৯ম পে স্কেল নিউজ ২০২৬

নবম পে-স্কেলে ২০২৮ থেকে কি ১ এপ্রিল ইনক্রিমেন্ট? গেজেটে যা বলা হয়েছে

সরকারি চাকরিজীবীদের নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের তারিখ। অনেকের ধারণা, ২০২৮ সাল থেকে অর্থবছর পরিবর্তনের কারণে সরকারি চাকরিজীবীদের বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে। তবে প্রকাশিত ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’-এর তথ্য বিশ্লেষণ করলে বিষয়টি ভিন্নভাবে দেখা যাচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ জারি করেছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী নতুন পে-স্কেল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে এবং বর্ধিত মূল বেতন তিন ধাপে বাস্তবায়নের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

১ জুলাই ২০২৭ থেকেই মূল বেতনের শতভাগ

নবম পে-স্কেলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—শতভাগ বর্ধিত মূল বেতন কার্যকর হওয়ার তারিখ ১ জানুয়ারি ২০২৮ নয়; ১ জুলাই ২০২৭।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী—

  • ১ জুলাই–৩১ ডিসেম্বর ২০২৬: ১ম–৯ম গ্রেডে বর্ধিত অংশের ৪০% এবং ১০ম–২০তম গ্রেডে ৫০%
  • ১ জানুয়ারি–৩০ জুন ২০২৭: ১ম–৯ম গ্রেডে বর্ধিত অংশের ৭০% এবং ১০ম–২০তম গ্রেডে ৭৫%
  • ১ জুলাই ২০২৭: বর্ধিত মূল বেতনের শতভাগ কার্যকর

অর্থাৎ, ২০২৮ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করে মূল বেতনের শতভাগ পাওয়ার বিষয়টি সঠিক নয়। ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকেই নতুন স্কেলের শতভাগ বর্ধিত মূল বেতন কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

তাহলে ১ জানুয়ারি ২০২৮-এর গুরুত্ব কোথায়?

এখানেই মূল বিভ্রান্তির জায়গা।

১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে নতুন পে-স্কেলের সংশোধিত বিভিন্ন ভাতা কার্যকর হবে। অর্থাৎ বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রযোজ্য ভাতার নতুন হার ওই তারিখ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা বলা হয়েছে।

ফলে বিষয়টি সহজভাবে এমন—

সময়কী কার্যকর হবে
১ জুলাই ২০২৬পে-স্কেল কার্যকর হিসেবে গণ্য
১ জুলাই–৩১ ডিসেম্বর ২০২৬প্রথম ধাপের বর্ধিত মূল বেতন
১ জানুয়ারি–৩০ জুন ২০২৭দ্বিতীয় ধাপ
১ জুলাই ২০২৭বর্ধিত মূল বেতনের ১০০%
১ জানুয়ারি ২০২৮নতুন হারে বিভিন্ন ভাতা

এই পার্থক্যটি সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন হিসাবের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

২০২৮ সাল থেকে ১ এপ্রিল ইনক্রিমেন্ট—দাবিটির ভিত্তি কতটা?

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৮ সাল থেকে ১ এপ্রিল বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট যুক্ত হবে—এমন তথ্য এখন পর্যন্ত গেজেটের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

বরং নবম পে-স্কেলের ইনক্রিমেন্ট সংক্রান্ত প্রকাশিত ব্যাখ্যায় প্রতি অর্থবছরের প্রথম দিন ১ জুলাই বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির তারিখ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে সরাসরি বলা হয়েছে, জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের তারিখ ১ জুলাই।

অতএব, ১ এপ্রিল ২০২৮ থেকে ইনক্রিমেন্ট শুরু হবে—এটি বর্তমানে সরকারি গেজেটের নিশ্চিত বিধান হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না।

অর্থবছরের পরিবর্তনের সঙ্গে ইনক্রিমেন্টের সম্পর্ক

এখানে আরেকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে সরকারি অর্থবছর বর্তমানে ১ জুলাই থেকে ৩০ জুন। তাই অর্থবছরের প্রথম দিন হলো ১ জুলাই।

যদি ভবিষ্যতে সরকার অর্থবছরের কাঠামো পরিবর্তন করে এবং সেই পরিবর্তনের সঙ্গে বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের তারিখও পরিবর্তনের জন্য আলাদা প্রজ্ঞাপন বা বিধান জারি করে, তখন ১ এপ্রিলের বিষয়টি কার্যকর হতে পারে। কিন্তু শুধু অর্থবছর পরিবর্তনের সম্ভাবনার ভিত্তিতে ২০২৮ সালের ১ এপ্রিল থেকে ইনক্রিমেন্ট নিশ্চিত হয়েছে বলা যাবে না।

বর্তমান প্রকাশিত পে-স্কেল-সংক্রান্ত তথ্যের সঙ্গে এটি আলাদা করে দেখা প্রয়োজন।

ইনক্রিমেন্ট নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

নতুন পে-স্কেলে মূল বেতন তিন ধাপে বাড়ার কারণে ইনক্রিমেন্টের হিসাব নিয়েও অনেকের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

ধরা যাক, কোনো কর্মচারীর পুরোনো মূল বেতন ছিল ২২ হাজার টাকা এবং নতুন স্কেলে তার প্রারম্ভিক মূল বেতন ৪৪ হাজার টাকা। প্রকাশিত উদাহরণ অনুযায়ী বর্ধিত ২২ হাজার টাকা তিন ধাপে যুক্ত হয়ে ১ জুলাই ২০২৭-এ নতুন মূল বেতন ৪৪ হাজার টাকায় পৌঁছাবে।

এরপর নিয়ম অনুযায়ী বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট যোগ হলে সেটি নতুন মূল বেতনের ওপর হিসাবের প্রভাব ফেলবে। তাই পে-ফিক্সেশন, ইনক্রিমেন্টের তারিখ এবং নতুন ভাতার কার্যকর তারিখ—এই তিনটি বিষয় আলাদাভাবে হিসাব করতে হবে।

২০২৮ সালে বেতন কেন আবার পরিবর্তিত হবে?

২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন ভাতার হার কার্যকর হওয়ার কারণে অনেক চাকরিজীবীর মোট মাসিক বেতন আবার পরিবর্তিত হতে পারে।

অর্থাৎ একজন সরকারি চাকরিজীবীর ক্ষেত্রে—

নতুন মূল বেতন → ১ জুলাই ২০২৭ থেকে শতভাগ

এরপর

নতুন হারে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা → ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে

ফলে ২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে মোট প্রাপ্য বেতন নতুন কাঠামোয় আরও পরিবর্তিত হবে।

১ এপ্রিল ইনক্রিমেন্ট চালু হলে কী পরিবর্তন হতে পারে?

ভবিষ্যতে যদি সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ইনক্রিমেন্টের তারিখ ১ এপ্রিল নির্ধারণ করে, তাহলে সেটি বর্তমান ১ জুলাইভিত্তিক ব্যবস্থার তুলনায় বেতন হিসাবের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনবে।

তখন—

  • ইনক্রিমেন্টের কার্যকর তারিখ বদলাবে;
  • পে-ফিক্সেশনে নতুন তারিখ বিবেচনা করতে হবে;
  • iBAS++-এ ইনক্রিমেন্টের তারিখ ও হিসাবের কাঠামো পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে;
  • এপ্রিল থেকে মার্চ পর্যন্ত একটি নতুন ইনক্রিমেন্ট চক্র তৈরি হতে পারে;
  • বেতন, বকেয়া ও ভবিষ্যৎ পেনশন হিসাবেও সংশ্লিষ্ট সমন্বয় প্রয়োজন হতে পারে।

তবে এগুলো সম্ভাব্য প্রশাসনিক প্রভাব; ১ এপ্রিল ইনক্রিমেন্ট চালুর সরকারি সিদ্ধান্ত হিসেবে এগুলোকে এখনই চূড়ান্ত বলা যাবে না।

পে-স্কেলের সঙ্গে ১ এপ্রিলের বিষয়টি কেন আলোচনায়?

সম্ভবত দুটি আলাদা বিষয় একসঙ্গে আলোচিত হওয়ায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

একদিকে রয়েছে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন ভাতা কার্যকর হওয়ার বিধান। অন্যদিকে রয়েছে বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের তারিখ। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী এই দুটিকে এক করে দেখার সুযোগ নেই।

নবম পে-স্কেলের গেজেটভিত্তিক তথ্য বলছে, মূল বেতনের শতভাগ ১ জুলাই ২০২৭ থেকে এবং নতুন ভাতা ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে। আর ইনক্রিমেন্টের ক্ষেত্রে প্রকাশিত ব্যাখ্যায় ১ জুলাইয়ের কথাই রয়েছে।

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য এক নজরে

নবম পে-স্কেল ২০২৬

  • গেজেট প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • কার্যকর তারিখ: ১ জুলাই ২০২৬
  • মূল বেতন বাস্তবায়ন: ৩ ধাপে
  • শতভাগ বর্ধিত মূল বেতন: ১ জুলাই ২০২৭
  • নতুন হারে বিভিন্ন ভাতা: ১ জানুয়ারি ২০২৮
  • ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন: ২০,০০০ টাকা
  • ১ম গ্রেডের মূল বেতন: ১,৫৬,০০০ টাকা
  • মূল বেতন বৃদ্ধি: গ্রেডভেদে ১০০% থেকে সর্বোচ্চ ১৪২%
  • প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের তারিখ: ১ জুলাই
  • ১ এপ্রিল ২০২৮ থেকে ইনক্রিমেন্ট: বর্তমান গেজেটের ভিত্তিতে নিশ্চিত তথ্য নয়।

শেষ কথা

নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মূল বেতন ও ভাতার কার্যকর তারিখকে আলাদা করে দেখা। নতুন পে-স্কেলের বর্ধিত মূল বেতনের শতভাগ ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে নয়, ১ জুলাই ২০২৭ থেকেই কার্যকর হওয়ার বিধান রয়েছে। আর ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে নতুন হারে বিভিন্ন ভাতা কার্যকর হবে।

অন্যদিকে ২০২৮ সাল থেকে প্রতি বছর ১ এপ্রিল ইনক্রিমেন্ট যুক্ত হবে—এমন দাবি বর্তমানে প্রকাশিত গেজেটের তথ্য দিয়ে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। বরং পাওয়া তথ্য অনুযায়ী বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের কার্যকর তারিখ ১ জুলাই। তাই ১ এপ্রিলের বিষয়টি নিয়ে কোনো নতুন সরকারি প্রজ্ঞাপন বা সংশোধিত আদেশ জারি না হওয়া পর্যন্ত এটিকে সম্ভাব্য পরিবর্তনের দাবি, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়—এভাবেই দেখা নিরাপদ।

সূত্র: অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ এবং সংশ্লিষ্ট প্রকাশিত প্রতিবেদন।

অর্থ বিভাগের ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *