১১ বছরের অপেক্ষা: ‘সবকিছুর সীমা আছে, শুধু পে-স্কেলের অপেক্ষার শেষ নেই কেন?’—সরকারি কর্মচারীদের ক্ষোভ তীব্র
“সবকিছুর একটা লিমিট আছে, সব কিছুর একটা সীমাও আছে। শুধু পে-স্কেলের লিমিট, সময় নেই কেন? কর্মচারীদের ওপর এত জুলুম কেন? ১১ বছর ধরে চলছে সেই জুলুম। আমরা এর শেষ দেখতে চাই।” — সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠনের আলোচনায় এমন ক্ষোভ এখন ক্রমেই জোরালো হয়ে উঠছে।
দীর্ঘ ১১ বছর পর নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রত্যাশা তৈরি হলেও প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় বাস্তবায়ন নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা ও বিলম্বের অভিযোগ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে।
১১ বছরের অপেক্ষা
সর্বশেষ অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর হয় ২০১৫ সালে। এরপর প্রায় এক যুগ ধরে নতুন পে-স্কেলের দাবি জানিয়ে আসছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। এ সময়ের মধ্যে মূল্যস্ফীতি, নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি, বাসাভাড়া, শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে বর্তমান বেতন কাঠামো বাস্তব জীবনের ব্যয় নির্বাহে পর্যাপ্ত নয় বলে দাবি করছেন কর্মচারীরা।
বাস্তবায়নে কেন বিলম্ব?
সরকার ইতোমধ্যে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের নীতিগত ঘোষণা দিয়েছে এবং এটি ধাপে ধাপে কার্যকর করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। তবে মন্ত্রিসভার অনুমোদন, গেজেট প্রকাশ, সফটওয়্যার হালনাগাদ এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বর্ধিত বেতন হাতে পেতে কিছুটা সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সরকারি ব্যয়ের চাপ বিবেচনায় পে-স্কেল বাস্তবায়ন পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে—এমন খবরও প্রকাশিত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
কর্মচারীদের দাবি
বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠন বলছে, দীর্ঘদিন ধরে নতুন পে-স্কেল না হওয়ায় সরকারি কর্মচারীরা প্রকৃত অর্থে আয়ক্ষমতা হারাচ্ছেন। তাদের দাবি—
- দ্রুত নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ করতে হবে।
- বাস্তবসম্মত বেতন কাঠামো নিশ্চিত করতে হবে।
- মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা পুনর্নির্ধারণ করতে হবে।
- বাস্তবায়নে অযৌক্তিক বিলম্ব বন্ধ করতে হবে।
সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক সরকারি কর্মচারী লিখছেন, দেশের বিভিন্ন খাতে সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়িত হলেও পে-স্কেলের ক্ষেত্রে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তাদের ভাষায়, “সবকিছুরই সময়সীমা থাকে, কিন্তু পে-স্কেলের অপেক্ষার যেন কোনো শেষ নেই।”
তবে এই ধরনের মন্তব্য সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের ব্যক্তিগত বা সংগঠনের মতামত; এগুলো সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান নয়।
এখন সবার নজর সরকারের সিদ্ধান্তে
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে। সংশ্লিষ্ট কমিটির সুপারিশ মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের পর গেজেট প্রকাশ এবং পরবর্তী কারিগরি কার্যক্রম সম্পন্ন হলে কর্মচারীরা নতুন বেতন কাঠামোর সুবিধা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
দীর্ঘ ১১ বছরের প্রতীক্ষার পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটাই প্রত্যাশা—অপেক্ষার অবসান হোক, এবং ঘোষিত নতুন পে-স্কেল দ্রুত কার্যকর করে তাদের আর্থিক অনিশ্চয়তার অবসান ঘটানো হোক।


