয়াদ ও দেশে ফেরার তারিখ স্পষ্ট রাখতে হবে।
ছুটির মধ্যবর্তী সরকারি ও সাপ্তাহিক ছুটিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাদ দেওয়া যাবে না।
বিদেশে অবস্থানকালে নতুন ধরনের ছুটির প্রয়োজন হলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হবে।
মাতৃত্বকালীন ছুটি এবং অর্জিত ছুটির হিসাব আলাদাভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।
বিদেশে অবস্থানকালে ছুটি বাড়ানোর প্রয়োজন হলে অনুমোদন ছাড়া অতিরিক্ত সময় অবস্থান করা উচিত নয়।
সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ১৬ ধারায় সরকারি কর্মচারীর ছুটি প্রযোজ্য বিধি ও সরকারি আদেশ অনুযায়ী ভোগ করার কথা বলা হয়েছে।
৮. সংশ্লিষ্ট সরকারি বিধি ও নির্দেশনা
বিষয়টি আরও ভালোভাবে বুঝতে নিচের সরকারি ও বিধিবিষয়ক সূত্রগুলো দেখা যেতে পারে।
1. সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ – ছুটি সংক্রান্ত ১৬ ধারা।
2. নির্ধারিত ছুটি বিধিমালা, ১৯৫৯।
3. বাংলাদেশের বাইরে অর্জিত ছুটি কাটানো সংক্রান্ত ৮ সেপ্টেম্বর ১৯৮৭-এর নির্দেশনা।
4. বিদেশ ভ্রমণের প্রস্তাব প্রেরণে অনুসরণীয় নির্দেশনা – আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।
5. বহিঃবাংলাদেশ অর্জিত ছুটির আবেদন ফরম।
শেষ কথা
সরকারি চাকরিজীবীদের ছুটি ব্যবস্থাপনায় দুটি বিষয় আলাদাভাবে বিবেচনা করা জরুরি। প্রথমত, দীর্ঘ সরকারি ছুটির সঙ্গে অর্জিত ছুটি যুক্ত করে বিদেশে গেলে ছুটির মধ্যবর্তী সরকারি ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলো সাধারণ নিয়মে ছুটির মেয়াদের অন্তর্ভুক্ত হবে। দ্বিতীয়ত, বিদেশে অবস্থানকালে মাতৃত্বকালীন ছুটির প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের কাছে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সনদসহ আবেদন করা যেতে পারে।
তবে হাইকমিশনের মাধ্যমে আবেদন পাঠানোর পদ্ধতি এবং বিদেশে অবস্থানরত অবস্থায় মাতৃত্বকালীন ছুটি অনুমোদনের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, মাতৃত্বকালীন ছুটি কোনো অর্জিত ছুটি নয়। তাই বিদেশে অবস্থানকালে এ ধরনের ছুটির প্রয়োজন দেখা দিলে সেটিকে সাধারণ অর্জিত ছুটির সঙ্গে এক করে দেখার সুযোগ নেই।


