আয়কর । ভ্যাট । আবগারি শুল্ক

বৈধভাবে আয়কর সাশ্রয় ২০২৬ । জেনে নিন বিনিয়োগ ও দানের সেরা ৯টি খাত?

বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে করযোগ্য আয় থাকা প্রতিটি নাগরিকের জন্যই আয়কর প্রদান একটি আইনি দায়িত্ব। তবে অনেকেই জানেন না যে, সরকারের নির্ধারিত কিছু খাতে বিনিয়োগ বা দান করার মাধ্যমে বৈধভাবেই বার্ষিক আয়করের একটি বড় অংশ সাশ্রয় করা সম্ভব। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (NBR) বিধিমালা অনুযায়ী, করদাতা তার মোট করযোগ্য আয়ের একটি নির্দিষ্ট অংশ পর্যন্ত বিনিয়োগ করলে ওই বিনিয়োগের ওপর ১৫% হারে কর রেয়াত (Tax Rebate) সুবিধা পেয়ে থাকেন।

চলুন জেনে নেওয়া যাক, কোন ৯টি খাতে বিনিয়োগ বা দান করে আপনি আপনার কষ্টার্জিত অর্থ বৈধভাবে সাশ্রয় করতে পারেন:

বিনিয়োগের মাধ্যমে কর রেয়াত

১. জীবন বীমার প্রিমিয়াম: নিজের, স্ত্রী/স্বামী বা সন্তানদের নামে করা জীবন বীমার প্রিমিয়ামের কিস্তি বিনিয়োগ হিসেবে গণ্য হয়। তবে প্রিমিয়ামের পরিমাণ বিমাকৃত অঙ্কের ১০% এর বেশি হতে পারবে না।

২. ডিপিএস (DPS): যেকোনো তফসিলি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে মাসিক কিস্তিভিত্তিক সঞ্চয়ী আমানত বা ডিপিএস-এ বার্ষিক সর্বোচ্চ ১,২০,০০০ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ রেয়াতের জন্য গ্রহণযোগ্য।

৩. সঞ্চয়পত্র ক্রয়: বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত যেকোনো সঞ্চয়পত্র (যেমন: পরিবার সঞ্চয়পত্র, পেনশনার সঞ্চয়পত্র বা ৫ বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র) ক্রয় করলে তার ওপর বড় অংকের কর রেয়াত পাওয়া যায়।

৪. শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার, ইউনিট সার্টিফিকেট, মিউচুয়াল ফান্ড বা বন্ডে বিনিয়োগ করদাতাদের জন্য একটি জনপ্রিয় খাত। তবে এক্ষেত্রে নথিপত্র সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা জরুরি।

৫. প্রভিডেন্ট ফান্ড: সরকারি কর্মচারী বা স্বীকৃত ভবিষ্যৎ তহবিলে (GPF/RPF) নিজস্ব যে অবদান বা কিস্তি জমা দেওয়া হয়, তা সরাসরি করযোগ্য আয় থেকে বাদ দেওয়ার সুযোগ থাকে।

৬. ট্রেজারি বন্ড: সরকারি সিকিউরিটিজ বা ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ নিরাপদ এবং আয়কর সাশ্রয়ের জন্য একটি বৈধ মাধ্যম।

দান ও জনকল্যাণমূলক খাত

৭. যাকাত তহবিল: সরকারি যাকাত তহবিল বা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অনুমোদিত কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় বা সেবামূলক তহবিলে দান করলে ওই অর্থের ওপর রেয়াত পাওয়া যায়।

৮. বিশেষায়িত হাসপাতালে দান: বারডেম (BIRDEM), ক্যান্সার হাসপাতাল (NICRH), ঢাকা আহছানিয়া মিশন ক্যান্সার হাসপাতাল এবং সরকার অনুমোদিত জনহিতকর চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে করা দান বিনিয়োগ হিসেবে স্বীকৃত।

৯. অন্যান্য অনুমোদিত দান: প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, সিআরপি (CRP) এবং সমাজকল্যাণ মূলক কিছু বিশেষায়িত সংস্থায় দান করলে তার বিপরীতে কর ছাড় পাওয়া যায়।


হিসাব করার নিয়ম ও সতর্কতা

আয়কর আইন অনুযায়ী, একজন করদাতার কর রেয়াতের পরিমাণ তিনটি বিষয়ের মধ্যে যেটি সর্বনিম্ন তার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়:

  • প্রকৃত বিনিয়োগকৃত অর্থ।

  • মোট করযোগ্য আয়ের ২০% (আয়বর্ষ ২০২৪-২৫ অনুযায়ী)।

  • অথবা নির্দিষ্ট একটি সীমা (সাধারণত ১ কোটি টাকা)।

বিশেষ নোট: করদাতাদের অবশ্যই সকল বিনিয়োগের বিপরীতে সঠিক প্রমাণপত্র (যেমন: প্রিমিয়াম রশিদ, সঞ্চয়পত্রের কপি, ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা দানের রসিদ) আয়কর রিটার্নের সাথে জমা দিতে হবে। অন্যথায় রেয়াত সুবিধা বাতিল হতে পারে।

উপসংহার: সঠিক সময়ে সঠিক খাতে বিনিয়োগ করলে কেবল ভবিষ্যৎ সঞ্চয়ই হয় না, বরং তা করের বোঝা কমাতেও সহায়ক। তাই বছর শেষে তাড়াহুড়ো না করে বছরের শুরু থেকেই বিনিয়োগের পরিকল্পনা করা বুদ্ধিমানের কাজ।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *