আয়কর । ভ্যাট । আবগারি শুল্ক

eVAT পোর্টালে অনলাইনে ভ্যাট দাখিল বাধ্যতামূলক: ১১ খাতের ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন নির্দেশনা

মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট ব্যবস্থাকে আরও বেশি ডিজিটাল ও তথ্যনির্ভর করার উদ্যোগ হিসেবে সিগারেট, ওষুধ, মোবাইল ফোন, সিমেন্ট, টাইলস, ব্যাংকিং, বীমা ও মোবাইল ব্যাংকিংসহ ১১টি গুরুত্বপূর্ণ পণ্য ও সেবা খাতে eVAT পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে দাখিলপত্র পেশ বাধ্যতামূলক করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নতুন এই ব্যবস্থা সংশ্লিষ্ট উৎপাদনকারী ও সেবা প্রদানকারীদের ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের প্রচলিত ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে।

এনবিআরের ভ্যাট অনুবিভাগ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ জারি করা আদেশে বলা হয়েছে, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর ধারা ৬৪(৫) এবং মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক বিধিমালা, ২০১৬-এর বিধি ১১৮(ক)-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে নির্ধারিত পণ্য ও সেবা খাতের জন্য eVAT পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে দাখিলপত্র পেশ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আইনটির সংশ্লিষ্ট ধারাতেও বোর্ডকে আদেশের মাধ্যমে কোনো নিবন্ধিত বা তালিকাভুক্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে ইলেকট্রনিক মাধ্যমে দাখিলপত্র পেশ বাধ্যতামূলক করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

কোন কোন খাতে অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন বাধ্যতামূলক

এনবিআরের আদেশ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাধ্যতামূলক অনলাইন দাখিলের আওতায় মোট ১১টি খাত রয়েছে। এর মধ্যে ৮টি পণ্য উৎপাদন খাত এবং ৩টি সেবা খাত।

পণ্য পর্যায়ের ৮ খাত

১. সিগারেট
২. মোবাইল ফোন
৩. এমএস পণ্য
৪. ওষুধ
৫. পানীয়
৬. সিমেন্ট
৭. টাইলস
৮. রং ও বার্নিশ

অর্থাৎ এসব পণ্য উৎপাদনকারী সংশ্লিষ্ট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানকে এখন থেকে এনবিআরের eVAT পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে ভ্যাট দাখিলপত্র পেশ করতে হবে।

সেবা পর্যায়ের ৩ খাত

সেবা খাতে অনলাইন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে—

  • বীমা সেবা
  • ব্যাংকিং ও নন-ব্যাংকিং সেবা
  • মোবাইল ব্যাংকিং সেবা

ফলে এসব সেবা প্রদানকারী সংশ্লিষ্ট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানকেও eVAT ব্যবস্থার মাধ্যমে অনলাইনে দাখিলপত্র জমা দিতে হবে।

শুধু ওই পণ্য বা সেবার ব্যবসা করলেই নয়

নতুন আদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, কোনো নিবন্ধিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত পণ্য বা সেবা সরবরাহের পাশাপাশি অন্য কোনো পণ্য বা সেবা সরবরাহ কার্যক্রমের সঙ্গেও যুক্ত থাকলে তার ক্ষেত্রেও আদেশটি প্রযোজ্য হবে।

অর্থাৎ কোনো প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুধু তালিকাভুক্ত একটি পণ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকলেও, প্রতিষ্ঠানটি যদি আদেশের আওতাভুক্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে, তাহলে অনলাইনে দাখিলপত্র পেশের বাধ্যবাধকতা থেকে বাইরে থাকার সুযোগ থাকবে না।

এটি ব্যবসায়ীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কোনো প্রতিষ্ঠান একই সঙ্গে একাধিক পণ্য বা সেবা নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করলে তাদের ভ্যাট কমপ্লায়েন্স বা পরিপালন ব্যবস্থা eVAT-কেন্দ্রিক করতে হবে।

কেন eVAT ব্যবস্থায় নেওয়া হচ্ছে

অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন বাধ্যতামূলক করার পেছনে মূল উদ্দেশ্য হলো ভ্যাট প্রশাসনকে আরও ডিজিটাল, স্বচ্ছ, দ্রুত এবং তথ্যনির্ভর করা।

কাগজভিত্তিক বা বিচ্ছিন্ন প্রক্রিয়ার পরিবর্তে অনলাইনে দাখিলপত্র জমা হলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ভ্যাট-সংক্রান্ত তথ্য একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ব্যবস্থায় পাওয়া সম্ভব হবে। এতে এনবিআরের পক্ষে ব্যবসার লেনদেন, দাখিলকৃত ভ্যাট এবং অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ ও যাচাই করা তুলনামূলকভাবে সহজ হবে।

বিশেষ করে বড় অঙ্কের রাজস্ব আসে—এমন উৎপাদন ও সেবা খাতগুলোকে প্রথমে শক্তিশালী ডিজিটাল ভ্যাট ব্যবস্থার আওতায় আনার মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি শনাক্তকরণ ও কমপ্লায়েন্স বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

ভ্যাট রিটার্নে এখন আরও বেশি ডিজিটাল নজরদারি

নতুন ব্যবস্থার ফলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য শুধু ভ্যাট পরিশোধ করাই যথেষ্ট হবে না; সঠিক তথ্য দিয়ে সময়মতো অনলাইন দাখিলপত্র পেশ করাও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হয়ে উঠবে।

একটি প্রতিষ্ঠানের বিক্রয়, ক্রয়, ভ্যাটযোগ্য লেনদেন, প্রদেয় ভ্যাট এবং অন্যান্য হিসাবের সঙ্গে অনলাইনে জমা দেওয়া তথ্যের সামঞ্জস্য থাকা প্রয়োজন। তথ্যের মধ্যে বড় ধরনের অসঙ্গতি থাকলে পরবর্তী সময়ে তা এনবিআরের যাচাই-বাছাইয়ের আওতায় আসতে পারে।

এ কারণে নতুন ব্যবস্থায় হিসাবরক্ষণ বিভাগ, ভ্যাট কর্মকর্তা এবং প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনার মধ্যে সমন্বয় আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়সীমায়ও পরিবর্তন

২০২৬-২৭ অর্থবছরে ভ্যাট রিটার্ন ব্যবস্থায় পরিবর্তনের কারণে জুলাই ও আগস্ট ২০২৬ কর মেয়াদের রিটার্ন নিয়ে কিছু প্রতিষ্ঠানের মধ্যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। এ পরিস্থিতিতে এনবিআর জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর ২০২৬ কর মেয়াদের রিটার্ন eVAT ব্যবস্থায় জমা দেওয়ার সময় ১৫ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বাড়িয়েছে।

এনবিআরের ১ অক্টোবরের আদেশ অনুযায়ী, বর্ধিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট রিটার্ন জমা দিলে এ ক্ষেত্রে জরিমানা আরোপ করা হবে না।

অর্থাৎ বর্তমানে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ১৫ অক্টোবর ২০২৬ একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা। বিশেষ করে যারা জুলাই ও আগস্টের রিটার্ন এখনো দাখিল করেনি, তাদের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।

আইন কী বলছে

মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর সংশোধিত ধারা ৬৪(৫)-এ বলা হয়েছে, বোর্ড আদেশের মাধ্যমে কোনো নিবন্ধিত বা তালিকাভুক্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে ইলেকট্রনিক মাধ্যমে দাখিলপত্র পেশ বাধ্যতামূলক করতে পারবে। ফলে এনবিআরের ২০ সেপ্টেম্বরের আদেশটি আইনগত ক্ষমতার ভিত্তিতেই জারি করা হয়েছে।

এ কারণে নির্ধারিত খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য eVAT-এর মাধ্যমে দাখিলপত্র জমা দেওয়া কেবল একটি প্রশাসনিক সুবিধা নয়; এটি আইন ও এনবিআরের আদেশের ভিত্তিতে আরোপিত বাধ্যবাধকতা।

আগের নির্দেশনার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন

এনবিআরের নতুন আদেশে বলা হয়েছে, অনলাইনে দাখিলপত্র পেশ বাধ্যতামূলক করার বিষয়ে এর আগে এনবিআর কোনো আদেশ জারি করে থাকলে, নতুন আদেশ জারির পর সেসব আগের আদেশ বাতিল বলে গণ্য হবে।

এর ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের জন্য ভ্যাট সংক্রান্ত পুরোনো নির্দেশনা অনুসরণ করার পরিবর্তে সর্বশেষ কার্যকর আদেশ ও নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি।

ভবিষ্যতে আরও খাত যুক্ত হতে পারে

নতুন আদেশে এনবিআর শুধু বর্তমান ১১টি খাত নির্ধারণ করেই থেমে থাকেনি। প্রয়োজন অনুযায়ী এই তালিকায় নতুন পণ্য বা সেবা যুক্ত কিংবা বিদ্যমান কোনো খাত বাদ দেওয়ার ক্ষমতা সংরক্ষণ করেছে।

অর্থাৎ বর্তমানে ১১টি খাত দিয়ে শুরু হলেও ভবিষ্যতে অনলাইন ভ্যাট রিটার্নের বাধ্যতামূলক পরিধি আরও বাড়তে পারে।

এটি ভ্যাট ব্যবস্থার ডিজিটাল রূপান্তরের ধারাবাহিক অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের এখন কী করতে হবে

নতুন নির্দেশনার পর সংশ্লিষ্ট ব্যবসা ও সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর কয়েকটি বিষয় নিশ্চিত করা জরুরি।

প্রথমত, প্রতিষ্ঠানটি ১১টি নির্ধারিত খাতের মধ্যে পড়ে কি না তা যাচাই করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, প্রতিষ্ঠানের BIN, ভ্যাট নিবন্ধন ও ব্যবসায়িক তথ্য সঠিক আছে কি না নিশ্চিত করতে হবে।

তৃতীয়ত, eVAT পোর্টালে অনলাইন দাখিলের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে।

চতুর্থত, বিক্রয় ও ক্রয়ের হিসাব, ভ্যাটযোগ্য লেনদেন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় হিসাব-নিকাশ সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।

পঞ্চমত, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করতে হবে।

ষষ্ঠত, জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর ২০২৬ কর মেয়াদের যেসব রিটার্ন এখনো জমা হয়নি, সেগুলো ১৫ অক্টোবরের মধ্যে দাখিলের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব দিতে হবে।

সরকারের রাজস্ব ব্যবস্থায় এর প্রভাব

বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের বিশ্লেষণের দৃষ্টিতে, eVAT ব্যবস্থার বিস্তৃতি রাজস্ব প্রশাসনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে।

প্রথমত, ভ্যাট রিটার্নের তথ্য দ্রুত ডিজিটাল ডাটাবেসে যুক্ত হবে। দ্বিতীয়ত, একই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সময়ের রিটার্ন তুলনা করে অসঙ্গতি শনাক্ত করা সহজ হবে। তৃতীয়ত, ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠান বা খাত চিহ্নিত করে এনবিআরের নজরদারি আরও লক্ষ্যভিত্তিক করা সম্ভব হতে পারে।

এতে ভ্যাট ফাঁকি কমানো এবং প্রকৃত ব্যবসায়িক লেনদেনের সঙ্গে দাখিল করা ভ্যাটের হিসাব মিলিয়ে দেখার সক্ষমতা বাড়তে পারে।

তবে ব্যবসায়ীদের প্রস্তুতিও গুরুত্বপূর্ণ

অনলাইন ব্যবস্থা চালুর ফলে একদিকে যেমন প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বাড়বে, অন্যদিকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ওপর ডিজিটাল কমপ্লায়েন্সের দায়িত্বও বাড়বে।

বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠানের হিসাব এখনো পুরোপুরি ডিজিটাল নয়, তাদের হিসাব ব্যবস্থাপনা আধুনিক করা প্রয়োজন হবে। ভুল তথ্য, অসম্পূর্ণ হিসাব কিংবা সময়মতো রিটার্ন দাখিল না করার কারণে ভবিষ্যতে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

তাই নতুন ব্যবস্থাকে শুধু ‘অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার পদ্ধতি’ হিসেবে না দেখে ভ্যাট ব্যবস্থাপনার পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল রূপান্তর হিসেবে দেখা প্রয়োজন।

সার্বিকভাবে যা দাঁড়াল

সব মিলিয়ে এনবিআরের নতুন আদেশে সিগারেট, মোবাইল ফোন, এমএস পণ্য, ওষুধ, পানীয়, সিমেন্ট, টাইলস, রং ও বার্নিশ—এই ৮টি পণ্য খাত এবং বীমা, ব্যাংকিং ও নন-ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং—এই ৩টি সেবা খাতসহ মোট ১১টি খাতে eVAT পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে ভ্যাট দাখিলপত্র পেশ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তালিকাভুক্ত পণ্য বা সেবার পাশাপাশি অন্য কার্যক্রম পরিচালনা করলেও সংশ্লিষ্ট নিবন্ধিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে আদেশটি প্রযোজ্য হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী তালিকায় নতুন খাত যুক্ত বা বাদ দেওয়ার ক্ষমতা এনবিআর সংরক্ষণ করেছে।

অন্যদিকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ভ্যাট রিটার্ন ব্যবস্থার পরিবর্তনের কারণে যেসব প্রতিষ্ঠানের জুলাই ও আগস্টের রিটার্ন দাখিল বাকি রয়েছে, তাদের জন্য ১৫ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বর্ধিত সময় দেওয়া হয়েছে। ফলে এখন সংশ্লিষ্ট ব্যবসা ও সেবা প্রতিষ্ঠানের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—eVAT পোর্টালে সঠিক তথ্য সংরক্ষণ, সময়মতো অনলাইন রিটার্ন দাখিল এবং এনবিআরের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করা।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *