ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৩ ধারা না মেনে তল্লাশি ও জব্দ বেআইনি: আইনি বাধ্যবাধকতা মানার ওপর জোর
ফৌজদারি কার্যবিধির (Criminal Procedure Code) ১০৩ ধারার বিধান অনুসরণ না করে পরিচালিত তল্লাশি ও জব্দ কার্যক্রম আইনসম্মত নয় এবং তা ফৌজদারি বিচারে গ্রহণযোগ্যতা হারাতে পারে বলে আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত একটি আইনি তথ্যচিত্রে এ বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৩ ধারার বাধ্যতামূলক বিধান যথাযথভাবে অনুসরণের গুরুত্ব উল্লেখ করা হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, তল্লাশি ও জব্দ সংক্রান্ত ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৩ ধারার (১) ও (২) উপধারায় নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করা আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক। এসব বিধান অমান্য করে কোনো তল্লাশি বা জব্দ পরিচালিত হলে তা আইনবহির্ভূত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এবং আদালতে এর গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার সুযোগ থাকে।
আইন বিশ্লেষকদের মতে, তল্লাশি পরিচালনার সময় নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা, প্রয়োজনীয় সাক্ষীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং আইন অনুযায়ী জব্দ তালিকা প্রস্তুত করা নাগরিকের অধিকার সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব প্রক্রিয়া অনুসরণ না করলে তদন্তের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
প্রচারিত তথ্যচিত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, “হাবিবুর রহমান বনাম রাষ্ট্র” মামলার রায়ে (১৫ বিএলডি (১৯৯৫) ১২৯; ৩ বিএলডি (১৯৯৫) ৬) ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৩ ধারার বিধান অনুসরণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। ওই রায়ের আলোকে আইনসম্মত তল্লাশি ও জব্দ নিশ্চিত করতে তদন্তকারী সংস্থাগুলোর প্রতি বিধানগুলো কঠোরভাবে মেনে চলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
আইনজীবীদের ভাষ্য, ফৌজদারি বিচারব্যবস্থায় তল্লাশি ও জব্দ একটি গুরুত্বপূর্ণ তদন্ত প্রক্রিয়া হলেও তা অবশ্যই আইনের নির্ধারিত সীমা ও পদ্ধতির মধ্যে সম্পন্ন হতে হবে। অন্যথায় অভিযুক্তের ন্যায়বিচারের অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি মামলার প্রমাণের গ্রহণযোগ্যতাও আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, কোনো নির্দিষ্ট মামলায় তল্লাশি বা জব্দ বৈধ কি না, তা শেষ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ঘটনার বাস্তবতা, উপস্থাপিত প্রমাণ এবং আদালতের বিচারিক মূল্যায়নের ওপর নির্ভর করে। তাই ১০৩ ধারার বিধান নিয়ে কোনো বিরোধ দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট মামলার নথি ও প্রযোজ্য আইন পর্যালোচনা করে আদালতই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রদান করেন।


