১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে ধাপে ধাপে অগ্রসর সরকার, প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে
আগামী ১ জুলাই থেকে জাতীয় বেতন কাঠামো (পে-স্কেল) কার্যকর করার লক্ষ্যে সরকারের অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, একবারে সম্পূর্ণ বাস্তবায়নের পরিবর্তে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার পরিকল্পনাই বর্তমানে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত নতুন পে-স্কেল নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চললেও অর্থনৈতিক বাস্তবতা, বাজেট ব্যবস্থাপনা এবং সরকারি ব্যয়ের ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে একটি পর্যায়ক্রমিক বাস্তবায়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
সূত্র মতে, প্রস্তাবিত পরিকল্পনার প্রথম ধাপে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতনের (বেসিক) একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বৃদ্ধি করা হবে। এর ফলে কর্মচারীরা তাৎক্ষণিকভাবে বেতন বৃদ্ধির সুবিধা পেলেও সরকারের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকবে।
পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে ২০২৭-২৮ অর্থবছরে মূল বেতনের অবশিষ্ট অংশ সমন্বয় করা হবে। এর মাধ্যমে নতুন পে-স্কেলের আওতায় বেতন কাঠামোর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাবে সরকার। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করলে বাজেট ব্যবস্থাপনা সহজ হবে এবং অর্থনীতির ওপর আকস্মিক চাপও কমবে।
এদিকে তৃতীয় ধাপে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত এবং অন্যান্য ভাতাসহ সরকারি চাকরিজীবীদের প্রাপ্য সুবিধাগুলো নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে পুনর্নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে শুধু মূল বেতন নয়, সামগ্রিক আর্থিক সুবিধার ক্ষেত্রেও একটি সমন্বিত কাঠামো গড়ে উঠবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন সময়োপযোগী পদক্ষেপ হতে পারে। তবে এর সঙ্গে সরকারের রাজস্ব আহরণ, বাজেট ঘাটতি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার বিষয়টিও সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে নতুন পে-স্কেল নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। অনেকেই আশা করছেন, নতুন কাঠামো বাস্তবায়িত হলে তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে উৎসাহ ও উৎপাদনশীলতাও বৃদ্ধি পাবে।
যদিও সরকারিভাবে এখনো নতুন পে-স্কেলের চূড়ান্ত ঘোষণা প্রকাশ করা হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ১ জুলাইকে সামনে রেখে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি দ্রুত এগিয়ে চলছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী অর্থবছর থেকেই সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন বেতন কাঠামোর সুবিধা পেতে শুরু করতে পারেন।
অবশ্য চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের উচ্চ পর্যায়ের অনুমোদন এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতার মূল্যায়নের ওপর নির্ভর করবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ফলে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির আগ পর্যন্ত বিষয়টি প্রস্তাবিত পরিকল্পনা হিসেবেই বিবেচিত হবে।


