প্রস্তুত নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট, চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় সরকারি চাকরিজীবীদের প্রত্যাশা
দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রত্যাশিত নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো সংক্রান্ত নথিপত্রের প্রস্তুতি প্রায় শেষ হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন সম্পন্ন হলেই প্রজ্ঞাপন আকারে গেজেট প্রকাশ করা হতে পারে।
নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলে দেশের প্রায় ১৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং লাখ লাখ অবসরপ্রাপ্ত পেনশনভোগী সরাসরি উপকৃত হবেন বলে সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা। দীর্ঘ এক দশক ধরে নতুন পে-স্কেলের দাবি জানিয়ে আসছিলেন সরকারি চাকরিজীবীরা।
এক দশক পর আসছে নতুন বেতন কাঠামো
বাংলাদেশে সর্বশেষ অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর হয় ২০১৫ সালে। এরপর গত দশ বছরে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, মূল্যস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেলেও সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন কোনো পূর্ণাঙ্গ বেতন কাঠামো কার্যকর হয়নি।
এই বাস্তবতায় সরকার নতুন পে-স্কেল প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে পে-কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়। পরবর্তীতে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থা, রাজস্ব সক্ষমতা, মূল্যস্ফীতি এবং সরকারি ব্যয়ের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে সুপারিশগুলো পর্যালোচনা করা হয়।
পরিচালন ব্যয় বাড়লেও উপকৃত হবেন লাখো মানুষ
অর্থনীতিবিদদের বিভিন্ন প্রাক্কলন অনুযায়ী, নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়িত হলে সরকারের বার্ষিক পরিচালন ব্যয় প্রায় ৮২ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে এর মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি, পেনশনভোগীদের আর্থিক স্বস্তি এবং অভ্যন্তরীণ ভোগব্যয় বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় বেতন কাঠামো অপরিবর্তিত থাকায় সরকারি চাকরিজীবীদের প্রকৃত আয় মূল্যস্ফীতির তুলনায় অনেকটাই কমে গেছে। ফলে নতুন পে-স্কেল তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আইএমএফের পরামর্শ ও সরকারের অবস্থান
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বাজেট ঘাটতির বিষয়টি বিবেচনায় রেখে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন দুই বছর পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল। তবে সরকার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আর্থিক সুরক্ষা এবং জনসেবার মানোন্নয়নের বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি নিয়ে নীতিগত পর্যায়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও নীতিগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর উচ্চপর্যায়ের অনুমোদনের ভিত্তিতে পে-স্কেল বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।
গেজেট প্রকাশ নিয়ে বাড়ছে প্রত্যাশা
সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে এখন সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা হলো গেজেট প্রকাশ। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তুতিমূলক কাজ প্রায় শেষ হওয়ায় মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত অনুমোদনের পর যেকোনো সময় গেজেট প্রকাশ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে সরকারিভাবে গেজেট প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত নতুন বেতন কাঠামোর কার্যকারিতা, বাস্তবায়নের সময়সূচি, বেতন বৃদ্ধির হার এবং অন্যান্য সুবিধা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হবে না।
সরকারি ঘোষণা না আসা পর্যন্ত অপেক্ষার পরামর্শ
বিশ্লেষকদের মতে, নবম জাতীয় পে-স্কেল দেশের সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে পারে। তবে গেজেট প্রকাশের আগে বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক তথ্য বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত দাবিকে চূড়ান্ত হিসেবে গ্রহণ না করে সরকারি প্রজ্ঞাপন প্রকাশের অপেক্ষা করাই সমীচীন।
গেজেট প্রকাশিত হলে নতুন বেতন কাঠামো, গ্রেডভিত্তিক বেতন, ভাতা, পেনশন সুবিধা এবং বাস্তবায়নের সময়সূচি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ও নির্ভুল তথ্য জানা যাবে।


