বহি: বাংলাদেশ । শ্রান্তি বিনোদন ছুটি

শ্রান্তি বিনোদন ছুটি বিদেশ ভ্রমণে ব্যবহার করতে চাইলে কী করবেন? জেনে নিন পুরো প্রক্রিয়া

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অনেকেই শ্রান্তি ও বিনোদন ছুটির সময় বিদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন। তবে শুধু শ্রান্তি বিনোদন ছুটি মঞ্জুর হলেই বিদেশ সফরে যাওয়া যায় না। এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় ছুটিকে বহিঃবাংলাদেশ (Ex-Bangladesh) ছুটি হিসেবে অনুমোদন নিতে হয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সরকারি আদেশ (জিও) সংগ্রহ করা বাধ্যতামূলক।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, কোনো সরকারি কর্মচারী যদি শ্রান্তি বিনোদন ছুটির সময় বিদেশ ভ্রমণ করতে চান, তাহলে প্রথমে স্বাভাবিক নিয়মে শ্রান্তি ও বিনোদন ছুটি মঞ্জুর করিয়ে নিতে হবে। এরপর সেই ছুটির আদেশের কপি সংযুক্ত করে বহিঃবাংলাদেশ ছুটির জন্য পৃথক আবেদন করতে হবে। আবেদনপত্রের বিষয় (Subject)-এ উল্লেখ করা যেতে পারে— “শ্রান্তি ও বিনোদন ছুটি বহিঃবাংলাদেশ ছুটি হিসেবে ভোগ করার আবেদন”

পর্যাপ্ত সময় হাতে রাখা জরুরি

প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, বিভিন্ন দপ্তরের অনুমোদন এবং জিও জারির বিষয়টি বিবেচনায় রেখে পর্যাপ্ত সময় হাতে রেখে আবেদন করার পরামর্শ দিয়েছেন প্রশাসন সংশ্লিষ্টরা। কারণ বিদেশ ভ্রমণের অনুমোদন প্রক্রিয়ায় একাধিক স্তরের যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হতে হয়।

জিও ছাড়া বিদেশ ভ্রমণ নয়

অনেকের মধ্যে ধারণা রয়েছে যে ছুটি অনুমোদন পেলেই বিদেশে যাওয়া সম্ভব। তবে বাস্তবে সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। ব্যক্তিগত খরচে বিদেশ ভ্রমণ হলেও বহিঃবাংলাদেশ ছুটির অনুমোদন এবং সরকারি আদেশ (Government Order বা GO) প্রয়োজন হয়। সংশ্লিষ্ট বিধি ও প্রশাসনিক নির্দেশনায় বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।

প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “বিদেশ ভ্রমণ মানেই জিও”—এ নীতিই বর্তমানে কার্যকর। শুধুমাত্র পাসপোর্টের জন্য প্রাপ্ত অনাপত্তিপত্র (NOC) বিদেশ সফরের অনুমতি হিসেবে গণ্য হয় না। বিদেশ ভ্রমণের আগে বহিঃবাংলাদেশ ছুটির আদেশ বা জিও জারি হওয়া আবশ্যক। অন্যথায় তা সরকারি বিধি লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে।

কীভাবে আবেদন করবেন?

সাধারণভাবে প্রক্রিয়াটি হলো—

১. প্রথমে শ্রান্তি ও বিনোদন ছুটির আবেদন ও অনুমোদন গ্রহণ।
২. অনুমোদিত ছুটির আদেশ সংযুক্ত করে বহিঃবাংলাদেশ ছুটির আবেদন।
৩. ভ্রমণের দেশ, সময়কাল, উদ্দেশ্য ও ব্যয়ের উৎস উল্লেখ করা।
৪. প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদন সম্পন্ন করা।
৫. জিও (GO) জারি হওয়ার পর বিদেশ ভ্রমণ করা।

সরকারি কর্মচারীদের জন্য সতর্কবার্তা

প্রশাসনিক বিধি অনুযায়ী বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ না করলে জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে আগে থেকেই ছুটি, বহিঃবাংলাদেশ অনুমোদন এবং জিও সংক্রান্ত বিষয়গুলো সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, যারা আসন্ন সময়ে শ্রান্তি ও বিনোদন ছুটি বিদেশ ভ্রমণে ব্যবহার করতে চান, তাদের এখনই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করা উচিত, যাতে নির্ধারিত সময়ে জিও হাতে পাওয়া যায় এবং ভ্রমণে কোনো প্রশাসনিক জটিলতা না হয়।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *