৯ম পে স্কেল নিউজ ২০২৬

Pay Scale Gazette 2026 । নতুন জাতীয় বেতন কাঠামোতে কি কি অসঙ্গতি রয়েছে?

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো—‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’—১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হয়েছে। অর্থ বিভাগের জারি করা এই আদেশে ২০টি গ্রেড বহাল রেখে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ নির্ধারিত মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হলেও এর পূর্ণ বাস্তবায়ন একসঙ্গে হচ্ছে না।

নতুন কাঠামোতে মূল বেতন, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত, টিফিন, শিক্ষাসহায়ক, উৎসবসহ বিভিন্ন ভাতা এবং পেনশন সুবিধায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। তবে গেজেট প্রকাশের পর এর কয়েকটি বিধান নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বাড়িভাড়া ভাতার গ্রেডভিত্তিক হার, ধাপে ধাপে বেতন বাস্তবায়ন, ভাতা কার্যকরের সময়, উচ্চতর গ্রেড এবং পুরোনো কর্মচারীদের পে-ফিক্সেশন—এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে অসঙ্গতি ও বাস্তবায়ন-জটিলতার আলোচনা সামনে এসেছে।

১. গ্রেড ১৬ ও গ্রেড ১৫-এর বাড়িভাড়ায় উল্টো চিত্র

নতুন বেতন আদেশে বাড়িভাড়া ভাতা এলাকা ও গ্রেডভেদে নির্ধারণ করা হয়েছে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৬তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য মূল বেতনের ৬০ শতাংশ, ১০ম থেকে ১৫তম গ্রেডে ৫০ শতাংশ, ৫ম থেকে ৯ম গ্রেডে ৪৫ শতাংশ এবং ১ম থেকে ৪র্থ ও তদূর্ধ্ব গ্রেডে ৪০ শতাংশ বাড়িভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে।

এখানেই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

গ্রেড ১৬-এর কর্মচারী যেখানে মূল বেতনের ৬০ শতাংশ বাড়িভাড়া পাবেন, সেখানে তার পরবর্তী উচ্চতর গ্রেড ১৫-এর কর্মচারী পাবেন ৫০ শতাংশ।

অর্থাৎ গ্রেড ১৬ থেকে গ্রেড ১৫-তে উন্নীত হলে মূল বেতন বাড়লেও বাড়িভাড়ার শতাংশ কমে যাচ্ছে। ফলে নির্দিষ্ট বেতনস্তরে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে যেখানে উচ্চতর গ্রেডের কর্মচারীর বাড়িভাড়া তুলনামূলকভাবে কম হয়।

এটি সরাসরি ভুল নাকি নীতিনির্ধারণের উদ্দেশ্যপ্রসূত কাঠামো—তা প্রশাসনিক ব্যাখ্যার বিষয়। তবে গ্রেড যত বাড়বে, বাড়িভাড়ার শতাংশও ক্রমান্বয়ে বাড়বে—এমন সাধারণ প্রত্যাশার সঙ্গে এই হার সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

২. ১ জুলাই থেকে কার্যকর, কিন্তু পূর্ণ বেতন তখনই নয়

নতুন জাতীয় বেতন কাঠামোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো—গেজেটে এটি ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর বলা হলেও নতুন বেতনের শতভাগ সুবিধা ১ জুলাই থেকেই পাওয়া যাচ্ছে না।

২০২৬ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত—

  • ৯ম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডে বর্ধিত মূল বেতনের ৪০ শতাংশ;
  • ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডে বর্ধিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ

কার্যকর হওয়ার কথা।

এরপর ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত যথাক্রমে ৭০ শতাংশ ও ৭৫ শতাংশ কার্যকর হবে। অবশেষে ১ জুলাই ২০২৭ থেকে নতুন মূল বেতন বৃদ্ধির ১০০ শতাংশ কার্যকর হবে।

ফলে এখানে ‘কার্যকর’ এবং ‘পূর্ণ বাস্তবায়ন’—দুটি আলাদা বিষয়।

আইনি অর্থে আদেশটি ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হলেও একজন কর্মচারী ওই দিন থেকেই নতুন স্কেলের পূর্ণ মূল বেতন পাচ্ছেন না। এই ব্যবধান থেকেই অনেকের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

৩. নতুন ভাতা কার্যকর হবে আরও পরে

মূল বেতনের ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পাশাপাশি নতুন ভাতার ক্ষেত্রেও সময়ের ব্যবধান রাখা হয়েছে।

গেজেটভিত্তিক প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নতুন বাড়িভাড়া ও অধিকাংশ নতুন ভাতা ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে কার্যকর হবে। তার আগে প্রচলিত নিয়মে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য সুবিধা চলবে।

অর্থাৎ একজন সরকারি কর্মচারী ২০২৭ সালের জুলাই থেকে নতুন কাঠামোর পূর্ণ মূল বেতন পেলেও নতুন ভাতার পূর্ণ সুবিধার জন্য তাকে আরও কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হবে।

এ কারণে নতুন বেতন কাঠামোকে বাস্তবে এক ধাপে নয়, দীর্ঘ সময় ধরে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

৪. নতুন স্কেল ঘোষণার পরও পুরোনো কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণ সহজ নয়

নতুন বেতন কাঠামোর আরেকটি বড় বাস্তবায়ন-চ্যালেঞ্জ হচ্ছে পে-ফিক্সেশন।

নতুন চাকরিতে যোগ দেওয়া ব্যক্তির ক্ষেত্রে নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক বেতন নির্ধারণ তুলনামূলকভাবে সহজ। কিন্তু দীর্ঘদিন চাকরিতে থাকা কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বিষয়টি জটিল। কারণ তাদের বর্তমান মূল বেতন, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেড এবং পূর্ববর্তী বেতন নির্ধারণের ইতিহাস বিবেচনায় নিতে হবে।

নতুন কাঠামোয় অনলাইনে আইবাস++-এর মাধ্যমে বেতন নির্ধারণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র, চাকরির তথ্য এবং আইবাস++-এ নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য লাগবে।

ফলে গেজেট প্রকাশিত হলেও প্রত্যেক কর্মচারীর নতুন বেতন কত হবে—তা শুধু গ্রেডের প্রারম্ভিক বেতন দেখে নির্ধারণ করা যাবে না।

৫. আট বছর পর উচ্চতর গ্রেড—সুবিধা থাকলেও প্রশ্নও আছে

নতুন কাঠামোয় একই পদে আট বছর চাকরি পূর্ণ হলে এবং চাকরির রেকর্ড সন্তোষজনক হলে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেডে বেতন পাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। পদোন্নতি না হলেও নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে এ সুবিধা পাওয়ার বিধান রয়েছে।

এটি দীর্ঘদিন একই পদে থাকা কর্মচারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।

তবে বাস্তবে এর প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠতে পারে—কার চাকরির মেয়াদ কীভাবে গণনা হবে, আগের উচ্চতর গ্রেডের সুবিধা কীভাবে সমন্বয় হবে এবং ১ জুলাই ২০২৬-এর আগে অর্জিত চাকরিকাল কীভাবে বিবেচিত হবে।

এসব ক্ষেত্রে আলাদা ব্যাখ্যা বা বাস্তবায়ন নির্দেশনা প্রয়োজন হতে পারে।

৬. নতুন বেতন বৃদ্ধির হারও গ্রেডভেদে অসম

নতুন কাঠামোয় সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ নির্ধারিত মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। বিভিন্ন গ্রেডে বৃদ্ধির হারও এক নয়। প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী ১ম–১০ম গ্রেডে সর্বোচ্চ প্রায় ১০০ শতাংশ এবং ১১তম–২০তম গ্রেডে সর্বোচ্চ প্রায় ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির চিত্র পাওয়া যায়।

তবে এই শতাংশ দিয়ে সরাসরি কোন গ্রেডের কর্মচারী কতটা লাভবান হয়েছেন—তা নির্ধারণ করা ঠিক হবে না। কারণ প্রত্যেক গ্রেডে পুরোনো ও নতুন মূল বেতন, ইনক্রিমেন্টের ধাপ এবং ভাতার কাঠামো আলাদা।

অর্থাৎ শতাংশের বৃদ্ধি এবং হাতে পাওয়া প্রকৃত সুবিধা—দুটি এক বিষয় নয়।

৭. বাড়িভাড়ার হার বাড়লেও তাৎক্ষণিকভাবে নতুন হার পাওয়া যাবে না

নতুন আদেশে বাড়িভাড়ার একটি নতুন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু সেই হার ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা বলা হয়েছে।

এর ফলে গেজেট প্রকাশের পর অনেক কর্মচারীর স্বাভাবিক প্রশ্ন হতে পারে—নতুন স্কেল কার্যকর হলে নতুন বাড়িভাড়াও কি সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হবে?

উত্তর হলো, না। প্রকাশিত বিধান অনুযায়ী নতুন বাড়িভাড়ার হার পরে কার্যকর হবে।

এই বিষয়টি বেতন কাঠামোর ‘কার্যকর তারিখ’ নিয়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তির অন্যতম কারণ।

৮. পেনশনেও পরিবর্তন, কিন্তু সেখানেও স্তরভিত্তিক সীমা

নতুন কাঠামোয় পেনশনভোগীদের সুবিধাও পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য বৃদ্ধির হার বেশি রাখা হয়েছে।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী—

  • ৯ হাজার টাকা বা তার কম নিট পেনশনে বৃদ্ধি ১০০%;
  • ৯,০০১–২০,০০০ টাকায় ৭৫%;
  • ২০,০০১–৩০,০০০ টাকায় ৬৫%;
  • ৩০,০০১–৪০,০০০ টাকায় ৬০%;
  • ৪০,০০১ টাকা বা তার বেশি নিট পেনশনে ৫৫%।

তবে সর্বোচ্চ পেনশন ৭০ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

এখানেও শতাংশ বৃদ্ধির সঙ্গে প্রকৃত টাকার সুবিধা এক নয়। একই কারণে পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে ‘বৃদ্ধির হার’ এবং ‘চূড়ান্ত পেনশন’ আলাদাভাবে দেখতে হবে।

৯. নতুন কাঠামো বাস্তবায়নে অর্থের জোগান বড় প্রশ্ন

বেতন ও ভাতা বৃদ্ধির ফলে সরকারের রাজস্ব ব্যয়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হবে। নতুন কাঠামো বাস্তবায়নে চলতি অর্থবছরে বর্ধিত মূল বেতন পরিশোধের জন্য বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দের কথা প্রকাশিত হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন নতুন কাঠামো বাস্তবায়নের অর্থায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বাড়তি রাজস্ব না এলে সরকারকে ঘাটতি অর্থায়নের পথ বিবেচনা করতে হতে পারে এবং এর অর্থনৈতিক প্রভাবও দেখতে হবে।

এটি অবশ্য গেজেটের কোনো ‘অসঙ্গতি’ নয়; বরং নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে অর্থনৈতিক প্রশ্ন।

১০. সবচেয়ে বড় বিষয়—গেজেট, বেতন নির্ধারণ ও বাস্তব পরিশোধের মধ্যে সমন্বয়

নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া।

গেজেটে কাঠামো নির্ধারিত হয়েছে। এরপর আইবাস++-এ পে-ফিক্সেশন করতে হবে। কর্মচারীর ব্যক্তিগত চাকরির তথ্য যাচাই করতে হবে। এরপর হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।

ফলে কাগজে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হওয়ার পরও প্রত্যেক কর্মচারীর ক্ষেত্রে একই সময়ে নতুন বেতন নির্ধারণ ও পরিশোধ নাও হতে পারে।

বিশেষ করে পুরোনো কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ইনক্রিমেন্ট, পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেড, পূর্ববর্তী বেতন নির্ধারণ ও চাকরির তথ্যের সঠিকতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

তাহলে নতুন পে স্কেলের প্রধান অসঙ্গতিগুলো কী?

সব তথ্য একসঙ্গে বিশ্লেষণ করলে মূলত সাতটি বিষয় সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে—

প্রথমত, গ্রেড ১৬ থেকে ২০-এর বাড়িভাড়া ৬০ শতাংশ হলেও গ্রেড ১৫ থেকে ১০-এ তা ৫০ শতাংশ—অর্থাৎ গ্রেড পরিবর্তনের সঙ্গে বাড়িভাড়ার শতাংশে উল্টো ধাপ তৈরি হয়েছে।

দ্বিতীয়ত, বেতন কাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হলেও পূর্ণ বেতন বৃদ্ধি ১ জুলাই ২০২৭ থেকে।

তৃতীয়ত, অধিকাংশ নতুন ভাতা ও নতুন বাড়িভাড়া ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে কার্যকর হওয়ার কারণে মূল বেতন ও ভাতা একই সময়ে পূর্ণ সুবিধায় যাচ্ছে না।

চতুর্থত, দীর্ঘদিন চাকরিতে থাকা কর্মচারীদের পে-ফিক্সেশন ব্যক্তিভেদে আলাদা হওয়ায় বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া তুলনামূলক জটিল।

পঞ্চমত, আট বছর পর উচ্চতর গ্রেডের বিধান থাকলেও এর বাস্তব প্রয়োগে চাকরিকাল গণনা ও পূর্ববর্তী সুবিধা সমন্বয়ের প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ।

ষষ্ঠত, বিভিন্ন গ্রেডে বেতন বৃদ্ধির শতাংশে বড় পার্থক্য থাকায় শুধু শতাংশ দিয়ে প্রকৃত সুবিধার তুলনা করা যায় না।

সপ্তমত, নতুন কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য সরকারের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সক্ষমতা নিশ্চিত করাও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

শেষ কথা

‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ নিঃসন্দেহে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ও অবসর সুবিধার ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন এনেছে। সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ নির্ধারিত মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা হওয়া এর অন্যতম বড় পরিবর্তন। একই সঙ্গে উচ্চতর গ্রেড, পেনশন, চিকিৎসা, শিক্ষাসহায়ক ও অন্যান্য ভাতার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন এসেছে।

তবে নতুন কাঠামোর বাস্তব চিত্র বুঝতে শুধু নতুন বেতন টেবিল দেখলেই হবে না। মূল বেতন কত বাড়ল, কোন তারিখে কত শতাংশ কার্যকর হলো, বাড়িভাড়া কখন পরিবর্তন হবে, উচ্চতর গ্রেড কীভাবে মিলবে এবং ব্যক্তিগত চাকরির ইতিহাস অনুযায়ী পে-ফিক্সেশনে চূড়ান্ত বেতন কত দাঁড়াবে—সবগুলো বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

বিশেষ করে গ্রেড ১৬ ও গ্রেড ১৫-এর বাড়িভাড়া কাঠামো এবং ২০২৬ সালে বেতন কার্যকর হলেও ২০২৭ ও ২০২৮ সালে বিভিন্ন সুবিধা পর্যায়ক্রমে কার্যকর হওয়ার বিষয়টি নতুন পে স্কেলের বাস্তবায়ন কাঠামো নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনার জায়গা তৈরি করেছে।

সরকারি গেজেটে প্রকাশিত মূল আদেশ অনুযায়ীই চূড়ান্ত বেতন ও ভাতার হিসাব করতে হবে; সংবাদ প্রতিবেদন বা অনলাইন ক্যালকুলেটরের হিসাবকে ব্যক্তিগত পে-ফিক্সেশনের বিকল্প হিসেবে ধরা যাবে না।

সরকারি চাকুরি (বেতন ও ভাতিদি) আদেশ, ২০২৬

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *