দুর্গাপূজায় টানা ৫ দিনের ছুটি, ২২ অক্টোবরও ছুটি ঘোষণা
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০২৬ সালে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ছুটির পরিসর বাড়ছে। পূর্বঘোষিত ২০ ও ২১ অক্টোবরের ছুটির সঙ্গে ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবারও ছুটি যুক্ত হলে শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা ৫ দিনের অবকাশ তৈরি হবে—২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে: ২০২৬ সালের মূল সরকারি ছুটির তালিকায় দুর্গাপূজার জন্য ২০ অক্টোবর মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমী—এই দুই দিন নির্ধারিত ছিল। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ছুটির তালিকাতেও এ দুই দিনই সরকারি ছুটি হিসেবে রয়েছে।
২২ অক্টোবর ছুটি হলে কীভাবে ৫ দিন
ছুটির হিসাবটি হবে এভাবে—
| তারিখ | বার | ছুটির অবস্থা |
|---|---|---|
| ২০ অক্টোবর | মঙ্গলবার | মহানবমী—সরকারি ছুটি |
| ২১ অক্টোবর | বুধবার | বিজয়া দশমী—সরকারি ছুটি |
| ২২ অক্টোবর | বৃহস্পতিবার | অতিরিক্ত ছুটি |
| ২৩ অক্টোবর | শুক্রবার | সাপ্তাহিক ছুটি |
| ২৪ অক্টোবর | শনিবার | সাপ্তাহিক ছুটি |
অর্থাৎ ২০ অক্টোবর থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন অফিস বন্ধ থাকলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পূজার ছুটিতে দীর্ঘ অবকাশ পাবেন।
এর আগে প্রকাশিত সরকারি ছুটির তথ্য অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর মহানবমীর ছুটি নির্বাহী আদেশে এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর ছুটি সাধারণ ছুটি হিসেবে নির্ধারিত ছিল।
কেন ২২ অক্টোবর গুরুত্বপূর্ণ
মূল ছুটির তালিকায় ২০ ও ২১ অক্টোবরের পর ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ছিল কর্মদিবস। ফলে ২২ অক্টোবর ছুটি না থাকলে পূজার সরকারি ছুটি শেষ হওয়ার পর একদিন অফিস করতে হতো এবং এরপর ২৩ ও ২৪ অক্টোবর সাপ্তাহিক ছুটি পাওয়া যেত।
এই মাঝের কর্মদিবসটিতে ছুটি যুক্ত হওয়ায় পুরো সময়টি একটি দীর্ঘ ছুটিতে পরিণত হবে। এ কারণেই ২২ অক্টোবরের ছুটি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
এর আগে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ২২ অক্টোবর ছুটি দেওয়ার পরিকল্পনা বা সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছিল।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি আলাদা
সরকারি অফিসের ছুটির সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটির হিসাব এক নয়। ২০২৬ সালের শিক্ষা ক্যালেন্ডারে দুর্গাপূজা উপলক্ষে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১৮ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত পাঁচ দিনের ছুটি নির্ধারিত রয়েছে। এরপর ২৩ ও ২৪ অক্টোবর শুক্র ও শনিবার হওয়ায় শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে টানা সাত দিনের অবকাশ তৈরি হতে পারে।
অতএব, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ২০–২৪ অক্টোবরের পাঁচ দিনের ছুটির হিসাব এবং স্কুল-কলেজের ১৮–২৪ অক্টোবরের ছুটির হিসাব আলাদা করে দেখতে হবে।
ঐচ্ছিক ছুটির বিষয়ও রয়েছে
সরকারি ছুটির মূল তালিকার বাইরে ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে নির্ধারিত ঐচ্ছিক ছুটির ব্যবস্থাও রয়েছে। সরকারি ছুটির প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, নির্দিষ্ট নিয়ম ও অনুমোদন সাপেক্ষে কর্মচারীরা নিজ ধর্ম অনুযায়ী ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারেন।
ফলে সনাতন ধর্মাবলম্বী সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে পূজার নির্ধারিত ছুটি এবং অনুমোদিত ঐচ্ছিক ছুটি মিলিয়ে আরও দীর্ঘ অবকাশের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
জরুরি সেবায় ভিন্ন ব্যবস্থা হতে পারে
সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হলেও হাসপাতাল, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি সরবরাহসহ জরুরি সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে জনস্বার্থে নিজস্ব ব্যবস্থা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে হতে পারে। একইভাবে কিছু স্বায়ত্তশাসিত বা বিশেষ আইনে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের ছুটির সময়সূচিও পৃথক হতে পারে। সরকারি ছুটির প্রজ্ঞাপনেও নিজস্ব আইন বা অত্যাবশ্যকীয় সেবার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জনস্বার্থ বিবেচনায় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
৫ দিনের ছুটির সারসংক্ষেপ
সব মিলিয়ে, ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবারের ছুটি কার্যকরভাবে সরকারি ছুটির তালিকায় যুক্ত হলে দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে ২০, ২১, ২২ অক্টোবরের ছুটির সঙ্গে ২৩ ও ২৪ অক্টোবরের সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য টানা পাঁচ দিনের ছুটি হবে।
তবে ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সরকারি ছুটির অনলাইন তালিকায় ২২ অক্টোবরকে নতুন সরকারি ছুটি হিসেবে আলাদা প্রজ্ঞাপন প্রকাশিত অবস্থায় দেখা যাচ্ছে না; সেখানে ২০২৬ সালের মূল ছুটির তালিকায় পূজার সরকারি ছুটি ২০ ও ২১ অক্টোবর হিসেবে রয়েছে।
তাই ২২ অক্টোবরের ছুটি নিয়ে চূড়ান্ত খবর হিসেবে প্রকাশের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি আদেশ/প্রজ্ঞাপন প্রকাশের বিষয়টি যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।


