সার্ভিস রুলস । নীতি । পদ্ধতি । বিধি

সরকারি চাকরি হতে ইস্তফা দিলেই সব শেষ: পুনরায় যোগদানের সুযোগ নেই বললেই চলে

সরকারি চাকরিতে যোগদান করা যেমন সম্মানের, তেমনি এর থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি বা ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। অনেক সময় চাকরিজীবী ব্যক্তিগত কারণ বা অন্য কোনো ভালো সুযোগের আশায় বর্তমান পদ থেকে ইস্তফা দেন। কিন্তু বিধিমালা অনুযায়ী, একবার পদত্যাগ বা অব্যাহতি কার্যকর হয়ে গেলে সেই চাকরিতে পুনরায় ফিরে আসার (Re-join) কোনো আইনি সুযোগ সাধারণত থাকে না।

ইস্তফা ও অব্যাহতির আইনি বাস্তবতা

সম্প্রতি লক্ষ্মীপুর শাখার প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের একজন অফিস সহায়কের অব্যাহতির আবেদন পত্রটি (ছবিতে প্রদর্শিত) বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, নির্দিষ্ট তারিখ থেকে তিনি স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চাচ্ছেন। সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে ‘চাকরি ত্যাগ’ বা ‘ইস্তফা’ দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু কঠোর নিয়ম অনুসরণ করা হয়:

  • স্থায়ী বিচ্ছেদ: সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা এবং সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিধি অনুযায়ী, পদত্যাগপত্র গৃহীত হওয়ার পর নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের সাথে উক্ত কর্মচারীর সকল সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায়।

  • পদ শূন্য ঘোষণা: ইস্তফা কার্যকর হওয়ার সাথে সাথে উক্ত পদটি শূন্য ঘোষণা করা হয় এবং সেটি পরবর্তী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পূরণের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

  • পূর্বের চাকরিতে ফেরার পথ বন্ধ: কেউ যদি অন্য চাকরিতে যোগদান করার পর দেখেন যে নতুন কর্মস্থল তার জন্য মানানসই নয়, তবে তিনি চাইলেই আগের পুরনো চাকরিতে ফিরে আসতে পারবেন না। কারণ তার পুরনো পদের ওপর আর কোনো আইনি দাবি থাকে না।

অব্যাহতি বা ইস্তফার আগে যা ভাবা জরুরি

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি চাকরি ছাড়ার আগে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা উচিত:

  1. আবেগতাড়িত সিদ্ধান্ত নয়: ব্যক্তিগত বা সাময়িক কোনো চাপের কারণে ইস্তফা দেওয়া উচিত নয়। পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর তা প্রত্যাহারের নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকে, কিন্তু কর্তৃপক্ষ একবার সেটি গ্রহণ (Accept) করে ফেললে আর ফেরার পথ থাকে না।

  2. বিভাগীয় ছাড়পত্র (NOC): এক সরকারি চাকরি থেকে অন্যটিতে যেতে চাইলে ইস্তফা দেওয়ার চেয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন করা বা লিয়েন (Lien) নেওয়া নিরাপদ। এতে চাকরি সুরক্ষা বজায় থাকে।

  3. আর্থিক দেনা-পাওনা: ছবিতে দেখা যাচ্ছে, আবেদনকারী উল্লেখ করেছেন তার কোনো ঋণ বা দায়-দেনা নেই। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক, কারণ দায়-দেনা থাকলে ইস্তফা গ্রহণ প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হয়।

উপসংহার

বাংলাদেশের চাকরির বাজারে সরকারি পদের চাহিদা আকাশচুম্বী। তাই ক্ষুদ্র কোনো কারণে বা সঠিক পরিকল্পনা ছাড়া ‘অব্যাহতি’র আবেদন করা নিজের ক্যারিয়ারের জন্য বড় ঝুঁকি হতে পারে। মনে রাখা প্রয়োজন, সরকারি চাকরিতে ইস্তফা দেওয়া মানে হচ্ছে সেই পদের ওপর নিজের অধিকার চিরতরে বিসর্জন দেওয়া। তাই যেকোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অভিজ্ঞদের পরামর্শ এবং সরকারি বিধিমালা ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া শ্রেয়।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *