নবম পে-স্কেল ২০২৬ । বেতন বৈষম্য কমাতে দুই প্রস্তাব, লাভবান হবেন যারা
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নবম জাতীয় বেতন কাঠামো (পে-স্কেল) বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন এই বেতন কাঠামো কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতির চাপের কথা মাথায় রেখে এবারের পে-স্কেলে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে নিম্ন আয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আর্থিক অবস্থার উন্নতির ওপর।
সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র ও উচ্চপর্যায়ের কমিটির বৈঠক থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে প্রধানত দুটি বিকল্প বা প্রস্তাব নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
আলোচনার টেবিলে দুই প্রস্তাব
১. অধিকাংশ গ্রেডের মূল বেতন ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি: এই প্রস্তাব অনুযায়ী, সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান ২০টি গ্রেডের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মূল বেতন প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর চিন্তা করা হচ্ছে। এটি সরকারি সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য একটি সাধারণ বেতন বৃদ্ধির কাঠামো হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
২. নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন দ্বিগুণ করা: দ্বিতীয় প্রস্তাবে বিশেষভাবে ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের ওপর আলোকপাত করা হয়েছে। এই প্রস্তাব অনুযায়ী, নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন ৫০ শতাংশ থেকে শুরু করে দ্বিগুণ (১০০ শতাংশ) পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য হলো উচ্চ ও নিম্ন গ্রেডের মধ্যে দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য কমিয়ে আনা।
বেশি সুবিধা পাবেন কারা?
নতুন পে-স্কেলে নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তাই এই কাঠামোর মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে যাদের:
নিম্ন গ্রেডের কর্মচারী (১১-২০ গ্রেড): প্রশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুলিশ, মাঠ প্রশাসন ও বিচার বিভাগসহ সব খাতের ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মীরা বেতন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারেন।
কম পেনশনভোগী অবসরপ্রাপ্তরা: নবম পে-স্কেলে অবসরপ্রাপ্তদের জন্য সুখবর রয়েছে। বিশেষ করে যাদের মাসিক পেনশন ২০,০০০ টাকার নিচে, তাদের পেনশন ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাবটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী: নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের আর্থিক সুবিধা এবং বেতন-ভাতা সমন্বয়ের ইতিবাচক আলোচনা চলছে।
বাস্তবায়নের কৌশল: তিন ধাপে কার্যকর
দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনা করে সরকার এই পে-স্কেল একবারে নয়, বরং তিনটি ধাপে বাস্তবায়নের কৌশল গ্রহণ করেছে:
প্রথম ধাপ (১ জুলাই ২০২৬): নতুন অর্থবছরের শুরুতেই মূল বেতনের বড় একটি অংশ (প্রাথমিকভাবে ৫০ শতাংশ) কার্যকর করা হবে। এজন্য আগামী বাজেটে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ ‘থোক বরাদ্দ’ রাখা হচ্ছে।
দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপ: পরবর্তী অর্থবছরগুলোতে ধাপে ধাপে বাকি মূল বেতন এবং বাসাভাড়া, চিকিৎসা ও যাতায়াত ভাতাসহ অন্যান্য আর্থিক সুবিধাগুলো চূড়ান্তভাবে সমন্বয় করা হবে।
পরিশেষে: যদিও পূর্ণাঙ্গ গেজেট প্রকাশ ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে আগস্ট বা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে, তবে সরকার ১ জুলাই থেকেই নতুন বেতন কাঠামোর সুবিধা কার্যকর করার নীতিগত সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে। এর ফলে প্রশাসনিক বিলম্বের কারণে সরকারি চাকরিজীবীদের কোনো আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে না এবং তারা বকেয়াসহ বর্ধিত বেতন হাতে পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।



