সার্ভিস রুলস । নীতি । পদ্ধতি । বিধি

জমি থাকলেই কি স্থায়ী ঠিকানা? নাগরিক সনদে ‘অস্থায়ী বাসিন্দা’ লেখা হলে সরকারি চাকরিতে সমস্যা হবে?

নিজ নামে জমি থাকলেই কি একজন ব্যক্তিকে স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে গণ্য করা হবে, নাকি সেখানে বসতঘরও থাকতে হবে—এ প্রশ্ন ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে সরকারি চাকরিতে যোগদান, পুলিশ ভেরিফিকেশন বা বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজে নাগরিক সনদপত্রে ‘অস্থায়ী বাসিন্দা’ উল্লেখ থাকলে তা গ্রহণযোগ্য হবে কি না, এ নিয়ে অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।

সাম্প্রতিক এক আলোচনায় দেখা যায়, একজন ব্যক্তি দাবি করেন যে তাঁর নিজস্ব জমি থাকলেও সেখানে কোনো ঘরবাড়ি না থাকায় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ইস্যুকৃত নাগরিক সনদে তাঁকে ‘অস্থায়ী বাসিন্দা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর তিনি জানতে চান, এই সনদ ব্যবহার করে সরকারি চাকরিসহ অন্যান্য কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে কি না।

এ বিষয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ভিন্ন ভিন্ন অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। অনেকের মতে, শুধু জমির মালিকানা থাকলেই বাস্তবে স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে সনদ পাওয়া যায় না। ইউনিয়ন পরিষদ সাধারণত স্থানীয় বাস্তবতা, বসবাসের প্রমাণ এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের প্রত্যয়ন বিবেচনা করে সনদ প্রদান করে। সে কারণে অনেকেই পরামর্শ দিয়েছেন, নিজ জমিতে অন্তত একটি ছোট টিনশেড ঘর নির্মাণ করে সেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ গ্রহণ করলে স্থায়ীভাবে বসবাসের প্রমাণ উপস্থাপন করা সহজ হয়।

তবে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, ঘর নির্মাণ বাধ্যতামূলক—এমন কোনো নির্দিষ্ট আইন বা বিধান কোথায় রয়েছে, তার লিখিত প্রমাণ দেখানোর দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত এমন কোনো সুস্পষ্ট আইনি বিধান পাওয়া যায়নি, যেখানে বলা হয়েছে যে নিজস্ব জমিতে অবশ্যই ঘর থাকতে হবে, অন্যথায় স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া যাবে না। বরং স্থানীয় প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদ আবেদনকারীর বাস্তব বসবাসের তথ্য যাচাই করেই সনদ প্রদান করে থাকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নাগরিক সনদপত্র, জাতীয়তা সনদ এবং স্থায়ী বাসিন্দা সনদ এক ধরনের নয়। ইউনিয়ন পরিষদের ডিজিটাল সেবা ব্যবস্থায় পৃথকভাবে নাগরিকত্ব সনদ, জাতীয়তা সনদ, অস্থায়ীভাবে বসবাসের প্রত্যয়নপত্র এবং স্থায়ী বাসিন্দা সনদ—এসব সেবার ব্যবস্থা রয়েছে। অর্থাৎ প্রয়োজন অনুযায়ী ভিন্ন ধরনের সনদ ইস্যু করা হয়।

সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে কোনো সনদ গ্রহণযোগ্য হবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের শর্তের ওপর নির্ভর করে। যদি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে শুধু নাগরিক সনদের কথা উল্লেখ থাকে, তাহলে অস্থায়ী বাসিন্দা উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও অনেক ক্ষেত্রে তা গ্রহণ করা হতে পারে। তবে যদি স্পষ্টভাবে স্থায়ী বাসিন্দা সনদ চাওয়া হয়, সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ বা সিটি করপোরেশন/পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় সংশোধন বা নতুন সনদ গ্রহণ করাই নিরাপদ।

প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, এ ধরনের জটিলতায় পড়লে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা সচিবের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করে জমির মালিকানার কাগজপত্র, খাজনার রসিদ, বিদ্যুৎ সংযোগ, বসবাসের প্রমাণসহ প্রয়োজনীয় তথ্য উপস্থাপন করা উচিত। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় থেকেও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা নেওয়া যেতে পারে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচলিত বিভিন্ন পরামর্শের পরিবর্তে সরকারি নীতিমালা এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তই এ ক্ষেত্রে চূড়ান্ত বিবেচিত হবে। তাই শুধুমাত্র ‘ঘর না থাকলে স্থায়ী বাসিন্দা হওয়া যায় না’—এমন বক্তব্যকে আইনি বিধান হিসেবে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই; বরং প্রতিটি আবেদন স্থানীয় বাস্তবতা ও প্রমাণের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়ে থাকে।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *